
২০০৮ সালের প্রায় শেষপ্রান্তে দাড়িয়ে আমরা। একটি দীর্ঘ পথ পরিক্রমার শেষে এসে একটি শুভ দিনের হাতছানি। এমন একটি মুহুর্তে হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা নিংড়ে ধন্যবাদ জানাই আমাদের সকল পাঠক এবং সহযোগীদের। বিশেষ করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিতে যারা আমাদেরকে ফলাফল প্রস্তুত এবং প্রকাশ করতে সহায়তা দিয়েছেন। কিছু নাম না বললে অকৃতজ্ঞার চূড়ান্ত হবে। প্রথমেই প্রাণঢালা ধন্যবাদ আমাদের শুভাকাঙ্খি 'ওয়ান-ইলেভেন' সাহেবকে। মূলত তার ঐকান্তিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে গিয়েই আমরা নির্বাচনের ফলাফল লাইভ প্রকাশ করার কথা চিন্তা শুরু করি। আমাদের তেমন কোন লোকবল নেই; তবুও নিজেরা নিজেরা মিলে যে এমন একটি বড় কাজ করে ফেলা যাবে, সেটা আমরা প্রথম বুঝে উঠতে পারিনি। আমরা ভেবেছিলাম, সকল টিভি চ্যানেলগুলো এই ফলাফল প্রচার করবে। আমাদের অনলাইন পাঠকরাও সেই তথ্য পেয়ে যাবেন। কিন্তু ফলাফল প্রকাশ যখন শুরু হলো, তখন বুঝতে পারলাম, এই কাজটি করার সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল। 'ওয়ান-ইলেভেন'-কে আবারো ধন্যবাদ, আমাদেরকে এমন একটি কাজে উৎসাহিত করার জন্য। কারো জীবনে এমন বন্ধু থাকলে তার জীবন কতটা কর্মময় এবং অর্থবহ হতে পারে, সেটা বুঝতে আমার কষ্ট হয়নি। এর সাথে যুক্ত হয়েছিলেন সুইজারল্যন্ড থেকে 'হাসান-ইমাম' সাহেব; আর বাংলাদেশ থেকে 'ওয়াচডগ'। তিনি সম্প্রতি ঢাকায় বেড়াতে গিয়েছেন। সেটা থেকে তিনি আমাদের জন্য সময় বের করেছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।
আরো কিছু মানুষকে ধন্যবাদ দিতেই হবে। তার ভেতর প্রথমেই হলেন, সতীর্থ এবং বর্তমানে 'ইয়াহু'-র গবেষক কামরুল ইসলাম। তিনি বিগত তিন বছরের তথ্য উপাত্ত এবং সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীদের উপর অনেক গবেষণা করেছেন; এবং আমাদেরকে সেই তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। পুরো ৩০০ সীটের প্রার্থীদের নাম, প্রফাইল, ব্যাকগ্রাউন্ড - সবকিছু তার নখদর্পনে। পুরো ফলাফলটি বিভিন্ন সোর্স থেকে সংগ্রহ করার পর মূলত তিনিই কম্পাইল করেছেন। আমাদের সহযোগিতা করার জন্য তিনি তার কর্মস্থল থেকে ছুটিও নিয়েছিলেন এবং সারাটা রাত জেগে ছিলেন। তার মতো একজন দেশপ্রেমিক গবেষককে সাথে পেয়ে আমরা গর্ব অনুভব করেছি। আপনরা শুনলে হয়তো বিশ্বাস করবেন না যে, যখন ফলাফল আসতে শুরু করলো, তার ত্রিশ মিনিটের ভেতরই আমরা নিজেরা বুঝে ফেলেছিলাম যে, এটা মহাজোটের জন্য ল্যান্ডস্লাইড বিজয় হতে যাচ্ছে।
কামরুল ভাই এবং তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সহপাঠী এবং ইন্টেলের প্রকৌশলী গোলাম রসুল চমন এবং তার পরিবারের কাছে। ধন্যবাদ আরেক সহপাঠী এবং বর্তমানে ল্যাটিস সেমিকন্ডাকটরের প্রকৌশলী বাসমা সাহাদাতকে। ঢাকা থেকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য শিশির এবং সৌমিত্রকে ধন্যবাদ।
সবশেষে ধন্যবাদ জানাই প্রায় দেড়শতাধিক অনলাইন পাঠককে যারা চ্যাটে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন; তার সাথে প্রায় বাইশ হাজার ইউনিক ব্যবহারকারীকে যারা ওই দিন আমাদের সার্ভারে হিট করেছেন। আমাদের প্রতি ভালোবাসা এবং সমর্থন জানানোর জন্য আপনাদের সবাইকে নিভের্জাল ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এই প্রসঙ্গে আরো দুটো কথা বলে শেষ করছি। আমাদেরকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হয়েছে। আমরা সেই চাপে নতি স্বীকার করিনি। তবে, বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা বিভিন্ন দল ও মতের সমর্থন দিয়ে থাকি। সেটা আমাদের কাজ বলেও আমরা মনে করি। আমরা আমাদের সেই কাজটি করে যাবো, সেই অঙ্গীকার আবারো করছি। তাই বলে আমরা কেউ ফেরাস্তা নই; কিংবা আমাদের কাছে সবসময় পুরো ছবিটি হয়তো থাকে না। আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নেই তখনকার উপরপ্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে। আংশিক তথ্য আমাদেরকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু আমাদের সমস্ত সিদ্ধান্তই সবসময় বাংলাদেশের মঙ্গল এবং শুভকামনাকে ঘিরেই বিস্তৃত। আপনাদের সুস্থ্য এবং গঠনমূলক সাজেশন আমরা সবসমই কর্মপন্থায় রাখবো।

যে কথাটি দিয়ে শুরু করেছিলাম - একটি বছরের শেষ; তার অর্থই হলো, আরেকটি বছরের শুরু। নতুন দিন, নতুন চিন্তা, নতুন পরিকল্পনা, নতুন সম্ভাবনা। আমাদের সবার জীবনে ২০০৯ সাল অপার সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসুক, এই শুভ কামনা থাকলো সবার জন্য। আমরা সবাই মিলে যদি কোনো কিছু চেষ্টা করি, তাহলে সেটা একটি সুন্দর ফলাফল বয়ে আনতে পারে, সেই বিশ্বাস যেন সবার ভেতর প্রোথিত হয়। [উপরের কক্সবাজারের ছবিটি দেখুন, মনটা নিশ্চই ভালো হয়ে যাবে। একটি দেশ কত সুন্দর হতে পারে, তাই না!]
আমরা সবাই নিজস্ব কাজে আবারো ব্যস্ত হয়ে পড়বো। সেই শত ব্যস্ততার মাঝেও, আমরা যেন ভুলে না যাই, পনেরো কোটি মানুষের খুব ক্ষুদ্র একটি অংশ আমরা, যারা খুব প্রিভিলেজড। আমাদের দ্বারা সেই পনেরো কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে শোষিত হয়েছে। পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের সম্পদ সমান বন্টন হলে, আমরা হয়তো আজকে অনেকেই এই প্রিভিলেজড অবস্থায় থাকতে পারতাম না। আমরা নিজেদরকে সেল্ফ-মেড সার্থক মানুষ ভাবতে পছন্দ করি ঠিকই। কিন্তু এর পেছনে অনেক মানুষের সেক্রিফাইস আছে। সেটাকে যেন আমরা ভুলে না যাই।
সবার মঙ্গল হোক।


Comments
বংগোপসাগর
বংগোপসাগরের জলরাশি এবং আকাশের সীমানায় অস্তায়মান সূর্য দেখে মনে পড়ে গেল ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাত্র এক সপ্তাহ পরে কলেজের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী মিলে কক্সবাজার,হিমছড়িতে ট্যূর-এর স্মৃতি।অস্তগামী সূর্যের শেষ রশ্মিতে রোমান্টিক হয়ে ওঠা প্রতিদিনের সহপাঠিনীর মুখ,সৈকতে বন-ফায়ারের আগুনের মধ্য দিয়ে নূতন বাংলাদেশের স্বপ্নের সাথে নিজের একান্ত স্বপ্নগুলো বাস্তব করে তোলার স্বপ্ন...।অদ্ভূত সুন্দর ছবিটির জন্য ধন্যবাদ। এবং অশেষ ধন্যবাদ আমার ব্লগ,'' আমাদের রক্তে ভেজাল, বিশ্বাসে...'' টিতে প্রাসঙ্গিক ছবি সংযোজন করে আরও জীবন্ত করে তোলার জন্য।বাংলাদেশ এবং প্রবাস থেকে প্রকাশিত সমস্ত বাংলা ওয়েব- সাইটগুলোর মধ্যে প্রিয়.কম/ইমেলাকে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়।নূতন বছরে ও তা অব্যাহত থাকুক সেই কামনা করি এবং সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টদের জানাই Happy New Year.
ই-মেলার সকলকে নববর্ষ ২০০৯ এর আন্তরিক শুভেচ্ছা...।
পুরাতন বর্ষ হয় গত
আমি আজি ধূলিতলে
জীর্ন জীবন করিলাম নত
বন্ধু হও শত্রু হও
যেখানে যে রক্ত
ক্ষমা কর আজিকার মত
পুরাতন বরষের সাথে
পুরাতন অপরাধ যত...
-রবিঠাকুর
ই-মেলার এ আসরের সকল সদস্য/সদস্যাদেরকে ও এ আসরের
কর্নধার জাকারিয়া স্বপন ভাইকে নতুন বছর ২০০৯ এর শুভেচ্ছা।
#নতুন বছরে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হোক এ ধরা চরাচর।#
যে যেখানেই আছেন ভাল থাকুন,সুস্থ্য থাকুন এই কামনায়।
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যান্ড।
হাসান সাহাব
হাসান সাহাব মনে হয় এখন উত্তেজনার চরম পর্যায়ে রয়েছেন।আপনার নেত্রী গদিতে বসবেন।খুশিতে ডগমগ হয়ে আছেন নিশ্চয়।তার উপরে যোগ হয়েছে হ্যাপি নিউ ইয়ার।রংগীন পানির খেলা বোধ হয় এখন ও চলছে।আশা করি ড্রাংক ভাব কেটে গেলে চুপি দিবেন।শুভ নববর্ষ।
২০০৯ এর প্রথম আলো
______________________________________________________
নুশাতলে আমার ঘরের জানালা থেকে..........................................................................................।
সকালে ঘরের জানালা খুলেই মনের জানালা খুলে গেল এ বছরের প্রথম আলোর পরশে। সারা রাত তূষারপাতের পর স্বচ্ছ নিলাকাশ ও রবির সোনালী আলোর এমন পরশে এমনটাই তো হওয়ার কথা। প্রকৃতি যেন তার সহজাত উদারতায় গতবছরের সকল না পাওয়ার কালিমাকে শুভ্রতার পবিত্রতা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। কেমন হয় যদি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত দলটি বিগত দিনে আমাদের সকল জাতীয় ব্যার্থতার গ্লানীকে স্বচ্ছতার এমন শুভ্রতায় ঢেকে দেয় ? শুভ্র পবিত্র এ প্রভাতে কায়মনবাক্যে এ কামনাই করি।
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যন্ড।
HAPPY NEW
HAPPY NEW YEAR.
হাসান সাহেব, সুজনের সংগৃহীত তথ্যমতে নির্বাচিত ১৬৯ জন ব্যবসায়ী, ১২৮জন কোটিপতি ও মাত্র ১০ জন পেশাদার রাজনীতিক নিয়ে কি সকল জাতীয় ব্যার্থতার গ্লানী মোছার স্বপ্ন দেখা সম্ভব?
Elcted MPs will elect the PM, then next 5 yrs will steal or make
The most important act of the MPs in Bangladesh is to elect the PM, after that normally they get engaged in contracting business or comission business. They are not capable of bringing bills.
These people do not have back grounds of developments, creating jobs etc.; so they will use time to occupy some more business. Thats it.
সর্বসময়ে সৎ কামনা করা যেতে পারে...।
সমুদ্র সাহেব,
দেশের বর্তমান বাস্তবতায় এক নিমিশে দেশটির আহামরী পরিবর্তন সাধন করা দুরুহ এটা আপনার সাথে অনেকেই একমত। তবে,বিশ্বের দেশে দেশে পরিবর্তনের যে নয়া আবহন তৈরী হয়েছে তার নিরীখে বিশুদ্ধ কমনা করতে কোন ক্ষতি আছে বলে মনে করি না।
নতুন বছরটি আপনার জীবনকে আরো সুন্দর ও সুখী করুক,এই কামনায়।
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যান্ড।
সম্পাদক সাহেব
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে এখানে স্মরন করার জন্য।নির্বাচনের তিনদিন আগে হঠাৎ আমার মাথায় চিন্তাটা এসেছিল কি করে আমরা অর্থাৎ ই-মেলার পাঠকেরা নির্বাচনের লাইভ রেজাল্ট জানতে পারি।আমরা যেহেতু একটা পরিবারের মত সেহেতু একসাথে যদি আমরা নির্বাচনের ফলাফল এবং খবরাখবর শেয়ার করতে পারি তাহলে খুবই মজা হবে।সাথে সাথে আমি ফোরামের মাধ্যমে সম্পাদক সাহেবকে আমার আইডিয়ার কথা জানাই।একদিন পার হয়ে যাওয়ার পর মনে হল লেখাটা বোধহয় উনার চোখে পড়েনি।আমি আবার ও উনাকে লিখলাম এবং হাসান সাহেব আমার সাথে যোগ দিলেন।একটু পরেই সম্পাদক সাহেব জানালেন যে এটা হবে এবং এটার জন্য কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।পরদিন আমরা দেখতে পেলাম সমস্ত কিছু প্রস্তুত।আমার যে কি ভাল লেগেছে!চ্যটের ব্যাপারটা সম্পাদক সাহেব সম্পুর্ন নিজের আইডিয়া থেকে করেছেন।এইরকম সুন্দরভাবে ইলেকশনের ফলাফল জানার মধ্যে বিরাট আনন্দ আচ্ছে,বিশেষ করে আমরা যারা বাইরে থাকি তাদের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম।রাতে যখন আমরা চ্যাট করছিলাম তখন আমার এক অন্যরকম অনুভুতি হয়েছিল।মনে হচ্ছিল আমরা এক জায়গায় বসে আলোচনা করছিলাম।ইলেকশনের খবরে সবার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে।
আমি এর সম্পুর্ন কৃতিত্ত্ব আমাদের সম্পাদক সাহেব এবং উনার সহযোগিদের দিতে চাই।উনাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে।আমার মত একজন ক্ষুদ্র মানুষের কথা যে সম্পাদক সাহেব রক্ষা করেছেন সেটা ভাবতেই ভাল লাগছে।আমি সকল পাঠক এবং অংশগ্রহনকারি ভাই বোনদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।