এইচ টি ইমামের যুক্তি ও ডেমোক্লেসের তরবারি - মিজানুর রহমান খান

দুই বিচারক অপসারণের ঘটনায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তদন্ত উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে এটা ‘প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরার চেষ্টা’ কি না, তা বুঝতে আমাদের কমিটির কার্যক্রমকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। আইনমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীকেও তাঁদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। তাঁদের রেহাই দিলে চলবে না। কারণ তাঁরা কোনো অবস্থায়ই কোনো বেআইনি ও অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ বিনা বাক্য ব্যয়ে মাথা পেতে নিতে পারেন না। এইচ টি ইমামের কথায় কান দিয়ে তাঁরা শপথের লঙ্ঘন ঘটিয়েছেন।

আইনমন্ত্রী সাংসদ নন, তাই ২৭ আগস্ট সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে আইনমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। কিন্তু আইন প্রতিমন্ত্রী সাংসদ। সে কারণে আইন প্রতিমন্ত্রী কমিটির অন্যতম সদস্য। ২৮ আগস্ট প্রথম আলোয় খবর বের হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইমামকে সংসদীয় কমিটিতে তলব।’ ওই কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ওই দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলার সময় ‘তলব’ শব্দটি ব্যবহার করেন বলে মনে হয়। কিন্তু কার্যপ্রণালী বিধির ২০৩ বিধিতে কাউকে ডাকার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। তলব ও ডাকার মধ্যে দিন-রাতের তফাৎ। শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অবশ্য খোঁড়া যুক্তি দিয়েছিলেন, ‘দুই মন্ত্রী ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।’ এটা হয়তো ঠিক যে তাঁরা উদ্যোগী ছিলেন না। কিন্তু ভুতাপেক্ষ বৈধতা তো দিয়েছেন। আইনমন্ত্রী নিজেই বলেন, ‘সারসংক্ষেপটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়নি। ইমাম ও সংস্থাপনসচিবের সই করা সারসংক্ষেপ আইনসচিবের কাছে নির্দেশ আকারে পাঠানো হয়। তখন আমি স্বাক্ষর করি।’ আমরা ঘটনাক্রম যেটুকু জেনেছি তা এ রকম: আইনসচিব ঘটনার দিন ‘একক সিদ্ধান্তে’ আর্মড পুলিশ ডাকেন। বিচারকেরা সে ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর আইনসচিব নিজ উদ্যোগে বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টকে এড়িয়ে শক্তিধর নির্বাহী বিভাগের শরণাপন্ন হন। তাঁর একটি চিঠির ওপর প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।’ পুরো অপসারণ নাটকের জন্য সম্ভবত আইনসচিবের ওই চিঠি দায়ী। মঞ্চে সবার আগে এসেছেন আইনসচিব। এরপর ইমামসহ অন্যান্য কুশলীব। জনাব ইমামের নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত ওই সারসংক্ষেপে বলা হয়, একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিচার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের আচরণ জনশৃঙ্খলার প্রতি একটি হুমকি। সমিতি অবৈধভাবে সচিবালয়ে এসে ক্ষোভ দেখিয়েছে। এ জন্য সমিতির সভাপতি মো. আবদুল গফুর ও মহাসচিব মো. শাহজাহানকে ১৯৭৪ সালের আইনের আওতায় বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া প্রয়োজন। জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন। জনাব ইমাম এই সারসংক্ষেপ দ্রুত সংস্থাপনসচিবের কাছে পাঠান। তিনি তাৎক্ষণিক তা আইনসচিবের কাছে পাঠান। আইনসচিব তাতে দ্রুত গতিতে আইনমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীর সই সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠান।

জনাব ইমাম শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, দুই বিচারক ক্ষমা চাওয়ায় তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। এ বক্তব্য সত্য হলে এর আগে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকেদের যা বলেছেন, তা অসত্য বলে গণ্য হতে পারে। একসঙ্গে দুজনই সঠিক হতে পারেন না। আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণেই তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়।’ মিডিয়ায় এ খবর ফলাও করে প্রচারিতও হয়। কিন্তু সেই পদ্ধতিগত ভুলটি কী, তা তিনি সাংবাদিকেদর কাছে ব্যাখ্যা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়নি। তাই এ নিয়ে আমি তাঁর দপ্তরে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তাঁকে প্রশ্ন করি, আপনার বরাতে খবর ছাপা হয়েছে যে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই বিচারককে রাষ্ট্রপতি অপসারণ করেছেন। কিন্তু আপনি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। এর কারণ কী? ১৯৭৪ সালের আইন দেখালে পরামর্শ লাগে না, আপনি কি সত্যি তা-ই মনে করেন? জবাবে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট বললেন, ‘না। পরামর্শ তো লাগবেই। সেটাই তো পদ্ধতিগত ত্রুটি।’ সত্যিকার অর্থে বিচার বিভাগ পৃথক্করণের পর সংস্থাপন মন্ত্রণালয় কোনোভাবেই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নয়। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হলো আইন মন্ত্রণালয়। বিচারকদের মারা-কাটার কোনো উদ্যোগ কেনোক্রমেই, কোনো যুক্তিতেই সংস্থাপন বা অন্য মন্ত্রণালয় নিতে পারবে না। তাই সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ গ্রহণ না করে নয়, ওই প্রক্রিয়ায় হাত দিয়ে ইমাম একটি মারাত্মক অনধিকার চর্চা করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলন তাই নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংবিধান ও আইনের অপব্যাখ্যা করেছেন। জনাব ইমাম ও তাঁর মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী(শেখ হাসিনা) কতটা সচেতন বা অসেচতন জানি না, তবে এর মাধ্যমে বাস্তবে দেশের অধস্তন আদালতে কর্মরত প্রায় এক হাজার ২০০ বিচারকের মনে অহেতুক ভয় ঢোকানো হচ্ছে। এই মুহুর্তে প্রায় ৩০০ বিচারক ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন। জনাব ইমামের অপব্যাখ্যা শুনে তাঁরা এখন ভাবতে পারেন, তাঁদের প্রত্যেকের চাকরি অন্তত কাগজে-কলমে কত ঠুনকো! ১৯৭৪ সালের আইনটি যেন গ্রিক কিংবদন্তির সেই ডেমোক্লেসের তরবারি, বিচারকদের গর্দানের ওপর যা সারাক্ষণ ঝুলছে। রাজার আদেশের বাইরে গেলেই তাঁদের গর্দান কাটা যাবে। জনাব ইমামের স্পর্ধিত দাবি, ‘১৯৭৪ সালের আইন অনুযায়ী দুই বিচারককে অবসর দেওয়া হয়েছিল। চাকরি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এটা করতে পারে। এ জন্য (সুপ্রিম কোর্টে) রেফারেন্সের প্রয়োজন হয় না।’ তিনি তাঁর বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করতে বলেন, ‘এ আদেশের এক দিন পর বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। তখন আমিও সেখানে ছিলাম। তাঁরা এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর দুই বিচারককে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়।’

অনুসন্ধানে যেভাবে জেনেছি তা মোটামুটি এ রকম: ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর উপস্িথতিতে বিচারকদের প্রতিনিধিদলের দেড় ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকের একপর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ চৌধুরী মুনীর উদ্দীন মাহফুজ (জনতার মঞ্চে যোগদানকারী একমাত্র বিচারক) স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের মুরব্বি। আপনি দেশের অভিভাবক। একটি ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে কারও না কারও ভুল-ত্রুটি রয়েছে। আপনি সে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে উদ্ভুত সমস্যার সমাধানে আদেশটি প্রত্যাহার করতে পারেন। আমি সবার পক্ষে সে জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। আপনি আমাদের মায়ের মতো। এরপর প্রধানমন্ত্রী আরও আন্তরিক পরিবেশে বিচারকদের আপনি থেকে তুমি সম্বোধন করে কথা বলেন।

আমরা ওই মন্তব্য আক্ষরিক অর্থে যাচাই করতে পারিনি। তবে এটুকু বুঝতে পারি, প্রধানমন্ত্রীসংশ্লিষ্ট কোনো ‘পদ্ধতিগত ত্রুটি’ শোধরানোর বৈঠকে এ ধরনের শিষ্টাচারমূলক বাতচিৎ আমাদের রুঢ় বাস্তব সংস্কৃতিতে অচল নয়। তবে এটাও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট দুজন বিচারক ওই বৈঠকে ক্ষমা বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এও শুনেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ ওই বৈঠকের আলাপ-আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিচারকদের অনুরোধ করেছিলেন। এটা সত্যি হলে আমরা এখন প্রশ্ন তুলব, জনাব ইমাম ২৬ দিন পর কেন এ বিষয়ে মুখ খুললেন। আমরা ধরে নেব, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন, সেখানে ১৯৭৪ সালের আইনের উদ্ভট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এবং সেখানে তিনি তাঁর নিজের দায় মোচনে স্পষ্ট ইঙ্গিত করে বলেন, ‘দুই বিচারককে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমার একার নয়। এটা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের।’ আমরা সন্দেহাতীতভাবে বুঝতে পারি, তিনি সঠিক উপদেশ দিতে কেবল ব্যর্থ হননি, বরং প্রধানমন্ত্রীকে ভুল পথে যেতে প্ররোচিত করেছেন বা তাঁকে নিবৃত্ত করতে বিফল হয়েছেন।

২৫ বছর পার হলে আমলাদের মতো কোনো কারণ না দেখিয়ে বিচারকদের ‘জনস্বার্থে’ বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া যায়−এই অসত্য, আইন ও সংবিধানবহির্ভুত ও সর্বোপরি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাবিনাশী ধারণা জনাব ইমাম কেন প্রচার করছেন, তার ব্যাখ্যা জানা এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে। দুই বিচারকের অপসারণ এখন বাসি গল্প।

আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে আর্মড পুলিশ দেখে উষ্ক্না প্রকাশ করে বিচারকেরা আর কী জনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি বয়ে এনেছিলেন? জনাব ইমাম এখন বিচারক অপসারণের ভয়ানক কাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে প্রচার করে বিচার প্রশাসনে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রয়াস চালাচ্ছেন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, বিচারকদের মনস্তাত্ত্বিক জগতের ক্ষতি বা দুশ্চিন্তা চোখে দেখা বা ছুঁয়ে দেখার বিষয় নয়।
২৮ আগস্ট জনাব ইমাম কিন্তু আরও অনেক ভ্রান্তি ছড়ান। যেমন তিনি আইনমন্ত্রীর জবানিতে কেবল আইনসচিবকে ডাকার কথা বলে চাতুর্যের আশ্রয় নেন। ২৯ আগস্টের প্রথম আলোয় তাঁর সংবাদ সম্মেলনের খবরের শিরোনাম ছিল: ‘কমিটির সিদ্ধান্ত নয়, কারও উসকানিতে তলবের কথা বলা হয়েছে।’ কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য দেন, ২৭ আগস্টের বৈঠকে তিনজনকে ডাকার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে হয়েছিল। রেকর্ড তার সাক্ষী। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকার সিদ্ধান্ত হয় আইনসচিবকে। তবে ইমাম ও সংস্থাপনসচিবকে ডাকার তারিখ ঠিক হয়নি। জনাব ইমামকে ডাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন রহমত আলী। সাকা চৌধুরী ও অন্যরা পরে তাঁকে সমর্থন দেন। এসব তথ্য আইনবিষয়ক দুই মন্ত্রীরই জনার কথা।

অনেকের মনে হতে পারে, জনাব ইমাম উসকানি দিতেই ‘উসকানি’ প্রসঙ্গ আনলেন কি না। কারণ তিনিই বলেন, তাঁকে ডাকার সিদ্ধান্ত নিলেও তা ঠিক হতো না। কেন? তিনি নিজকে কী মনে করেন? মন্ত্রীরা কমিটির সামনে আসতে পারলে মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আসতে বাধা কী?

তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে খুবই আস্থাশীল, এর কোনো প্রমাণ পাই না। তেমন কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। সংসদীয় কমিটি আইনসচিবকে ডেকেছেন। কিন্তু তাঁর আগেই কমিটির উচিত হবে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র চেয়ে পাঠানো। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকেও ডাকতে হবে। আমরা কিন্তু সচিবালয়ে তথাকথিত বিক্ষোভ-বৃত্তান্ত জানতে পারিনি। পুরো ঘটনা রহস্যের ঘেরাটোপেই বন্দী থাকতে পারে, যদি স্বয়ং সংসদনেত্রী সংসদীয় কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে অনিচ্ছুক থাকেন। তিনি বিষয়টি পরিষ্ককার না করা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারকদের মাথার ওপর ডেমোক্লেসের তরবারিটা ঝুলতেই থাকবে।

মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

সৌজন্যে: দৈনিক প্রথমআলো

Comments

SalimC's picture

১/১১এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্র,উদ্দেশ্য ছিল সুদূরপ্রসারী।

গওহর রিজভী,এইচ টি ইমাম ও আলাউদ্দিন আহমেদসহ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা কেন এত বেশি ক্ষমতাধর ও বেপরোয়া হতে পেরেছেন- তার কারণ জানতে হলে একটু পেছনে দৃষ্টি ফেরাতে হবে।একথা এতদিনে প্রমাণিত হয়ে গেছে,১/১১ কোনো সাধারণ সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না।এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্র, উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনাও ছিল সুদূরপ্রসারী।ওই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি শক্তি ও পক্ষ- যাদের মধ্যে বিশেষ একটি রাজনৈতিক পক্ষের ব্যাপারে এতদিনে সাধারণ মানুষও জেনে গেছে।এখানে ঘটনাপ্রবাহের প্রধান ‘নটরাজের' দিকে লক্ষ্য করা দরকার।এ ব্যাপারে শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সর্বশেষ বক্তব্য উল্লেখ করতে হবে।৫ সেপ্টেম্বর জেনেভায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ১/১১-এর পরবর্তী সরকারের আমলে তাকে নাকি প্রধানমন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।প্রস্তাবের শর্ত ছিল, শেখ হাসিনাকে নির্বাচনের দাবি ত্যাগ করতে হবে।অর্থাৎ কোনো নির্বাচন ছাড়াই তাকে মনোনীত প্রধানমন্ত্রী বানানো হবে।কিন্তু শেখ হাসিনা সে প্রস্তাবে রাজি হননি।তাকে নাকি তখন হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছিল।
শেখ হাসিনার মতো একজন নেত্রীকে কার পক্ষে এতটা অবমাননাকর কোনো প্রস্তাব দেয়া সম্ভব- সে প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয়ই দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।‘বেঁটে জেনারেল' হিসেবে ব্যাপকভাবে নিন্দিত মইন উ আহমেদ বোঝাতে চাইতেন, তিনি নাকি ক্ষমতা দখল করেননি এবং এ ব্যাপারে তার নাকি সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনা ছিল না!কিন্তু পরবর্তীকালের ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে, ইচ্ছা ও পরিকল্পনা তার অন্য রকমই ছিল।তার লক্ষ্য ছিল বঙ্গভবনে গিয়ে ওঠা এবং বছর পাঁচেক অন্তত বসবাস করা।এজন্যই দুই নেত্রীকে ‘মাইনাস' করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।কিন্তু যতো ‘নষ্টের মূল' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন খালেদা জিয়া।‘মরি আর বাঁচি' বলে জেদ ধরে বসেছিলেন তিনি, দেশ ছেড়ে যেতে রাজি হননি।ফলে দুই নেত্রীকে ‘মাইনাস' করার চিন্তাও পরিত্যাগ করতে হয়েছিল।খালেদা জিয়ার এই বলিষ্ঠতাই শেখ হাসিনার জন্য রিটার্ন টিকিট হয়ে উঠেছিল, তার জন্য সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছিল।নতুন পর্যায়ে ‘খেলা'ও ঠিক তখনই শুরু হয়েছিল।এ ব্যাপারে সপ্রতি কিছু তথ্য জানা গেছে ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিডে'র একটি রিপোর্টে।জড়িত কয়েকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে রচিত রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রতি জেনারেল মইন উ'র মনোভাবে পরিবর্তন ঘটেছিল ২০০৮ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে।খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যেতে অস্বীকার করায় রাষ্ট্রক্ষমতা ও বঙ্গভবনকেন্দ্রিক ‘খায়েশ' পূরণ করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছিলেন মইন উ।তখনই তাকে শেখ হাসিনার দিকে ‘মৈত্রীর হাত' বাড়ানোর কৌশল নিতে হয়েছিল।আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠিত নেতাদের পাশ কাটিয়ে তিনি একদল সাবেক আমলা ও অরাজনীতিক ব্যক্তির সাহায্য নিয়েছিলেন (নেতারা তখনও শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে দলের ভেতরে সংস্কার করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন!)।সাবেক ওই আমলা ও অরাজনীতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমেই একটি ‘ডিল' বা সমঝোতা হয়েছিল।
‘ডিল' হওয়ার পর মইন উ সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারা যাতে আওয়ামী লীগের আর কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নিয়ে পা না বাড়ান।মইন উ'র নির্দেশে ডিজিএফআইয়ের দুই ডিজি মেজর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ও মেজর জেনারেল এটিএম আমিন ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার প্রতিটি বিষয়ে দেখাশোনা করেছেন।এটিএম আমিন নেত্রীর জন্য নিজেই বিশেষ কারাগারে খাবার নিয়ে গেছেন। তাকে টাঙ্গাইলের শাড়ি উপহার দিয়েছেন।ডিজিএফআইয়ের একজন সাবেক সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন,‘হঠাৎ করেই সবকিছুর মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছিল'। শেখ হাসিনার ‘কদরও' অনেক বেড়ে গিয়েছিল।ঘটনাপ্রবাহের সে পর্যায়েই ডিজিএফআইয়ের ডিজি মেজর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদকে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় ‘নীতি নির্ধারক' হিসেবে বর্ণিত সাবেক আমলা এইচ টি ইমামের সঙ্গে দিনের পর দিন গোপন বৈঠকে অংশ নিতে এবং গভীরভাবে মেলামেশা করতে দেখা গেছে।শেখ হাসিনা ও জেনারেল মইন উ'র মধ্যে ‘দূতগিরিতে' এইচ টি ইমামের ‘অবদান' সম্পর্কে ইতিমধ্যে অনেক তথ্য প্রকাশিতও হয়েছে। এসব তথ্যে জানা গেছে, তার চেষ্টাতেই শেখ হাসিনা ‘মাইনাস' হওয়ার পরিণতি এড়াতে পেরেছিলেন।শুধু তা-ই নয়, ‘ডিজিটাল' নির্বাচনের সমগ্র আয়োজনেও এইচ টি ইমাম প্রধান ‘নটরাজের' ভূমিকা পালন করেছেন।২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে ২৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারে সর্বশেষ যে লেনদেন ও সমঝোতার বৈঠক হয়েছিল, সেখানেও মইন উ এবং ফখরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে শেখ হাসিনার পক্ষে প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে এইচ টি ইমামই উপস্থিত ছিলেন,সঙ্গে ছিলেন ড. আলাউদ্দিন।সে সমঝোতার ভিত্তিতেই একদিকে আওয়ামী লীগ অবিশ্বাস্য ‘বিজয়' অর্জন করে ক্ষমতায় এসেছে, অন্যদিকে এইচ টি ইমাম ও আলাউদ্দিন আহমেদরা উপদেষ্টার পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।এজন্যই উপদেষ্টাদের ‘খুটির জোর' অনেক বেশি,তারা এমনকি জাতীয় সংসদের প্রতিও উপেক্ষা দেখাতে পারেন।
এদিকে ‘ডিল' হওয়ার পর আওয়ামী লীগের প্রতি খোলামেলাভাবেই পক্ষপাতিত্ব দেখানো শুরু হয়েছিল।এ ব্যাপারে ডিজিএফআইয়ের একজন সাবেক উচ্চপদস্থ অফিসার বলেছেন, ‘‘আমি চিফকে (সেনা প্রধান জেনারেল মইন উ'কে) জিজ্ঞেস করলাম, ‘এসব কি হচ্ছে?' উত্তরে অনেকটা দার্শনিকের মতো তিনি বললেন, ‘যুদ্ধের মাঠে তোমরা কি পশ্চাদপসরণ এবং রিগ্রুপিং বা গ্রুপ পুনর্গঠন করো না?এটা ঠিক সেরকমই।' ওই অফিসার বলেছেন, বস্তুত এতদিন (২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত) যা ছিল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও দেশপ্রেমিকসুলভ অভিযান, সেটাই হয়ে উঠেছিল আওয়ামী লীগের প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক রাজনৈতিক এজেন্ডা।’’অন্য কয়েকজন সিনিয়র সেনা অফিসারও এই ‘ডিল'-এর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাপ্রবাহের সে পর্যায়েই শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মইন উ।কিন্তু রাজনীতিকদের নিয়ে বেশি খেলতে গিয়ে ‘বেঁটে জেনারেল' লক্ষ্য করেননি যে, যুগে যুগে ‘খেলা' আসলে রাজনীতিকরাই খেলে থাকেন।এজন্যই সব জেনারেলকেও এক সময় রাজনীতিকদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়।রাজনীতির সে ‘খেলাতেই' দিক হারিয়ে ফেলেছিলেন ‘বেঁটে জেনারেল'।এতদিন তিনি ছিলেন প্রস্তাব দেয়ার অবস্থানে,এবার সে অবস্থান চলে গিয়েছিল শেখ হাসিনার দখলে।‘বেঁটে জেনারেল'কে বঙ্গভবনের ‘হাই কোর্ট' দেখিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
নেত্রীর কথায় বিশ্বাস করে মইন উ আর পেছনে ফিরে তাকাননি।তিনি ‘রোড ম্যাপের' বাকি অংশের বাত্মবায়ন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।রাষ্ট্রীয় সকল কর্মকান্ডে তো বটেই, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সেনাবাহিনীকে সর্বতোভাবে জড়িত করেছেন তিনি।তার নির্দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাসহ রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকেই সামনের কাতারে রাখা হয়েছে।জনগণকে ধারণা দেয়া হয়েছিল, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা তুলে দেয়ার বাইরে সেনাবাহিনী আর কোনো ভূমিকা পালন করবে না।অন্যদিকে ‘জুতা সেলাই থেকে গীতা পাঠ করা' পর্যত্ম প্রতিটি কাজেই সেনাবাহিনীকে আঠার মতো লাগিয়ে রেখেছেন ‘বেঁটে জেনারেল'।তিনি যেহেতু আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য ন্যক্কারজনকভাবে কাজ করে গেছেন, সে কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কেও জনমনে সংশয় ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।মইন উ'র ভূমিকায় গোটা সেনাবাহিনীই শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সমর্থক পক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে- যদিও এই কর্মকান্ডে প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনীর দোষ বা দায়দায়িত্ব ছিল না।
এভাবে ‘রোডম্যাপ' বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মইন উ শুধু আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যাননি, সেনাবাহিনীকেও পঙ্গু করে গেছেন।পিলখানা হত্যাকান্ডে তার ভূমিকা নিয়ে সঙ্গত অনেক জিজ্ঞাসা রয়েছে।এই ‘বেঁটে জেনারেল' সেনাবাহিনীকে অভিযান চালাতে দেননি, তিনি নিজেও রাত পর্যস্ত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কাটিয়ে এসেছিলেন।কোনো সেনাপ্রধান দূরে থাকুন, নিম্নস্তরের কোনো কমান্ডারও এমনটি করতে পারেন না। ওদিকে তার নির্দেশেই ১০ জন কৃতী সেনা অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।এই ক'জনের বাইরেও বরখাস্ত করার সুপারিশযুক্ত দীর্ঘ একটি তালিকা রেখে গেছেন তিনি।জানা গেছে, মইন উ'র কূটকৌশলে অফিসারদের মধ্যে ‘স্বেচ্ছায়' পদত্যাগ করার ‘ধুম' পড়ে গেছে।তিনজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ দু' ডজনের বেশি অফিসার ‘স্বেচ্ছায়' চাকরি থেকে বিদায় নিয়েছেন অথবা নিতে যাচ্ছেন। বিভিন্ন র্যাং কের আরো অত্মত ১৫০ জন অফিসার ‘স্বেচ্ছায়' পদত্যাগ করার জন্য আবেদন করেছেন। পিলখানা হত্যাকান্ডের কিছুদিন আগে অবসরে যাওয়া একজন সিনিয়র অফিসার মন্তব্য করেছেন, মইন উ'র পরামর্শে ‘কম্বল' বাছতে বাছতে সরকার যখন সন্তুষ্ট হবে ততদিনে ‘কম্বল' একেবারে ‘উজাড়' হয়ে যাবে।অর্থাৎ সেনাবাহিনীতে যোগ্য, পেশাদার ও দেশপ্রেমিক কোনো অফিসারই আর পাওয়া যাবে না।এভাবেই সেনাবাহিনীর ‘ঋণ' শোধ করে গেছেন ‘বেঁটে জেনারেল'।
কিন্তু জাতি বিরোধী ধ্বংসাত্মক ভূমিকা পালন করলেও মইন উ'কে আওয়ামী লীগ সরকার বিচারের সম্মুখীন করেনি।শুধু মইন উ'কে নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামের উদ্দিন সাহেবদের অন্য কাউকেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জবাবদিহি করতে হবে না।কারণ, ‘রোডম্যাপ' তৈরি করার সময় মূল পরিকল্পনা সেভাবেই করা হয়েছিল।পরিকল্পনায় ‘প্রয়োজনীয়' সবাইকে ‘সঙ্গে' রাখা হয়েছিল- যাদের ওই মুহূর্তে প্রয়োজন ছিল তাদেরকে তো বটেই, পরবর্তীকালে যাদের প্রয়োজন পড়বে তাদেরকেও।এজন্যই আওয়ামী লীগ সরকারেরও রয়েছে ‘ঋণ' পরিশোধ করার দায়ভার।‘ঋণ' পরিশোধের ব্যাপারে সরকার অবশ্য যথেষ্ট তৎপরতা দেখিয়ে চলেছে।ফখরুদ্দীন আহমদ তার স্ত্রী ও উপদেষ্টা শ্যালক ইফতেখার আহমদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে আগেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।মইন উ'র ব্যাপারেও একই কথা সত্য।এর প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে।যেমন আওয়ামী লীগের দলীয় মুখপাত্র এবং এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মইন উ অবসর নেয়ার পরদিন, ১৬ জুন সাংবাদিকদের বলেছেন, তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।সরকার চাইলে মইন উ আহমেদকে রাষ্ট্রদূত বা জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি করে পাঠাতে পারে।মইন উ যেদিন ১১৯ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন, সেদিনও সৈয়দ আশরাফুল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মইন উ বা ‘সেনা সমর্থিত' সরকারের কারো বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।সরকারের এমন সিদ্ধান্তই অবশ্য স্বাভাবিক।কারণ, সাবেক এই সেনা প্রধান সর্বতোভাবে আওয়ামী লীগের ‘খেদমত' করে গেছেন।দলটিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার ব্যাপারেও তার সুস্পষ্ট ‘অবদান' রয়েছে। সুতরাং বিচার বা শাস্তির প্রশ্ন ওঠে না, মইন উ বরং একের পর এক ‘পুরস্কার' পেতে থাকবেন।এখানেই সঠিক বিষয়টি তথা ‘রোডম্যাপের' কথা বুঝতে হবে।‘রোডম্যাপ' বাস্তবায়নের কাজ এখনো চলছে বলেই অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে।আগামীতেও অনেককে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।একে জাতীয় স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ভাবতে পারলে ক্ষতিগ্রস্তদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতে পারে।
খবর: রহস্যময় উপেদষ্টা গওহর রিজভী:
তিনি যেহেতু আন্তর্যাতিক বি্ষয়ক উপদষ্টা সেহেতু প্রধান মন্ত্রী কিভাবে আন্তর্যাতিক অংগনে পরিচিত হতে পারেন, নোবেল প্রাইজ লাভের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম, বন্দর সহ আর কিকি সুবিধা দিতে হবে? দেশের টাকায় ছেলেমেয়েদের বিদেশে ব্যাবসা বানিজ্য কিভাবে সম্প্রসারন করা যায়? পরবর্তিতে যেহেতু তার রাজনীতি করার ইচ্ছানেই এবং ছেলেরও রাজনীতির প্রতি ঝোক নাই তাই দেশটাকে কিভাবে বিদেশ বানান যায়? এগুলই মূলত রিজভি শাহেবের কাজ। এগুলোত গোপন এজেন্ডা তা আপনাদের জানাতে হবে কেন? দেশবাসী ভোট দিয়ে পাচ বছরের জন্য তাদের দায়িত্ব দিয়েছে আতএব তাদের চালাতে দেন। আওয়ামী কাউন্সিলররা হাচিনাকে দায়িত্ব দিলে তিনি কত সুন্দর দলিয় কমিটি করেছেন তাকি আপনারা দেখছননা? বুড়া গুলেরে সসম্মানে উষ্ঠা দিয়ে উষ্ঠা কমিটিতে জায়গা করেদিয়েছেন এটাকি অন্য কারও পক্ষে সম্ভব হত? গণতন্ত্রের মানষ কন্যর গণতন্ত্র চর্চার নমুনা দেখে আপনারা আনন্দো বগল বাজাচ্ছেননা কেন? তারা ওয়াদা করেছিল 10টাকা দরে চাল খাওয়াবে সেটা সম্ভব করারর জন্য দেশটাকে বিদেশ বানাতে হবে টাকার মানকে ডলারের মানে উন্নিত করতে পারলেইতো 10টাকায় চালদেয়া সম্ভব। অথবা 74 সালের মত দুর্বিক্ষ সৃষ্টি করতে পারলে বিদেশিরা যে রিলিফ দিবে তা 10টাকায় নয় বরং বিনামূল্যে বিতরন করে সরকার বাহবা নিতে পরবেন। বলতে পারবেন ওয়াদা ছিল 10টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ান কিন্তু সরকার বিনামুল্যে চাল খাওয়াচ্ছেন! বিচার বিভাগ নির্বাচনের পরদিন থেকেই স্বাধীন হয়ে গেছে! সারাদেশে দেখেননা কথিত জোটের আপরাধিদের লীগ কর্মীরা কিভাবে সাইজ করছে? আর কি চান? ঘরে ঘরে বিচারপতি, টেন্ডারবাজ, আদমব্যাপরী। এতেও যদি জাতির আশাপুরন না হ্য় তাহলে কিসে আশা পুরন হবে তাই গওহর সাহেব উদ্ভাবনের চেস্টা করছেন?

farmer's picture

matin: paper is made from trees

matin, MR Khan spoiling paper, paper is made from trees, trees give you oxygen to make noises.
I am not a journalist, if I was journalist, I could explain ST Imam novel in 4 sentences, it does not need an Arabian Nights to explain that.

matin's picture

farmar on Journalist M. R. Khan,

why do u talk on Journalist M. R. Khan,? first write such an article to any newspaper by yourself. Moreover M R Khan is an journalist. As far we know, you are not journalist,
so please stop yourself to make any noises to mess the blog.

farmer's picture

Journalist M. R. Khan, why writing Arabian Nights?

Hasina hired HT Imam to hunt down BNP officials; he has special skills in that, he is doing his job.
Hasina kicked Suranjit on his face recently; so Suranjit tried to show Hasina his teeth, thats all; why you are writing Arabian Nights, too much time to kill?