দীর্ঘদিন পর আবারো ডাউকি ফল্টে ভূ-কম্পন

শনিবার মধ্যরাতে ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ জেলার সমেশ্বরী নদীর হালুয়া ঘাট অঞ্চল। রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পনের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮। হালুয়াঘাট অঞ্চলটি ডাউকি ফল্টের সমর্থক একটি অঞ্চল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগ ও ভূতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ভূতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক এটিএম আসাদুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম-মিয়ানমার অঞ্চলে বেশ কিছু দিন ধরে ভূমিকম্প হলেও ডাউকি ফল্টে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি। ডাউকি ফল্ট অঞ্চলে মাঝারি ধরনের এ ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো ভবিষ্যতে এ ফল্টে আরো ভূমিকম্প হবার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, গতরাতের ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৬ ছিল না। কারণ ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরের অনেক ভবনই ধ্বসে পড়ত।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আনসারী বলেন, বাংলাদেশে ৫টি অঞ্চলের ভূ-অভ্যন্তরের চু্যতি বা ফাঁটল থেকেই বড় ধরনের ভূমিকম্প সৃষ্টি হতে পারে। এ অঞ্চলগুলো হলো বাংলাদেশ-আসাম সিমান্তে সৃষ্ট ডাউকি চু্যতি, সিলেট চু্যতি, রাঙ্গামাটি চু্যতি, সীতাকুন্ড-টেকনাফ চু্যতি এবং মধূপুর চু্যতি। গতরাতের ভূমিকম্পের তীব্রতা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না, আরো সময় প্রয়োজন। তবে ডাউকি ফল্টে নতুন করে এ ভূমিকম্প দেখা দেয়ায় এ অঞ্চলে আরো ভূমিকম্পের সম্ভবনা দেখা দিল।

উভয় সূত্র জানায়, আমাদের ভবন নির্মাণ আইন মেনে চলা উচিত। কারণ ৬ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরের প্রায় ৩০ শতাংশ ভবন ধ্বসে পড়বে। প্রাণ হারাতে পারে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়া, ভূমিকম্প পরবর্তীতে সরকারের উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত লোকবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা উচিত।

এদিকে, আমাদের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকালের ভুমিকম্পে টঙ্গিবাড়ি উপজেলার দিঘিরপাড় বাজারে বৈদু্যতিক সর্ট-সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগি্নকান্ডের সৃষ্টি হয়। এ সময় ২৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রায় ৬ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগি্নকান্ডে প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

আমাদের নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, শনিবার মধ্য রাতের পর নীলফামারীসহ এর আশেপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এসময় ঘরবাড়িসহ সব কিছু কেঁপে উঠলে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে ৫ থেকে ৬ সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূমিকম্পে কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার সর্বত্র মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পন অনুভুত হয়েছে। প্রায় ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে গভীর রাতে ঘুমন্ত মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। প্রবীণদের মতে গত ৩০/৩৫ বছরের মধ্যে এমন ঝাঁকুনি অনুভুত হয়নি।

বার্তাসংস্থা ইউএনবি সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের তারাস উপজেলার তালাম নদীপাড়া গ্রামে ভূমিকম্প আতংকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছে। নিহতের নাম আবুল হোসেন (৬৫)।