ঢাকা, জুলাই ২৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পীর সেজে রাসায়নিক দ্রব্যের কারসাজিতে 'জ্বিন' হাজির করার ভেল্কি দেখিয়ে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীতে একটি চক্রের চারসদস্যকে আটক করেছে র্যাব। এদের দলনেতা আনোয়ার চৌধুরী ওরফে জীবন চৌধুরীর (৩৭) আস্তানা শান্তিনগরের সাইকি সেন্টারে অভিযান চালিয়ে পাওয়া গেছে লাইসেন্সকৃত একটি পিস্তল, গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, কয়েকটি ওয়াকিটকি সেট, সাপ, বিভিন্ন প্রকারের পাথর ও পীর সাজার সরঞ্জাম।
জীবন চৌধুরী নিজেকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের পরিচালক ও প্রযোজক বলে দাবি করেছেন। র্যাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "মেডিটেশন এবং পাথরের সাহায্যে আমি বিভিন্ন প্রকার জটিল রোগ নিরসন করে থাকি।"
র্যাব জানিয়েছে চক্রটি লোকজনকে মোহাবিষ্ট করে টাকা পয়সা নিয়ে তাদের ফতুর করে ছাড়ত।
গ্রেপ্তারকৃত চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন, মোস্তাফিজুর রহমান (২৯), মরিয়ম বেগম ওরফে রুবী (৩৫) ও সবুজ (৩৫)।
র্যাব-৩ এর অপারেশন কর্মকর্তা লে. জাররার হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ক্যাপ্টেন রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি দল সোমবার কোতোয়ালী থানার আনন্দ বসাক লেনের 'দি মাদ্রাজ হারবাল সেন্টার' এ অভিযান চালিয়ে মোস্তাফিজুর, রুবী ও সবুজকে গ্রেপ্তার করে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর একটি দল মঙ্গলবার সকালে শান্তিনগরের সাইকি সেন্টার থেকে জীবন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সেখান থেকে লাইসেন্সকৃত একটি পিস্তল, গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, কয়েকটি ওয়াকিটকি সেট, সাপ, বিভিন্ন প্রকারের পাথর এবং পীর সাজার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া তার কার্যালয় থেকে বিগত জোট সরকারের মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মেদসহ কয়েকজন সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে তোলা বেশ কয়েকটি ছবিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছবিগুলো তিনি প্রতারণা কাজে ব্যবহার করতেন।
লে. জাররার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের যাবতীয় সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। চক্রের সদস্যদের মধ্যে জীবন চৌধুরী পীর সাজতো এবং রুবী 'গুরু মা' সেজে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে আলোর মায়াজাল সৃষ্টি করে জ্বীন হাজিরের কথা বলে মানুষের আস্থা অর্জন করে নিত। এরপর তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতো। মহিলাদের যৌন হয়রানি করা হতো।
জীবন চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি মেডিটেশন এবং পাথরের সাহায্যে বিভিন্ন প্রকার জটিল রোগ নিরসন করে থাকেন। মেডিটেশনের উপর উচ্চতর ডিগ্রিও (ডক্টরেট) নিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোন কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
গরুদেব, পাগলা বাবা, দোলনচাঁপা, রবি মাস্তান এবং পাপী সন্তানসহ কয়েকটি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন বলেও দাবি করেন জীবন চৌধুরী।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার সুলতান মোহাম্মদ নূরানী সাংবাদিকদের বলেন, "এ ধরণের প্রতারণা ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।"