গত পাঁচ দিন পার হলেও অনেক এলাকায় এখনও কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি। ডায়রিয়া মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ডায়রিয়ায় এ পর্যন্ত চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্য বিভাগ তা নিশ্চিত করেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় আইলার আঘাতে নিহত আরো ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ নিয়ে এ পর্যন্ত আইলার আঘাতে নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসেবে ৫৭ জন। আইলা বিধ্বস্ত এলাকায় গত ৫ দিন ধরে কোন ত্রাণ সামগ্রী না পেয়ে দুর্গত মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। যাদের যাওয়ার কোন জায়গা নেই কেবল তারাই জীবন বাজি রেখে এলাকায় পড়ে আছে। আশ্রয় কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে অনেকে খোলা আকাশের নিচে বাঁধের ওপর পড়ে আছে।
নদী ও জনবসতি এলাকা জোয়ারভাটার পানিতে একাকার হয়ে গেছে। পানিতে এখনও মানুষ ও গবাদি পশুর লাশ ভেসে আসছে। দুর্গন্ধে এলাকা ভারি হয়ে উঠছে। পানি, শিশুখাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রীর অভাবে অনেকে গত ৫ দিন ধরে না খেয়ে আছে। গো-খাদ্য সংকটে দুর্গত মানুষ তাদের গবাদি পশু পানির দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। ভেড়িবাঁধের ওপর রাখা গবাদি পশু চুরি হয়ে যাচ্ছে।
দুর্গত এলাকায় চুরি ডাকাতির ঘটনা আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। ট্রলারে ডাকাত দল এসে দুর্গতদের শেষ সম্বলটুকু অবাধে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আইলার বিধ্বস্ত সাতক্ষীরাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, ভূমিহীন সমিতিসহ বিভিন্ন এনজিও।
শুক্রবার দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখা যায় শ্যামনগরের গাবুবার খলিশাবুনিয়া, বুড়িগোয়ালিনীর কিছু এলাকা, পদ্মপুকুর, নাপিতখালির কিছু এলাকা, মীরগাং, কালিঞ্চিদ্বীপসহ প্রত্যন্ত দুর্গত এলাকায় গতকাল পর্যন্ত কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি। এসব জায়গায় পানি, খাদ্যসহ শিশু খাদ্যের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রায় ৪০০ জন ডায়রিয়া আক্রান্তের কথা স্বীকার করা হলেও বেসরকারি হিসেবে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। দুর্গত এলাকার মানুষ অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪৭ কি.মি. বাঁধ মেরামতের দাবি জানান। খলিসাবুনিয়া, বুড়িগোয়ালিনী, দাঁতনেখালি, জেলেখালিসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্গত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে। তাদের কথা এ বাঁধ নির্মাণ না হলে তারা এলাকায় বসবাস করতে পারবে না।

