প্রবাসী রেমিটেন্স আয় ও দেশের অর্থনীতি

গত কয়েক বছর ধরে আমরা বিশ্বে রেমিটেন্স তথা প্রবাসী আয়ে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করে আসছি। ২০০৪ সাল থেকে বিশ্বে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে গড়ে প্রায় ১৪ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে বিশ্বে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ৩৩ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারে, যা আগের ২০০৬ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। এক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, বিশ্বের মোট অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশ দিন দিন বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ২০০৭ সালে অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স আয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার, যা ২০০২ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও (২.১৬ গুণ) বেশি। ২০০২ সালে বিশ্বের মোট অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স প্রবাহের ৬৮ শতাংশ গেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। ২০০৬ সালে তা বেড়ে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০০৭ সালে অবশ্য এই হার এক শতাংশ কমে ৭৪ শতাংশ হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ২০০৭ সালের মোট ২৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স প্রবাহের মধ্যে ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলারই গেছে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। এর মধ্যে এককভাবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারই গেছে মেক্সিকোতে। ওই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিটেন্স পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে_ এলসালভাদর, হন্ডুরাস ও গুয়েতেমালা। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো পেয়েছে বিশ্বের মোট অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স আয়ের ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় এই হার হচ্ছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গেছে বিশ্বের মোট রেমিটেন্স প্রবাহের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০০৭ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলো মোট এক হাজার ২০০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স পেয়েছে, যা ২০০৬ সালে তাদের পাওয়া রেমিটেন্সের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।

 

পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ২০০৭ সালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স গেছে। যা বিশ্বের মোট রেমিটেন্স প্রবাহের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়াতে ২০০৭ সালে আগের বছরের তুলনায় অন্তমর্ুখী রেমিটেন্সের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলার বেড়েছে। আলোচ্য বছরে ভারত-বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোতে মোট ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছে, যা বিশ্বের মোট অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স প্রবাহের ১৩ শতাংশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৭ সালে এশিয়ায় সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিটেন্স পেয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান দুটি দেশ যথাক্রমে ভারত ও চীন। এর মধ্যে ভারত ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার এবং চীন ২ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স আয় হয়েছে। দেশভিত্তিক রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়ের হিসেবে শীর্ষস্থানটি পায় ভারত (২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার)। দ্বিতীয় স্থান পায় চীন। আলোচ্য বছরে রেমিটেন্স আয়ের প্রবাহে বিশ্বের শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হচ্ছে : মেক্সিকো দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার নিয়ে তৃতীয়, এক হাজার ৭০০ কোটি ডলার নিয়ে ফিলিপাইন চতুর্থ, এক হাজার ২৫০ কোটি ডলার নিয়ে ফ্রান্স পঞ্চম স্থান পায়। এছাড়া ৮৯০ কোটি ডলার নিয়ে স্পেন ষষ্ঠ, ৭২০ কোটি ডলার নিয়ে বেলজিয়াম সপ্তম, ৭১০ কোটি ডলার নিয়ে জার্মানি অষ্টম, ৭০০ কোটি ডলার নিয়ে যুক্তরাজ্য নবম এবং ৬৮০ কোটি ডলার নিয়ে রোমানিয়া দশম। আর আমাদের বাংলাদেশ ৬৪০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স আয় নিয়ে তালিকার ১১তম স্থানে উঠে আসে। অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স বা প্রবাস আয়ের প্রবৃদ্ধি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মাথাপিছু আয় বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

 

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে বিভিন্ন দেশে রেমিটেন্স আয়ের অবদান সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনটিতে বিশ্বব্যাপী দেশভিত্তিক আয়ের যে বিভাজন করা হয়েছে তাতে ভারত, মঙ্গোলিয়া, সুদান ও তিমুর প্রভৃতি দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে যারা নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে পরিগণিত হতো। হাঙ্গেরি আর স্লোভাক প্রজাতন্ত্রের অবস্থা তো আরও অনেক ভালো। এই দুটি দেশ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে 'পদোন্নতি পেয়ে' এরই মধ্যে উচ্চ আয়ের মর্যাদা লাভ করেছে। সেই সুবাদে দেশ দুটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংক আয়ের বিভাজনভিত্তিক যে নতুন তালিকা করেছে তাতে রেমিটেন্স আয়ের হিসাব-নিকাশের একটি চিত্র পাল্টে গেছে। সেটি হল, বিশ্বের বৃহত্তম রেমিটেন্স আয় লাভকারী ভারত মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এখন বিশ্বে রেমিটেন্স প্রবাহে স্বল্প আয়ের তুলনায় মধ্যম আয়ের দেশগুলোই এগিয়ে রয়েছে বলা যায়। অর্থাৎ স্বল্প আয়ের দেশগুলোর রেমিটেন্স হিস্যা কমে গেছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী আমাদের বাংলাদেশ আগামী ২০১৬ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এটি নির্ভর করছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্জনের একটি শর্তের ওপর। সেটি হল, ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছরে জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। আমাদের বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয় হচ্ছে, ৬৪০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয় নিয়ে ২০০৭ সালের বিশ্ব তালিকায় ১১তম স্থান পাওয়া। বাংলাদেশের অর্জিত উলি্লখিত পরিমাণ প্রবাসী আয় দক্ষিণ এশিয়ার মোট রেমিটেন্স আয়ের ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট রেমিটেন্সের ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ওই তালিকায় বাংলাদেশের পেছনের আসনেই রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ পাকিস্তান। ৬১০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স আয় নিয়ে পাকিস্তান দ্বাদশ স্থানটি পায়। এর পেছনেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। তারা পেয়েছে ৬০০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স। অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয় যে কোন দেশের অর্থনীতিতেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশ্বের কয়েকটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবাসী আয়ের বড় ধরনের হিস্যা রয়েছে। যেমন_ তাজিকিস্তান ও মলদোভার জিডিপির ৩৬ শতাংশই আসে প্রবাসী আয় থেকে। উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকটি দেশে এই হার যথাক্রমে টোঙ্গায় ৩২ শতাংশ, কিরঘিজ প্রজাতন্ত্রে ২৭ শতাংশ, হন্ডুরাসে ২৬ শতাংশ এবং লেসোথো ও গায়ানায় ২৪ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের ৮৫ শতাংশই অর্জিত হয় ওভেন ও নিট পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, পাট এবং চামড়া_ এই পাঁচটি পণ্য থেকে। আমরা যদি ওপরের টেবিলটিতে শেষ তিনটি অর্থবছরের ওপর চোখ রাখি তাহলে দেখব আলোচ্য সময়ে অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স আয়ের প্রবৃদ্ধি রফতানি আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। রফতানি আয়ের বিপরীতে রেমিটেন্স আয়ও বেড়েছে গত কয়েক বছরে। যেমন ২০০১-০২ অর্থবছরে যেখানে মোট রেমিটেন্স আয়ের পরিমাণ ছিল রফতানি আয়ের ৪২ শতাংশ সেখানে সর্বশেষ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিগত তিনটি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনেও (জিডিপি) রেমিটেন্সের হিস্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে যেখানে জিডিপিতে রেমিটেন্স আয়ের হিস্যা ছিল মাত্র ৮ শতাংশ সেখানে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশে (সাময়িক হিসাব) উঠেছে। ক্রমাগত রেমিটেন্স আয় বাড়ায় তা দেশে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি এবং শিল্প খাতের উন্নয়নে অর্থায়নে ব্যবহূত হয়েছে। উপরন্তু রেমিটেন্স আয় বাড়ার ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুদের সংকট যেমন কেটেছে তেমনি ব্যালেন্স অব পেমেন্ট তথা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য জোরদার করেছে এবং জাতীয় সঞ্চয় বাড়িয়েছে। এছাড়া দেশের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও রেমিটেন্স আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ২০০৭ সালে বিশ্বে বহিমর্ুখী রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর হিস্যা ছিল ২২ শতাংশ বা ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। বিশ্বে মোট বহিমর্ুখী রেমিটেন্স প্রবাহে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাভুক্ত (ওইসিডি) উচ্চ আয়ের দেশগুলোর হিস্যা ছিল ৬৭ শতাংশ বা ১৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ২০০৭ সালে বিশ্বের মোট অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স আয়ে ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর হিস্যা ছিল ৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার বা ২৪ শতাংশ। বিশ্বে বহিমর্ুখী রেমিটেন্স প্রবাহের শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই দেশ থেকে ২০০৭ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট চার হাজার ২২০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স গেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সৌদি আরব থেকে গেছে এক হাজার ৫৬০ কোটি ডলার। বহির্মুখী রেমিটেন্স প্রবাহের শীর্ষ দশে থাকা অপর দেশগুলো হচ্ছে_ সুইজারল্যান্ড (তৃতীয়) এক হাজার ৩৮০ কোটি ডলার, জার্মানি (চতুর্থ) এক হাজার ২৩০ কোটি ডলার, রাশিয়া (পঞ্চম) এক হাজার ১৪০ কোটি ডলার, স্পেন (ষষ্ঠ) এক হাজার ১০০ কোটি ডলার, ইতালি (সপ্তম) ৮২০ কোটি ডলার, লুক্সেমবার্গ (অষ্টম) ৭৫০ কোটি ডলার, মালয়েশিয়া (নবম) ৫৬০ কোটি ডলার এবং যুক্তরাজ্য (দশম) ৪৫০ কোটি ডলার। পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তথা উপসাগরীয় সহযোগিতা পর্ষদের (জিসিসি- গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল) সদস্য দেশগুলোতে বর্তমানে অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটছে। যে কারণে এসব দেশে অভিবাসী শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। জনসংখ্যার অনুপাতে বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী শ্রমিক রয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পর্ষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোতে। এই হার কাতারে ৭৮ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৭১ শতাংশ, কুয়েতে ৬২ শতাংশ, বাহরাইনে ৪১ শতাংশ, সৌদি আরবে ২৬ শতাংশ এবং ওমানে ২৪ শতাংশ। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের অভিঘাত মোকাবেলা করে চলেছে। এর মধ্যেও একটি আশার কথা হচ্ছে, উচ্চমূল্যে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেল আমদানির কারণে অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়ছে তা মেটাতে ক্রমবর্ধমান স্থিতিশীল রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ যে ৬৪০ কোটি ডলারের অন্তমর্ুখী রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয় লাভ করেছে তার মধ্যে সৌদি আরব থেকেই এসেছে ২০০ কোটি ডলার। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২০ কোটি ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১০০ কোটি ডলার, যুক্তরাজ্য থেকে ৮২ কোটি ডলার ও কুয়েত থেকে ৭৭ কোটি ডলার এসেছে। এমনকি চলতি ২০০৮-০৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে দেশে যে পরিমাণ রেমিটেন্স এসেছে সেটিকেও বেশ আশাব্যঞ্জক বলা যায়। এই দুই মাসে দেশে ১৫০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় পাওয়া গেছে। দেশে ক্রমাগতভাবে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয় বাড়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কিছু পদক্ষেপ নেয়া উচিত। যাতে দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের প্রবণতা আরও জোরদার হয় এবং বিদেশে অবস্থানরত অনাবাসী নাগরিকরাও (এনআরবি) বেশি করে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহবোধ করে। সরকার যেসব পদক্ষেপ নিতে পারে- বিদেশ গমনেচ্ছুদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা, যা বিদেশে তাদের বেশি পরিমাণে আয়-রোজগারের সহায়ক হবে। প্রবাসীদের জন্য চালু করতে হবে বিনিয়োগবান্ধব সঞ্চয় উপকরণ। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের পাঠানো বিদেশী মুদ্রার বিপরীতে স্থানীয় টাকায় দিতে হবে আকর্ষণীয় বিনিময় হার। এসব পদক্ষেপে প্রবাসী বাংলাদেশীরা যে আগের তুলনায় দেশে বেশি করে অর্থ পাঠাতে অনুপ্রাণিত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর ওপর যদি অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে ব্যাপক শ্রমচাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে অদক্ষ, স্বল্প দক্ষ ও দক্ষ নির্বিশেষে জনশক্তি রফতানির বাজার বাড়ানো যায় তাহলে সেটি দেশের জন্য অবশ্যই মঙ্গলজনক হবে। (নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব) মামুন রশীদ : কলাম লেখক ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

Comments

mirza_arman's picture

রেমিটেন্স বৃদ্দির জন্য লিয়েন বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন

এটা সর্বজন স্বীকৃত যে বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিটেন্স জাতীয় অর্র্থনীতিতে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিনত করতে রেমিটেন্স প্রবাহ আরো বৃদ্দির সরকারী উদৌগ নেয়া দরকার। ২০০৭ সালে সবচেয়ে বেশী রেমিটেন্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। সৌদি আরবে প্রায় ২০ লক্ষ বাংলাদেশী বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছে। এখানে কিছু সরকারী ডাক্তার লিয়েনে কর্মরত আছেন। দেখাগেছে প্রতিবছর লিয়েনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ডাক্তারদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শরনাপন্ন হতে হয়। কখনও কখনও মন্ত্রণালয় লিয়েনের মেয়াদ বাড়ানোর বেলায় অযথা সময় ক্ষেপন করে থাকে যার ফলে বিমান বন্দরে ডাক্তারদের বিব্র্র্রতকর পরিস্থতি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। নিয়মানুযায়ী একজন সরকারী কর্মকর্তা একনাগাড়ে ৫(পাঁছ) বছর লিয়েনে থাকতে পারেন এবং দেশে ফিরে কিছুদিন কাজ করার পর পুনরায় লিয়েন নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ৫(পাঁছ) বছর পর কিছু দিনের জন্য পুনরায় কাজে যোগদান করার শর্ত উঠিয়ে দিয়ে আরো দীর্ঘ সময় ধরে লিয়েনে কাজ করার জন্য ডাক্তারদের সুযোগ দেয়া উচিত কারন একজন ডাক্তার প্রায় ৪০-৫০ জন সাধারণ শ্রমিকের সমান রেমিটেন্স পাঠাতে পারে। সৌদি আরবে ডাক্তারদের কাজের সুযোগ দিন দিন কমে আসছে কারন সৌদি আরবের মেডিকেল কলেজগুলো থেকে পাশ করে প্রতিবছর দক্ষ চিকিৎসক কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছেন। তাই ডাক্তার ও অন্যান্ন সরকরী কর্মকর্তাদের একনাগাড়ে ১০(দশ) বছর লিয়েনে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা একান্ত দরকার। দেশে এখন কোন ডাক্তার সংকট নেই। দেশেও অনেক ডাক্তার আরো বেশী উপার্জন করে থাকেন। আমাদের দক্ষ জনশক্তিকে আরো বেশী করে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে ডাক্তারদের উপার্জনে ইর্ষান্বিত না হয়ে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নেয়া অধিক প্রয়োজন। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার আশুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি।