কওমী মাদরাসায় জঙ্গি প্রসঙ্গে সুর পাল্টালেন ওয়ালিউর রহমান|
-খান মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী|
গল্প শুনেছিলাম এক লোকের নাকি উট হারিয়েছিল আর সেটা খুঁজতে গিয়েছিল বিল্ডিং-এর ছাদে।তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো ছাদে কি করছেন? উত্তর দিলো আমার উট হারিয়ে গেছে।তখন অন্যজন বললো, উট কি কেউ ছাদের উপর খোঁজে? উটওয়ালা তখন উত্তর দিয়েছিল সম্পদ হারালে মাথা ঠিক থাকে না।সব জায়গাতেই খুঁজে দেখতে হয়।আমাদের দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী ও জরিপকারী সংস্থা ইদানীং যে জরিপ চালিয়েছে তাতে তারা দেখতে পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৩৫% ভর্তি হয়েছে কওমী মাদরাসা থেকে আর কওমী মাদরাসা হলো জঙ্গি তৈরির কারখানা।অতএব বিডিআর ও সেনাবাহিনীর মধ্যে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তা জঙ্গিদেরই কাজ।হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের করা এ জরিপ আর সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান হলেন সেই হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের একজন সদস্য।৪মে চ্যানেল আই'তে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে যারা আলোচক ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই বুদ্ধিজীবী ওয়ালিউর রহমান।অন্যান্য আলোচক হলেন মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও বিএনপি'র যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল নোমান।দর্শকদের প্রশ্নের কাছে মুখটা যেন মলিন হয়ে গিয়েছিল ওয়ালিউর রহমানের।দর্শকদের মধ্য থেকে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কওমী মাদরাসার কোন সরকারি সনদ নেই তা হলে তাদের মধ্যে থেকে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হলো কিভাবে?তখন ওয়ালিউর রহমান বলেন, এটা হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট এই বলে মোড়ামুড়ি করতে চাইলেও উপস্থাপক বলেন, আপনি তো হেরিটেজ ফাউন্ডেশনেরই লোক।ওয়ালিউর রহমান বলেন, আমার সংস্থার নাম ভিন্ন।উপস্থাপক বলেন, আপনি তাদের সদস্য নন?বেকায়দায় পড়ে ঐ সাবেক রাষ্ট্রদূত বলেন,হ্যাঁ তাদের সদস্য, তবে উত্তর দেন আপনিও বলেছিলেন কওমী মাদরাসার লোক সেনাবাহিনীতে তবে তারা সেনাবাহিনীতে ঢুকলো কিভাবে?তখন ওয়ালিউর রহমান বলেন,"আমাদের বলার মধ্যে ভুল হয়ে গেছে আসলে কওমী মাদরাসা হবে না বরং বলা উচিত ছিলো মাদরাসা"। তবে কওমী মাদরাসার যারা ঢুকেছে তারা অন্য সার্টিফিকেট দিয়ে ঢুকেছে।অর্থাৎ ভুয়া সার্টিফিকেট। তখন আলোচকদের মধ্যে ছিলেন একজন ভদ্রমহিলা।তিনি বলেন, যদি ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে তারা ঢুকে থাকে তাহলে আগে বের করতে হবে কি পরিমাণ ভুয়া সার্টিফিকেট তার পরেই বের হবে কি পরিমাণ মাদরাসার লোক সেনাবাহিনীতে আছে।আগেই পার্সেন্টেজ পেলেন কিভাবে? তখন ঐ সাবেক রাষ্ট্রদূতের মাথায় যেন বাজ পড়লো।অন্য আলোচক মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,"সরকারের পক্ষ থেকে আমরা বলিনি কওমী মাদরাসার লোকেরা সেনাবাহিনীতে আছে এবং তারা জঙ্গি। আমরা বলেছি, মাদরাসা শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন"।আবদুল্লাহ আল নোমান সংক্ষেপে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ্য করে যে 'ওনাদের মতো লোকদের মুখে এমন কথা বলা উচিত কিনা সেটাই বিবেচনার বিষয়'।প্রিয় পাঠক, আমরা জানি যে কওমী মাদরাসাগুলো সরকারি অনুদান ছাড়াই নিজেদের প্রচেষ্টায় মাদরাসাগুলো পরিচালনা করে, দেশের মসজিদ-মাদরাসাগুলোতে শিক্ষক ও ইমাম উপহার দিয়ে জাতির খেদমত করে যাচ্ছেন তারা কেন জঙ্গি তৈরি করবে আর কেনই বা ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগদান করবে? ওয়ালিউর রহমান সাহেবদের জিজ্ঞেস করা দরকার। আর কেনই বা এই সব বুদ্ধিজীবী জাতিকে অশান্ত করার জন্য এমন ন্যক্কারজনক বক্তব্য রেখেছেন?আবার টিভির টকশোতে মুচকি হেসে বলেন, আমাদের বলতে ভুল হয়েছে আসলে কওমী মাদরাসা হবে না, হবে মাদরাসা তাহলে কোন মাদরাসা? আর ইতোপূর্বে কওমী মাদরাসা বলে যে আঘাত দিয়েছেন হাজার হাজার প্রথিতযশা উলামায়ে কেরামদের হৃদয়ে তার জন্য কি তাদের নিকট ক্ষমা চেয়ে জাতির সামনে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন আমরা কওমী মাদরাসা বলতে চাইনি এটা আমার ভুল হয়েছে। সংলাপে একজন দর্শক প্রশ্ন করেছেন, যখন কোন দাড়ি, টুপিওয়ালা বোমা ফাটায় তখন বলা হয় জঙ্গি। আর যখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দু'গ্রুপে বন্দুকযুদ্ধ করে, বোমা ফাটায় তখন জঙ্গি বলা হয় না কেন? মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী মনে হয় এ প্রশ্নটা শুনতেই পাননি। শুনতে পেলে তো সমস্যা এমন প্রশ্নের জবাব দিলে যে সর্বনাশ। ম্যাক্স ওয়েভার সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টিকারী একটি সংস্থার উল্লেখ করেছেন। বলেছেন,তারা সরকার পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে সংঘবদ্ধ হয়ে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করে কোন কোন ইস্যু বাস্তবায়নে বাধ্য করে। আমি এতদিন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কারা তা বুঝতে পারিনি এখন মনে হচ্ছে এসব বুদ্ধিজীবী আর সংস্থাই মনে হয় চাপ সৃষ্টিকারীর ভূমিকা পালন করেন আবার সরকারও তাদের লেলিয়ে দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে চায়। তা না হলে যখন এরা বললো কওমী মাদরাসায় জঙ্গি তৈরি হয় সে জঙ্গি সেনাবাহিনীতেও ঢুকে গেছে তখন কেন সরকার এটা খতিয়ে দেখে এর সত্যতা প্রমাণ করলো না।সরকারের কি কোন দায়িত্ব নেই? আর সত্যতা না পেলে কেন যারা আমাদের রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিয়ে হলিখেলায় মেতেছে তাদের বিচার করলো না।বিচার করবে কিভাবে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেই বিডিআর ট্র্যাজেডি বিষয়ে বলেছিলেন এতে জঙ্গিদের হাত আছে। বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যদি বাণিজ্যমন্ত্রী জানেনই কাদের হাত আছে তবে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করছেন না কেন? আর তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগেই বা তিনি কিভাবে জানালেন কাদের হাত আছে আর কাদের হাত নেই। ৩মে বিজয়নগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক মিটিংয়ে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী চমৎকারভাবে বলেছেন,বর্তমান সরকার যেদিকেই তাকায় কেবল জঙ্গিই দেখতে পাচ্ছে, ডানে জঙ্গি বামে জঙ্গি সামনে জঙ্গি পিছনে জঙ্গি। জঙ্গির ভয়তেই তারা ভীত দেশের কাজ করবে কিভাবে।অতএব দেশের স্বার্থে দেশের জনগণের স্বার্থে ইসলাম ও আলেম সমাজের সম্মানের দিকে তাকিয়ে অযথা দ্বীনদার মুসলমান জনগণকে হেয়প্রতিপন্ন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।যারা পকেট মারে, ছিনতাই করে তারা কৌশলের জন্য বিভিন্ন রূপধারণ করে কোর্তা টুপি পরে। ছিনতাই করলেই ইসলামের লোকেরা এটা করেছে। বোরখা পরে কোন অপকর্মে লিপ্ত হলে বোরখা পরা অপরাধ এই বলে গলা না ফাটিয়ে বরং অপরাধ সে যে-ই হোক, যে পোশাকেই হোক তাকেই বিচার করতে হবে। এর সাথে অন্যদের জড়ানো অযথা কাউকে সন্দেহ করা কিংবা সন্দেহের ভিত্তিতে মাঠে বক্তৃতা ছেড়ে দেয়া থেকে বিরত থাকাটাই দেশপ্রেমিক সরকার ও দেশপ্রেমিক জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমাদের দেশটা অত্যন্ত সুন্দর, আমাদের মানবসম্পদ খুবই দক্ষ, আসুন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেকে দুধে ধোয়া তুলসীপাতা মনে না করে আন্তরিকতার সাথে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশটাকে সুন্দর করি। দেশের মানুষকে দুর্ভোগ থেকে বাঁচাই।

