ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়ীকতা এবং গড্ডালিকা
-মুহাম্মাদ আখতার হুসাইন
যে কোন প্রাণী বা যে কোন বস্তুর অভ্যন্তরীণ গুণাবলীকে সে প্রাণী বা বস্তুর ধর্ম বলা হয়। যেমনঃ আগুনের বাহ্যিক এবং প্রকাশিত ধর্ম হচ্ছে মুলতঃ তিনটি। এক, সে আলোময়—আলো দেয়া তার ধর্ম। দুই, সে তাপ দেয়—তাপ দেয়া তার ধর্ম। তিন, সে উর্ধমুখী—সে উপরের দিকে ধাবিত হয় বিধায় এটা তার ধর্ম।এই তিনটি ধর্মের যে কোন একটি যদি আগুনের মধ্যে না থাকে তবে সেটাকে আর আগুন বলা যাবেনা। পাগলেও তা বলবেনা। চিনির ধর্ম মিষ্টতা-স্বাদ। যেটা চিনি সেটা যদি মিষ্টি না লাগে তবে সেটাকে কোন পাগলে চিনি বলবে? লবনের ধর্ম কটুতা-স্বাদ। যে লবনে কটুতা নেই সে লবনকে কোন পাগলে লবন বলবে? জলপাইয়ের ধর্ম টক-স্বাদ। যে জলপাইয়ে টক-স্বাদ অনুভুত হয়না তাকে কোন পাগলে জলপাই বলবে? মরিচের ধর্ম ঝাল। যে মরিচে ঝাল নেই সে মরিচ ধর্মহারা। সার, লবন, আর চিনি আলাদাভাবে রাখলে তাদের শ্বেত-শুভ্র রূপ একই ধরণের মনে হলেও তাদের অভ্যন্তরীণ গুণাবলী বা ধর্ম এক নহে। এই তিনটি উপাদানকে একত্রে মিশিয়ে দিলে তারা প্রতিক্রিয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ধর্মহারা হয়ে যাবে। সেটা কোন কাজে লাগবেনা বা ব্যবহারও করা যাবেনা।লবনের স্বাদ প্রাকৃতিকভাবে লবনেই পাওয়া যাবে। চিনির মধ্যে লবন খুঁজে লাভ নেই।ঠিক তেমনিভাবে, সারের মধ্যে লবন খুঁজেও লাভ নেই। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সার গুড়া করে চিনির মধ্যে মিশিয়ে ভোক্তার কাছে বিক্রি করে। ভোক্তা সেটা না জেনে সরল মনে কিনে খেয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। একজন ঘুষখোর ক্রেতা যদি জানতো যে চিনির মধ্যে সার মিশানো আছে তবে সে ঘুষখোর ক্রেতা পয়সা দিয়ে সেটা ক্রয় করতোনা বরং মনের মতো করে দূর্নীতিবাজ বিক্রেতাকে “প্যাদানী” দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে ঐ দ্রব্যের সবটাই ঐ দূর্নীতিবাজ বিক্রেতার মুখের ভেতর “হান্দাইয়া” দিত।ভেজাল জিনিসে ধর্ম থাকেনা বিধায় তা কেউ পছন্দ করেনা। কিন্তু কেন? কারণ, যার নিকট থেকে যে ধর্ম আশা করা হয় তার মাঝে যদি সে ধর্ম পাওয়া না যায় তখনি ঘটে বিপত্তি।
এখানে একটা সরল অঙ্ক কষা যাক। একটা মানুষের মাঝে যদি বিভিন্ন ধরণের প্রাণী আর দ্রব্যের গুণাবলী মিশে যায় তবে সেটা আর নিরপেক্ষ থাকেনা।এখানে সরল অঙ্কটা হচ্ছে মানুষ আর গরল উপাদান হচ্ছে অন্য প্রাণীর ধর্ম যা মানূষের মাঝে মিশে এমন একটা চরিত্র হয় যার কারণে মানূষ আর মানূষ থাকেনা—অন্য নামে পরিচিত হয়।একটা উদাহরণ দেই।একজন মানূষ ক্ষুধার জ্বালায় টিকতে না পেরে রাতের আঁধারে এক গৃহস্তের বাড়ীতে গিয়ে মুরগী চুরি করলো।সামান্য একটু অসাবধানতার কারণে মুরগীটা জীবন বাঁচাতে চেঁচিয়ে উঠলো।গৃহস্ত টের পেয়ে নিজেও চেঁচামেচি করে লোক জড়ো করে ধাওয়া করে লোকটাকে ধরে বাড়ীর উঠানে এনে পেটাতে লাগল। গৃহস্তের শিশুকন্যাটা তার মাকে প্রশ্ন করলোঃ
“কী হয়েছে, মা?”
মা বললেন, “মুরগী চোর ধরা পড়েছে।”
শিশুটির আবার প্রশ্ন, “চোর কী মা?”
মা বললেন, “যারা চুরি করে তাদেরকে চোর বলা হয়।”
শিশুটির আবার প্রশ্ন, “মা, চোর কি আমাদের মতো মানুষ?”
মা বললেন, “নারে মা, যারা চুরি করে তারা আর মানুষ থাকেনা, চোর হয়ে যায়?”
আমার পর্যবেক্ষণ হলঃ শিয়াল যদি এই কাজটা করতো তবে শিশুটির মা কী বলতেন? তিনি অবশ্যই বলতেন যে “শিয়ালে” মুরগী নিয়েছে।এখানে তিনি কখনোই বলতেন না যে “চোরে” মুরগী নিয়েছে।একই কাজ একটা পশু যখন করে তখন সে পশুটাকে তার অপকর্মের পরেও সে নামেই ডাকা হয়। কিন্তু সেই একই কাজ যখন একজন মানুষে করে তখন সে মানুষ আর মানুষ থাকেনা—অন্য বিশেষণে (চোর নামে) আখ্যায়িত হয়। ঠিক তেমনিভাবে বিভিন্ন পশু বা প্রাণীর স্বাভাবিক বা প্রতারণা ধর্ম যখন মানুষের মাঝে প্রবেশ করে এবং মানুষ তার প্রয়োগ শুরু করে তখন মানুষ আর মানুষ থাকেনা—পশুতেই রুপান্তরিত হয়ে যায়।
এক জাতি/সম্প্রদায়ের প্রাণী বা বস্তুর ধর্ম যখন অন্য জাতি/সম্প্রদায়ের প্রাণী বা বস্তুর মাঝে প্রবেশ করে তখন তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ছিনিয়ে নিয়ে খাওয়া হচ্ছে বাঘ, হায়েনা, শিয়াল, কুকুর, বাজ, চিল বা সিংহের ধর্ম। এই ধর্ম যখন মানুষের মাঝে প্রবেশ করে এবং মানুষ যখন ঐ সব প্রাণীর মত আচরণ করে তখন সমগ্র প্রকৃতিতে ধাক্কা লাগে।সমাজ ব্যবস্থা নড়বড়ে হয়ে যায়।এ জন্যই ভগবত গীতায় বলা হয়েছে, “স্বধর্মে নিধন শ্রেয়, পরধর্ম ভয়াবহ।”
কিছু কিছু হিন্দু পণ্ডিত সাম্প্রদায়িকতার ধুয়া তুলে ব্যবসায় করার নিমিত্তে গীতার এই অমোঘ বাণীকে মুসলমান, ইহুদী, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ইত্যাদির মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন।তার সম্প্রদায়গত ধর্মের ধারক-বাহক হয়ে মানুষকে ধর্ম থেকে সরিয়ে পরজ্ঞানী করে দিয়েছেন। বিষয়টা এমন নয় যে, মুসলমানের আল্লাহ আকাশের এক কোণে থাকেন, হিন্দুদের ভগবান আকাশের অন্য কোণে থাকেন এবং খ্রিষ্টানদের যিশু আকাশের অন্য কোণে থাকেন। প্রকৃত কথা হল এই যে, সকল মানুষের একজনই স্রষ্টা। বিষয়টা এমন নয় যে, টুপি মাথায় দিয়ে মুসলমান কোরান পাঠ করতে করতে বেহেশতে যাবে অথবা হিন্দু টিকি মাথায় চন্ডি পাঠ করতে করতে স্বর্গে যাবে অথবা ক্রুশে হাত দিয়ে বাইবেল পাঠ করতে করতে খ্রীষ্টান হেভেনে যাবে।সকল মানুষের আগমনের সূত্র যেমন এক আবার প্রত্যাগমনের সূত্রও এক।সকলেই জন্ম-মৃত্যুর অধীন।সকলেরই হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখের অনুভুতি এক।সকলেরই এক রক্ত—সকলই সমান। কেউ ছোট নয় আবার কেউ বড় নয়। স্রষ্টার কাছে সবাই সমান।স্রষ্টার সৃষ্ট সকলেই সমান হারে স্রষ্টার কাছে আদরণীয়। স্রষ্টার কাছে মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, ইহুদী, শিখ ইত্যাদি সম্প্রদায় বলে কিছু নেই—সম্প্রদায় হচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়ীদের বানানো একটা অভিশাপমাত্র।অনেকেই আবার সেই সম্প্রদায়ের খণ্ডিত অংশের বড় নেতা বলে লিখে থাকেন এবং প্রচার করে গর্ববোধও করেন। মাঝে মধ্যে আমি সে সব পাতলা পায়খানাদের মাথায় কলম-লাঠি চালাই বলে আমার বন্ধুরা অনেক কটু কথাও শুনিয়ে থাকেন।
জ্ঞান-বিবেক দ্বারা চালিত হয়ে পঞ্চ-ইন্দ্রীয় দ্বারা ষড়রিপুকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরার্থে কর্ম করে বাঁচা-বৃদ্ধির প্রবাহকে সমুন্নত রাখা হচ্ছে মানূষের ধর্ম।এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, ইহুদী, জৈন বা ইত্যাদি পরিচয় মানুষের জন্য সাম্প্রদায়িকতা যা মূর্খতামাত্র।স্রষ্টা মানুষকে এভাবে ভাগ করেননি আর কোন নবী বা অবতারও এভাবে ভাগ করে যাননি।মানুষ তার কাজ-কথা-ব্যবহারে সততা দেখাবে এবং এটা তার ধর্ম।সে যদি প্রতারণা বা চুরির কাজে নেমে পড়ে তবে সে শিয়াল চরিত্র-ধর্ম নিজের মধ্যে প্রবেশ করালো আর এভাবে পরধর্ম গ্রহণ করার কারণে সমাজের জন্য সে ভয়াবহ হয়ে গেল।।সে যদি ছিনতাইয়ের কাজে নামে তবে সে বাঘ, চিল, বাজ অথবা সিংহ চরিত্র-ধর্ম নিজের মধ্যে প্রবেশ করালো আর এভাবে পরধর্ম গ্রহণ করার কারণে সমাজের জন্য সে ভয়াবহ হয়ে গেল।
মনে রাখতে হবে যে, সৃষ্টিজগতে মানুষ একটিমাত্র সম্প্রদায়।এখানে মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, ইহুদী, শিখ ইত্যাদি মানুষ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।কার শরীরের রং কী তা স্রষ্টার কাছে মূখ্য বিষয় নহে।কে পুরুষ বা কে নারী তাও স্রষ্টার কাছে মুখ্য বিষয় নহে।যারা তা মানেনা এবং বিভিন্ন দলে, জাতে, গোত্রে, ভাগ হয়ে নিজেদেরকে আলাদা করে নিয়েছে তারাই সাম্প্রদায়িক।মানবসমাজে বিভক্তি এবং অশান্তি ছড়ানোর অপরাধে তারা অপরাধী।যার যার কাছে বিদ্যমান মূল ধর্মগ্রন্থ অনুধাবণ করতে পারলে এ সমস্যা থাকার কথা নয়।
একটু বিস্তারিত বলি।পৃথিবীতে কুমির একটি সম্প্রদায়, কুকুর একটি সম্প্রদায়, বিড়াল একটি সম্প্রদায়, কাক একটি সম্প্রদায়, কোকিল একটি সম্প্রদায়, ঘুঘু একটি সম্প্রদায়, শালিক একটি সম্প্রদায়, চিল একটি সম্প্রদায়, শকুন একটি সম্প্রদায়, কবুতর একটি সম্প্রদায়, ঘোড়া একটি সম্প্রদায়, বাঘ একটি সম্প্রদায়, সিংহ একটি সম্প্রদায়—এভাবে সকল প্রাণী একেকটি একটি সম্প্রদায়। মানুষের মত এদের সবাই প্রকৃতির কাছে ঋণী বিধায় তারা সবাই যার যার ধর্ম পালনে অগ্রগামী।তবে এদের একের ধর্ম অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য নহে—সহনীয়ও নহে।মানুষও আলাদা তেমনই একটি সম্প্রদায় যার মাঝে অন্য পশু-পাখীর ধর্ম গ্রহণযোগ্য নহে—সহনীয়ও নহে।ফলে যারাই সাম্প্রদায়ীকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ব্যবসায় করার চেষ্টা করেছে বা নেতা হবার জন্য নোংরামী করেছে তাদেরকে সাবধান করার চেষ্টা করেছি।আমি মনে করি যে, যেভাবেই হোক, ধর্মের নামে কেউ অপমানিত হলে মানবতাও অপমানিত হয়।
আমার কাছে মুসলমান যা হিন্দুও তাই—খ্রীষ্টান যা বৌদ্ধও তাই। আমি এদেরকে কখনো আলাদা করে দেখিনা।এরা আমার কাছে আগে মানুষ পরে অন্য কিছু।আমার যেমন সুখ-দুঃখের অনুভূতি আছে ঠিক তেমনি তাদেরও আছে। আমি যেমন আমার দুঃখে দুঃখী হই ঠিক তাদের দুঃখেও দুঃখী হই।কেউ আমাকে অপমান করলে আমার যেমন কষ্ট হয় আমিও ঠিক তেমনি অন্যকে অপমান করতে কষ্ট পাই।সব সৃষ্টির মাঝে আমি স্রষ্টাকে খুঁজে বেড়াই।সাদা-কালো স্রষ্টার একটা লীলা খেলা বলেই আমি মানি।একটি ফুলের বাগানে শুধু কালো ফুল কেমন দেখায়? একটি ফুলের বাগানে শুধু সাদা ফুল কেমন দেখায়?সেটা কি সুন্দর লাগে? সাদা, কালো, নীল, বেগুণী, নীল, সবুজ, কমলা, আকাশী আর হলুদ রং দিয়ে সাজানো ফুলের বাগান ছিল স্রষ্টার ইচ্ছা।স্রষ্টার সে ইচ্ছাকে পদদলিত করে যারা গায়ের রঙ নিয়ে নিজেদেরকে অহংকারী করে তুলেছে তারাও স্রষ্টাকে অপমান করেছে।
ধর্ম আর সংস্কৃতি দু’টো আলাদা বিষয়।একটার সাথে অন্যটার কোন মিল নেই।ধর্ম না মানলে নিজের জন্য পদে পদে বিপদ হবে কিন্তু সংস্কৃতি না মানলে সমাজের ধর্ম ব্যবসায়ীদের দাপট কমে যায় বিধায় সেটাকে ঘাড় ধরে মানানোর চেষ্টা করা হয়।আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে যে সংস্কৃতি ছিল তার অনেকটা আজ আর নেই।ফলে দেখা যায় যে, সংস্কৃতি আসলে একটি সামাজিক আচার যা অজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয় আবার জ্ঞানের বিকাশের সাথে সাথে তা পরিবর্তিত হয়ে অন্য রূপ ধারণ করে।ত্রিশ বছর আগেও মুসলমানদের মিলাদ ছিল তেমনি একটি ধর্মের নামে সংস্কৃতি যা আজ আর তেমন দেখা যায়না। মানসিকতা, পরিবেশ আর স্থান-কাল-পাত্রভেদে সংস্কৃতি নিয়ত পরিবর্তনশীল কিন্তু ধর্ম সৃষ্টির উদয়লগ্ন থেকে বিলয়লগ্ন পর্যন্ত একই ছিল, একই থাকবে। সমস্যা হলো এই যে, কোনটা ধর্ম আর কোনটা সংস্কৃতি সেটাই মানুষ আজ বুঝতে পারেনা। ফলে, লৌকিক আচারানুষ্ঠান কালান্তরে অবশ্য পালনীয় ধর্ম হয়ে গেছে। বর্তমান সংসারে ধর্মের নামে যা চালু আছে তা ধর্ম নহে—সংস্কৃতি মাত্র।মূল ধর্মের বাণী মূল ধর্ম গ্রন্থে আছে—মানুষের মাঝে নেই।যত মারামারি, ফালাফালি, মতভেদ সবই এই সংস্কৃতি নিয়ে—ধর্ম নিয়ে নহে।
রাষ্ট্র যতদিন ধর্মভিত্তিক না হবে ততদিন অশুরের রাজত্ব চলতেই থাকবে।পরিপূর্ণ ধর্মভিত্তিক মানুষের কর্ম দিয়ে সন্মিলিত সমাজ গড়ে দেয়া দরকার যা ধর্মভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠার পূর্বশর্ত হিশেবে বিবেচিত হবে। ধর্মভিত্তিক সমাজে জাতি, বর্ণ বা ভাষার প্রাধান্য থাকেনা—থাকে কর্মের মাধ্যমে ধর্মের প্রাধান্য।সে ধর্ম আর কিছু নয় কেবলই কোন প্রাণী বা কোন বস্তুর অভ্যন্তরীণ গুণাবলীমাত্র যা তাকে প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং কাজ-কথা-ব্যবহারে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। যে কোন মূল ধর্মগ্রন্থে এ কথাই বলা আছে।যেমন, কোরানে কোথাও মুসলমানদেরকে সম্বোধন করে কোথাও কিছু বলা হয়নি। সেখানে মানুষ বলে সম্বোধন করা হয়েছে।সেখানে নারী-পুরুষ আলাদা করেও দেখানো হয়নি।অন্যান্য মুল ধর্মগ্রন্থেও তা-ই আছে।ফলে, প্রতিটি মূল ধর্মগ্রন্থ কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেনা—পৃথিবীর সকল শ্রেণীর মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে যেখানে নারী-পুরুষ আলাদা গুরুত্ব পায়না।
মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে নিজেদেরকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে ভাগ করে নেয়া। মুহাম্মাদ কেবল মুসলানদের নবী নহেন, তিনি মানুষের নবী।কৃষ্ণ কেবল হিন্দুদের নবী নহেন, তিনি মানুষের নবী।বুদ্ধ কেবল বৌদ্ধদের নবী নহেন, তিনি মানুষের নবী।ফলে, মুহাম্মাদ যেমন আমার নবী ঠিক তেমনি কৃষ্ণ ও আমার নবী এবং বুদ্ধ ও আমার নবী। সংসার যখন অশান্ত হয়ে ওঠে তখন সেটা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য অনেক মহামতি ভাবনার জগতে প্রবেশ করেন । আর সে ভাবনার একাগ্রতায় স্রষ্টা এসে ধরা দিয়ে তাদেরকে পথ দেখান।সে পথে মানুষ চলতে থাকে। আগে থেকেই কোন সম্প্রদায় বা জাতের জন্ম হয়না।আমি বলতে চাছি যে, আগে মুসলমান সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়নি বরং পরে তারা নিজ়েরা নিজেদেরকে এ নামে পরিচিত করেছে। ঠিক তেমনিভাবে যিশু খ্রীষ্টান ধর্মের প্রবর্তন করে যাননি—পরে সেটার নামকরণ করা হয়েছে।অনেক ক্ষেত্রে দ্বিধাবিভক্ত দলের নেতার নামেও ধর্মের নামকরণ হয়েছে যার সাথে স্রষ্টার বা অবতারদের কোন সম্পর্ক নেই।
পৃথিবীতে যত প্রাণী তত ধর্ম।যত বস্তু তত ধর্ম।একের ধর্ম অন্যে ঢূকে গেলেই সব সমস্যা শুরু হয়।কুকুর, বিড়াল, বাঘ, সিংহ, হায়েনা, গরু, ছাগল, ভেড়া, মাছি, কুমির, বাজ, চিল, শকুন, হায়েনা, সাপ ইত্যাদি প্রাণীর ধর্ম যখন মানুষের মাঝে প্রবেশ করে এবং সে অনুযায়ী মানুষ আচরণ করা শুরু করে তখনই অধর্ম বা পরধর্ম মানুষকে মানুষ থেকে পশুতে নামিয়ে নিয়ে যায়।সে কারণে, যেভাবেই হৌক, মানুষকে নিজের ধর্মে থাকতে হবে এবং সব সময় ধর্ম নিরপেক্ষ হয়েই বাঁচতে হবে।
আমার লেখা পড়ে যারা আনন্দ পেয়েছেন বা পান তাদের সাথে আমি আহ্লাদিত নই। আবার, যারা আমার লেখা পড়ে দুঃখ পেয়েছেন বা পান তাদের দুঃখে আমি দুঃখিত নই। কারণ, আমি নিজের থেকে কালজয়ী কিছু লিখতে পারিনা না। আমার সবই জ্ঞানের আর্কাইভ থেকে ধার করে সাজানো—যার উত্তরাধীকারী অতীতের ইতিহাস এবং তার নায়ক-নায়িকাগণ।
--ধন্যবাদ
erpcollege@gmail.com
Toronto Ontario, Canada
Thursday, August 07, 2008


Comments
Few question to Mr. Akhter Hussain
স্রষ্টার কাছে মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, ইহুদী, শিখ ইত্যাদি সম্প্রদায় বলে কিছু নেই—সম্প্রদায় হচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়ীদের বানানো একটা অভিশাপমাত্র। What can make one to come to that conclusion? If there is a God, has he spoken to one about this? If not, what is the source of the information?
মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে নিজেদেরকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে ভাগ করে নেয়া। মুহাম্মাদ কেবল মুসলানদের নবী নহেন, তিনি মানুষের নবী।কৃষ্ণ কেবল হিন্দুদের নবী নহেন, তিনি মানুষের নবী।বুদ্ধ কেবল বৌদ্ধদের নবী নহেন, তিনি মানুষের নবী।ফলে, মুহাম্মাদ যেমন আমার নবী ঠিক তেমনি কৃষ্ণ ও আমার নবী এবং বুদ্ধ ও আমার নবী। Prophets are for men but prophets are not made by men. Muslims are the followers of Muhammad (PBUH), Christians are the followers of Christ. People didn't divide themselves in different sects rather prophets did. If so, then should people blame the prophets for division?
Akhtar Husain
What did you want to say in your article?
To Akhter Hussain (Canadian Vai)
Apni ki bolte chan -- ta shohoj vashai bujhiye bolun!!
Doya kore!!
--JACKOB RAIHAN
আখতার একটা
আখতার একটা পাপীষ্ট।আর এক জায়গায় সে লিখেছিল আমাদের নবীর পর নাকি আর ও অনেক নবী এসেছে এবং তাদের মধ্যে ৬ জনের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে।এবার বুঝুন সে কেমন একজন বিদ্ধান আর নেকী বান্দা,কবে যে নিজেকেই নবী দাবী করে বসে!।আমার মনে হয় সম্পাদকের উচিৎ এই ধরনের পাপীষ্ট নেককার বদমাশকে এই মেলা থেকে উষ্টা দিয়ে ১০ হাত দূরে ফেলে দেওয়া।মানুষকে জ্ঞান দিতে চায়,আরে বেটা এই বোর্ডের সবাই মেচ্যুর এখানে বাচ্চা মনে করে কথা বললে ভুল করবি।তুই একেবারে একটা ইতর।
e-m-v
what he want to say ? it is
what he want to say ? it is not clear.
akhter hossain
what the hell is this ?
sorry i did not understand the topic .
এই সেই আখতার হোসেন
এই সেই ইসলাম বিরোধী আখতার যে সব সময় নিজের পান্ডিত্য জাহির করতে গিয়ে ইসলামের বিরোদ্ধে লিখে থাকে।এই আখতার তুই কোথায় পেলি যে কৃষ্ণ আর বুদ্ধ নবী?এই প্রথম আমি এই ধরনের কথা শুনলাম।তোকে ঘাড় ধরে এই মেলা থেকে বের করে দেওয়া দরকার,কুত্তা কোথাকার।
e-m-v
সত্য হলো সোজা পথ
আপনার কথা বুঝতে পারলাম না। অস্পষ্ট, ধোয়াটে...কিছু যেন লুকাইতে চাইছেন ...
সত্য হলো সোজা পথ
মিথ্যা বাকা পথে চলে, অন্ধকারে এর ঊঠা বসা। অথবা গোপন সংলাপ।
২। আপনার হেডিং ছিল, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়ীকতা এবং গড্ডালিকা
কিন্তু বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করেন নি।
ধর্মনিরপেক্ষতা, এবং সাম্প্রদায়ীকতা বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে কি রুপ সেটা উল্লেখ করেন নি।
তবে ইসলামকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলোচনার সুযোগ নেই, ইসলাম সকল মানব জাতির ধর্ম এবং সারা বিশ্বে এর রুপ একই রকম ।
আর ভারতীয়_ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যবসা করে। ১৯৭১ এর গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে কিছু রাজাকারের অপকীর্তির মাঝে এরা ইসলামের রুপ দেখতে পায়। এরা মুক্তিযুদ্ধকে রাজনীতিকরন করে এর সোল এজেন্ট সেজেছে (তাতে কোন সমস্যা ছিল না) কিন্তু এরা রাজাকারকে ইসলামীকরন করে ভারতীয়_ধর্মনিরপেক্ষতা খোলকে ঢুকে ইসলামকে ধবংস করার ভারতীয় চক্রান্তে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে। ফলে এরা নীতি বর্জিত এক সম্প্রাদায়ে পরিনিত হয়েছে, যেখানে ফ্যাসিজমও বাসা বেধেছে। কাজেই, আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই একমাত্র সাম্প্রাদয়িক দল, ফ্যাসিজমের জন্য এরা প্রতিপক্ষের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না।
ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়ীকতা এবং গড্ডালিকা
This is a confused & contradictory writing. Light & dark, truth & false, right & wrong, believers & nonbelievers are not equal but opposite. If so, Muhammad (PBUH) had not to fight so many wars. A fox is not a thief because it does not have the knowledge of right & wrong, whereas human has, that makes him different from animal and accounted for his action. Muhammad (PBUH) was a mercy to the mankind but prophet for Muslim and Muslim are them who believes 'There is no God but one God and Muhammad (PBUH) is his messenger'. All human were one nation but creator created differences so that he can judge the people as a verse from Quran, the book of Islam, says
002.213 'Mankind was one single nation, and Allah sent Messengers with glad tidings and warnings; and with them He sent the Book in truth, to judge between people in matters wherein they differed; but the People of the Book, after the clear Signs came to them, did not differ among themselves, except through selfish contumacy. Allah by His Grace Guided the believers to the Truth, concerning that wherein they differed. For Allah guided whom He will to a path that is straight.
One thing to note that people other than the book are burnt after death in this world.