দেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে পর পর দুটি যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দুটি ঘটনাতেই ছাত্রীরা তাঁদের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের চারজন ছাত্রী ওই বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর সেখানকার শিক্ষার্থীরা এ মাসের প্রথম সপ্তাহে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এই আন্দোলন যখন চলছে, তখন গত ১৩ মে প্রথম আলোয় দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ এনেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও এ নিয়ে আন্দোলন এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে যৌন হয়রানির একের পর এক অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও এ নিয়ে আন্দোলন সংঘটনের কারণে আবারও যৌন নিপীড়নবিরোধী একটি প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা সামনে চলে এসেছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে জাবিতে সংঘটিত ধর্ষণবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং গত ১০ বছরে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালার খসড়া সিন্ডিকেটে পেশ করা হয়েছিল, যা এখন অনুমোদনের অপেক্ষায়। এ নীতিমালাটি অনুমোদিত হলে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়নের যে ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে, তা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতির দাবিদার। এ আন্দোলনটি নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন তথা নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এ আন্দোলনের অগ্রভাগে আছে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী বলেই প্রায় সময় সামাজিক ও পারিবারিক আড্ডায় কিছু মন্তব্যের মুখোমুখি হই। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন মনে করছি, যাতে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়নে বিক্ষিপ্ত জনমত আরও সংগঠিত হয়।
যৌন নিপীড়ন কি শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই ঘটে? এ মন্তব্যটি খুবই হাস্যকর ও হালকা মনে হলেও এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় যৌন নিপীড়নের মতো হরহামেশা ঘটা একটি বাস্তবতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা। আরও প্রকাশ পায় যৌন নিপীড়নবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনের সর্বজনীনতাকে দেখতে না চাওয়া। প্রতিটি নারীই ঘরের ভেতর ও বাইরে, রাস্তাঘাট, কলকারখানা, শিক্ষাঙ্গন, অফিস-আদালতে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়। সংঘবদ্ধভাবে তা প্রতিরোধের উদাহরণও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। কিছু খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। প্রতিবেদন হয়নি এ রকম খবরের সংখ্যা কত কে জানে! আর যৌন হয়রনির ঘটনা অস্বীকার করলে তো আর হয়রানি বন্ধ হয়ে যাবে না, বরং এগুলো গোপন করলেই নিপীড়নকারীরা সাহস পাবে এবং তাদের জুলুম চালিয়ে যাবে। আরেকটি বিষয় হলো, অনেক সময় বলা হয় যে নারীরা মুখ বুজে সব জুলুম সহ্য করে। তারা প্রতিবাদ করে না বলেই তাদের ওপর নির্যাতন বেশি হয়। অথচ আমরা বিভিন্ন সময়ে প্রমাণ পেয়েছি যে নারীরা ঠিকই সোচ্চার হয় অথচ প্রশাসন, রাষ্ট্র ও সমাজ তাদের সমর্থন দেয় না বলে সমাজের অন্যায়গুলো টিকে থাকে। যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নারীর কথা শোনার এবং তার ওপর ঘটা নিপীড়নের প্রতিকার ও প্রতিরোধের একটি জায়গা তৈরি হবে। এ নীতিমালাটি নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা হলে সেটি প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে অপব্যবহার করা হবে বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেন। এ মতটি নতুন নয়। নারী নির্যাতন দমন আইন, বিশেষ করে ধর্ষণবিরোধী আইনগুলো নিয়েও একই ধরনের কথা চালু আছে যে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে, সমাজের ‘পতিতা’ মেয়েদের দিয়ে সম্মানিত পুরুষদের সম্মানহানি করতে এই আইনগুলো ব্যবহার করা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের কোন আইনটির অপপ্রয়োগ বা অপব্যবহার হয় না? কোনো একটি আইন কেউ একজন অপব্যবহার করতে পারে এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে আইন হবে না, এটা একটা খোঁড়া যুক্তি। তা ছাড়া প্রস্তাবিত নীতিমালাটিতে পরিষ্ককারভাবে বলা আছে যে তদন্তের ভিত্তিতে যদি প্রমাণিত হয় অভিযোগ মিথ্যা, তাহলে অভিযোগকারীরই শাস্তি হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা দফায় দফায় যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, অনেক ঘটনার তদন্ত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দোষীদের শাস্তি (যদিও যথেষ্ট হয়নি) দেওয়া হয়েছে। যে ঘাটতিটা রয়ে গেছে তা হলো, আমরা এখনো যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা পাইনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, অবিলম্বে তারা যৌন হয়রানিবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন করবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে তারা অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
[নাসরিন সিরাজ: গণমাধ্যমকর্মী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী। ]

Comments
এবারে ওয়াজ...
আমরা যা কিছুই বলি না কেন, আমাদেরকে অবশ্যই নৈতিকতার মাঝে সীমাবদ্ধ থেকে বলা উচিত। আপনার প্রস্তাব ও পরবর্তীতে তার সপক্ষের যুক্তি গুলি নৈতিকতার বিচারে একান্তই গ্রহনযোগ্য নয়। আপনার কাছে বিষয়টি সিরিয়াস না হলেও যৌননিপীড়নের শিকার একজন ছাত্রীর কাছে বিষয়টি সিরিয়াসেরও অতিরিক্ত।
Hassan Imam Khan
Neuchâtel,SUISSE
হাসান সাহেব
আমি কিন্তু কোন ফতুয়া দেইনি।আপনি বলুন যে মেয়েটি নির্যাতনের শিকার সে কোথায় যাবে?তাকে তো আমাদের সমাজ ঘরে তুলতে চাইবে না।তাছাড়া বিয়ের পর স্বামীর সাথে যৌনকর্ম তো নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে না।আর একটি ভাল দিক হল একাধিক মেয়ে যখন সে ঘরে তুলবে তখন তার যৌন ক্ষুধা এমনিতেই মিটে যাবে।সংসার এবং সতিনদের মারামারিতে তার জীবন অতিষ্ট হবে।হাসান সাহেব আপনি সব কথাই সিরিয়াসলি নেন এটা একটা সমস্যা আপনার জন্য।
e-m-v
কোথায় যাবেন ? এখানেও ফতোয়া দানকারী মোল্লা।
একজন অসংযমী শিক্ষকের অনৈতিকতার কঠিন সাজা অবশ্যই তার প্রাপ্য। কিন্তু সাজা দেওয়ার নামে নির্যাতনের শিকার নিরীহ ছাত্রীটিকে ঐ অসংযমী নীতিহীন শিক্ষকের সাথে বিবাহের প্রস্তাব করে সারা জীবন ছাত্রীটিকে যৌন নিপীড়ন করার ছাড়পত্র দিয়ে আপনি কাকে সাজা দেয়ার প্রস্তাব দিলেন ? সমাজ ও ধর্মমতে যেখানে দুজনের সম্মতি ব্যতিরেকে বিবাহ স্বীকৃত নয়, সেখানে আপনি কে, তাদের বিবাহের প্রস্তাব করার। শুধু তাই নয়, এ ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার একাধীক ছাত্রী হলেও সকল ছাত্রীকেই ঐ তথাকথিত শিক্ষকের সাথে বিবাহের প্রস্তাব ( প্রকারান্তে আজীবন যৌনদাসী) করে আপনিতো ঐ শিক্ষককেই সাজাদানের পরিবর্তে পুরস্কারিত করলেন, এবং অনৈতিক ভাবে পুরুষের বহুবিবাহের পক্ষাবলম্বন করলেন। এটা কি চরম নারী বিদ্যেসী ও বিকৃত মানষিকতার পরিচায়ক, অথবা "ফতোয়া" হয়ে গেল না ? জনাব e-mela visitor সাহেব,অনুগ্রহ পুর্বক একটু ভাবুন তো ।
Hassan Imam Khan
Neuchâtel,SUISSE
লুচ্ছা শিক্ষক!!
ঐসব লুচ্ছা শিক্ষকদেরকে চুড়ান্ত শিক্ষা দেওয়া উচিৎ।যে ছাত্রীর সাথেই যৌনমিলনের চেষ্টা করবে সেই ছাত্রীর সাথেই তাকে বিয়ের ব্যাবস্থা করতে হবে এবং ঐ ছাত্রীর ব্যাক্তিগত তহবিলে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা হিসাবে অগ্রীম প্রদানের ব্যাবস্থা করতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এই বিয়ের ভবিষ্যত দেখাশোনার দায়িত্ব নিবে।কোন শিক্ষক যদি একাদিক ছাত্রীর সাথে এই আচরন করে তখন তাকে সবগুলি মেয়েকেই বিয়ে করতে বাধ্য করতে হবে।শালা শিক্ষক লুচ্চছার দল।
e-m-v