বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বাংলাদেশ

বিশ্বের মানুষ যত রকম হুমকির মধ্যে আছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা পৃথিবীর উষ্ণায়ন তাদের মধ্যে অন্যতম। এ সমস্যার কথা মাথায় রেখে নাইরোবিতে জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যালয় ইউনাইটেড নেশসনস এনভায়রনমেন্টাল প্রোগ্রাম পরিবেশ দিবস-২০০৮ সালের থিম রেখেছিল ‘কিক দ্য হ্যাবিট-টুওয়ার্ডস লোক কার্বন ইকনমি’।

খবরদারি এসেছে কার্বন ট্রেডিং এর উপর। পৃথিবীর সামনে এখন একটি লড়াই, তা বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে। পৃথিবীর তাপমাত্রা এখন অসহনীয়ভাবে বাড়ছে। পৃথিবীর সামনে এখন একটি লড়াই, তা বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে। পৃথিবীর মাপমাত্রা এখন অসহনীয়ভাবে বাড়ছে। পারদের মাত্রা বেড়েই চলেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন গ্রীনহাউস গ্যাস, মুখ্যত কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রিক অক্সাইড, কোরফুরো কার্বন এবং জলীয় বাষ্প এর জন্য দায়ী। বায়ুমণ্ডলে জমছে গ্রীন হাউস গ্যাস। শিল্প বিপ্লব থেকে আজ অবধি বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেড়েছে চল্লিশ শতাংশ।

শিল্প বিপ্লব পূর্ববর্তী কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ছিল মাত্র ২৭৮ পার্টস পার মিলিয়ন। ১৯৫৮ সালের তা দাঁড়ায় ৩১৫ পিপিএমে এবং বর্তমানে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পৌঁছায় ৩৯০ পিপিএমে। জীবাশ্ম ইন্ধন দহন, বনভূমি ধ্বংস, ব্যাপক শিল্প উন্নয়নের ফলে বায়ুতে জমছে গ্রীন হাউস গ্যাস।

ইন্টার গভর্নমেন্ট পেনাল অফ কাইমেট চেঞ্জের মতে, গ্রীন হাউস এফেক্ট পৃথিবীর ভীতিপ্রদ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। মানুষের কৃতকর্মের দরুন বায়ুতে জমছে গ্রীন হাউস গ্যাস। এর ফলস্বরূপ পৃথিবীর উষ্ণতাও ১৯০০ সাল থেকে বেড়েছে ০.৩ ডিগ্রি থেকে ০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে।

গত চল্লিশ বছরে ০.২ ডিগ্রি থেকে ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধি পায়। পরিবেশ বিজ্ঞানী গ্রীনগুরু জেমস লাভলক গত বছর জানিয়েছিলেন, পয়েন্ট অফ নো রিটার্নে পৌঁছে গেছি আমরা, তাই বিশ্বের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী।

এলনিনো, মহাপ্লাবন, খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি, শৈত্যপ্রবাহ, পানি সংকট, খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ সবই আসন্ন। সমুদ্র উপকলবর্তী অঞ্চলে এর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বরফ গলছে, মেরু অঞ্চলের বরফের পর্বত গরম পানি হয়ে তলায় নেমে আসায় সাগরগুলোর পানিস্তর বাড়তে থাকবে এবং গোটা পৃথিবীজুড়ে উপকলবর্তী অঞ্চলগুলোতে প্লাবন ঘটবে।

তার ফলস্বরূপ লক্ষ লক্ষ এনভায়রনমেন্টাল রিফিউজি বা পরিবেশ শরণার্থী তৈরি হবে। বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, বিশ্বের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলো নিমজ্জিত হবে। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে বিখ্যাত নগরগুলো ১৫০ বছরের মধ্যে টুপটুপ করে ডুবে যাবে।

ভারতের মাদ্রাজ, কলকাতা, মুম্বাই ডুববে। সেই সঙ্গে লন্ডন, নিউইয়র্ক, মালদ্বীপ, সেসিল, নেদারল্যান্ড, মরিশাস, ছোট-বড় হাজার হাজার দ্বীপ প্লাবিত হবে। ধ্বংস হয়ে যাবে বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূল ভাগের বিস্তীর্ন চাষের জমি। সারা পৃথিবীতে দেখা দিবে খাদ্য সংকট।

হিমায়িত উত্তর মেরুর বরফ এমনভাবে গলছে যাতে সেখানে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে অচিরে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রভাবে কয়েক হাজার প্রজাতির প্রাণীরা পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। মেরু অঞ্চলের ভালুকের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে গ্রীন হাউস এফেক্টের দরুন।

আগামী ত্রিশ বছরের মধ্যে দশ-পনেরো শতাংশ জৈব বৈচিত্র্য হ্রাস পাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈকাল হ্রদের উষ্ণতা বাড়ার দরুন জলজ প্রাণীরা এখন বিপদের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্বের উষ্ণতা রোধ এ মুহূর্তে অপরিহার্য।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর জন্য ২০৪০ সালের ভিতর মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যশস্য উৎপাদন ত্রিশ শতাংশ কমে যাবে। দেখা যাবে খাদ্য সংকট। বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিবে সারা বিশ্বজুড়ে। মানুষের অসামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন এর জন্য দায়ী।

সবুজের আস্তরণ বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। অজানা জৈব বৈচিত্র্যের শেষ ভাণ্ডার ট্রপিক্যাল অরণ্য ধ্বংস হচ্ছে প্রতিদিন। তাই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত যে, গ্রীন হাউস গ্যাস সূর্যের ওজ (অবহেলিত রশ্মি) শোষণ করে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে।

এ সমস্যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রনায়ক ও বিগদ্ধজনের আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা, সম্মেলন ইত্যাদির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। গ্রীন হাউস গ্যাসগুলোর মুখ্যত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে পঞ্চাশ শতাংশ দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন পঁচিশ ভাগ, মিথেন পনেরো ভাগ, জলীয় বাষ্প এবং নাইট্রাস-অক্সাইড দশ ভাগ।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ বলেছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আমরা উপযুক্ত পদক্ষেপ নেব। অথচ গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর জন্য আমেরিকাই সবচেয়ে বেশি দায়ী। কিয়োটো প্রটোকল অনুযায়ী, গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে উন্নত দেশগুলোকে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।

গত বছর জাতিসংঘের ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) ব্যাংকক বৈঠকে শ’চারেক দেশের প্রতিনিধি জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে আইপিসিসি-র ওয়ার্কিং গ্রুপের সহ-সভাপতি গুনলাতে ডেভিডসন বলেছিলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ ০.০৪৪৫ শতাংশে আনতে হবে।

তার জন্য ছেঁটে ফেলতে হবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে হবে, যার সাহায্যে বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা যায়। গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে সিডিএম বা কিন ডেভলপমেন্ট মেকানিজম এর উপর।

গ্রীন হাউস গ্যাস কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন গ্যাস নির্গমন প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে মাথায় রেখে সিডিএম প্রকল্পের উপর জোর দেয়া হয়েছে প্রতিটি কল-কারখানায়, ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ। গ্রীন শক্তির উৎস আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন যে হারে গ্রীন হাউস গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, সে হার বজায় থাকলে আগামী ১০০ বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আরো প্রায় ৬ ডিগ্রী বাড়বে। ফল হবে মারাত্মক। পৃথিবী জুড়ে দেখা দিবে খাদ্য ও পানি সংকট। আসুন, আমরা আমাদের অভ্যাস পরিহার করি।

ব্যাপক হারে বৃক্ষ রোপণ এ ধ্বংসের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারে। কমিয়ে আনতে পারে কার্বন নির্গমনকারী প্রযুক্তি। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও সবুজ এবং নির্মল শক্তির ব্যাপক ব্যবহার এখন একান্ত প্রয়োজন।

(লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

0
Your rating: None

Comments

brain712's picture

এর উপর। পৃথিবীর সামনে এখন

এর উপর। পৃথিবীর সামনে এখন একটি লড়াই, তা বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে। পৃথিবীর তাপমাত্রা এখন অসহনীয়ভাবে বাড়ছে। পৃথিবীর সামনে এখন একটি লড়াই , hair pieces তা বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে। পৃথিবীর মাপমাত্রা এখন অসহনীয়ভাবে বাড়ছে। পারদের মাত্রা বেড়েই চলেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন গ্রীনহাউস গ্যাস, মুখ্যত কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রিক অক্সাইড, কোরফুরো কার্বন এবং জলীয় বাষ্প এর জন্য দায়ী। rogaine বায়ুমণ্ডলে জমছে গ্রীন হাউস গ্যাস। শিল্প বিপ্লব থেকে আজ অবধি বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেড়েছে চল্লিশ শতাংশ।

শিল্প বিপ্লব পূর্ববর্তী কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ছিল মাত্র ২৭৮ পার্টস পার মিলিয়ন। ১৯৫৮ সালের তা দাঁড়ায় ৩১৫ পিপিএমে এবং বর্তমানে কার্বন nioxin -ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পৌঁছায় ৩৯০ পিপিএমে। জীবাশ্ম ইন্ধন দহন, বনভূমি ধ্বংস, ব্যাপক শিল্প উন্নয়নের ফলে বায়ুতে জমছে গ্রীন হাউস গ্যাস।