ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের দাবি মেয়র খোকার

ঢাকা, জুলাই ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) - বিগত বছরগুলোর তুলনায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কিছুটা হলেও সাফল্যের দাবি করেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। সোমবার ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) মিলনায়তনে 'ডেঙ্গুতে আতঙ্ক নয়, চাই জনসচেতনা' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।

সাদেক হোসেন খোকা বলেন, "বিগত বছরগুলোর তুলনায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা কিছুটা হলেও সফল হয়েছি। গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী মারা যায়নি। এখন ঢাকা শহরে মশা আছে, কিন্তু আগের সেই অবস্থা আর নেই।"

ডিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, চলতি জুলাই মাসে এ পর্যন্ত রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৪ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চলতি বছর মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১০৬ জন। তবে এ বছর কেউ মারা যাননি।

ডিসিসির হিসেব অনুযায়ী, ২০০২ সালে রাজধানীতে ছয় হাজার ১০৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে মারা গিয়েছিল ৫৮ জন। পাঁচ বছর পর ২০০৭ সালে ৬০৫ জন আক্রান্ত হলেও কেউ মারা যায়নি।

খোকা বলেন, "এটা সম্ভব হয়েছে জনসচেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে। বাড়ির আশেপাশে ফুল ও গাছের টব, গাড়ির টায়ার, প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার জন্ম হয়। ডিসিসির পরিচ্ছন্ন কর্মীর পক্ষে প্রতিটি বাড়ির মধ্যে ঢুকে এসব পানি পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। মানুষের মধ্যে জনসচেতনা সৃষ্টি হওয়াতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমেছে।"

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবারো আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, ইলিয়াস কাঞ্চন, কবরী সারোয়ার প্রমুখ ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে জনসচেতনা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সভায় লেখক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, "এডিস মশার জন্ম হয় পরিস্কার পানিতে। ফুলের টব, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনের নিচে ও বাড়ির আঙ্গিনার বিভিন্ন স্থানে জমা পানি থেকেই এই মশার জন্ম। তাই গুলশানসহ রাজধানীর বড়লোক পাড়াগুলোতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি।"

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, "পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবেই ডেঙ্গু হয়। তাই বাড়ির ভিতর যারা ময়লা রাখেন তাদের কিছুটা হলেও শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।"

ডিসিসির পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবের কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, "শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে দরকার ২০ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মীর। অথচ রয়েছে সাড়ে সাত হাজার। প্রয়োজনীয় আটশ গাড়ির মধ্যে চালু রয়েছে আড়াইশ। পর্যাপ্ত লোকবল ও উপকরণ দেওয়া হলে ঢাকা শহরকে ঝকঝকে তকতকে করে রাখতে পারব।"

এক প্রশ্নের জবাবে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, "ঢাকা সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট হিসেবে রূপান্তর করার পাশাপাশি একে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এটা হলে অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে সুবিধা হবে। এছাড়া উচ্ছেদ ও অন্যান্য কাজের জন্য ডিসিসির নিজস্ব 'করপোরেশনাল ফোর্স' থাকা দরকার বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, ডিসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্নেল শওকত আলী, প্রধান প্রকৌশলী কর্নেল আশফাকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মৃধা।

5
Your rating: None Average: 5 (1 vote)