১২ নাম্বার ‘দেবদাস’-এর মহরত ‘আমি চাষীকে খুব হিংসা করছি। চাষী দু’বার ‘দেবদাস’ বানাচ্ছে। অথচ আমি দু’বার দেবদাস হতে পারছি না’- বুলবুল আহমেদের কথা শেষ হতে না হতেই করতালিতে ফেটে পড়লো উপস্খিত সবাই। গতকাল হোটেল শেরাটনের উইন্টার গার্ডেনে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত রঙিন ‘দেবদাস’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে ‘আদি দেবদাস’ বুলবুল আহমেদের উপস্খিতিই ছিল একমাত্র চমক। অসুস্খ বুলবুল আহমেদকে দেখে উপস্খিত অনেকেই কৌতূহলী হয়ে একে ওকে জিজ্ঞেস করছিলেন সাদাকালো ‘দেবদাস’-ছবিতে পার্বতী চরিত্রে রূপদানকারী কবরী এবং চন্দন্সমুখী চরিত্রে রূপদানকারী আনোয়ারা এসেছেন কি-না। এই দু’জন তারকাকে উপস্খিত করতে পারলে মহরত অনুষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতো বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ১টায়। মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ারও আধ ঘন্টা আগে ধূতি-পাঞ্জাবি পরে উপস্খিত হোন ‘দেবদাস’ শাকিব খান। তখনো আমন্ত্রিত অতিথিদের সবাই এসে পৌঁছাননি। কিছুক্ষণ পরেই শাড়ি পরে আসেন পার্বতী-রূপী অপু বিশবাস। ততক্ষণে চলে এসেছেন চুনিলাল চরিত্রের শহিদুজ্জামান সেলিম। অপেক্ষা কেবল ‘চন্দন্সমুখী’ মৌসুমী’র জন্য। অপু মাহফুজের উপস্খাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যবস্খাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। সুস্খধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে ইমপ্রেস-এর ভূমিকার কথা সôরণ করে তিনি জানান, নির্মিতব্য ‘দেবদাস’ হতে যাচ্ছে দেবদাসকে নিয়ে ১২ নাম্বার ছবি। একই সঙ্গে তিনি এও জানান, ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ৫০তম ছবি ‘দেবদাস’। ফরিদুর রেজা সাগরের পর বক্তব্য রাখেন চাষী নজরুল ইসলাম। এরপর গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে ‘দেবদাস’ ছবির মূল তিন অভিনয় শিল্পী শাকিব খান, অপু বিশবাস ও শহিদুজ্জামান সেলিমকে অভিবাদন জানানো হয়। এ পর্যায়ে মঞ্চে উঠিয়ে আনা হয় বুলবুল আহমেদকে। তার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন শাকিব, অপু ও সেলিম। এই তিন শিল্পী ‘দেবদাস’-এ তাদের অন্তর্ভূক্তির নেপথ্য গল্প শোনান এবং সকলের আশীর্বাদ চান। মহরতে ক্ল্যাপস্টিক দেন চাষী নজরুল ইসলাম ও ফরিদুর রেজা সাগর। অনুষ্ঠান শেষে যখন মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন চলছে তখন উপস্খিত হোন মৌসুমী। উপস্খিত সবার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কানাঘুষা চলে মৌসুমীর মতো সিনিয়র শিল্পীর সময়-জ্ঞান নিয়ে। এছাড়া পুরো অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য কোনো তারকার অনুপস্খিতিও সবাইকে পীড়া দিয়েছে।
