বাংলাদেশের প্রত্যেকটি আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে আছে ঢাকা। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিজয়ের সাথে মিশে আছে ঢাকা। স্বাধীনতা সংগ্রাম আর অগ্নিঝরা মার্চ তার ব্যতিক্রম নয়। এ বিজয় আন্দোলন ও পুরোপুরি ঢাকাকেন্দ্রিক।
গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংক্রান্ত কুমিল্লার সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আনীত প্রস্তাব অগ্রাহ্য হলে বাংলা ভাষার দাবি আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯৪৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ দাবির সমর্থনে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়।

১১ মার্চ সাধারণ ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেফতার করে। এরপর পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। তিনি ১১ মার্চ জনসভায় এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দুকে সমগ্র পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা করেন।
সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজ। পরবর্তী ৩ বছর ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবসরূপে পূর্ববাংলার সর্বত্র পালিত হয়। চার বছর পর ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলার সাহসী তরুণদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা অর্জন করে এবং একুশের চেতনায় এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ না জানিয়ে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেও হঠাৎ স্থগিত করে দেয়।
বাংলার আপামর জনসধারণ এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমে পড়ে। গঠিত হয় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এ সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন প্রখ্যাত ছাত্রনেতা ও চার খলিফাখ্যাত আ স ম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ, আব্দুল কুদ্দুস মাখন ও নূরে আলম সিদ্দিকী।
সংগ্রাম পরিষদের নেতা আব্দুর রব ২ মার্চ ঢাকায় পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।
বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের প্রাণের আবেগ ও অনুভূতির সাথে একাত্ম হয়ে তিনি ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। তিনি আরো ঘোষণা করেন, ‘তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়’।
এরপর ভুট্টো-ইয়াহিয়া ঢাকায় এসে আলোচনার নামে প্রহসন চালায়। এরই ফাঁকে আসতে থাকে অস্ত্রের চালান। ২৫ মার্চের কালো রাতে হঠাৎ করেই পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলার নিরীহ মানুষের স্বাধিকার সংগ্রাম চিরতরে স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যে ইয়াহিয়ার নির্দেশে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
বাংলার মানুষ প্রতিরোধ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হয়। গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলা প্রবাসী বিপ্লবী সরকার গঠিত হয় ১০ এপ্রিল। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বিপ্লবী সরকার শপথ নেয়। এই মার্চেই ঘোষিত হয়েছিল স্বাধীনতা।
সেই ঘোষণায় উদ্দীপ্ত বীর জনতা ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতা। বহুল কাংখিত এই স্বাধীনতার সাথে জুড়ে আছে অগ্নিঝরা মার্চের দিনগুলো। স্বাধীনতার এই মার্চ অনেক স্মৃতিময় স্থানের সাথে জড়িয়ে থাকলেও শুধুমাত্র ঢাকার সাথে যে মার্চের পরিচয় আছে, সে মার্চের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে দেয়া হলো-
১ মার্চ ১৯৭১ রবিবার : ঢাকায় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
২ মার্চ ১৯৭১ সোমবার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসভায় বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করা হয়।
৩ মার্চ ১৯৭১ মঙ্গলবার : বাংলাদেশের পতাকার ডিজাইন ঘোষণা।
৪ মার্চ ১৯৭১ বুধবার : রেডিও পাকিস্তান ঢাকা’র পরিবর্তে ‘ঢাকা বেতার কেন্দ্র’ নামকরণ করা হয়।
৫ মার্চ ১৯৭১ বৃহস্পতিবার : কারফিউ-এর মধ্যে ঢাকায় অসংখ্য সভা ও শোভাযাত্রা।
৬ মার্চ ১৯৭১ শুক্রবার : ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে ৩২৫ কয়েদী পলায়ন, গুলিতে নিহত ৭ জন।
৭ মার্চ ১৯৭১ শনিবার : বঙ্গবন্ধু কর্তৃক রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান।
৯ মার্চ ১৯৭১ সোমবার : মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পল্টন ময়দানের জনসভায় পাকিস্তান ভাগ করে দু’টি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের জন্য ইয়াহিয়াকে আহবান জানান।
১১ মার্চ ১৯৭১ বুধবার : অসহযোগ আন্দোলন পূর্ণ সহযোগিতায় সাফল্যজনকভাবে অব্যাহত রাখার জন্য তাজউদ্দিন আহমদের জনতাকে অভিনন্দন।
১৫ মার্চ ১৯৭১ রবিবার : প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ঢাকা আগমন।
১৬ মার্চ ১৯৭১ সোমবার : পরামর্শদাতা ছাড়া ঢাকায় ইয়াহিয়া-মুজিবের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত।
১৭ মার্চ ১৯৭১ মঙ্গলবার : ঢাকায় প্রেসিডেন্ট ভবনে রাতে ইয়াহিয়া-টিক্কা খানের বৈঠক।
১৯ মার্চ ১৯৭১ বৃহস্পতিবার : ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেষ নিশ্বাস ত্যাগের সময়েও কালেমা পাঠের সাথে জয়বাংলা বলেই মরবো’।
২০ মার্চ ১৯৭১ শুক্রবার : লে: জেনারেল আব্দুল হামিদের ক্ল্যাগ স্টাফ হাউসে টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক এবং নীল নকশা অপারেশন সার্চলাইট-এর অনুমোদন।
২১ মার্চ ১৯৭১ শনিবার : পরামর্শদাতাদের নিয়ে ভুট্টোর ঢাকা আগমন।
২২ মার্চ ১৯৭১ রবিবার : ঢাকার প্রতিটি সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা মুদ্রণ।
২৩ মার্চ ১৯৭১ সোমবার : আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উদ্যাপন। প্রতিটি গৃহে নতুন পতাকা প্রদর্শিত।
২৪ মার্চ ১৯৭১ মঙ্গলবার : পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে বিভিন্ন স্থানে ‘সামরিক অ্যাকশন’-এর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
২৫ মার্চ ১৯৭১ বুধবার : দিবাগত রাতে পাকিস্তান সৈন্যবাহিনী গণহত্যা শুরু করে এবং বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।
২৬ মার্চ ১৯৭১ বৃহস্পতিবার : (২৫ মার্চ রাত ১২টার পর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণা।
Comments
SalimC..........
তোর গা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে................
You are 200% right SalimC
I have the same opinion of what you say
SalimC, stop spreading hatred
Please help yourself by visiting phychiatrist more often. You are worst than anti bangladeshi "razakar".
salimC, leave Sheikh alone; what you eat, thats what you are!
salimC, after reading your shit postings, anyone can guess what shitheaded you are. You amoeba, is not intelligent enough to comment on the Sheikh; leave him alone.
Also, stay away from making bad comments about 15 crores of people. Get lost dummy bhihari.
আসুন সবাই বঙ্গবন্ধুকে মনে করি।
আজকের দিনে ঝগড়া বাদ দিয়ে আসুন সবাই বঙ্গবন্ধুকে মনে করি। উনি এইদিন পাকিসতানীদের কাছে নিজেকে ধরা দিয়ে মুকতিযুদধ শুরু করেছিলেন।যেরকম নেতা পছনদ করেছে দেশের মানুষ ঠিক সেরকম ফল আসছে। তবে খারপ খবর হল এই যে আসল ফল সামনে। 'গু' কে পোলাও মনে করে খেলে পোলাও- এর সাদ পাওয়। যাবে না,"গু" র সাদ। পাওয়া যাবে। ১৫ কোটি জনগন গু আর পোলাও এর তফাত জানে না। তো যেটা পাওয়া যাছেচ সেটাই সব চেয়ে ভালো। সামনে বহুত খারাবি আছে।