"সাকা" একটি পশুর নাম (পর্ব-৫)-by-নিঝুম মজুমদার

প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নেয়া উচিত পাঠকদের কাছে এই পর্বটি একটু দেরীতে লিখেছি বলে । পাঠকদের একটি কথা না বললেই নয় যে, সাকা কে নিয়ে একটি পর্ব লিখতে যাওয়া মানেই কম করে হলেও সাত থেকে আট ঘন্টার মত লেগে যায় । রেকর্ডকৃত সাক্ষাতকার গুলো বার বার শুনে তা আবার লেখা, বিভিন্ন সূত্র থেকে লেখা বাছাই করা, ইংরেজী আর্টিকেল গুলোর অনুবাদ করা,একে-ওকে ফোন করে জানতে চাওয়া ইত্যাদি । যেমন ধরা যাক আমি এই পর্বটি লিখতে বসেছি গতকাল রাত ৮ টায় । আর এখন বাজে আজ সকাল ৫ টা । সুতরাং পাঠক, বুঝতেই পারছেন এই লেখাটি খুব সহজে লিখে ফেলা আমার জন্য সম্ভব হয়ে উঠছে না । তারপরেও দায়বদ্ধতা থেকেই যায় , একটি সিরিজে খুব বেশী সময়ের পার্থক্য হলে, সিরিজটিরই মান ও আগ্রহ ক্ষুণ্ণ হয় বলেই আমার ধারনা । তারপরেও আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত । সামনের পর্বে সম্ভবত এই সিরিজট শেষ করতে পারব ,যদি আপ্নারা সব সময়ের মত পাশে থাকেন, উতসাহ দেন । আপনাদের উতসাহেই আমার মত অলস মানুষের এতদূর লিখে ফেলা । পেছনের পর্ব গুলোর দিকে তাকালে তাই বেশ অবাক হয়ে যাই ।

কথা না বাড়িয়ে শেষ করি । তবে শেষ করবার আগে পুরোনো সেই কথাটি আরেকবার বলি । কথাটি হচ্ছে, সাকা কে নিয়ে লিখতে আমার ভীষন ক্লান্ত লাগে । হতাশায় আর বিষন্নতায় আমি বার বার ব্যাধিগ্রস্থ হই । সাকার ভেতর এত বেশী অন্ধকার,যে লিখতে গিয়ে আমি বার বার হারিয়ে গেছি । কখনো ঘৃণায় , কখনো আতঙ্কে, কখনো বিষ্মিত হয়ে ।
একজন মানুষ হিসেবে সাকা’কে নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি সেইসব অন্ধকার দেখে আজকাল ভারাক্রান্ত হয়ে থাকি । খুব এবং খুব ।
****************************************************************************************************
১ম পর্ব
২য় পর্ব
৩য় পর্ব

৪র্থ পর্বের পর-

নাহ্ । আমাদের এই সাম্রাজ্যও নেই । আমাদের ক্ষমতাও নেই । আমরা ক্ষমতাহীন এক কপর্দক হয়ে ভেতরের বিষবাষ্প,জ্বালা আর ক্ষোভ প্রায়ই ঘরের ভেতরে মিটিয়ে থাকি ।কখনো মুখ ফসকে বেরিয়ে আসে কুত্তার বাচ্চা কিংবা আরেকটু এগিয়ে গেলে শুয়োরের বাচ্চা । এই পর্যন্তই । সে চিতকার আবার চারদেয়ালের ভেতর আছড়ে পড়ে আর খুব তীব্র রসিকতা হয়ে আমার কানের কাছে এসে ছুটে পালায় । এ গাল গুলো যেন আমাকেই ছোঁয় আমারই আক্রোশে প্রতিনিয়ত ।

আচ্ছা, পাঠক , আপনাদের কাছেই আমার একটা প্রশ্ন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কি কোন রাজনৈতিক নেতা জন্মেছে যে সাকার মত এই রকম ঔদ্যররথ পূর্ণ কথা বলে ?এমন কি কেউ আছে যে, ক্রমাগত দেশের প্রশাসন, বিচার ব্যাবস্থা ,আইন কাঠামো,সংবিধানের প্রতি আনাচে কানাচে আঘাত হেনে কথা বলে পার পেয়ে গেছে ? কিংবা কখনো বাংলাদেশের জনগণ তাকে ছেড়ে দিয়েছে ? তাহলে শুধু সাকার ব্যাপারটিতেই প্রতিটি সরকারের এমন জুজুর ভয় কেন ? বলেন শেখ মুজিব, বলেন মোশতাক,বলেন জিয়াউর রহমান,বলেন এরশাদ,বলেন খালেদা অথবা হাসিনা । কে সাকাকে একদন্ড দুঃখ দিতে পেরেছে ? কে পেরেছে সাকার বংশদন্ডের উপরিভাগের একটি কেশ এই জগত সংসারে নিয়ে আসতে ? কেউ পারে নি ।

সাকার তথ্য মতে খালেদা হয় কুকুর আর তার দুই পূত্র হয় কুকুরের বাচ্চা, শেখ হাসিনাকে জনগণের সামনে হতে হয় সাকার হলেও হতে পারত বধু , কিংবা মরহুম ওয়াজেদ নিম্নাঙ্গের বিস্তর বিবরণ দিয়ে হতে হয় রংগশালার পাত্রী, বর্তমান ও সাবেক আইন প্রতি মন্ত্রী ও পূর্ণ মন্ত্রীকে হতে হয় যথাক্রমে অর্বাচীন ও সুবিধাভোগী,মান্নান ভুঁইয়াকে হতে হয় নর্দমার পানি,জলিল সাহেবকে শুনতে হয় “কাকাদের দালাল”,মইন ইউ আহমেদকে হতে হয় বেঈমান,নির্বাচন কমিশনকে শুনতে হয় কেরাণী নাম দিয়ে হুঙ্কার,আদালত কে শুনতে হয় “কে আমার কোন বাল ফেলবে ?”বলে সুতীব্র চিতকার । আর আমরা আচোদা আর অথর্ব জনগণকে বিপুল যন্ত্রণা নিয়ে প্রতিটিদিন দেখতে হয় সাকা নামের পশুর কদর্য শারীরিক আস্ফালন আর মৌখিক ধর্ষন । তাই,আমাকে প্রশ্ন করবেন না প্লিজ । আমাকে বলবেন না, কেন হচ্ছে এসব ?

১৯৭২ সালে কিউ সি শিপিঙ্গের অনুমোদন আমি দেইনি । দিয়েছেন মহামতি বংগবন্ধু শেখ মুজিব । আমাদের বাবা । আমাদের জাতির পিতা । বন্ধুত্বের প্রতিটি কণার প্রতিটি মূহূর্তের স্বাক্ষর তিনি রেখেছিলেন । ফকার সাথে বেঈমানী করেন নি পিতা । পূত্রের কাছে চাবি তুলে দিতে দ্বিধা হয়নি শেখ মুজিবের । হোক না সাকা লন্ডনে , তাতে কি ? জামালুদ্দিন কাদেরের কাছে, গিয়াসুদ্দিন কাদেরের কাছে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, “বন্ধুত্ব মরে না হে অর্বাচীন ।” সে জন্যই সম্ভবত সাকা বেশ ব্যাংগ ভরে মৃত বঙ্গবন্ধুকে “চাচা” সম্বোধন করে বলেছিলো,

”তিনি একজন ভদ্র মানুষ ও বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তার অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। আমিও চাচাকে সম্মান করি । আমার নেত্রীও তার কবর জিয়ারত করেছেন । “আমিও সুযোগ পেলে জিয়ারত করতে যাব।

১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক,পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান,তারপর লে যে হু মু এরশাদ,খালেদা জিয়া,শেখ হাসিনা,আবার খালেদা তারপর আবার শেখ হাসিনা, সবাই শুধু তেলের মাথায় তেল ঢেলেছেন এই বিগত দশক গুলোতে । সাকা নামের পশুটি হয়েছে সাম্রাজ্যশালী আর ক্ষমতার কেন্দ্র ।

QC Shipping Limited
Multiport Limited
QC Container Line Limited
Intermodal Transport
QC Petroleum Limited
Dacca Dyeing & Manufacturing Company Ltd.
QC Enterprises Limited
QC Trading Limited
QC Feeders Ltd
QC Textile Limited
QC Farms Limited
QC Foundation
Feedermax ( S ) Pte Ltd

এই যে উপরের ব্যবসা বিন্যাসটি দেখছেন তা , গত সাইত্রিশ বছরে সাকা ও তার পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্তের একটি নিদর্শন মাত্র । এইগুলো একদিনে হয়নি । প্রতিটি সরকার প্রতিটি আমলে সাকাকে ছাড়পত্র দিয়েছে ।আর সাকার এই ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গুলো বরাবরের মত অবৈধ অর্থ উপার্জনের এক একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার হয়ে এসেছে । প্রসঙ্গতঃ সাংবাদিক নাঈম মহাইমেনের একটি আর্টিকেলের কিছু অনুচ্ছেদ থেকে জানা যায় যে,
Assistant Police Superintendent of Ukhia Circle in Cox’s Bazar sent a report (Memo no.1811 dated 26.6.2000) to the Police Superintendent of Cox’s Bazar. The report quoted that on secret information the police had learnt that during the previous BNP regime (1991-96) Salahuddin Quader Chowdhury smuggled in modern arms and ammunition from different countries to supply to the Rohingya separatists. The Assistant Police Super also furnished a list of 12 illegal arms traders with Salahuddin’s name topping the list.

The Asia Times in its 6 February 2002 issue wrote in an article “Salahuddin Quader Chowdhury and his brother Giasuddin Quader Chowdhury both BNP leaders and alleged smugglers are actively involved in abetting fundamentalists, militant groups such as Harkat-ul-Jihad and rightist political parties such as JEI and IOJ”.

On 14 October 1996 a group of 12 motor bikers were coming out of Jetty # 3 of Chittagong Port where a ship of Q.C. Teal was moored. oticing their suspicious movement the police on duty challenged them and recovered 168 pieces of gold bars worth Taka 11.7 million. Also recovered from them was a delivery note of Q.C. Teal bearing number 954/96. All these 12 bikers were the employees of Q.C. Teal. In this connection a case was filed the same day 14 October 1996 with the Port Police station under Customs Act 165(8) and under Section 25B of Special Powers Act. Needless to mention that Salahuddin Quader Chowdhury owns Q.C.Teal.

এছাড়াও চট্রগ্রামে আটককৃত দশট্রাক অস্ত্র মামলায় সাকার জড়িত থাকার বিষয়টি বার বার সংবাদ পত্রে উঠে এসেছে । বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র চোরাচালানীর অভিযোগ হয়ে থাকলেও বার বার সব সরকারই সাকাকে ইড়িয়ে গেছে সুকৌশলে এবং অত্যন্ত বিনীতভাবে । কিছুদিন আগে, আইন প্রতি মন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম সাকার বিরুদ্ধে টিভি মিডিয়ায় সাহসী বক্তব্য রাখলেও কি এক দৈব কারনে, “সাকার সম্পর্কেও কথা বলতেও আমার ঘৃণা হয়” এই জাতীয় হাস্যকর কথা বলে ময়দান থেকে সরে পড়েছেন । আমরা আবাল পাবলিক হয়তো বুঝে নিই যে এই সরে যাওয়া ঘৃণা থেকে নয়, “বিরোধী দলকে ঘাটাইওনা” সূত্র থেকেই উদ্ভুত মাত্র ।

এরপর কথা বলতেই হয় সাকা আর নির্বাচন কমিশনের হয়ে যাওয়া বাক যুদ্ধের ।সাকা জানান দেয় তার অহমিকা আর প্রতাপের,
“যাদের সামনে আসামী হিসেবে দাড়াতে হবে তারা কারা ?তাহলে আমি একজন সংসদ সদস্য হয়ে কেন তাদের সামনে আসামীর কাঠগড়ায় দাড়াবো ?”

প্রবল প্রতাপ আর হম্বি তম্বি করা অসাড় নির্বাচন কমিশন সাকাকে তার অহংকারের ঝান্ডাকে মজমুত করবার আরো একবার সুযোগ করে দিলো । সাকার সদস্য পদ বাতিল করা হবে বলে সংবিধানের ১১৯ ও ৬৬ ধারার রেফারেন্স দেয়া হলো । গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২ এর ৩(ক)এর কথা বলা হলো । একজন নগন্য ও অত্যন্ত অ-মেধাবী আইনের ছাত্র হয়েও, সংবিধানের পাতাগুলো ঘেটে এইটুকু বুঝেছিলাম, একটু পুরুষত্ব দেখালেই সাকাকে এ যাত্রায় ধরা সম্ভব । আমার এই প্রত্যাশার সাথে আরো যুক্ত হয়েছেন ড.কামাল হোসেন,ব্যারিস্টার আমিরুল হক প্রমুখ । যারা বলেছেন সাকার সংসদ সদস্যপদ বাতিল করবার পথে মূলতঃ কোন বাধাই নেই সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া । আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড.শাহাদীন মালিক এ প্রসংগে বলেন ,

“সংবিধান অনুযায়ী দুভাবে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। প্রথমত, নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা না থাকলে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচিত হওয়ার পর অযোগ্য হলে। হলফনামায় সঠিক তথ্য দেয়া একটি যোগ্যতাÑ যেমন প্রার্থী ঋণখেলাপি নয়, সেটা প্রমাণ করা। হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়া হলে সেটা অবশ্যই অযোগ্যতা। তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন সংসদ সদস্য তাহার নির্বাচনের পর সংবিধান বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হয়েছেন কিনা কিংবা এই সংবিধানের অনুসারে কোন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে কিনা, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।”

অথচ ফলাফল কি হলো ? ফলাফল হলো, স্পীকারের কাছে খামাখাই চিঠি চালা –চালি,তারপর স্পীকার “আমার এখতিয়ারে নেই”,বলে আরেক নাটক করলেন, এবং অতঃপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বল্লেন,”সাকা ইজ এ ডেড ইস্যু নাউ”।

বলিহারি আপনার সাহস জনাব সি ই সি । তারিফ করি , তালি দেই সজোরে । শুনেছিলাম আপনার নাকি বেজায় সাহস । আপনি মন্দকে মন্দ বলেন, কারো পরোয়া করেন না । অথচ দেখেন, নীতির প্রশ্ন তুললে আপনার পরাজয় আর কেউ ঠেকিয়ে রাখা গেলো না । আপনার বোঝা উচিত ছিলো, এই সরকার ডিজিটাল সরকার । কল কব্জার বড় ভয় তাদের । যদি নষ্ট হয়ে যায় । আপনি কোন কিংবা কার ইশারাতে এগিয়েছিলেন জানিনা জনাব । শুধু এইটুকু বলি, আপনি হেরে গেছেন একটি পশুর কাছে । আপনার মুখ দিয়েই বের হয়েছে, “ইটস আ ডেড ইস্যু”

প্রিয় পাঠক, আপনাদের কি মনে পড়ে তত্বাবাধায়ক হরিণ ধর-পাকড়ের কথা ? আমাদের নেতা নেত্রীরা আবার পশু পাখির খুব সমঝদর । দেশ পোষে সাকা । আর সাকা,হারিস,ফালু’রা পোষে হরিণ । চিত্রল-দীঘল,মায়া ইত্যাদি । ততকালীন ধর-পাকড় শাষনামলে এই খবরটি আমাকে বেশ চিন্তায় ফেলেছিলো,

“যৌথবাহিনীর ভয়ে সাকার হরিণ বনে ছেড়ে দিয়েছে কর্মচারীরাঃ সামপ্রতিক যৌথবাহিনীর অভিযানে মোসাদ্দেক আলী ফালু ও হারিছ চৌধুরীর বাড়ি থেকে হরিণ উদ্ধারের পর রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ সাকা চৌধুরীর খামারবাড়িতে বন্দী ১৬টি চিত্রা হরিণকে কর্মচারীরা যৌথবাহিনীর ভয়ে গতকাল শনিবার পাশর্্ববর্তী পাহাড়ে ছেড়ে দিয়েছে৷ এক সময়ের প্রবল পরাক্রমশালী রাঙ্গুনিয়ার সাবেক এমপি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) রাঙ্গুনিয়া গোডাউন এলাকায় শত কোটি টাকা মূল্যের ৪০ একর ভূমি দখল করে নির্মিত বিশাল খামারবাড়িটি এখন নীরব নিথর একটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে৷ এক সময় যে খামার বাড়িতে শত শত নেতাকর্মী ও ক্যাডারের নিত্য যাতায়াত ও অবস্থান ছিল সেই খামারবাড়িতে এখন অনেক খুঁজেও কোনো লোক পাওয়া যায় না৷
পার্শ্ববর্তী রাউজানের সন্তান সাকা চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ায় এসে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে তার বিরুদ্ধে বহিরাগত অপবাদ ওঠে ৷ সেই অপবাদ ঘোচাতেই সাকা চৌধুরী ১৯৯০ সালে রাঙ্গুনিয়া গোডাউন এলাকায় বাংলাদেশ টোব্যাকো কোম্পানির (বিটিসি) কাছ থেকে মাত্র ২ একর জায়গা কিনে এই জায়গার আশপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় ৪০ একর পাহাড় ও ভূমি দখল করে নেন ৷অবৈধভাবে দখলকৃত এই পাহাড় ও ভূমিতে ‘কাদের নগর’ নাম দিয়ে গড়ে তোলেন বিশাল খামারবাড়ি ৷ এই খামার বাড়িতে বিলাসবহুল কটেজ, বৈঠকখানা, চিড়িয়াখানা, পুকুর-দিঘি, গবাদিপশুর খামারসহ অনেক স্থাপনা নির্মাণ করেন ৷ এই খামারবাড়িটি নির্মিত হওয়ার পর থেকেই রাঙ্গুনিয়ায় সাকা চৌধুরীর সকল ধরনের রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী ও ক্যাডার লালন এবং অস্ত্রের মজুদসহ সকল অনৈতিক কাজ পরিচালিত হতো এখান থেকেই ৷জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার কোদালা ইউনিয়নের পূর্বকোদালা গ্রামের মোঃ আবদুল্লাহ ও তার অপর ৩ ভাইয়ের বিশাল ভূসম্পত্তি দখল করেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার এই খামারবাড়িটি নির্মাণ করেন৷ জমির প্রকৃত মালিকদের উত্তরাধিকারী কোদালা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম জানান, সাকা চৌধুরী রাজনৈতিক প্রভাব ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে মাত্র ২ একর জায়গা কিনে আশপাশের ৪০ একর জায়গা দখল করে কাদের নগর নাম দিয়ে এই খামারবাড়ি নির্মাণ করেছেন৷ তিনি আরো জানান, সাকা চৌধুরীর এই অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ও জমি উদ্ধার করতে তিনি শিগগিরই আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করবেন ৷ কয়েকদিন পূর্বে দুদকে দাখিল করা সাকা চৌধুরী সম্পত্তির হিসাবে রাঙ্গুনিয়ায় খামারবাড়ির পরিমাণ ৩.৩ একর বলে দেখালেও এখানে তার দখলে থাকা মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৪০ একর ৷ যার বাজারমূল্য কমপক্ষে একশ কোটি টাকা ৷

গতকাল সরজমিন সাকা চৌধুরীর খামারবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নীরব নিথর ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে ৷ কাদের নগরের মূল গেট থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত সাকা চৌধুরীর বৈঠকখানাটি এখন জনশূন্য ৷ মূল কটেজ ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন আনোয়ার নামের একজন দারোয়ান ৷ তিনি জানান, সাকা চৌধুরী গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখানে সচরাচর কেউ আসেন না ৷ দারোয়ান আনোয়ারসহ সেখানে উপস্থিত কয়েকজন কর্মচারী জানান, খামারবাড়িটি প্রতিষ্ঠা করার পর থেকেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এখানে চিত্রা হরিণ পুষতেন ৷ সম্প্রতি হারিছ চৌধুরী ও মোসাদ্দেক আলী ফালুর বাড়ি থেকে হরিণ উদ্ধারের পর সর্বশেষ গতকাল সকালে সাকা চৌধুরীর খামারবাড়ি থেকে ১৬টি বন্দী হরিণ আশপাশের পাহাড়ে ছেড়ে দেওয়া হয় ৷ এই খামারবাড়িতে হরিণ বন্দী থাকা ও ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন সাকা চৌধুরীর খামারবাড়ির দারোয়ান আনোয়ার ও কর্মচারী কবির ৷ খামারবাড়িতে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাত স্থান থেকে দ্রুত ছুটে আসেন খামারবাড়ির কেয়ারটেকার আবছার (৫৫)৷ তিনি দ্রুত সাংবাদিকদের খামারবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, সাকা চৌধুরীর গ্রেপ্তারের পর এখানে কাউকে প্রবেশ করতে না দিতে ওপরের নির্দেশ রয়েছে ৷”

এছাড়াও , পাঠক আপনাদের কি মনে আছে, কেয়ারটেকার সরকারের আমলে সাকার বাড়ি থেকে অবৈধ গাড়ি আর ২৯শে মে ২০০১ এ সাকার বাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ? না জেনে থাকলে নীচের খবরটুকু পড়ুন-

“যৌথবাহিনীর সদস্যরা গত শনিবার গভীর রাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশনের তালিকাভুক্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ৩ গাড়ি জব্দ করেছে ৷ ধানমণ্ডির ১০/এ সড়কের ৪৮ নম্বর সাকা চৌধুরীর বাসায় অভিযান চালানোর সময় যৌথবাহিনীর সদস্যরা বিএমডবি্লউ ল্যান্ড, ক্রুজার, লেন্সার এবং নিশান পেট্রোলসহ ৬ টি গাড়ির সন্ধান পায়৷ এর মধ্যে ৩ টি গাড়ির কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এ ৩ টি গাড়ি জব্দ করা হয়৷বিলাসবহুল এ গাড়ির ২টি জিপ (ঢাকা মেট্রো-১১-০০৯০ এবং চট্ট মেট্রো ০২-০০১০), আরেকটি লেটেস্ট মডেলের লেক্সাস কার (ঢাকা মেট্রো-১৪-০০৯৬) জব্দ করার পর গাড়িগুলো নিয়ে যাওয়া হয় ধানমণ্ডি থানায়”

ওই থানা পর্যন্তই । আমরা অবশ্য জানিনা এরপর কি হয়েছে । মামলা হলো কি না, হলেও কি মামলা হলো, কত ধারায়,মামলার বর্তমান অবস্থা , কিছুই জানিনা । শুধু অনুমান করে নিতে পারি, বহাল তবিয়তে গাড়ি গুলো ১০/এ এর বাসায় ফেরত এসেছে । থানার ওসি,পুলিশ কমিশনার এসে দুঃখিত, দুঃখিত বলে প্যান্ট নষ্ট করে ফেলেছে ।এর চেয়ে বেশী আর কিইবা অনুমান করা যায় ? কিইবা হতে পারে এর ভবিষ্যত, বুদ্ধিমান পাঠক মাত্রই বুঝে নেন ।

নিটোল কে মনে আছে আপনাদের ? চট্রগ্রাম ছাত্রদলের সভাপতি শহীদুল আলম নিটোল । আলম, বখতিয়ার,জসিম,সেলিম প্রমুখ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাথে যার এক হয়ে সাকার পক্ষে কাজ করবার কথা ছিলো । শুধু সে কথা রাখতে পারেনি নিটোল । তাই ২০০১ এর ২৯শে মে সাকা’র বাড়ির সামনেই খুন হয়ে যেতে হলো এই তরুন ছাত্রদল নেতাকে । কি হয়েছিলো সেই মামলার ? মামলা নাম্বার-৮৭-২৯/৫/২০০১ ।সে রাতেই সাকার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো অবৈধ দুইটি টেলিস্কোপ রাইফেল,দুইটি এয়ার গান,একটি রিভলবার, একটি পিস্তল,১৭৩ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ২৫০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি । সে রাতেই সাকার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা হলো । সে শুধু মামলা পর্যন্তই । ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর নিটোল হত্যা মামলা থেকে অতি নিরবে ও নিভৃতে নাম উঠিয়ে নেয়া হয় মামলাটির অন্যতম প্রধান আসামী সাকা আর তার ভাই গিয়াসুদ্দিনকে । বিচারের বাণী শুধু নাকের আর চোখের পানি এক করেই মরল । কারো কিছুই হলো না ।

কি হলো ২০০৮ এ ২৬ এ অক্টোবরে সাকার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭২২ টাকার সম্পদের হিসাব গোপন ও এর ওপর প্রযোজ্য আয়কর দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলাটির ? সাকাকে সে সময় পলাতক দেখানো হয়েছিলো । (বিচারক মোঃ আজিজুল হক সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পলাতক দেখিয়ে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের আদেশ দিয়ে আগামী ৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। ২৬ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেছিলেন এনবিআরের উপ-করকমিশনার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন ) । সে মামলা এখন কই কিংবা কিই বা অবস্থা ? পলাতক আসামী এখন কি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাঠ-ঘাট ? এ এক সব সম্ভবের দেশই বটে । অবশ্য মামলা করেও বা কি লাভ । মওদুদ সাহেবের মামলা গুলোর যেভাবে শেয়ার বাজারের মতন পতন হচ্ছে , তাতে করে কি আর হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক সাকার ৩ কোটির মামলা ধোপে টিকে ? একটি খবরে তখন বলা হয়েছিলো,

“সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গতকাল তাঁর প্রতিষ্ঠান কিউসি শিপিং লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক রতন মানিক রায় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক আব্দুল খালেক সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ দুজনকে নিয়ে এই মামলায় মোট ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।দুদকের আইনজীবী শেখ গোলাম হাফিজ জানান, সাক্ষী রতন মানিক রায়ের সাক্ষ্যে কয়েকটি ব্যাপার বেরিয়ে এসেছে। তিনি আদালতে বলেন, ১৯৯৮ সালের ২৫ জুন একটি হলফনামা করা হয়েছে। এই হলফনামায় ফজলুল কাদের চৌধুরী, ফারজিন কাদের চৌধুরী ও হুমাম কাদের চৌধুরী তাঁদের বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ছয় কোটি ৮৪ লাখ টাকা দান করেছেন বলে উল্লেখ আছে এবং এতে তাঁদের সই রয়েছে। কিন্তু কোনো দান সাক্ষীর উপস্থিতিতে হয়নি এবং দাতা হিসেবে সাকা চৌধুরীর তিন সন্তান তাঁর উপস্থিতিতে সই করেননি বলে তিনি আদালতকে বলেন।”

সাকার বিরুদ্ধে অনেক বড় এলিগেশন ২৫শে ফেব্রুয়ারীর বি ডি আর হত্যাজজ্ঞের ঘটনায় । এ সম্পর্কে নীচের ভিডিও টি দেখুন ।

এছাড়াও জঙ্গেএ সংঘটন গুলোকে উষ্কে দেয়া এবং দেশকে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে সাকার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় । আনন্দবাজার পত্রিকা গত বছর ২২শে আগস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে,

“ভারত বিরোধি প্রচারের আচ উস্কে দিতে এবার অন্য দেশে নিজস্ব টিভি চ্যানেল তৈরীর কাজ শুরু করেছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। বাংলাদেশে একাধিক টিভি চ্যানেলের জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে পাকিস্তান এবং দুবাই থেকে। ভারত সরকারের শীর্ষ সুত্রে এই খবর জানা গেছে। ঢাকায় আপাতত একটি টেলিভিশন চ্যানেলের পরিকল্পনা চুড়ান্ত হয়ে গেছে । অপেক্ষমান আরো বেশ কয়েকটা । জংগি সন্ত্রাস বৃব্ধি ও কাশ্মীর উপত্যকা অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠার পরিপেক্ষিতে এই তথ্য নিঃসন্দেহে নয়াদিল্লির রক্তচাপ বাড়িয়েছে । সন্ত্রাসবাদ এবং আইএসআই এর উপর পাক সরকারের শিথিল নিয়ন্ত্রন প্রসংগে কলোম্বোর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন মনমোহন সিঙ্ঘ । কথা হয়েছে বাংলাদেশের তদারকী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদের সংগেও । ঢাকায় আইএসআই এর সক্রিয়তা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশকে সতর্ক করেছে ভারত । বাংলাদেশের প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরী ২০০৬সালে ক্রোনো স্যাটালাইট ব্রডকাষ্ট(সিএসবি)নামে একটি সংবাদ চ্যানেল চালু করেছিল।ধর্মীয় উগ্র মৌলবাদের প্রচার করতো চ্যানেলটি।পরে তদারকি সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৭সালের সেপ্টেম্বর মাসে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়।দুর্নীতির দায়ে সাকা চৌধুরী এখন জেলে হাজতে। এ মাসের ২৮তারিখেই ঢাকা থেকে একটি নতুন টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হচ্ছে।একই পরিচালকদের একটি বাংলা দৈনিকের ভুমিকাই বলে দেয় সিএসবি-র কাজকে এগিয়ে নিয়া যাওয়াই হবে নতুন চ্যানেলটির উদ্দেশ্য।সেই ইংগিত পেয়েই চ্যানেলটির লগ্নিকারীদের সম্পর্কে খোজখবর শুরু করে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ।যেমন,লগ্নিকারীদের একজনের বিরুব্ধে ২০০৬সালে ব্রিটেনে হেরোইন প্রাচারের অভিযোগ এনেছিল বাংলাদেশ পুলিশ।বিএনপি-জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তের তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়।আরেক লগ্নিকারী আবার দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ট হিসাবে পরিচিত। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন,চ্যানেলটির মালিকানার সংগে জামায়াতে ইসলামীর কিছু কেন্দ্রীয় নেতা যেমন যুক্ত,তেমন একটি বিতর্কিত ইসলামী ব্যাংকেরও যোগাযোগ রয়েছে।এই ব্যাংকের মাধ্যমেই জংগি সংগঠন হুজি-র কাছে বিপুল বিদেশি অর্থ এসেছিল বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে ধরা পড়েছিল।ব্যাংকটিকে এর জন্য জরিমানাও গুনতে হয়। চ্যানেলটির উদ্ভোধনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ থাকার কথা থাকলেও তিনি যাচ্ছেন না বলে পরিচালকদের জানিয়ে দিয়েছেন।বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক সুত্র জানিয়েছেন,লগ্নিকারীদের সম্পর্কে বিরুপ গোয়েন্দা রিপোটের পরিপ্রেক্ষিতে বিতর্ক এড়াতেই রাষ্ট্রপতি অনুষ্টানে না থাকার সিব্ধান্ত নিয়েছেন।গোয়েন্দা দফতরের কর্তা জানিয়েছেন,বিএনপি আমলের শেষ দিকে তরিঘড়ি করে যে দুটি চ্যানেল কে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছিল এটি তার অন্যতম।অপরটি ছিল সাকা চৌধুরীর সিএসবি।মালিকদের সম্পর্কে আপত্তিকর তথ্য মেলার পরে এই চ্যানেলটিতে বিনিয়োগ হওয়া অর্থের উৎস সম্পর্কে খোজ খবর করার জন্য গোয়েন্দাদের নির্দেশ দিয়েছে তদারকি সরকার”।

পাঠকদের এই মূহুর্তে একটি তথ্য না দিলেই নয় যে, এই সি এস বি’র পরিচালক ছিলো । সাকার পূত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী কোকো ওরফে হুকাচৌ । অত্যন্ত উগ্র ও বদ্মেজাজী এই হুম্মামের এইবার রাউজান থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবার কথা ছিলো । সাকা নির্বাচন করতে না পারলে হুকাচৌই হতো সাকার উত্তরসূরী ।প্রতি সপ্তাহে নতুন নারী,জুয়াখোর এই হুম্মামরা আমাদের দেশের হাল ধরবে এইতো আমাদের নিয়তি ।
ব্যাবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আঊয়াল মিন্টু,তাফসির আঊয়াল মিন্টু এবং সঞ্জয় সাল্ধানা’র হোস্ট করা রাতের অভিসারে লক্ষ টাকা উড়িয়ে দেবার গল্প আর সে রাতে হয়ে সংঘর্ষের গল্পটি এই লিঙ্ক থেকে আগ্রহী পাঠকরা জেনে নিন ।

আমার আসলে এসব পড়ে হতাশ লাগে না । সাকা,আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলেরা এক রাতে লক্ষাধিক টাকা ঊড়াবে, নারী নিয়ে ফূর্তি করবে, মাতাল হয়ে কদর্য মারামারি করবে আর তার ঠিক পাশে কমলাপুরে রেল স্টেশনে হাজার হাজার ছেলে-মেয়েরা দিনের পর দিন অভুক্ত থাকবে , আমার কাছে আজকাল এটাই স্বাভাবিক মনে হয় ।

সে যাক । আমি হয়ত অফ ট্র্যাকে চলে যাচ্ছি । সাকাকে নিয়ে বলছিলাম । বলছিলাম তার খুনের মামলার সাথে জড়িত থাকবার কথা, চোরাচালানীর,আয়কর ফাঁকি’র মামলা,তার বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথা,বিডিয়ার হত্যজজ্ঞ এবং জংগী নেটোয়ার্কে জড়িত থাকবার কথা ।
এখন খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন এসে যায়, সাকার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ আসবার পরও কেন প্রতিটি সরকার ঝিম মেরে থাকে ? কি তার এত ক্ষমতা ? বিভিন্ন তথ্য,মানুষ জনের সাথে কথা বলে,ইন্টারনেট,সাকার পরিবারের ঘনিষ্ট কিছু লোক যারা এককালে সাকা পরিবারের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ট ছিলো এইরকম কিছু মানুষ থেকে আসলে ঘুরে ফিরে একই তথ্য পাই । সে তথ্য গুলো যদি গুছিয়ে লিখি তাহলে বলতে হয় সে পুরোনো কথাই । রাজনৈতিক ভাবে তার বাবা একটা অবস্থান তৈরী করে দিয়েছিলো সেই ব্রিটিশ পর্বের পর থেকেই । দাদা বৃটিশদের পা চাটা কুকুর ছিলো বলে ধন-সম্পদের দিকে আর ফিরে তাকাতে হয় নি । সুতরাং সে সময় থেকেই সাকা পরিবার আশে পাশের মানুষদের দেখত তাদের অনেক নিম্ন জাতের ও প্রজা হিসেবে । যা আজ পর্যন্ত দেখে আসছে । রাউজান,ফটিকছড়ি,গহিরা,রাঙ্গুনিয়াতে সাকার আছে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সন্ত্রাসী বাহিনী । যারা অত্যাধুনিক সব অস্ত্রে সজ্জিত । সাকার এলাকা থেকেই তার দলীয় এক সন্ত্রাসী কালা খলিল ১৯৯৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশে প্রথম উজি অটোমেটিক মেশিন গান নিয়ে ধরা পড়ে । যা বাংলাদেশ আর্মিতেও বিরল । সাকার আছে চৌকশ একটি গোয়েন্দা বিভাগ । যারা সাকাকে তার সমগ্র এলাকার খবরাখবর হাতের মুঠোয় এনে দেয় ।এই বিভাগের এক সময়ে প্রধানের নাম ছিলো বখতিয়ার । যা একটি অসমর্থিত সূত্র থেকে জানতে পাই । ঐ সূত্র থেকে আরো যা জানতে পারি,

“সালাউদ্দিন কাদের ও গিয়াসউদ্দিন কাদের- দু’ভাইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গুনিয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত হয়ে আসছে। তবে রাঙ্গুনিয়া সন্ত্রাসের জনপদ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে মূলত ১৯৯৬ সালে সাকা চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর। তখন থেকেই সাকার পৃষ্ঠপোষকতায় রাঙ্গুনিয়ায় একের পর এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ওঠে। কোটর থেকে চোখ উপড়ে ফেলা, কথায় কথায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলেপড়া, যত্রতত্র চাঁদাবাজির মতো সন্ত্রাসী তান্ডব চালাতে থাকে সালাউদ্দিনের অনুগত ক্যাডাররা। রাঙ্গুনিয়ার আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীবাহিনী হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, জমিদখল, অপহরণসহ যাবতীয় অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে থাকে। হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, জবরদখলসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হতে থাকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সমর্থিত রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরাও। এদের মধ্যে উত্তর রাজানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন, পোমরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, পারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম, হোছানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মীর্জা নাজিম উদ্দিন খোকন, সরফভাটার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নেছারুল হক পেয়ারু, লালানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার, মরিয়মনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন উলেস্নখযোগ্য।

২০০২ সালের ১২ মার্চ ব্রহ্মোত্তর গ্রামের ফজল সওদাগরের ডান চোখ কোটর থেকে উপড়ে ফেলে সাকার ক্যাডাররা। সাকা ক্যাডারদের হাতে মারধর ও চাঁদাবাজির শিকার হন চন্দ্রঘোনার বাসিন্দা হাজি রাজা মিয়া, বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিক আহামদ তালুকদার, লালানগরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমসহ অসংখ্য মানুষ। ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে সাতটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বাকি দুটো মামলার তদন্ত চলছে। দীর্ঘদিন মুখ খুলতে না পারা রাঙ্গুনিয়ার ভুক্তভোগী জনগণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উৎসাহে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে এসব মামলা করে”

আর সাকার নির্বাচনী এলাকার হিন্দু অধ্যুষ্যিত অঞ্চল গুলোতে সাকার নাম শুনিয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের ঘুমপাড়ানো হয় । হিন্দুদের মাঝে এতটাই আতংক এই সাকা নামের পশুটির । গত পর্বের লেখাতে একজন ‘ব্লুজ’ নামে একজন আমার ব্লগের একজন ব্লগার মন্তব্য করেছেন একটি তথ্য দিয়ে । তথ্যটি এমন,

“চট্টগ্রামে থাকার সুবাধে এর কিছু কিছু জানতাম তবে অনেক নতুন কিছু জানলাম। এলাকায় ভোটের আগে সাকা হিন্দুদের বাড়ী যেত আর জিজ্ঞাসা করত তারা তাকে ভালবাসে কিনা । তখন সবাই ভয়ে বলত “হ্যাঁ” । সাকা বলত আমি জানি আপনারা আমাকে ভালবাসেন, তাই ভোটের দিন আপনাদের ভোট কেন্দ্রে আর যাওয়ার দরকার নাই। আমি আপনাদের ভোট পাইয়া গেছি ।হিন্দুরা তার ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাইতনা”

আমি ঠিক একই ধরনের তথ্য আরো কয়েকজন চট্রগ্রামবাসীর কাছ থেকে পেয়েছি । এসব কিছু এবং আগের পর্বগুলোর একটা সার সংক্ষেপ করলে দাঁড়ায় এমন-

ক)চট্রগ্রামভিত্তিক সাকার রাজনৈতিক প্রভাব
খ)অর্থনৈতিক ভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী । (একটি গোপন ও শক্তিশালী সূত্র মতে সাকা শুধু তার সম্পত্তি বাদ দিয়েই শুধু নগদ হিসেবে, প্রায় পনেরো হাজার কোটি টাকার মালিক ।)
গ) পাকিস্তানের রাজনৈতিকদল ও উগ্র জংগী দল গুলোর সাথে টপ কানেকশন
ঘ)মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক শক্তিশালী নেটোয়ার্ক
ঙ)চোরাচালানী ও মোস্ট ওয়ান্টেড দাউদ ইব্রাহীম এবং ইম্রান খোয়াদ্দাদের সাথে ব্যাবসায়িক সম্পর্ক

এসব ছাড়াও ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা’র সাথে সাকার ঘনিষ্ট সম্পর্ক, কারো কারো মতে সাকা নিভৃতে মার্কিন মদদ পুষ্ট । তাকে শো করাই হয় মার্কিন বিরোধী হিসেবে , পলিসি রিজনের কারনে ( যদিও এই তথ্যটি নিয়ে আমার নিজেরও কিছু দ্বিমত রয়েছে )। এছাড়াও অন্যান্য নিয়ামক হিসেবে যেসব কারন তার ক্ষমতার ক্ষেত্রে একটু হলেও নিয়ামক হিসেবে বলা যায় তা হলো, চট্রগ্রামের মেয়র মহিউদ্দীনের সাথে সাকা’র আত্মীয়তার সম্পর্ক, শেখ পরিবারের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ট সম্পর্ক এবং খালেদা জিয়ার প্রিয়ভাজন ।

চল্বে… (পরের পর্বে সমাপ্ত)

Comments

NotunProjonmo's picture

Law is for poor only

Rich make the law and law rules the poor. Everything has a price. SaKa can afford to buy the law, he has enough money. He can also afford to buy the votes.

I wonder who is worse Hajari or SaKa!

KAY's picture

পশুটিকে সবাই পছন্দ করে যে

সাকা নামের এই পশুটিকে রাজনীতিবিদ এবং মিডিয়া এভাবে জামাই আদর করছে কেনো বলুন তো?