পুরান ঢাকার আগা সাদেক লেন এখন শোকে সত্দদ্ধ। এলাকাজুড়ে পড়েছে কান্নার রোল। রোব-বার রাতের ভয়াবহ অগি্নকাণ্ডে ৯ জন জীবনত্দ দগ্ধ হওয়ায় হারিয়ে গেছে অনেকের আগামীর স্বপ্ন। কলেজ ছাত্রী মুমুর স্বপ্ন ছিল সিএ হওয়ার। সেই স্বপ্ন হারিয়ে গেছে আগুনের ভয়াবহতায়। অনাবিল সুন্দর সকালের স্বপ্ন নিয়ে ঘুমুতে যাওয়া মানুষগুলোর আগুনে পোড়া লাশ কাফনের কাপড়ে মোড়ানো ছিল গতকাল। পোড়া লাশ দেখে কোনটা কার লাশ তা শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়েছে গৃহকর্ত্রী শাবানা বেগম, তার শিশুপুত্র আবু সাঈদ শুভ, বড়ো মেয়ে আয়েশা সিদ্দীকা মুমু, শাবানার বৃদ্ধা মা মেহেরুন্নেসা, কাজের বুয়া হামিদা ও নিকটাত্মীয় রাফিনসহ ৯ জন। হাসপাতালে মৃতু্যর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এই পরিবারের আরো ৭ সদস্য।
পরিবারের বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য শানত্দ জানান, তার বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকী গত দুমাস আগে মারা যান। আবু বক্করের চেহলাম শেষে পরিবারের অনেকেই থেকে যান তাদের বাসায়। এজন্যই একসঙ্গে এতোজনের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শানত্দ জানান, মাঝরাতে বিদু্যৎ চলে গেলে তিনি বাসার বাইরে বের হন। কিছুক্ষণ পর তিনি বাসার নিচতলায় জুতার দোকানে আগুনের ধোঁয়া দেখে বাসার ভেতরে ঢুকে সবাইকে বাইরে বের হতে বলেন। তখন তার খালা তাসলিমাই কেবল বাসা থেকে বের হতে পারেন। অন্যরা আগুনে তপ্ত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে না পেরে ৩ তলায় আটকা পড়ে জীবনত্দ দগ্ধ হন। শুভর চোখের সামনে দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে পুড়ে মারা যান পরিবারের ৯ সদস্য। মর্মানত্দিক অগি্নকাণ্ডে তাসলিমা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও তিনি তার স্বামী ও দুই সনত্দানকে হারিয়েছেন। গতকাল সোমবার ঘটনাস্থলে থাকা তাসলিমা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বাকরুদ্ধ তাসলিমা শোকে পাথর।
অগি্নকাণ্ডে নিহত মুমুর স্বপ্ন ছিল সিএ হওয়ার। তার স্বপ্ন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল ঘটনাস্থলে পেঁৗছে তার বান্ধবী ঈশা হক কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঈশা বলেন, মুমু এবার এসএসসিতে বাণিজ্যে এ প্লাস পেয়ে অগ্রণী কলেজে ভর্তি হয়। অশ্রুসিক্ত ঈশা বলেন, মুমু ক্লাসে শানত্দ থাকলেও টিফিনের সময় সে দুষ্টুমি করতো। তার সব চঞ্চলতা হারিয়ে গেছে দাউ দাউ আগুনের লেলিহান শিখায়।
