I got the write-up (below link) from a news paper written by an Army Officer expressing his feelings.........I guees most of you will appreciate his feelings..........
http://www.ittefaq.com/content/2009/04/16/news0060.htm
একজন সামরিক অফিসারের অনুভূতি
লে. কর্নেল কাজী মো. কবিরুল ইসলাম
পরিচালক, আন্তর্জাতিক জনসংযোগ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা সেনানিবাস
ঢাকা সেনানিবাসের পাশেই বনানী কবরস্থান। সেনানিবাসে প্রবেশপথের মতো সেখানে কোন সতর্ক প্রহরী নেই, নেই কোন সামরিক জৌলুস। আর দশটা সাধারণ কবরস্থানের মতোই বিবর্ণ সে পরিবেশে সব সময় বিরাজ করে শান্তিময় পবিত্র এক নীরবতা। কবরস্থান সংলগ্ন রাজপথের চঞ্চল জীবনের ছন্দ সে নীরবতাকে স্পর্শ করে না। হঠাৎ হঠাৎ এ কবরস্থান সামরিক বুটের পদভারে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বিউগলের করুণ সুরে সুনসান সে নীরবতা ভেঙে খান খান হয়ে যায়। স্বজনহারা মানুষের অশ্রু আর বেদনার সরব প্রকাশে চারিদিক ভারি হয়ে উঠে। কবরের সংখ্যা বাড়ে। তারপর আবার নীরব হয়ে যায় সবকিছু। ক্ষণিকের থমকে যাওয়া জীবন অসহনীয় বিয়োগ ব্যথা সাথে নিয়েই আবার নতুন করে পথচলা শুরু করে। এক সময় কবরের উপর শ্রদ্ধাঞ্জলিগুলোও শুকিয়ে ঝরে পড়ে। এই কবরস্থানেই এখন একসাথে অনেকগুলো নতুন কবর। সারিবদ্ধ, সুশৃঙ্খলিত মাটির অসংখ্য নতুন স্তূপের উপর বর্ণিল ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি। অসহনীয় সে দৃশ্য, একে একে গণনা শুরু করি কিন্তু শেষ করা সম্ভব হয় না। এ মাটির নিচেই শায়িত একদল বীর সেনানী, আমাদের সহকর্মী। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে শপথ নিয়েছিলেন, অথচ অযাচিত নৃশংসতায় তাদের সকলের স্থান হয়েছে এখানে, একসাথে। সারিবদ্ধ এ কবরগুলোর তীব্র আকুতি জলপাই রঙের পোশাক আর ভাবগম্ভীর ভাবমূর্তির বৃত্তে অবরুদ্ধ হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আমাদের কঠিন এক প্রশ্নের সম্মুখীন করে। প্রয়োজন নেই তবুও শেকড়ের সন্ধানে প্রবৃত্ত হই।
আমরা বাংলাদেশী। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এদেশের আলো-বাতাসেই আমরা বড় হয়েছি। এ দেশেরই কেউ একজন আমার পিতা, কেউ একজন আমার মা, কিংবা ভাই, বোন আত্মীয়-পরিজন। অন্যসব সাধারণ মানুষের মতো দেশের ক্ষুদ্র সাফল্যে আমরা যেমন আনন্দে উদ্বেলিত হই তেমনি যে কোন দুর্যোগের সময় দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট আর বেদনায় আমাদের চোখ আর্দ্র হয়ে ওঠে। আমাদের রক্তে মিশে আছে এ দেশের মাটির সোঁদা গন্ধ। তারপরও আমরা যেন অন্য সবার চেয়ে আলাদা। এদেশ ও এ সমাজের অংশ হয়েও আমরা যেন অন্য কেউ। যন্ত্রণাবিদ্ধ তীব্র আক্ষেপে ফিরে তাকাই ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে।
মেধা আর সামর্থ্যে অনেক উজ্জ্বল পেশার হাতছানি থাকলেও দেশমাতৃকার প্রয়োজনে প্রাণবিসর্জন দেয়ার আবেদন আমরা অগ্রাহ্য করতে পারিনি। যোগ দিয়েছি সেনাবাহিনীতে। যোগ দিতেই শুনেছি দেশসেবা নয় জীবনে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন আর সামরিক ক্ষমতার বাসনা আমাদের এ পেশা বেছে দিতে উদ্বুদ্ধ করছে। অথচ আমাদের প্রেরণা ছিল সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ-এর মহান আত্মত্যাগের অমরগাঁথা আর দুর্যোগ মুহূর্তে নিজের প্রাণ বিপন্ন করে দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত পর্যন্ত ছুটে চলা জলপাই রঙের পোশাক পরা মানুষগুলোর বলিষ্ঠ পদচারণা। জীবনে প্রতিষ্ঠালাভের মতো জটিল চিন্তাগুলো তখনো আমাদের তরুণ মনকে স্পর্শ করেনি।
বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির দীর্ঘ দুই বৎসরের কঠোর সামরিক শৃঙ্খলা আর উদয়াস্ত পরিশ্রম আমাদের তরুণ মনের এ আবেগকে সুসংহত করেছিল। দেশকে ভালোবাসার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নিজেদের দেশরক্ষার উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছিলাম। হৃদয়ের অন্তঃস্থলে ধারণ করেছিলাম এ দেশের প্রয়োজনেই আমাদের বেঁচে থাকা। প্রশিক্ষণ শেষে শুরু হলো সামরিক জীবনের নির্দিষ্ট গন্ডিতে পথচলা। সকাল থেকে সন্ধ্যা, রাত গড়িয়ে দিন। প্রতি মুহূর্তে দেশকে রক্ষার জন্য জীবন বিসর্জন দিতে প্রস্তুত হওয়া। বন্ধুদের ভ্রƒকুটি আর আত্মীয়-স্বজনের সমীহমাখা দৃষ্টির মাঝে দেশের প্রয়োজনে সর্বাগ্রে নিবেদিত হওয়ার আত্মতৃপ্তি মনকে প্রশান্তি জোগাতো। যে বয়সে টিএসসির মোড়ে অবাধ স্বাধীনতা উপভোগ করার কথা ছিল, যে বয়সে জীবনানন্দ দাশের কবিতা আর নিউটনের জটিল তত্ত্বের চুলচেরা বিশ্লেষণে বিভোর থাকার কথা ছিল সে বয়সেই কঠোর নিয়ন্ত্রিত জীবনে আবদ্ধ থেকে সমরবিদ্যার জটিল তত্ত্ব রপ্ত করতে নিয়োজিত হতে হয়েছিল। সামরিক ব্যক্তিত্ব পরিস্ফুটনের পথ করে দিতে ভাসিয়ে দিতে হয়েছিল নিজস্বতা বলে যা কিছু আছে সব। মুক্ত জানালায় পৃথিবীকে দেখার ইচ্ছেকে গলা টিপে ধরতে হয়েছিল। তারপরেও পরিপাটি পোশাকের নিচে লুকানো মার হাতে প্রথম বেতন তুলে দিতে না পারার তরুণ মনের আবেগ আমরা কাউকে বুঝতে দেইনি। যৎসামান্য বেতনে কোন রকমে সামরিক অফিসারের জন্য নির্দিষ্ট মান রক্ষা হয়। আর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক মা-বাবা ঠিকই বুঝতেন। আর বুঝতেন বলেই হয়তো পাশে এসে দাঁড়াতেন। সক্ষম সন্তান যেখানে বৃদ্ধ মা-বাবার অবলম্বন হয়ে ওঠার কথা, সেখানে মা-বাবাকেই হয়ে উঠতে হতো সন্তানের অবলম্বন। তবুও তাদের গর্বের শেষ নেই। নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তানকে দেশমাতৃকার সেবায় উৎসর্গ করার আত্মতৃপ্তি তাদের মনে প্রশান্তি জোগাতো।
সময় গড়িয়ে চলে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন অভিযানে নিযুক্ত হই। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আধুনিক পরিবেশ থেকে বহুদূরে বন্ধুর পরিবেশে সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় ছোট্ট ক্যাম্পে পড়ে থাকি। দিনরাত ছুটে চলি পাহাড়ের উঁচু-নিচু পথে, পাহাড়ি ঝর্ণার পানিতে তৃষ্ণা মেটাই, অসহায় বিপন্ন মানুষের চারপাশে নিরাপত্তার দেয়াল তুলে নির্ঘুম রাত পার করি। কষ্ট হয় না, কারণ এসব মানুষের ঘামে ভেজা অর্থেই তো আমাদের অন্নের জোগান হয়। কখনো বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে সম্মুখ সমরে শহীদ হওয়া সহকর্মীদের লাশ কাঁধে নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসি। প্রিয়জন হারানোর বেদনা বুকে কষ্ট হয়ে জমে থাকে, চোখ অশ্রুসজল হয় না। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রাণবিসর্জন দেবো বলেই যে শপথ নিয়েছি। যে কোন সময় সন্তান হারানোর আশংকায় উদ্বিগ্ন মা চিঠি লেখেন। সে রকম করে চিঠির উত্তর দেয়ারও সময় হয় না। ছুটিতে গিয়ে মাকে সান্ত¡না দেই, কার এমন শক্তি, মার বুক থেকে আমাকে ছিনিয়ে নেয়, এ দেশটিও যে আমার মা। অথচ মানবাধিকারের নামে স্বার্থান্বেষী মহল যখন আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করে তখন হৃদয়ের রক্তক্ষরণ নিয়ে সামরিক আদর্শকে আশ্রয় করে সামনে এগিয়ে যাই, পথভ্রষ্ট হই না।
কর্তব্যের ডাকেই আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীতে ছুটে যাই। সাময়িক অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যে মন উৎফুল্ল হলেও ভুলি না লাল-সবুজ পতাকা বুকে ধারণ করে আছি। এ পতাকার সম্মানেই অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেই। বুকের লাল রক্তে রঞ্জিত করি অজানা অচেনা ভূমি। ভিন্নভাষী মানুষের শ্রদ্ধাবনতে চোখের সামনে স্বগর্বে পত পত করে লাল-সবুজ পতাকা উড়তে দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। সেই পতাকা মোড়ানো সহকর্মীদের কফিন কাঁধে অনেক ভারি মনে হলেও আমাদের চোখ অশ্রুসজল হয় না। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে এ পতাকার সম্মান রক্ষার এ প্রতিজ্ঞাই তো করেছিলাম। অথচ চরম মূল্যে অর্জিত সে গৌরব যখন ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যবচ্ছেদিত হয়ে ভুলণ্ঠিত হয় তখন খুব কষ্ট হয় কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। সময়ের পরিক্রমায় এক সময় সংসার জীবনে প্রবেশ করি। মা-বাবা চিন্তিত হন কী করে চলবে সংসার? মাস শেষে বেতন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। ব্যাংকের স্বল্প মেয়াদি ঋণে সংসারের টুকিটাকি কেনা হয়। শিশুর প্রয়োজন মেটাতেও ব্যাংকের দ্বারস্ত হতে হয়। ভাই-বোনকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারার লজ্জা তাদের এড়িয়ে চলতে শেখায়। অথচ তারপরও শুনি চকচকে গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াই, সেনানিবাসে প্রাসাদোপম বাড়িতে থাকি, স্বল্পমূল্যের রেশন খাই, বিদেশ মিশন থেকে কাড়ি কাড়ি অর্থ নিয়ে আসি। কে আমাদের সমকক্ষ? হয়তো আমাদের সাথে শুধু আমাদেরই তুলনা করা চলে। অথচ সপ্তাহে মাত্র একদিন ছয় ঘণ্টার জন্য গাড়ি পাই। পুরো সপ্তাহ ধরে কাজগুলো জমিয়ে রাখি, নিদেনপক্ষে যাতায়াতের খরচটুকু তো বাঁচলো।
আমাদের জীবনের অবগুণ্ঠিত এ টানাপোড়েন কর্তব্য পালনে কোনরূপ বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। মৃত্যু সমাগত জেনেও আমাদের পরিবার নিঃসংকোচে বিদায় জানায়। দেশের প্রয়োজনে আমরা ছুটে যাই প্রত্যন্ত এলাকায়। দুর্গত মানুষের পাশে তাদের বাঁচার অবলম্বন হয়ে বলিষ্ঠভাবে দাঁড়াই। আমাদের দেখেই অসহায় মানুষেরা আবার জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা খুঁজে পায়। নিজেদের দিকে তাকাই না, খাওয়া হয়েছে কিনা মনে পড়ে না, পরিবারের কথা ভেবে দেখি না। অথচ অজানা আশংকা বুকে চেপে আমাদের পরিবারগুলো অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকে। কখনো বা ফিরে আসি, কখনো বা সাদা কাফনের কাপড়ে আচ্ছাদিত আমাদের নিথর দেহ ফিরে আসে। এক তোড়া ফুল কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্মানের আনুষ্ঠানিকতার দায় মেটানো হয়। আমরা সে সম্মানটুকু পরমপ্রাপ্তি বিবেচনায় নতুন করে দেশরক্ষায় সংকল্পবদ্ধ হই। এ দায়বদ্ধতা নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বিল্ডিং ধসে পড়া, আগুন, সার ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জিম্মি উদ্ধার, খাদ্য সংকট, জাতীয় নির্বাচন ইত্যাদি এমন কোন কাজ নেই যেখানে আমাদের নিয়োজিত করা হয় না। সব ক্ষেত্রেই দেশের প্রতি বিপুল ভালোবাসা নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি। হয়তো এ ভালোবাসার জন্যই সফল হই। এই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবেই আমরা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের চক্ষুশূল হয়ে উঠি। দেশের বিবেককে যারা ধারণ করে আছেন তাদের প্রতিনিয়ত ক্ষুরধার কথায় আমরা রক্তাক্ত হয়ে উঠি। আমরা যেন ঘৃণ্য এক অপরাধিগোষ্ঠী। মনকে প্রবোধ দেই, দেশকে ভালোবাসা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমরা অপরাধী। ক্ষমতাবানদের রক্তচক্ষুকে ভ্রƒকুটি করে দেশের জন্য কাজ করাটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমরা অপরাধী। কিন্তু এ অপরাধের শাস্তি কতটুকু।
বিডিআর-এ প্রেষণে নিযুক্তি আমাদের চাকরি জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। খণ্ডকালীন এ সময়ে দেশের অরক্ষিত সীমান্তরক্ষায় আমরা জীবনের মূল্য তুচ্ছজ্ঞান করি। অসৎ উপায়ে উপার্জনের প্রলোভনকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ভেবে অনেকের শত্রু হয়ে উঠি। খাদ্য সংকটের সময় দেশের মানুষের মুখে সুলভমূল্যে খাদ্য তুলে দিতে গিয়ে অযাচিতভাবে অভিযুক্ত হই। তারপরও পরিবারকে বঞ্চিত করে দিনরাত পড়ে থাকি অর্পিত দায়িত্ব সুচারুভাবে পালনে। অথচ তার কী নিদারুণ প্রতিদান? ষড়যন্ত্রকারীর কালো হাত আমাদের অর্জনকে নিপুণভাবে রূপান্তরিত করলো ঘাতক বুলেটের লক্ষ্যবস্তুতে। নিরস্ত্র কর্তব্যপ্রাণ ও মেধাবী অফিসারদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো একদল প্রশিক্ষিত খুনী। নিস্তার পেলো না তাদের অসহায় পরিবারগুলো।
অসহায় অফিসারদের তীব্র আকুতি শুনে আমরা ছুটে গেলাম পিলখানায়। সহকর্মীদের বাঁচাতে প্রাণ বিসর্জন দিতেও আমাদের কোনো কুণ্ঠা ছিল না। কিন্তু ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে পিলখানার দেয়ালের এ পাশে আমরা দাঁড়িয়ে থাকলাম। দেয়ালের ওপাশে তখন প্রশিক্ষিত হায়েনারা খুঁজে খুঁজে হত্যা করছে আমাদের প্রিয় সহকর্মীদের। তাদের অন্তিম আর্তনাদ পিলখানার দেয়াল অতিক্রম করেনি কিন্তু তাদের ঘাতক বুলেটের শব্দ আমরা ঠিকই শুনছিলাম। প্রতিটি গুলির শব্দ আমাদের মনে সহস্র আগ্নেয়গিরির তাণ্ডব তৈরি করছিল। থর থর করে কাঁপছিল অস্ত্রধরা হাত। তারপরও আমরা নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমরা চাইনি আমাদের কারণে কোন নিরাপরাধ মার বুক খালি হোক। আমরা চাইনি আমাদের কারণে এ মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব বিপণœ হোক। এ দেশ ও এ দেশের মানুষের দিকে তাকিয়ে আমরা পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়েছিলাম। সে মুখ দেখে বোঝার কোন উপায় ছিল না অন্তঃস্থিত লাভার উদগীরণ। শুধু চোখের কোণ বেয়ে ঝরে পড়া বেদনার অশ্রু চিৎকার করে বলছিল আমরাও মানুষ, বেঁচে থাকার অধিকার আমাদেরও আছে।
পিলখানার দেয়ালের ওপাশে অবধারিত মৃত্যু। এপাশে অবারিত স্বাধীনতা। একদিকে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা অন্যদিকে সহকর্মীদের আর্তনাদ, অদ্ভুত এ বৈপরীত্য মেনে নিয়েই আমরা দুইদিন রাষ্ট্রের প্রতিভূ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। দেশকে ভালোবাসতে গিয়েই আমাদের সহকর্মীদের স্থান হলো নর্দমা আর গণকবরে। আমাদের চোখের সামনে দিয়েই তাঁদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ বের করে নিয়ে আসা হলো। অকুতোভয় সংবাদকর্মী মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে সাক্ষাৎকার ধারণ করলো। কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করলো না আমাদের কী হলো, কোথায় আমাদের পরিবারগুলো। তাদের অসহায় কান্না কাউকে স্পর্শ করলো না। দেশকে ভালোবাসার পরিণাম কী এতোই নির্মম!
রাত কেটে ভোর হলো। সামরিক উর্দির নিচে চাপা পড়ে গেলো সমস্ত আবেগ। শুরু হলো কর্তব্যের টানে ছুটে চলা। আমার কাঁধে বীর সহকর্মীদের গলিত লাশ। সামরিক শৃঙ্খলা বাঁধভাঙ্গা অশ্রুর জোয়ার আর থামাতে পারলো না। জাতীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের সম্মান থামাতে পারেনি অবুঝ শিশুর কান্না। কবরস্থানের নীরবতা ভেঙ্গে স্বজন হারানোর আহাজারি চারদিক ভারি করে তুললো। আমার মনে প্রশ্ন জাগলো, আমরা কী এদেশের সন্তান নই?
আমাদের অস্তিত্বের এ প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়েছি। বনানী কবরস্থানে সারিবদ্ধ এ বীর সেনানীদের সমাধিক্ষেত্রেই আমি খুঁজে পেয়েছি এর উত্তর। কোন এক পড়ন্ত বিকেলে অশীতিপর এক বৃদ্ধাকে প্রতিটি কবরে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল ছড়িয়ে দিতে দেখে অবাক হইনি। ভেবেছি প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা ভুলতে তিনি হয়তো স্নেহের পরশ ছড়িয়ে দিচ্ছেন সবার মাঝে। তবুও আমি তার কাছে গিয়ে সহমর্মিতা জানাতে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তিনি কাকে হারিয়েছেন? তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি এদের সবাইকে হারিয়েছি। এখানে যারা শুয়ে আছে তারা সবাই আমার আত্মার আত্মীয়। এরা সবাই আমার সন্তান। আমি এতোগুলো সন্তানকে একসাথে হারিয়েছি। আমাদের এতোগুলো সন্তান একসাথে চলে গেলো।’ আমি স্তব্ধ হয়ে আমার হৃদয়ের স্পন্দন শুনলাম। তিনি পরম মমতায় কবরগুলোর উপর ফুলের পাঁপড়ি ছড়িয়ে দিতে লাগলেন। আমার চোখের অশ্রু শুকিয়ে এলো। মনের তীব্র আক্ষেপ রূপান্তরিত হলো শক্তিতে। আমার বীর সহকর্মীরাও হয়তো অজানা কোন ভুবন থেকে সম্মানীত বোধ করলেন। আমার মনে হলো এজন্যই হয়তো বেঁচে থাকা। দেশের আপামর জনসাধারণের এ অকুণ্ঠ ভালোবাসাই হয়তো আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্নের সরব উত্তর।
_______________________________________
My Country.......My first choice.


Comments
আবোল তাবোল বললে নাভ হবে না ,মানুষ চালাকি ধরে ফেলছে।
রাজাকারের বেয়াইন,আমাদের চমক প্রধানমন্ত্রী ' মিথ্যাবাদী মন্ত্রীসভা 'র মাধ্যমে মহাজোটের নেতৃত্ব দিতে গিয়া কি মহাজট পাকাচ্ছেন দেশে ?পিলখানা ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্যই BNP কে ব্যস্ত করে রাখা হয়েছে খালেদার বাডি নিয়ে।এই ঘটনা ধামাচাপা দিলে কি ভয়াভহ পরিণতি হবে BAL এর নেতারা কলপনাও করতে পারবেনা কি হবে.| মইন ও হাসিনা এটাই চাইছিলো,কারন পিলখানা হত্যায় মইনও হাসিনার ভুমিকায় মানুষ তাদের সনদেহ করতেছে এবং এতে তারা যে জড়িত এতে কোনো সনদেহ নেই।হাসিনার ঘনিসট ওদলের কিছু লোকের সমপৃকততা সেনা হত্যায় দিবালোকের মত পরিসকার।ওকে ধামা চাপা দেওয়ার লাগিই মইন ও হাসিনা ঐ ইস্যু গোলো তৈরি করতেছে,তবে মানুষ এতো বোকা না,একদিনা এর জবাব ইনশাআললাহ মানুষ দিবে।বিডিআর নামের এত বড় একটা বাহিনীকে যে শেষ করে দিলেন, সেটা কি সাফল্য না ব্যর্থতা? এ হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়াটা শুধুমাত্র হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা নয়, এ যেন অভাগা সেই পুরো জাতিটারই ব্যর্থতা।এ লজ্জা রাখব কোথায়! এ জাতির হয়েছে কি? কেউ কোন প্রতিবাদও করে না। ফজলুল করিম সেলিম ও ফজলে নুর তাপসের সাথে বি ডি আর বিদ্রোহীরা তাদের দাবী দাওয়া ও লিফলেট সহ একাধিকবার দেখা করেছিলো এবং আলাপ আলোচনা করেছিলো। তদেরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি বরাবর আবেদনের পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো। ধৃত বিদ্রোহিরা যখন জবান বন্দি দেয়া শুরু করেছে তখন একযোগে সেলিম তাপস নানকের বিদেশে অবস্থান কি সন্দেহজনক নয়? এটাই হচছে রাজনীতির খেলা। রাজনীতি কখনো এক জাযগায থেমে থাকে না।পুরবের ঘটনা থেকে সরে আসার জন্য রাজনীতিবিদরা নতুন ঘটনার জণম দেয। এটা দোষের কিছু নয,সরকারী দল বিরোধী দল সবাই করে তাই পিলখানার ঘটনা থেকে সরে এসে সরকার খালেদার বাড়ির দিকে জনগনের দৃষটি সরিযে এনেছে।এটা এক ধরনের সরকারী সফলতা।
আওয়ামিদের কাজ ষড়যন্ত্র করার মে কে বে করার,এবার সমম্ভব হল|বিডিআর হত্যাকান্ডের মূল ঘটনার মোড় ঘুরানোর। "মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তে সেনানিবাসের বাড়ি খালেদা জিয়া থেকে কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে| ইতিমধ্যে সরকার বিডিআর বিদ্রোহের তদন্তকে ভিন্ন খাতে অথবা প্রকাশিতব্য আশু তদন্ত রিপোর্টকে আমাদের মনের সাথে অভিযোজিত করার কৌশল হিসেবে, অত্যন্ত সংকীর্ণ মানসিকতা থেকেই কেবলমাত্র এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া |মইন,হাসিনা কিলারদের লগে আলোচনা করছে,অফিসারদের মারতে সাহায্য করছে,অফিসারদের পরিবারদের রেপ করতে হেলপ করছে,সবশেষে কিলারদের পালাতে সাহায্য করছে।েখন এ সব আবোল তাবোল বললে নাভ হবে না ,মানুষ চালাকি ধরে ফেলছে।
গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা!!!!
থুথু মারি এই গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতায় যা আমাদের শত শত দেশপ্রেমিক সৈনিকের জীবন কেড়ে নেয়। থুথু মারি সেনাপ্রধানের মুখে যে জেনেশুনেও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার দোহাই দেয়। যেখানে স্পষ্ট সরকারী দল এই হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে, সেখানে এই দায়বদ্ধতার মূল্য দেয়াটাই একটা কাপুরুষতার সামিল। নিজের সামনে নিজের সন্তানতূল্য অফিসাররা জীবন দিচ্ছে আর সেনাপ্রধান গনতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা দেখাচ্ছেন!আর বর্তমানে কোন দায়বদ্ধতার কারনে উনি নিশ্চুপ হয়ে হত্যাকারীদের তামাশা দেখছেন?
তাদের অন্তিম আর্তনাদ পিলখানার দেয়াল অতিক্রম করেনি
তাদের অন্তিম আর্তনাদ পিলখানার দেয়াল অতিক্রম করেনি কিন্তু তাদের ঘাতক বুলেটের শব্দ আমরা ঠিকই শুনছিলাম। ...আর বাংগালী হাসিনা-সাহারা খুনীদের সাথে মিটিং সিটিং করার সাফল্যের ধবনি চারিদিকে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে ...
Save Bangladesh: No more farakka
armyr deshprm rajnitibidder jonno hushiyari
politician like to use thier emotion not patriasm