কোরান দিয়ে বিকৃতিঃমন্তব্য নিষ্প্রয়োজন

Akhtar Husain's picture
Posted by
Akhtar Husain
Thursday, October 9, 2008 - 11:19pm BST

কোরান দিয়ে বিকৃতিঃমন্তব্য নিষ্প্রয়োজন
মুহাম্মাদ আখতার হুসাইন

http://www.shodalap.com/MAH_Quran.htm

সদালাপে লেখাটা (An open letter to Md. G. Mostafa) প্রকাশ হবার পর থেকেই আমার ধারণা ছিল যে জনাব গোলাম মোস্তফা সাহেব বিষয়টা দেখবেন, বুঝবেন এবং কিছু কথা বলবেন।কিন্তু ইদানিং কম-বেশী সবাই স্বাধীনতার ঘোষক এবং ঘোষণা নিয়ে ব্যস্ত আর এ বিষয়ে তিনিও বেশী ব্যস্ত থাকায় প্রসংগটা আমাকে হালকাভাবে নাড়া দিয়ে গেছে। তাছাড়া, লেখাটা ধীরে ধীরে হোম পেইজ থেকে নেমে পরের পাতায় চলে যাচ্ছে। কিছুদিন পরে সেটা কারো নজরে পড়বেনা কিন্তু ক্ষতি যা হবার তা হয়ে যাবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি সদালাপের অনেক লেখককেই চিনিনা। কোথায় থাকেন, কী করেন, দেখতে কেমন, মেজাজ কেমন, বয়স কত তাও আমার জানা নেই।ফলে, আমি যা লিখি তা কেবল লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে—ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কথা থাকেনা।

লেখাটা আমাকে নিয়ে বা আমাকে বলা হয়নি তবে অনেক জায়গায় আমাকে “অভদ্র” এবং “লেখক নন” বলে মন্তব্য করেছেন যা আমার গায়ে লাগেনি। আমি যে লেখক নই তা আমার আগের অনেক লেখায় আমি নিজেই বলেছি। কারণ, আমি জ্ঞানের আর্কাইভ থেকে ধার করে লিখি। মৌলিক জ্ঞানের কথা আমার দ্বারা বের হয়না। তাছাড়া, এমন কিছু হয়তো করেছি বা বলেছি যার কারণে আমাকে অভদ্র বলা হয়েছে। সবার সাথেই তো আর প্রেমালাপ বা চুমাচুমি করা যায়না।সব কথায় সবাই তুষ্ট নাও হতে পারে।যাহোক, বেশীর ভাগ কথা বলা হয়েছে জনাব গোলাম মোস্তফা সাহেবকে। ফলে, গায়ে পড়ে আমি পুরা লেখাটার বিষয়ে আলাপ করতে পারিনা।কেবলমাত্র কোরানের যে অংশে বিকৃতি এসেছে সে অংশ নিয়ে আমার কথা।তবে এরই মধ্যে যদি গোলাম মোস্তফা সাহেব এ বিষয়ে কিছু বলতেন তবে আমার বলার হয়তো কিছুই থাকতনা। একজন মুসলিম হিশেবে কোরানের বিকৃতি সহ্য করা আমার পক্ষে কেন অনেকের পক্ষেই বেশ কঠিন। যে লেখা নিয়ে আজকে সদালাপে আগমন তার একটা ছবি দিলাম।লেখাটা নিম্নরূপ যা এখনো সদালাপের হোম পেজেই আছে।

সমগ্র লেখাটার মধ্যে কেবলমাত্র নীল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা অংশ নি্যেই আমার বক্তব্য সীমাবদ্ধ থাকবে। সোজা কথায় “Specially addressing to the writers of SHODALAP relating to non-Muslims, the Qura’n states in chapter 109, “I worship not what you worship nor do you worship who I worship to your way, and to me mine.” এ লাইনটা আমাকে ভীষনভাবে পীড়া দিয়েছে।

Specially addressing to the writers of SHODALAP relating to non-Muslims, the Qura’n states in chapter 109 এর খাঁটি বাংলা কী দাঁড়ায়? অনুবাদ করলে যা দাঁড়ায় তা কি, “বিশেষ করে, যারা সদালাপের নন মুসলিম বা কাফির লেখক তাদেরকে উদ্দেশ্য করে কোরানের ১০৯ নম্বর সুরায় বলা হয়েছে যে-------।” হয়না? সদালাপে যারা নন মুসলিম বা কাফির পরিচয়ে লেখেন তাদের মধ্যে ঐ প্রবন্ধের লেখক আর মিঃ বিপ্লব পাল অন্যতম। যেহেতু মিঃ বিপ্লব পাল নিজেকে নাস্তিক বলে মনে করেন (উনার লেখা পড়ে উনাকে আমার আস্তিকই মনে হয়েছে) সেহেতু পাল বাবুকে এ লেখায় টেনে আনা যায়না। বাকী থাকেন ঐ লেখক যিনি জনাব গোলাম মোস্তফা সাহেবকে “ওপেন লেটার” দিয়েছেন। বলিহারি! সদালাপের জন্ম কবে আর কোরানের এই সুরার আগমন বা জন্ম কবে! তার মানে কি এই যে, ঐ লেখকের জন্য এই সুরা নাজিল হয়েছিল? ঐ লেখককে আল্লাহপাক এতো গুরুত্ব দিলেন? তাকে বলে দিলেন যে, তোমার জন্য তোমার ধর্ম আর আমার ধর্ম আমার জন্য? এই সেদিনের সদালাপের নন মুসলিম বা কাফির লেখকের জন্য ১৪৫০ বছর আগেই?—মাথা খারাপ হওয়া ছাড়া আর কি উপায় আছে? তাছাড়া, মানুষ কাফির হয় কর্ম দিয়ে, নাম দিয়ে কেউ কাফির হয়না। ফলে, নামের ক্ষেত্রে আব্দুর রহমান আর দয়াল দাস একাকার কিন্তু কর্মের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে যার বিচারের মালিক স্বয়ং স্রষ্টা—অন্য কেউ নয়। তাছাড়া, মুসলিম নামটা স্রষ্টায় সমর্পিত শান্তিবাদীদের জন্য। বিশেষ একটি গোষ্ঠীর জন্য এই উপাধী প্রযোজ্য নহে। কোরানে মুসলমান বলে কোন কথা লিখা নাই এবং মুসলমান আর মুসলিম এক কথাও নয় আর এক বিষয়ও নয়।যারা মুসলমান হিশেবে পরিচয় দেয় তাদের মধ্যে শতকরা ১% মুসলিম আছে কিনা সেটায় আমার সন্দেহ আছে।

সদালাপের ঐ লেখক (উনি নিজেকে লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, বহু গ্রন্থ প্রণেতা, মেডিটেশন মাষ্টার বা ধ্যান-প্রাণায়ামের গুরু ইত্যাদি হিশেবে শুনতে, বলতে এবং লিখতে ভালবাসেন আর প্রায় প্রতিটি লেখায় বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মুখে ছি! ছি! করে থুতু ছিটান যা অনেকটা আঙ্গুর ফল টকের মত।)তার বক্তব্য রাখতে গিয়ে কোরানের ১০৯ নম্বর সুরার ১ নম্বর আয়াত বাদ দিয়েছেন। ২ এবং ৩ নম্বর আয়াত থেকে এক চিমটি নিয়েছেন এবং ৩, ৪, এবং ৫ নম্বর আয়াত বাদ দিয়েছেন।আবার, ৬ নম্বর আয়াত থেকে এক চিমটি নিয়ে তার বক্তব্যের সমর্থনে যুক্তি দেখিয়েছেন। তার এই “I worship not what you worship nor do you worship who I worship to your way, and to me mine.” কোন আয়াতের অনুবাদ?উনার লেখা পূর্ণ বাক্যটির আরবী অনুবাদ করলে এই সুরার কোন আয়াতের সাথেই মিলেনা। আমি হাজার চেষ্টা করেও মিলাতে পারলামনা। আপনারা যদি পারেন তবে আমাকে জানালে কৃতার্থ হব।আরবী কোরান এবং তিনজন অনুবাদকের ইংলিশ অনুবাদ এবং একজন বাংলা অনুবাদকের অনুবাদ তুলে দিলাম পাঠকের মতামতের জন্য।

In the name of Allah, the Compassionate, the Merciful.
109.001
YUSUFALI: Say : O ye that reject Faith!
PICKTHAL: Say: O disbelievers!
SHAKIR: Say: O unbelievers!
109.002
YUSUFALI: I worship not that which ye worship,
PICKTHAL: I worship not that which ye worship;
SHAKIR: I do not serve that which you serve,
109.003
YUSUFALI: Nor will ye worship that which I worship.
PICKTHAL: Nor worship ye that which I worship.
SHAKIR: Nor do you serve Him Whom I serve:
109.004
YUSUFALI: And I will not worship that which ye have been wont to worship,
PICKTHAL: And I shall not worship that which ye worship.
SHAKIR: Nor am I going to serve that which you serve,
109.005
YUSUFALI: Nor will ye worship that which I worship.
PICKTHAL: Nor will ye worship that which I worship.
SHAKIR: Nor are you going to serve Him Whom I serve:
109.006
YUSUFALI: To you be your Way, and to me mine.
PICKTHAL: Unto you your religion, and unto me my religion.
SHAKIR: You shall have your religion and I shall have my religion.

যাহোক, যাদের অনুবাদ উপরে সুত্র হিশেবে দিলাম তারা কোরানের অনুবাদ করে জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন।তারা যে সঠিক অনুবাদ করেছেন তা আমি বলিনা।তারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে একজন আরেকজনের অনুবাদকে সরাসরি বা একটু এদিক সেদিক করে নিজের করে নিয়েছেন।ফলে, মূল বিষয়টা যেখানে ছিল সেখানেই আছে।তবে লাইনের জিনিস লাইনে আছে কিন্তু ঐ লেখক যা করলেন তাতে এক লাইনের বিষয় অন্য লাইনে ঢুকিয়ে কোরানকে বিকৃত করে দিলেন। এ ধরণের কাজ মরিস বুকাইলী করেছেন, উইলিয়াম লেনপূল, স্টানলী, মুর, ইত্যাদিরাও কোরানের বিকৃতি করেছেন। সেই সাথে সালমান রুশদীও কম যাননি। এতে কোরানের প্রচার-প্রসার বেড়েছে—ক্ষতি হয়নি। বিধর্মীরা বিকৃতভাবে কোরানকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করতে গিয়ে যে সময়, শ্রম, আর মেধা ব্যয় করেছেন, কোরান প্রচারের ক্ষেত্রে তা মুসলমানের অনেকের পক্ষে সম্ভব ছিলনা।

আমার ধর্ম আমার, আর তোমার ধর্ম তোমার—এ কথা বলার জন্য এই সুরা নাজিল হয়নি।যদি কেউ তা মনে করে থাকেন বা মনে হয়ে থাকে তবে সেটা হবে সবচেয়ে বড় ভুল এবং খুবই হালকা কথা যা কোরানের মত ধর্মগ্রন্থে বলার কোন কারণই থাকতে পারেনা।এই সুরার প্রতিটি শব্দে প্রতিটি লাইনে স্রষ্টা-সৃষ্টি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, আর ভাল-মন্দের এক বিশাল আর আকাশ-পাতাল পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ সেটা জ্ঞানের দুয়ারে আঘাত দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে।ভাল কি মন্দ সেটা বিচার না করে “যার যার ধর্ম যদি তার তার ধর্ম” হতো আর স্রষ্টা যদি তা মেনে নিতেন তবে এতো নবী-রাছুল আর অবতারের আগমণ হতোনা।সত্য আর মিথার পার্থক্য থাকতোনা।অন্ধ আর চক্ষুষ্মান এক হয়ে যেত।জ্ঞান আর মুর্খতা এক মর্যাদায় আসীন হতো।কোনটা মানুষের বানানো আর কোনটা স্রষ্টার দেয়া তার বিচার হতোনা।পাপ আর পূণ্য এক হয়ে যেত। উনার কথা বা অন্যান্য অনুবাদকের অনুবাদের ধারামতে যদি এগিয়ে যাই তবে স্রষ্টা সার্টিফাই করে দিলেন যে, সবার ধর্ম সঠিক এবং স্রষ্টা তা প্রকারান্তরে মেনেই নিলেন।আসলে কি তাই? না, তা নয়।। বিষয়টা এতো সহজ বা সোজা নয়।

"ওয়ালীয়া দ্বীন" শব্দ দু’টো এই সুরার মূল কথা যা সুরার শেষে বলা হয়েছে।এ শব্দ দু’টোর দিকে অনেকেরই খেয়াল নেই।হাতে গোনা যে ক’জন অনুবাদক এই শব্দ দু’টোর ব্যখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে বরিশালের মরহুম মুজিবুল হক অন্যতম।শব্দ দু’টোর কারণে অনুবাদ যা হয় তা হচ্ছে, “তোমাদের ধর্মের উপর আমাদের ধর্ম প্রভাব বিস্তার করবে যা সকল ধর্মের প্রতিনিধি বা শ্রেষ্ট হিশেবে বিবেচিত হবে।”

এই সুরা যখন নাজিল হয় তখন তার পরিবেশ আর প্রেক্ষাপট বিচার করা খুবই জরুরী।মূর্তিপূজা যদি হিন্দুদের ধর্ম হয় তবে সে সময়ের আরব দেশের অধিকাংশ মানুষ ছিল সবচাইতে বড় হিন্দু। ক্বাবা ঘরে ৩৬০টি বিশাল মুর্তির ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি।এই সুরার প্রভাব সেই সকল মুর্তিকে ধ্বংশ করে দিয়েছিল। ইহুদী-খ্রীষ্টান-মুসলমান এই তিন ধর্মাবলম্বীদের সকলেই ইব্রাহীম নবীকে সমান মর্যাদায় আসন দিয়ে থাকেন। সেই ইব্রাহীম নবীই নিজ হাতে অনেকগুলো মূর্তি ধ্বংশ করে বড় একটা মূর্তির কাঁধে কূঠার ঝুলিয়ে রেখেছিলেন যা কোরানে বর্ণিত আছে।ঐ মূর্তিরা ঐ সময়ের মূর্খদের উপাস্য হয়েও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কিছুই করতে পারেনি। আজো পারেনা। স্রষ্টার সৃষ্টি মাটি দিয়ে মানুষের বানানো পুতুলের কীইবা ক্ষমতা?সেই পুতুল বা মূর্তি হয়ে যায় জ্ঞানীদের উপাস্য! জ্ঞানের বিকাশের চরম পর্যায়ে এসেও আর এতকিছুর পরেও মানুষ মুর্তি পুজা ছাড়েনি। প্রায় দু’শত বছর আগেও দূর্গাপুজা বলে কোন পুজা ছিলনা। রাজশাহী অঞ্চলের হিন্দু জমিদারদের বানানো “বারোয়াড়ী পুজা” কী করে হিন্দু ধর্মের প্রধান পুজা-পার্বণে পরিণত হলো তার ইতিহাস কি খুব বেশী দিনের?

পয়ত্রিশ বছর ধরে আমি কোরান বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করি। অনুবাদ করার চুলকানী মাঝে মাঝে আমারও উঠে। আর সে ধরণের চুলকানী উঠলেও দাঁতে কামড় দিয়ে পড়ে থাকি। পাছে আমার একটা ভুল দিয়ে কোটি মানূষ বিভ্রান্ত হয় সে ভয়ে চুপ থাকি—বিশেষ করে লেখার বেলায়। কারণ, এটা একটা দলিল আর এটাকে যে কেউ সূত্র হিশেবে ব্যবহার করতে পারেন। আমি যে জায়গাটুকু নাগাল পাইনা সে অংশে চুলকাতে যাইনা।অন্যেরও সেটা করা ভাল—বিশেষ করে যারা বিধর্মী তাদের এ পথে যাওয়াটাই ঝুকিপূর্ণ।বর্তমান মুসলমান সমাজে ধর্মের নামে যে আবর্জনার জন্ম হয়েছে তার অধিকাংশই এভাবে হয়েছে। যে যেভাবে পেরেছে “অথরাইজড পার্সন” না হয়েই কোরানের অনুবাদ বা ব্যাখ্যা দিয়ে জান্নাতী হবার চেষ্টা করেছেন।সে সব “নন-অথরাইজড” পার্সনদের সেসব আবর্জনামূলক কথার প্রতিবাদ করলে রাজাকাররা সেই প্রতিবাদকারীকে মুরতাদ বানিয়ে দেয়।ইহুদী আর খ্রীষ্টানদের দালাল বা দোসরে বানিয়ে দেয়।কাদীয়ানী বানিয়ে দেয়।

সুরাটার প্রেক্ষাপট বিচার করতে গিয়ে পুতুল পুজা বা মূর্তিপুজার বিষয় ছাড়া এখানে আর কিছু আনা যায় বলে আমার মনে হয়না। সে সময়ের আরব সমাজে এই পুতুল পুজা ছিল একটা সামাজিক আর মানসিক ব্যাধি। মুসা নবীর আমলেও এই ব্যাধি ছিল যা তিনি অনেকটাই সামাল দিয়েছিলেন। আল্লাহপাক স্বয়ং তাঁর রাছুলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি পুতুলপুজারী বা মূর্তিপুজারী কাফিরদেরকে সতর্ক করেন। তারা যে ভুল করছে তা যেন বুঝিয়ে দেয়া হয়।সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য যেন তারা বুঝতে পারে—সেটাই ছিল এই সুরার মূল উদ্দেশ্য।সদালাপের কাফির লেখকদেরকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়নি।কারণ, যখন এই নির্দেশ জারী করা হয় তখন তিনিতো দূরের কথা সদালাপের ঐ লেখকের পূর্বতন চৌদ্দ নম্বর পুরুষেরও জন্ম হয়নি।
“ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ”—কথাটা কোরানে বলা হয়েছে। রাছুলকে উদ্দেশ্য করে তা বলা হয়েছে।যেখানে রাছুলের দায়িত্ব কেবল আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়া আর হেদায়াত করার মালিক আল্লাহ বলা হয়েছে—সেখানে আমি কোন ছার? ফলে, ধর্মের ব্যপারে আমি কোন ঝগড়া করতে পারিনা।কাউকে আক্রমণ করতে পারিনা। কারো বিরুদ্ধে রায় দিতে পারিনা।বিষয়টা সম্পূর্ণ আল্লাহর নিজস্ব ক্ষমতা আর নিরংকুশ সার্বভৌমত্ব।তিনি যা করার করবেন। আমি যা বললাম তাও বেশী হয়ে গেল কি না সেটাই বিবেচ্য।
গীতাশাস্ত্রী জগদীশ্চন্দ্র ঘোষ বি, এ,-সম্পাদিত এবং শ্রীঅনীলচন্দ্র ঘোষ এম, এ, কর্তৃক সুসংস্কৃত, প্রেসিডেন্সী লাইব্রেরী, ১৫ বঙ্কিম চ্যাটার্জি ষ্ট্রীট, কলিকাতা-৭৩ হতে প্রকাশিত “শ্রীমদ্ভগবদগীতা”-র ২৮ নম্বর পৃষ্ঠার ২০ নম্বর লাইনে গীতাশাস্ত্রী জগদীশচন্দ্র ঘোষ লিখেছেন যে, “সেকালে বিদ্যার কেন্দ্রস্থল নবদ্বীপে দেখা যাইত, পণ্ডিতগণ দুই দলে বিভক্ত হইয়া—তাল ঢুপ করিয়া পড়ে, না পড়িয়া ঢুপ করে—এই অপূর্ব তত্ত্ব নির্ণয়ার্থ ছল-তর্ক-বাদ-বিতণ্ডার ঢেউ উঠাইতেছেন। এই সকল ছিল সেকালের জ্ঞানের চর্চা ও পাণ্ডিত্তের লক্ষণ।আর কর্মের ত অন্তই ছিলনা। বেদের তেত্রিশ দেবতা তেত্রিশ কোটি হইয়াছিলেন—তারপর উপদেবতা, অপদেবতা, গাম্যদেবতাও অনেক ছিলেন, এমনকি জ্বর, বসন্ত প্রভৃতিও দেবতার স্থানে অধিষ্ঠিত হইয়াছিলেন।তন্ত্র-মন্ত্রের অসদ্ব্যবহার, অভিচার, ব্যাভিচারাদিরও অন্ত ছিলনা।নিত্যনৈমিত্তিক কর্মে ধর্মধ্বজিতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পাইয়াছিল, ধর্মপ্রাণতা ছিলনা।প্রভুত্ব, প্রতিষ্ঠা, কামিনী-কাঞ্চনাদির কামনায় কলুষিত চিত্তে এই সকল “ধর্ম-কর্ম” বা ধর্মবাণিজ্য সম্পন্ন হইত, উহাতে ভক্তির প্রসংগ ছিলনা।” ঐ একই গ্রন্থের ৩৭ পৃষ্টার ১৯ নম্বর লাইনে বলা হয়েছে, “যে সর্বভুতে অবস্থিত নারায়ণকে উপেক্ষা করিয়া প্রতিমাতে নারায়ণের অর্চণা করে, সে ভষ্মে ঘৃতাহুতি দেয়।” এগুলো ছিল তাদের উপাস্য বা উপাস্যের নমুনা যা সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য কোরানে বর্ণিত স্রষ্টার এই অমোঘ বাণী যেখানে মানুষের সৃষ্ট স্রষ্টাকে আসল স্রষ্টা থেকে আলাদা করা হয়েছে—বুঝানো হয়েছে।১৪০০ বছর আগে এমনি এক পরিবেশে এই সুরা নাজিল হয়। এই সুরায় যার যার ধর্ম তার তার করা হয়নি বরং কাফিরদের বিপরিতে আল্লাহর দেয়া ধর্ম বিধান যে শ্রেষ্ট হিশেবে বিবেচিত হবে তা-ই এই সুরায় বলা হয়েছে। মনে রাখতে হবে যে, স্রষ্টার দেয়া সকল মানুষের একটাই মূলধর্ম আর সেটা হচ্ছে মানবধর্ম—মানুষতার ধর্ম যেখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, ইহুদি ইত্যাদির অবতারণা ভষ্মে ঘৃতাহুতিমাত্র।

একটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে লেখাটা শেষ করি।ডিগ্রী পরিক্ষার হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্রের খাতা স্ক্রুটিনি করার পরে একটা গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে।বিষয়টা নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিক্ষা নিয়ন্রক জনাব দলিল উদ্দিন মণ্ডলের গাজীপুর অফিসে পূর্ব-নির্ধারিত সময়ে দেখা করতে যাই।একান্ত সহকারীকে জানালাম আমার আগমণের হেতু।ভেতরে গিয়ে ফিরে এসেই তিনি আমাকে যেতে বললেন।অফিসে ঢুকে আমি হতবাক। স্যার তার টেবিলের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভদ্রলোকের সাথে ভীষন উত্তেজিত হয়ে কথা বলছেন। দলিল স্যারের মত এমন রসিক মানুষ এভাবে উত্তেজিত হতে পারেন তা আমার জানাই ছিলনা।আমি যখন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে পড়ি তখন তিনি সে কলেজের শিক্ষক ছিলেন। আগাগোড়াই তিনি রসিক মানুষ। আমরা অনেকেই গোপনে তাঁকে তাঁর হাস্যরসের কারণে “রসিক উদ্দিন” বলে ডাকতাম। যাহোক, আমাকে হাতের ইশারায় বসতে বললেন। চেয়ারে বসামাত্র তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেনঃ আখতার সাহেব, গুরু বানান জানেন?
বললামঃ জ্বী, স্যার।
স্যার বললেনঃ বানান করেন।
বললামঃ গয় রস্যুকার গু রয় রস্যুকার রু, গুরু।
স্যার বললেনঃ বেশ, এবার বলেনতো, “গ”-এর রস্যুকার যদি ভুলে বাদ পড়ে যায় বা ঘষা ঘেয়ে পড়ে যায় বা মুছে যায় তবে কী হয়?
বললামঃ গরু হয় স্যার।
স্যার বললেনঃ বেশ, এবার বলেনতো, “র”-এর রস্যুকার যদি ভুলে বাদ পড়ে যায় বা ঘষা ঘেয়ে পড়ে যায় বা মুছে যায় তবে কী হয়?
বললামঃ গুর হয় স্যার।
স্যার বললেনঃ বেশ, বেশ।খুব ভাল। এবার বলেনতো, “গ” এবং “র” উভয়ের রস্যুকার যদি ভুলে বাদ পড়ে যায় বা ঘষা ঘেয়ে পড়ে যায় বা মুছে যায় তবে কী হয়?
আমি বললামঃ গর হয় স্যার।
স্যার এবার ঐ ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে গরম মেজাজে বললেন, “লিখতে গি্যেই একটা বানান ভুলের কারণে গুরু যদি গরু হয়ে যায় তবে আপনার এই কর্মের কারণে আপনি কী হয়েছেন তা বুঝতে পারছেন?আপনি আপনার কর্মের কারণে গুরু, গরু বা গুর কোনটাতেই নেই। আমাকে এখন একটা জরুরী কাজ করতে হবে। বাইরে গিয়ে বসেন। আপনার সাথে পরে কথা বলবো।”
ভদ্রলোক চলে যেতেই আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ব্যপার কী স্যার, কী হয়েছে?
স্যার বললেনঃ ব্যাপারটা আমি আগে ভালভাবে জেনে নিই। এখন আপনার এ বিষয়ে কিছু জানার দরকার নাই।যে রিপোর্টটা নিয়ে এসেছেন সেটি দেখান, আসল সমস্যাটার সমাধান করি।
--ধন্যবাদ
http://www.shodalap.com/MAH_Quran.htm
erpcollege@gmail.com
Monday, October 06, 2008
Toronto Ontario, Canada

Comments

Bangladeshi Bangali's picture

To Editor.......

Editor needs to interfere here and take charge of active role as editor.

Any write-up that hurts / violets the religious norms, should be omitted (not edited / changed) to help keeping this forum out of question..... Regards.
_____________________________________________

My Religion...... my first respect.

e-mela visitor's picture

কাঁদিয়ানির কান্ড !

কাদিয়ানি আখতার আবার ও লেখা নিয়ে হাজির,যার মাথা মুন্ড বুঝা খুবই কঠিন।

JackobRaihan's picture

To E-Mela-Visitor (JR)

Dear EMV
Like I said before on several accounts, this MUHAMMED AKHTER HUSSAIN, never had the courage to answer what I asked him relating to his true identity. However, as you said, let us settled-up that his is a KADIANI.

Regards,
JACKOB RAIHAN

e-mela visitor's picture

Pure Kadiani

Dear Jackob

There is no doubt,of course he is a pure Kadiani by his religious belief and thought.On the other hand,he is a big liar.May Allah hedayet him.Amin.