বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বি এন পিতে গনতন্ত্র চর্চা হয় কি হয় না সেটাকে নিয়ে বিতর্ক করবার আর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।বাংলাদেশের বড় দলগুলোতে যে কোন গনতন্ত্র নাই সেটা একটা উন্মাদও বুঝতে পারে।বি এন পি গত ২৯ তারিখের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। এটা বি এন পির জন্য অপ্রিয় সত্য হলেও করার কিছু নাই।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভিতরে গনতন্ত্রের চর্চায় দেশের গনতান্ত্রিক আবহকে নিশ্চিত করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে গনতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে যে দলটি একটি গনতান্ত্রিক এবং জনগনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মধ্য থেকে গড়ে উঠে তার পিছনে বেগম খালেদার জিয়ার ভূমিকাই প্রধান।এই জন্য তাকে গনতন্ত্রের মানসকন্যা,গনতন্ত্রের পক্ষে আপোসহীন নেত্রী হিসাবে সবাই মূল্যায়ন করে থাকে।একটি দেশ যেমন চলমান ঠিক তেমনি একটি দলোকেও সেই হিসাবে চলমান হওয়া জরুরী।নবইয়ের গনতান্ত্রিক আন্দোলনের বি এন পি আর আজকের বি এন পির মধ্য মিল খুজে ফেরা হবে চরম ভুল।
আজকে সমাজ সভ্য ,অনেক পালটে গেছে সেই সাথে তথ্য প্রযুক্তির হাত ধরে জনগন নিমেষেই আধুনিক পৃথিবী এবং নানান সমাজের মানবাধিকার বিকাশ দেখতে পারছে। আমাদের বাংলাদেশের জনগনের বয়স ভেদে মানসিক চাহিদা,কল্পনা এবং আদর্শিক ভাবনা এখন একেক রকম হয়ে গেছে।তরুনদের ক্ষেত্রে তাদের সমসাময়িক চাহিদাগুলোকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে কোন কিছুর বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য তাদের কাছে মূখ্য হয়ে থাকে। আমি এভাবে বিষয়টাকে বলতে পারি যে একজন তরুন সব সময় এমন একজনের কথা শুনতে চায় যার পোশাকে- আশাকে,কথায়,চেহারায় এবং আচরনে এক ধরনের পরিচ্ছন্নতা আছে।অপরদিকে একটু মাঝ বয়সিরা পছন্দ করে থাকে যাদের অভিজ্ঞতা আছে এবং যুক্তিবাদি কিনা তাদেরকে। এখনকার শহুরে সমাজের তরুনেরা চে গুয়েভারা টাইপের মানুষ খোজে যার কথার ভাঁজে ভাঁজে এক ধরনের মিষ্টতা ,ভদ্রতা এবং ব্যক্তিত্ব্য আছে। শিক্ষিত মানুষের মত কথা বলে। আমার ধারনা এই ধরনের মানুষের অভাব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দলের মধ্যে কম নেই। এই ধরনের পরিচ্ছন্ন মানুষদের দিয়ে বি এন পি ভরে ফেলালে এই দলের বৈশিষ্ট্য অন্য মাত্রিকতায় স্থান পাবে। তরুন দের মধ্যে জহিরুদ্দিন স্বপন, এ্যানি এছাড়া আব্দুল্লাহ আল নোমান,মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির,হাফিজউদ্দিন,আমির খসরু মাহামুদ চৌধুরী প্রমুখ এই ধরনের ভদ্রলোকদের মত যারা কথা বলতে পারে তাদের প্রতি বি এন পির উচ্চ পর্যায়ে এক ধরনের ট্যালেন্ট হান্ট করা উচিত।শুধুমাত্র দলের মোসাহিবির কারনে একজন ব্যক্তিত্বহীন কিংবা যার কথায় কোন পরিচ্ছন্নতা নেই তাদেরকে মিডিয়া ফোকাসে না আনাই ভালো।
আশির দশকে বি এন পি ছেড়ে ওবায়দুর রহমান সহ অনেকে বি এন পি ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।পরবর্তিতে তিনি সহ আরো অনেকে বি এন পি তে ফিরে আসে।এই রকম ভাবে বি এন পি থেকে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে শুধু মাত্র রাজনৈতিক অবহেলার কারনে।বি এন পি র এক সময়ের অন্যতম মন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজের ছেলে এই বার আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করছে।এই ধরনের ঘটনা ঘটবে কেনো ।দল অনেকটা দেশের ছোট মোডেল সংস্করন এখানে সবাইকে মানিয়ে নেবার বা ধারন করবার এক ধরনের ক্ষমতা থাকতে হবে।কেউ কেউ বঞ্চিত হবে এটা ঠিক কিন্তু এটা বঞ্চনাতে যাতে পরিণত না হয় সেটার দিকে খেয়াল রাখা জরুরী ছিলো।কর্নেল অলি চলে গেলো এর কারন হয়তো এমন ছিলো যে সে বেগম জিয়ার সাথে কো-অপারেট করছিলো না।কিন্তু আওয়ামী লীগে আব্দুর রাজ্জাক সহ অনেকে হাসিনার বিরুদ্ধে আশির দশকে বাজে ভাবে কথা বলেও বহাল তবিয়তে দলটিতে অবস্থান করছে।অন্যদিকে বর্তমানে আব্দুল জলিল যেভাবে কথা বলছে তাতে তাকে দল থেকে কেনো দেশ ছাড়া কেনো করছে না আওয়ামী লীগ সেটা কিন্তু চিন্তার বিষয়।বি চৌধুরি চলে গেলো।জনাব বি চৌধুরীকে পারিবারিকভাবে “এনটি আওয়ামী লীগ “ এই ব্যপারে অনুশীলন ছিলো।কিন্তু মাহি বি চৌধুরির মামা বাড়ির প্রভাব হয়তো তার রাজনৈতিক জীবনে প্রভাব এনে দিয়েছিলো।সেই কারনে তিনি এমনভাবে নিরপেক্ষতা দেখাতে থাকলেন যে তিনি ভুলে গেলেন বাংলাদেশে একজন প্রধান মন্ত্রী আছেন এবং সেই প্রধান মন্ত্রী অসুস্থতার চিকিতসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন এবং নিরপেক্ষতা দেখাতে গিয়ে তিনি ততকালীন প্রধানমন্ত্রী কেমন আছেন সেটা জিজ্ঞেস করতেও ভুলে গেছেন। এই বিষয়টা সহ্য করবার ক্ষমতা বেগম জিয়ার ভিতরে ছিলো না।তবুও তিনি উদারতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
কিন্তু বি চৌধুরি যদি প্রেসিডেন্ট হিসাবে থাকতেন তাহলে কি এই ইয়াজউদ্দিনের মত ঘটনা টি ঘটাতেন?আমার মনে হয় না।তাকে কৌশলে সামলে নেয়া যেতো।আর এটাইতো পলিটিক্স।অন্যদিকে মান্নান ভূইয়াকে বিতারন তার কর্মের ফল হিসাবে দেখা হলেও এটা ভবিষতে তার কর্মের ফল হিসাবে থাকবে না সেটা হয়ে যাবে এক ধরনের রাজনৈতিক হিসাব।মান্নান ভূইয়াকে কোনভাবে বি এন পিতে নিয়ে এসে নির্বাচন করলে অনেকে মনে করেন বি এন পি ৫ শতাংশ ভোট বেশি পেতো।দলের ভিতরে মানসিক বিভাজন সাধারন ভোটারদেরকে এক ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়।মান্নান ভূইয়ার অনেক দোষ থাকতে পারে কিংবা ভুল থাকতে পারে যেমন সাকা চৌধুরি একবার খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল -কুত্তা তার লেজ নাড়ায় নাকি লেজ কুত্তারে নাড়ায়।সেতো এখন বহাল তবিয়তে বি এন পিতে রাজ করছে।
বি এন পিতে দলীয় বিশৃঙ্খলা নেই বলে এটা আড়াল করবার চেস্টা থাকলেও এটা আসলে সার্ভৈব মিথ্যা কথা।এই বিশৃংখলতাকে কাজে লাগিয়ে বি এন পির মধ্যে ফাটল ধরানোর জন্য সরকারের নানা মহল সব সময় চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে।অন্য দিকে মান্নান ভূইয়ার নতুন দল গঠন এই সন্দেহের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।একটা কথা মনে রাখা দরকার সেটা হলো যে মান্নান ভূইয়া শুধুমাত্র একজন মান্নান ভুইয়া না তার অবস্থান অনেকের কাছে একটা আদর্শিক অবস্থান হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।এমনও হতে পারে ছাত্র দলের এই পাকা কাঠাল মার্কা কমিটির প্রতি অনস্থা এনে মান্নান ভুইয়ার নতুন ঘোষিত দলের ছাত্র ফন্টে যোগদান করবে।এই সম্ভাবনা একে বাড়েই উড়িয়ে দেয়া যায় না।মনে রাখতে হবে যারা বি এন পির রাজনীতি না করলেও অনেকে আছে যে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোন দিনই করবে না।সেই ক্ষেত্রে এক ধরনের অল্টারনেটিভ রাজনৈতিক প্লাট ফর্ম তৈরি হলে সেটা বি এন পি কে আবার চরম মূল্য দিতে হতে পারে।
