'পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা নয়, দায়ী স্বার্থান্বেষী মহল'
সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা ভাংচুর এবং আগুন দেওয়ার জন্য শ্রমিকরা দায়ী নয় দাবি করে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের একটি সংগঠন বলেছে, ঝুট ব্যবসায়ীসহ 'স্বার্থান্বেষী' মহল ওই কাজ করেছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম।
রাজধানীর তোপখানা রোডে সংগঠনের কার্যালয়ে ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, "শ্রমিকরা দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এলে ঝুট ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল আগুন লাগিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চালায়।"
২৭ জুন সাভারের আশুলিয়ায় একটি কারখানায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ওপর আনসারের গুলিতে একজন নিহত হয়। এর জের ধরে পরের দুই দিন আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ হয়। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও এক শ্রমিক নিহত হয়। সংঘর্ষের সময় হা-মীম গ্র"পের কারখানায় আগুন এবং বহু কারখানা ভাংচুর হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শ্রমিক নিহত হওয়ার নিন্দা জানিয়ে মোশরেফা বলেন, "এ হত্যাকাণ্ডের দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। আমরা শ্রমিক হত্যাকারী মালিক, আনসার ও পুলিশের গ্রেপ্তার এবং বিচার দাবি করছি।"
পোশাক খাতে অসন্তোষ নিয়ে সরকারের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, "৪ হাজার গার্মেন্টস মালিকদের নিয়ে সরকার খুবই চিন্তিত। কিন্তু আমরা জানতে চাই, ২৫ লাখ শ্রমিকের নিরাপত্তার জন্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে বা নিচ্ছে।"
পোশাক শিল্পের নিরাপত্তার জন্য শিল্প পুলিশ গঠনের বিরোধিতা করে এই শ্রমিক নেত্রী বলেন, "শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার বাস্তবায়ন না করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করার অর্থ হলো, শ্রমিকদের ক্ষোভ যখন আন্দোলনে রূপ নেবে তখন তা শক্ত হাতে দমন করা।"
মোশরেফা মিশু পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিক সংগঠনের কাজ করার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেন,
তাই আন্দোলনের ধরন পাল্টাতে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার থাকলে বর্তমান শ্রমিক আন্দোলনের চরিত্রও পাল্টে যাবে। শ্রমিকরা কারখানার ভেতরেই মালিকপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষি করে দাবি-দাওয়া আদায় করবে। ফলে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ হবে না।"
বিক্ষোভের সময় অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমের খবরে হা-মীম গ্র"পের কারখানায় আগুন দেওয়ার জন্য শ্রমিকদের দায়ী করা হলেও ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, কারখানার শ্রমিকরা আগুন ধরায়নি। বাইরের লোক রামদা ও পেট্রোল নিয়ে এসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ করার জন্য সরকারের ভেতরেরই একটি গোষ্ঠী এটা করেছে।

