যায়যায়দিন: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আটকে আছে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতি-প্রকৃতি। রাজনীতিতে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি দেশে এক ধরনের অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে বলে পর্যবেৰক মহল মনে করছেন। তাদের মতে, কোথাও স্বসত্দি নেই। চিকিৎসার জন্য তারেক রহমানের বিদেশ গমন, বিএনপিসহ চারদলের অন্য নেতাদের মুক্তি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার ফলাফল, বিএনপির রাজনীতির মেরম্নকরণ, সর্বোপরি আগামী নির্বাচন নিশ্চিত কি না_ এ সবকিছুই নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারের সমঝোতার ওপর। সমঝোতা না হলে ভবিষ্যৎ রাজনীতি অনেকটা ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের মতে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ওপর দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অনেক কিছু নির্ভর করছে। রোববার যায়যায়দিনকে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে দেশে অনেক কিছু ঘটে গেছে। কিন্তু এখন আর আমাদের পেছনের দিকে তাকালে চলবে না। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী দেশের তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমরা আশা করবো দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই তিনি সিদ্ধানত্দ নেবেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারম্নজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে_ সরকারের পুরো দৃষ্টি নিবন্ধ এখন খালেদা জিয়ার দিকে। তার মতে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে আজকের এ অনাস্থার পরিবেশ সরকারই সৃষ্টি করেছে এবং সরকারকেই এ সঙ্কট উত্তরণে উদ্যোগী হতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামী নেতা বলেন, কোনো ব্যক্তি বিশেষের সঙ্গে সমঝোতা বা বৈষম্যমূলক আচরণ দেশে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে না। 'লেভেল পেস্নইং ফিল্ড' সবার জন্য সমান হতে হবে।
জানা গেছে, সরকারের সংশিস্নষ্ট মহলের পুরো মনোযোগ এখন খালেদা জিয়ার দিকে। ৰমতার মূল কেন্দ্রবিন্দুসহ সরকারের সংশিস্নষ্ট সব কেন্দ্র থেকে এ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। দেশের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন মহল এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতাও খালেদা জিয়াকে 'কনভিন্স' করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এদিকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য মুক্তিকে সামনে রেখে বিএনপিতে ব্যাপক প্রস্তুতিও চলছে। তাদের বাসায় নিয়ে যাওয়া এবং নেতাকর্মীদের সমবেত হওয়ার কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যে হান্নান শাহর বাসায় দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খালেদা জিয়ার ভাগ্যে শেষ পর্যনত্দ কী ঘটে_ তা দেখার জন্য সবাই অপেৰায় আছেন।
সূত্র জানায়, সমঝোতার ব্যাপারে সরকারের শেষ দফার উদ্যোগ চলছে এখন। চলতি মাসের মধ্যেই সরকার খালেদা জিয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চায়। তার সঙ্গে নিষ্পত্তি হলে তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন। সে সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকেও মুক্তি দেয়া হবে। বিএনপিতে শুরম্ন হবে নতুন মেরম্নকরণ প্রক্রিয়া। দলের মহাসচিবসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। তাছাড়া উপজেলা নির্বাচন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনে অনুষ্ঠানের বিষয়টিও নিশ্চিত হবে। জরম্নরি অবস্থা প্রত্যাহারের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ সিদ্ধানত্দও নেয়া হবে এ ঘটনার পরে।
প্রসঙ্গত, গ্যাটকো মামলায় জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে জামিন দেয়া হলেও মান্নান ভূঁইয়া, এম শামসুল ইসলাম ও এমকে আনোয়ারকে গতকাল জামিন দেয়া হয়নি। তাদের পৰ থেকে জামিনের আবেদন করা হলেও সরকার পৰ শুনানির জন্য আগামী রবিবার পর্যনত্দ সময় নিয়েছে। অনেকের মতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় এসব নেতার জামিন পাওয়া না পাওয়ার যোগসূত্র থাকতে পারে।
সরকারের সংশিস্নষ্ট মহল মনে করছে, বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া পর্যনত্দ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিতর্কিত কোনো নির্বাচনের দায় তারা নিতে চাইছেন না। তাছাড়া বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা না হলে আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা প্রক্রিয়া কতোটা কার্যকর হবে_ তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে। অনেকের মতে, খালেদা জিয়া বিদেশে না গেলে শেখ হাসিনাও দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করবেন। তার ফলে পুরো সমঝোতার উদ্যোগ ভেসত্দে যেতে পারে। আর এ ধরনের উদ্যোগ ভেসত্দে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, রাজনীতির সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে এক নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া_ যা অনেক সময় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
সূত্র জানায়, সমঝোতার চূড়ানত্দ এ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে সরকার এ মুহূর্তে অস্বসত্দির মধ্যে রয়েছে। তাই সমঝোতার পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে তারা চাপের মধ্যেও রেখেছেন। খালেদা জিয়া 'হ্যা' বলার সঙ্গে সঙ্গেই তারেক রহমান মুক্তি পাবেন। সে সঙ্গে সরকারের আটকে থাকা অন্যান্য পরিকল্পনারও দ্রম্নত বাসত্দবায়ন শুরম্ন হবে।


Comments
রাজনীতির সমীকরনটা কি?
রাজনীতির সমীকরনটা কি?
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আটকে আছে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতি প্রকৃতি।
ওদিকে হাসিনা ইউরোপে গোপন মিটিং সি্টিং করে বেড়াচ্ছে।
আসুন সরকারের এই ভুমিকার বিরুদ্ধে সোচচার হই, সরকারকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ক্কাজ করার জন্য সোচচার হই... নতুবা এরা আবার দেশে সংর্ঘষ বাধিয়ে দেবে ...
jotil eqution
jotil eqution