বাজেট প্রণয়নও যে একটা দেশে এতবড় রাজনৈতিক ঘটনা হতে পারে বাংলাদেশকে না দেখলে তা বিশ্বাষ করা কঠিন। বাজেটে কোন আইটেমের উপর কর বাড়ছে কোনটার উপর কমছে এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করায় গাড়ি, মোবাইল ফোন সহ অনেক পন্য নিয়ে যে তোঘলকি কারবার হয়ে গেল তাকে রাষ্ট্রীয় লুটপাট ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে? পৃথিবীর সব দেশেই বাজেট প্রণয়ন একটি স্বীকৃত শাষনতান্ত্রিক সাংস্কৃতি যা ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচী অর্থনৈতিক ভাষায় রূপান্তর করার মাধ্যাম হিসাবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। কিন্তূ বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়ন এর বাইরেও এমন একটি রাজনৈতিক ইস্যু যাতে রাজনৈতিক দলের সস্পৃকতা ছাড়াও দলীয় প্ল্যাটফর্মে বিভক্ত অর্থনীতিবিদ এবং বুদ্বিজীবিদের জটিল সব বিশ্লেষনের পার্ফেক্ট পটভূমি।
আসন বন্টন সংক্রান্ত অভিনব অজুহাতে বিরোধীদল সংসদ বর্জন অব্যাহত রেখেছে, পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেত্রীর ডানে-বায়ে কোন নেতার আসন হবে এ নিয়ে চলছে দলীয় কোন্দল। কর্মসূচীহীন বিরোধীদল বাজেটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে এ নিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শত শত পৃষ্টার বাজেট প্রকাশের আধাঘন্টার মধ্যেই বিএনপি হরেক রকম পোষ্টার ফেষ্টুন নিয়ে রাস্তায় নেমে গেল কথিত গরীব মারার বাজেটের বিরুদ্বে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের জন্যে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল একই কায়দায় রং বেরং’এর শ্লোগান নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ল কথিত বৈপ্লবিক বাজেট প্রণয়নের জন্য। মিছিল এবং পাল্টা মিছিলে তোলপাড় হচ্ছে বাংলাদেশ, যদিও একটা জিনিষ পরিস্কার নয়, প্রতিবাদ এবং উল্লাশে ফেটেপরা ক’টা মানুষ অর্থনৈতিক ভাষায় প্রণিত বাজেটের সারমর্ম বুজতে পেরেছে! কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এটাই বাজেটের মূল বিষয় নয়, সাথে রয়েছে কর আদায় পূর্বক আভ্যন্তরিন পূজি সংগ্রহ, বিদেশী সাহায্যের নিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি, জিডিপি, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব সহ এমন অনেক জটিল ফ্যাক্টর। আমরা কি ধরে নেব বাংলাদেশে দলীয় প্লাটফর্মের উপর দাড়িয়ে যারা বাজেটকে সমালোচনা এবং অভিনন্দন জানানো হচ্ছে তারা সবাই আধাঘন্টার ভেতর শত পৃষ্টার বাজেটের সবকিছু বুঝে নিয়েছে? এমনটা হয়ে থাকলে বুঝতে হবে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক জ্ঞানের নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে যা আধূনিক বিশ্বে বিরল।
বাজেট সরকারী দলের রাজনৈতিক চুরি চামারির অন্যতম নীলনক্সা যার উপর ভিত্তি করে মঞ্চস্থ হয় কোটি টাকার নির্বাচনী নাটক। সরকারী দলের উল্লাস সে লক্ষ্যে পৌছানোর সাফল্যেরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ মূলত সরকারী খাজাঞ্জীখানা হাতছাড়া হওয়ার বেদানাদায়ক কান্না।
পুনশ্চঃ মাও সে তুং'এর সেই বিখ্যাত উক্তি তার নিজে দেশের বেলায় তামাদি হয়ে গেলেও বাংলাদেশের জন্য এখনও তা প্রযোজ্যঃ পূজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় সংসদ হচ্ছে শুয়রের খোয়াড় এবং তার প্রতিনিধিরা হচ্ছে মোটা তাজা শুয়র।


Comments
ভুমিঃ একটু সংশোধন
বাস্তবে
ভিজা খড়ের গাদা = সচেতন মানুষ, হুট করে জ্বলে উঠে না।
শুকনা খড়ের গাদা = অচেতন মানুষ, বারুদের মত একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গতেই জ্বলে উঠে।
এই ভিজা খড়ের গাদারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহা চালাক/সুবাধাবাদি, যেকোন প্রয়োজনে শুকনা খড়ের গাদার এক কোনে একটু আগুন দিয়ে দেয়।
vumi, budget can be published before implementation, legal
sorry vumi, nothing wrong here. Did not US people buy lots of thins before price or tax go up?
pre budget market activies take place everywhere, in a poor country, it is too much evident, thats it.
matin: How many % of BD people understand budget?
matin, budgeting is not a confidential process, budget info are available years before, it is open. Lets say, auto dealers found tax increase coming in the future, they can use it, buyer can use it, it is legal to publish budgeting principles earlier.
How many % of BD people understand budget?
Muhith budget has problem that is is a kindof maintenance job,not a dev budget; we are poor, we need jobs, this budget will not create jobs meetin the demands. Muhith, Saifur, Kibria had this problem always. They are clerks, not developers.
মাল মুহিতের বাজেট
বাজেটের আগেই তথ্য ফাস করে দিয়ে বিদেশের সেমিনারে গিয়েছিলেন মাল মুহিত, এই হলো আওয়ামী ফাজলামী। তথ্য ফাসের জন্য আওয়ামী নেতা এবার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কত বাগিয়েছে কে জানে?
তবে ব্যবসায়ীরা প্রথম এক মাসেই তাদের ডাবল লাভ তুলে নিবে।
হের জন্যই কিন্তু ব্যবসায়ীরা মহাখুশী। ফুলের মালা নিয়ে মাল মুহিতকে স্বাগতম জানানোর জন্য প্রস্তুত।
আর আওয়ামী আদশবাদীরা তো খুশিতে আগেই রাস্তায় নেমেছে।
মন্তব্য, ৩৪ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রেখে বাজেট ঘোষনায় মনে হয়েছে যেন বানং্লাদেশের জনগন মুখ, বাজেট বুঝে না।
আমাদের বাজেট
প্রাক বাজেট আলোচনায় মুহিত সাহেব কোন কোন আইটেমের উপর নতুন কর আরোপ করতে যাচ্ছেন
তা' সবই বলে দিয়েছেন এবং বাজেট ঘোষনার আগেই বাজারে এর প্রভাব পড়েছে এবং সাধারন মানুষকেতার খেসারত দিতে হচ্ছে । গূড়ো দুধ থেকে গাড়ী সবই বাজার থেকে উধাও । ১৫ দিনে ঢাকায় তিন হাজার গাড়ী বিক্রী ( আমিও সুযোগ নিয়েছি ) হয়েছে এবংবাজেটের ৩ দিন আগে গাড়ী সব উধাও
অরথাত শো রুমে গাড়ী আছে কিন্তু কিনতে গেলে ডিলার বলে সব বিক্রি হয়ে গেছে এবং চট্রগ্রাম
বন্দরে মাএ পাঁচ ঘন্টায় ( বাজেটের আগের দিন ) ১৮০০+ গাড়ী আগের হিসাবে আনলোড হয়েছে ।
মহল্লার কোন দোকানে দূধ নাই , প্যাকেটজাত বিস্কুট নাই । বাজেট সরকারী দলের কাছে মহাউতসব
এবং বাই ডিফলট বিরোধী দল রিফিউজ করবেই এবং এটাই আমাদের বাজেট কালচার ।
মাওয়ের আর একটি কথা অচল হয়ে গেছে । উনি বলেছেন একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ব্রিহত অগ্নিকান্ডের
স্রিষ্টি করতে পারে । কিন্তু উনি বলে জাননি সেটা ভিজা খড়ের গাদায় (অচেতন মানুষ ) নাকি শুকনা
খড়ের ( সচেতন মানুষ ) গাদায় ।
(বানান বিভ্রাটের জন্য মাফ করবেন )