দুর্নীতির মামলায় এক বেঞ্চেই এক মাসে ৭৬ জনকে জামিন

বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ১৪ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এক মাসে অন্তত ৭৬ জনকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন। বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চ অন্তর্বর্তী মেয়াদে কার্যক্রম স্থগিত করেছেন ৪৭টি মামলার। এই মামলাগুলোর মধ্যে বেশ কিছু রয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। একই সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের অন্য তিনটি বেঞ্চ থেকে এ ধরনের অন্তর্বর্তী আদেশ এসেছে মাত্র পাঁচটি।
বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদারের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চ অবশ্য জামিন দিতে গিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে কোনো মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তা অগ্রাহ্য করে ভিন্ন আবেদনের ওপর শুনানি করার ক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার তাঁর দপ্তরে এ প্রসঙ্গে দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারার বরাত দিয়ে বলেন, "আইনের নিষেধাজ্ঞাটা আসলে আদালতের ওপর। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রতিকার চাইতেই পারেন। কিন্তু কেউ চাইলেও কোনো আদালতের তা দেওয়া উচিত নয়। তার পরও যদি কোনো আদালত তা করেন, তাহলে তা দুর্ভাগ্যজনক।"
একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ক্ষেত্রে রিট আবেদনকারীকে তাঁর আবেদন প্রত্যাহার করা উচিত। কোনো মামলা অমীমাংসিত রেখে তা আইনের অন্য এখতিয়ারে প্রতিকার চাওয়া যায় না।
তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের একটি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাঁর অনুকুলে রুল ও স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগ তা স্থগিতও করেন এবং বলেন, জামিন আবেদন পরে বিবেচিত হবে। এর পর আব্দুল জলিল বিচারপতি চাকলাদারের বেঞ্চে গেলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান যুক্তি দেখিয়ে বলেন, রিটে বিচারাধীন থাকায় একই মামলা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(ক) ধারায় প্রতিকার লাভের সুযোগ নেই। আদালত তখন এই যুক্তি মেনে নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারার ৩ উপধারায় বলা আছে, "অজামিনযোগ্য ধারায় জামিন দিতে হলে আদালতকে তার কারণ উল্লেখ করতে হবে।" কিন্তু এই দ্বৈত বেঞ্চ তা মনে করেন না। গত ২৪ জুলাই এক আদেশে এই বেঞ্চ উল্লেখ করেন, জামিন দেওয়ার সময় সাধারণত কারণ উল্লেখ করতে হয় না। অন্তত ২৫টি জামিন আদেশ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কোনোটিতেই কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কারণ উল্লেখও করা হয়েছে। যেমন গত ২৮ জুলাই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে দুই মাসের জন্য জামিন দিতে গিয়ে তাঁর বয়স ৭০ বছর উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তদের আইনজীবীরা বলছেন, জামিন দিতে অন্তর্বর্তী আদেশে কোনো কারণ দেখাতে হয় না। কিন্তু আইনে বিষয়টির স্পষ্ট উল্লেখ আছে।
আপিল বিভাগে যাওয়ায় ক্ষোভ: প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিচারপতি চাকলাদার ও বিচারপতি আজাদের বেঞ্চ বরং একাধিক আদেশে তাঁদের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের শরণাপন্ন হওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। বিচারপতি চাকলাদার মনে করেন, জামিন দিতে সাধারণত কারণ উল্লেখ করতে হয় না। উপরন্তু তা বাতিল করতে হলে রাষ্ট্রকে হাইকোর্ট বিভাগেই আরজি জানাতে হবে। আর তখনই তিনি কারণ উল্লেখ করবেন। কিন্তু ওয়াকিবহাল আইনবিদেরা এই মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদের আলোকে বিচারপতি চাকলাদারের বক্তব্যের ভিত্তি আছে। হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেওয়ার প্রচলন জোট সরকারের আমল থেকেই শুরু হয়। এ বিষয়ে সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি বলেন, "আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ দিতে পারে না−এ ধরনের যুক্তি আমি দেব না। তবে আপিল বিভাগের পক্ষ থেকে রুটিন হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।"
বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবাসহ আটক আমিন হুদাকে গতকাল দ্বিতীয়বারের মতো জামিন দিয়েছেন। স্বাস্থ্যগত কারণে এর আগে একই বেঞ্চ তাঁকে জামিন দিলে আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন। আমিন হুদার জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ায় বিচারপতি চাকলাদার তাঁর পাঁচ পৃষ্ঠার আদেশে গত ৩০ জুলাই লিখেছেন, "আমরা এর আগেও রাষ্ট্রের এরূপ আচরণে অসন্তোষ ব্যক্ত করেছি। এর পরও অ্যাটর্নি জেনারেলের আপিল বিভাগে যাওয়ার স্বভাব একটুও পাল্টায়নি। আমরা তাঁদের পুনঃপুন সতর্ক করে দিচ্ছি। আমরা দুঃখিত যে, হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার নিয়ম খোদ হাইকোর্ট বিভাগের কাছেই রয়েছে। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর স্থগিতাদেশ জোগাড়ের নামে আপিল বিভাগে ছুটে যাওয়ার একটি রেওয়াজ গড়ে তুলেছে।"
এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে অ্যাটর্নি জেনারেল শুধু একটি কথাই বলেন, "আমি বিস্িনত।"
জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অনেকে বলেছেন, দেশে জরুরি অবস্থা জারি থাকা সত্ত্বেও জামিনের বিষয়ে একটা বিহিত অবশ্যই দরকার ছিল। কিন্তু একটি বেঞ্চ থেকে যে পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ায় জামিন দেওয়া হচ্ছে, তা আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক।
সর্বশেষ এই বেঞ্চ আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদেশ অগ্রাহ্য করেছেন।
সালাউদ্দিন আহমদকে ১১২২৫/২০০৮ নম্বর মিস মামলায় দেওয়া জামিন ও স্থগিতাদেশ চেম্বার জজ ২৮ জুলাই তারিখে ৭ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতাদেশ ও ওই তারিখেই আপিল বিভাগের ফুলকোর্টে শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। এ সময়ের মধ্যে আপিল বিভাগে শুনানি না হওয়ায় দুদক যথারীতি ৭ আগস্টের আগেই ওই স্থগিতাদেশের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করে। সুপ্রিম কোর্টের একটি অফিস আদেশ অনুযায়ী এ রকম আবেদন দাখিল করলেই আগের স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে বলে ধরে নেওয়া হবে। ওই বেঞ্চ ১৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ওই অফিস আদেশ অগ্রাহ্য করে তাঁর আগের আদেশের মেয়াদ তিন মাস বৃদ্ধি করেন। ২৫ নভেম্বর ২০০৭ একই বেঞ্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করলে আপিল বিভাগ তা স্থগিত করলে মামলার কার্যক্রম চলছিল।
একইভাবে চেম্বার জজের স্থগিতাদেশ অগ্রাহ্য করে মজিবর রহমান সরোয়ার এবং এ এইচ এম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামালকে ওই বেঞ্চ তাঁর নিজের দেওয়া জামিন ও মামলার কার্যক্রম স্থগিত করাসংক্রান্ত আদেশের মেয়াদ ১৪ আগস্ট তিন মাসের জন্য বর্ধিত করেন। দুদকের আইনজীবী মো. আব্দুস সালাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইনজীবীরা বলছেন, জরুরি ক্ষমতা বিধিমালায় দায়ের করা দুদকের প্রায় ১০০ মামলার ওপর চেম্বার জজের স্থগিতাদেশ একই নিয়মে বলবৎ রয়েছে। জনাব চাকলাদার ছাড়া কোনো বেঞ্চ তা অমান্য করেননি বলে জানা যায়। ১৮ আগস্ট অন্য একটি বেঞ্চ সাকা চৌধুরীকে তাঁর অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তিন মাসের জন্য জামিন দেন ও স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান। গত ১৬ জুলাই জনাব চাকলাদারের বেঞ্চই ৫৬১ক ধারার অধীনে দায়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাকার অনুকুলে মূল আদেশটি দিয়েছিলেন।
এর আগে সাকার ওই অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার কার্যক্রম রিট এখতিয়ারে বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমানের বেঞ্চ স্থগিত করেছিলেন। একই চেম্বার জজ গত ২৮ জানুয়ারি একইভাবে তা এক মাসের জন্য স্থগিত করেন। সে কারণে মামলার কার্যক্রম চলছিল।
রিট বনাম ৫৬১ক ধারা: সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় রিটে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারার অধীনে প্রায় একই প্রতিকার চাওয়া যায়। বছরখানেক আগে যাঁরা রিটে প্রতিকার পাননি, তাঁরা এখন রিট কথাটি মুছে শুধু তদন্তের সময়সীমা ৬০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এই ৬০ দিন নির্দেশনামূলক, না বাধ্যতামূলক তা আপিল বিভাগে নিষ্কপত্তি হয়নি। এমনকি হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চেও নয়।
পর্যবেক্ষকেরা লক্ষ করছেন, এখন একই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের জামিনের আদেশ ও তার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের বিপরীতে ওই একই মামলায় নতুন করে হাইকোর্ট বিভাগের পাল্টা জামিন আদেশ, অনেক ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের পাল্টা স্থগিতাদেশ চলছে। সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধেও একইভাবে সৃষ্টি হচ্ছে পাল্টাপাল্টি স্থগিতাদেশ।
নতুন যুক্তি: অভিযুক্তদের আইনজীবীরা তাঁদের মਆেলদের বিরুদ্ধে এ রকম মামলাই দায়ের হতে পারে না−এই যুক্তি দিয়ে গত বছর রিট আবেদন করা শুরু করেন। মামলার বিচার কার্যক্রম অর্থাৎ তদন্তও যাতে না হতে পারে, সে জন্য তাঁরা স্থগিতাদেশ চান এবং হাইকোর্টের কাছ থেকে অনুকুল আদেশও পান। এখন তাঁরাই বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেন তদন্ত শেষ হতে পারল না, সে জন্য মামলার কার্যক্রম বাতিল করতে হবে।
দুদকের বিধিমালায় আছে, এজাহার পরবর্তী তদন্ত সর্বাধিক ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে। কিন্তু দুদকের যুক্তি বিধিতে বলা নেই, ৬০ দিনের মধ্যেই তা আদালতে পেশ করতে হবে।
লক্ষণীয় হচ্ছে, এই বেঞ্চ অনেক ক্ষেত্রে তাঁর আদেশে এক মাসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের অন্য যেকোনো "উপযুক্ত বেঞ্চে" এ বিষয়ে চুড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের নির্দেশনা আমলে নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চই এ পর্যন্ত শুনানি করেননি।
বৈষম্যের অভিযোগ: রহমতউল্লাহর মামলায় ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম প্রথম দুদক বিধিমালার ৭(৫) দেখিয়ে অনুসন্ধান (এজাহারপূর্ব) সংক্রান্ত সময়সীমার প্রতি ওই বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বলে জানা যায়। ওই বিধিতে বলা আছে, "সর্বাধিক ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে অনুসন্ধানকাজ সমাপ্ত করা সম্ভব না হলে তা সমাপ্ত হবে।" কিন্তু আইনের এই একই প্রশ্নে অভিন্ন প্রতিকার প্রদানে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। ব্যারিস্টার আমীরও ওই বেঞ্চে এ নিয়ে উষ্ক্না প্রকাশ করেন।
মিথ্যা তথ্য দিলেও: আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ লোটাস কামাল গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার (নম্বর ৮৬(৩)২০০৭, জিআর ১৭/২০০৭) আসামি। এই মামলায় রিট আবেদনের পর তিনি জামিন পান, তাঁর মামলার বিচার কার্যক্রমও স্থগিত হয়। পরে আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়। এটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি ফৌজদারি বিবিধ আবেদন (নম্বর ১১০১৬/২০০৮) করেন। গত ১৭ জুলাই বিচারপতি চাকলাদার ও বিচারপতি আজাদের বেঞ্চ তাঁকে এই মামলায় জামিন দেন। নিয়ম হলো, আদালতের সামনে সংশ্লিষ্ট মামলাসংক্রান্ত সব তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ করা। লোটাস কামাল মিথ্যা তথ্য দেন। কিন্তু সে কারণে তাঁর জামিন পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি।
জনাব চাকলাদারের বেঞ্চে ১৭ জুলাই দায়ের করা তাঁর তৃতীয় সম্পুরক হলফনামা থেকে দেখা যায়, ওই রিট মামলায় (নম্বর ৮২৫৪/০৭) হাইকোর্টের আদেশ যে আপিল বিভাগে স্থগিত হয়, সে তথ্য বিচারিক আদালতেও গোপন করা হয়। বিচারিক আদালতে এই মিথ্যা তথ্য দিয়ে আইনজীবী সনদ দেন দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া দুদকের প্রধান কৌঁসুলি মাহবুবুর রহমান। পাঁচ পৃষ্ঠার আবেদনে বলা হয়, জনাব চাকলাদারের বেঞ্চে এই ভুল তথ্য "অসাবধানতাবশত ও উদ্দেশ্যমূলক নয়" বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতের কাছে এই ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চান।
আপিল বিভাগ উপেক্ষিত: জামিন ও স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট মামলাগুলো প্রধানত দুভাবে অনিষ্কপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কিছু মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের জামিন ও আদেশ চেম্বার জজ অন্তর্বর্তী আদেশে স্থগিত করেছেন। এরপর তা আর আপিল বিভাগে যায়নি, ঝুলে আছে। কিছু মামলা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে চুড়ান্ত শুনানি করে নিষ্কপত্তি হয়েছে। কিন্তু তার ফলাফলেরও কোনো প্রভাব নেই।
জরুরি অবস্থা চলাকালে দুদক আইন ও জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭ অনুযায়ী দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া এবং দুদকের মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করার বিষয়ে বিদ্যমান আইনের বিধান ও উপরিউক্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ নির্ধারণী আইনি কর্তৃপক্ষ হিসেবে আপিল বিভাগ রাষ্ট্র বনাম ময়েজউদ্দিন শিকদার, দুদক বনাম সিগমা হুদা-মীর হেলাল উদ্দিন এবং রাষ্ট্র বনাম শেখ হাসিনার মামলায় চুড়ান্ত হয়। কিন্তু সেসব রায়ের দিকনির্দেশনা বিচারপতি চাকলাদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের আদেশ পড়ে বোঝার উপায় নেই। কারণ এতে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না।
উপেক্ষিত চেম্বার জজ: জানা যায়, তদন্ত/অনুসন্ধানসংক্রান্ত ৬০ কর্মদিবসের সময়সীমা লঙ্ঘন প্রশ্নে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, তরিকুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন পিন্টু, সালাউদ্দিন আহমদ, মজিবর রহমান সরোয়ার, আবদুল কাইউম, গিরিধারী লাল মোদি, রহমতউল্লাহ, লোটাস কামাল প্রমুখের অনুকুলে প্রদত্ত জনাব চাকলাদার ও জনাব আজাদের আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ ইতিমধ্যে স্থগিত করেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাধারণভাবে অনুসৃত রীতি অনুযায়ী আপিল বিভাগ কর্তৃক উপরিউক্তভাবে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশসমূহ স্থগিত করলে ওই একই কারণে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক একই বিষয়ে নতুন করে একই ধরনের জামিন ও স্থগিতাদেশ দেওয়ার কথা নয়।
৫৬১ক ধারায় কেন: প্রশ্ন হলো রিট মামলা বিচারাধীন রেখে ৫৬১ক ধারায় কেন নতুন দরখাস্ত করা হচ্ছে। যখন একই মামলা, একই অভিযোগ, একই পক্ষসমূহ, একই আদালত, তখন কেন তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হলো?
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, মূলত আবেদনকারীরা বিচারপতি চাকলাদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আসতেই এই কৌশল নিয়েছেন। জ্যেষ্ঠ আইনবিদেরা স্বীকার করেন, একই কারণ ক্ষেত্রমতে আপিল বিভাগে দেখিয়ে আগের রিট মামলার অধীনে তাঁরা একই প্রতিকার প্রার্থনা করতে পারতেন। এবং তাতে আপিল বিভাগ সন্তুষ্ট হলে তাঁদের একই প্রতিকার দিতে পারতেন।
এ ক্ষেত্রে তাঁদের ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৫৬১ক ধারায় মামলা খারিজের আবেদন করার প্রয়োজন ছিল না। এ বিষয়ে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের রেওয়াজ হচ্ছে, একই পক্ষদের মধ্যে একই বিষয়ে একই প্রতিকার প্রার্থনা করে মামলা বিচারাধীন থাকলে সেক্ষেত্রে হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চ ওই ধরনের মামলার শুনানি গ্রহণ করেন না।
কার্যতালিকায় অর্ধশতাধিক দুর্নীতি মামলা: আজ বুধবার দুদকের দায়ের করা অর্ধশতাধিক মামলার আপিল-আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। গত তিন মাসের মধ্যে এটাই এ ধরনের প্রথম ঘটনা। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহুরুল ইসলাম মুকুল এ প্রসঙ্গে বলেন, এই কার্যতালিকার মামলার মধ্যেই এ প্রশ্নও আসবে যে, রিটে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(ক) ধারার অধীনে হাইকোর্ট একই প্রতিকার দিতে পারেন কি না।

0
Your rating: None

Comments

eso_golpo_kori's picture

DU, CU, RU graduates drove the contry into ditch.. what?

Mr. JAlam,

Net e nijeke freedom fighter porichoy diye apni eto boro kotha kivabe likhlen :
"DU, CU, RU graduates drove the contry into ditch"

?????????????????????????????????

TEEN AGE polapiner moto kotha bolben na pls. Mind it, you demanded yourself as a freedom fighter. So, earn some respect. Get a life.

Amjonota's picture

Mr Jalam, herethe point of

Mr Jalam,

herethe point of discussion about the skills of judges. judges dont make law. they use the existing laws and their judgement to decide on leagal issues.

where a person who is already convicted for 12 years due to corruption can go to singapore for better treatment where as a person who still aren't charged cant get the bail.

what do u think about this?

Amjonota's picture

Sabash Jalam bhai, Us degree

Sabash Jalam bhai,

Us degree holei ki sob hoe jai. tahole to amader sudin opekkha korche..us degree dhari hoe desh a back korle desh er chehara palte jabe.

accha bangladesh er circket team o to eto training er por o india or pakistan er A team er soman skill somponno o hoi nai. bangladesh er leage a oishob desh er 2rd level er player ra eshe sob control kore...to oder k edesh er pokkhe khelaono ta ki apni support koren?

jalam's picture

Tareq's case is very special, you know it.

Hello Amjonota,
High court does not make laws; they explain it and apply it on to requests. I call them Farazees, because of their skill levels; the highest court of the nation deserve better skills, application of laws, and their response towards individual's crime against the peoples interests. These judges have not demonstrated anything for the national interests.
Tareq's case is specially handled, you know it.
Thanks,

jalam's picture

I read and enjoyed!!

Hello Ashraf,
Now, I understand you better!
Thanks,

jalam's picture

Thinking too much about India? indian Education has quality!

Hello Amijonota,
I was talking to Ashraf about Dr. F. Ahmed, and expressing my support for Dr. F. Ahmed. Ashraf was saying that some students asking for Dr. F. Ahmed's removal, and Dr. F. Ahmed, a US graduate has no shame and not leaving the office; so I am trying to say that we need Bangladeshis with US degrees, at the same time trying to point out that our DU, CU, RU graduates are not doing well. Yes, we should better employ Bangladeshis studying in India, they have better skills.
Thanks,

ashraf's picture

হতাশ নাকি জালাম সাহেব।

হতাশ নাকি জালাম সাহেব। ১/১১ এর চেতনা নিয়া এই ২৪ মাস তবে কি ফকু মিয়া মঈনের বাল পরিস্কার করিয়াচে। শুনা যাচ্ছে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে না।
আর আওয়ামী লীগও নতুন করিয়া সরকারের বিরোধী সাজিবার চেষ্টা করিতেচে, তবে জনগন বুঝিয়া গেছে আতাতকারী আওয়ামী লীগ।

তই, ১/১১ কাথা গায়ে দিয়া ঘুমাইয়া থামুন, আর জনগন কুত্তার প্রশাবে কাথা ভিজিয়া দিবে ...অট্টহাসি


জেনারেল মঈন ও আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী যড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন। এরা গনতন্ত্রের শত্রু, জাতির শ্ত্রু।

Amjonota's picture

Jalam bhai, ki kora jai?

Jalam bhai,

ki kora jai? desh er sobai to chore(apnar vasso mote). india theke sob graduate der ene eshob jaigai recruit kora hoke. ki bolen?

jalam's picture

DU, CU, RU graduates drove the contry into ditch

Hello Ashraf,
Who ran our country for last 37 years, of course the graduates of DU, CU, RU, BUET; why the country is in the ditch? Answer is easy, the teachers of those universities doing politics (Red, Blue, Pink, White groups) & consulting business, students are doing everything other than study, and our standards are low. Look at jute mills, other factories, all are closed because our graduates did not have enough skill and they have no morals, they are thieves; that is why one needs US Degrees.
Thanks,

Amjonota's picture

sudhu hastei asi. eishob

sudhu hastei asi. eishob comment pore. accha jalam bhai tareq er hajar haajr koti taka. to farazir gong ra sei takar kichu ongso pabar love a holeo keno jamin dicche na tareq k?