দুই প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে খালেদা তারেকের মুক্তি

bdidol's picture
Posted by
bdidol
Tuesday, July 22, 2008 - 1:45am BST

আমাদের সময়: দু'টি জটিল প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া। প্রথমত; কাকে আগে মুক্তি দেয়া হবে, মা খালেদা জিয়া, নাকি ছেলে তারেক রহমানকে। দ্বিতীয়ত; চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া বিদেশে যাবেন, না মুক্তির পর বেঁকে বসবেন। আজকালের মধ্যে দু'জনের মুক্তি অনেকটা নিশ্চিত হলেও জটিল এ দুই প্রশ্নের সমাধান না হওয়ায় কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে তাদের মুক্তি প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মুক্তির একদিন পরই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক চলে যাওয়ায় এখন অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে সরকার। অপরদিকে খালেদা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোকোর মুক্তির পরপরই তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া ঠিক হয়নি। তারেকের মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সরকার চাপে থাকতো। সূত্র জানায়, তারেকের মুক্তির আগ পর্যন্ত কোকোকে বিদেশ না পাঠানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও শ্যালকের ওপর ক্ষুব্ধ মুক্তি প্রক্রিয়ার দলীয় সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল সিলেটে ব্রিফিং কালে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আইনগত ও মানবিক দিকের সমন্বয় ঘটিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তির ব্যাপারে আমরা শুরু বিবেচনাই নয়, আমরা এব্যাপারে অগ্রসর হবো। আমি আশা করবো, যদি সব কিছু ঠিক হয়ে যায় তাহলে এটি সম্ভব হতে পারে নিশ্চয়ই।

জানা গেছে, বারবার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে খালেদা জিয়া নমনীয় এবং নির্বাচনসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতায় রাজি হলেও উপরোক্ত দুটি বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার মতো একই প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকেও যে কোনো মূহূর্তে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত সরকার। গত বৃহস্পতিবার আরাফাত রহমান কোকোর মুক্তির পরদিনই সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার প্রস্তুতি নিলেও বড় ছেলের মুক্তির আগে তিনি বিশেষ কারাগার ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় এই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। সূত্রমতে, বিষয়টি নিয়ে এখনো দরকষাকষি চলছে। সংশ্লিষ্টরা চাচ্ছেন খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলেই অতিদ্রুত তারেক রহমানকেও মুক্তি দিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলের এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না খালেদা জিয়া। তার মুক্তির আগে বড় ছেলের মুক্তি প্রশ্নে তিনি তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তার মতে, তারেক চিকিৎসার জন্য দেশ ত্যাগ করার পরই তিনি কারামুক্তি নেবেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে সরকার এব্যাপারে অনেকটা ছাড় দিলেও তাদের সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ এখনো চাচ্ছে না তারেক রহমানকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিতে। তাদের মতে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারেক রহমানকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিলে শুধু ওয়ান ইলেভেনের চেতনা নয়, সরকারের নীতি নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। সংলাপে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও তারেককে মুক্তি না দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এঅবস্থায় দ্বিমুখী চাপে অনেকটা বেকায়দায় পড়েছে সরকার।

সূত্র আরো জানায়, মুক্তির পর খালেদা জিয়া বিদেশে যাবেন না, বাড়িতে থেকেই দেশে চিকিৎসা করাবেন। তার এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না মুক্তিপ্রক্রিয়া সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, চিকিৎসার্থে কিছুদিনের জন্য হলেও তাকে বিদেশে যেতে হবে। তাদের আশঙ্কা, মুক্তির পর খালেদা জিয়া বেঁকে বসলে সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হবে। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত না দিলে মুক্তি প্রক্রিয়া আরো বিলম্বিত হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শেখ হাসিনার সঙ্গে যত সহজে সমঝোতা সম্ভব হয়েছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তত সহজে সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া শেখ হাসিনার মুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরকারের যেসব উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদেরকে বিশ্বাসে নিচ্ছেন না খালেদা।

তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি সপ্তাহে না হলেও এ মাসের মধ্যে এ দুটি বিষয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসা সম্ভব হবে। সমঝোতা হলে দু'জনকে একসঙ্গে মুক্তি দিতেও বাধা থাকবে না সংশ্লিষ্টদের।