স-মূত্র পানে রোগ মুক্তি! তা আবার যেন তেন রোগ নয় আলসার, পেটের পীড়া, স্তন টিউমার, জড়ায়ু সমস্যা জিভ ও গলার ক্যান্সার, হার্টের ব্লক এমনকি যৌবন ও ত্বকের সজিবতায় এবং চেহারার লাবন্য ধরে রাখতেও স-মূত্র পান টনিকের মত কাজ করে। সাপ্তাহিক ২০০০ পত্রিকা তার চলতি সংখ্যায় ‘বিকল্প চিকিৎসার খোঁজে’ বিভাগে এবারের শিরোনাম করেছে স-মূত্র চিকিৎসায় রোগমুক্তি এবং স-মূত্র চিকিৎসার আরো কিছু তথ্য। শেখ সাদীর নিবন্ধ দুটির সারসংক্ষেপ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।
শেখ সাদী বলেছেন, তন্ত্র শাস্ত্রের মূল কথা যদি ভালো থাকতে চাও তাহলে নিজের শরিরের বর্জিত জল পান কর। আর স-মূত্র চিকিৎসার এটাই গোড়ার কথা। এ বিষয়ে অধ্যাপক রোস্তাঁর বলেন, আপাত দৃষ্টিতে মূত্রকে ঘণ, গাঢ় ও বিষাক্ত পদার্থ মনে হলেও অসংখ্য দূরারোগ্য ব্যাধির অন্যতম ওষুধ এটি। এ বিষয়ে ডা. এইচ ডাব্লিউ হ্যাগার্ড তার ডেভিলস, ড্রাগস অ্যান্ড ডক্টরস বইতে বলেছেনÑ একসময় ইউরোপের অনেক দেশে মৃত্যু পথযাত্রীকে ঘোড়ার বিষ্ঠা মেশানো মদ খাওয়ানো হত। আর এ থেকেই সেরে উঠতো তারা। আর যারা এসব করতেন তারা হাতুড়ে ডাক্তার নন, পুরোদস্তুর ডিগ্রীধারী ‘নাম করা’ ডাক্তার। স-মূত্র পান করার নিয়ম হলো সকালে নিজ মূত্রের প্রথম ও শেষাংশ ফেলে দিয়ে মাঝের ২৫ মিলিলিটার সংগ্রহ করে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে খালিপেটে পান করতে হবে। তবে এটা পান করার পর এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি পান করা দরকার। প্রথমে স-মূত্র পান করার পর অনেকের পাতলা পায়খানা হতে পারে। তবে এতে ভয়ের কিছু নেই। কয়েক দিন নিয়মিত পানে এ সমস্যা আর থাকবে না।
স-মূত্রের প্রাথমিক কাজ সম্পর্কে নিবন্ধে যা বলা হয়েছেÑ অনেকদিন ধরে পেটের মধ্যে জমে থাকা ময়লা পরিস্কার করা এবং বুকের মধ্যে জমে থাকা শুকনো কফ বের করে দেয়ার মতো কাজগুলো এই চিকিৎসা পদ্ধতি সহজেই করতে পারে। বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে নিরাপদ ভূমিকা রাখতে পারে না নেখানে স-মূত্র পানে রোগীরা অতি সহজে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে।
প্রশ্ন হলÑ এই মূত্রে এমন কী আছে যা মানব দেহের জটিল রোগ সারাতে সক্ষম? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে মূত্র হলো; মানুষের শরির থেকে বের হওয়া নানা প্রয়োজনীয় উপাদান যা নিজ দেহের রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে মূত্রে রয়েছে; নাইট্রোজেন (এন), ইউরিয়াক্রিয়েটিনিন, ক্রিয়েটিনিন, ইউরিক অ্যাসিড, অ্যামাইনো, সোডিয়ামপটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্লোরাইড, সালফেট, অজৈব সালফেট, অজৈব ফসফেট, পি-এইচ ও অন্যান্য। আর এসব উপাদন শরিরকে কার্যকরী রাখতে অন্যন্য ভূমিকা পালন করে। সোজা বাংলায়Ñ যার মূত্র তার শরিরেরই কিছু প্রয়োজনীয় পদার্থ। তাই যখন এই মূত্র স-স্থানে ফিরে যায় তখন শরিরের মধ্যে থাকা নানা ধরনের জীবানুর বিরুদ্ধে লড়ে এবং লড়াইয়ে এতটাই পরাক্রমশালী হয়ে ওঠে যে এর সঙ্গে আর কোনো কিছু মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। যেমনটা আমরা নানা প্রকার ভ্যাকসিনের বেলায় দেখি। এ চিকিৎসার সময় অন্য যে কোনো প্রকার চিকিৎসা এবং এ্যালকোহল জাতীয় নেশা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
স-মূত্র পান চিকিৎসা পদ্ধতিতে যেসব বিখ্যাত ব্যক্তি উপকৃত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মেরারাজী দেশাই। বৃদ্ধ বয়সে এসেও তার তারুণ্য ও উজ্জল ত্বকের রহস্যের পেছনে ছিল দৈনিক স-মূত্র পান। এ বিষয়ে ভুবন মিত্র নামে ভারতীয় তন্ত্রসাধকের কথা আরো প্রনিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, অ্যালোপ্যাথি আর হোমিওপ্যাথি যে ওষুধই হোক না কেন সবই রাসায়নিক যৌগের মিশ্রণ। এসব ওষুধ কেবল শরিরকে বিষাক্তই করে না মনের সুস্থতাও নষ্ট করে। আর সেক্ষেত্রে স-মূত্র চিকিৎসা পদ্বতি অনেক বেশি নিরাপদ এবং রোগ চিরতরে দূর করতে পারে। এছাড়া ভারতের প্রাচীন তর্ক শাস্ত্র এবং ওয়ান থাউজেন্ড নোটেবল থিংকস বইতে লেখা হয়েছে শরিরের ভিতরে বা বাইরে যে কোনো রোগই হোক না কেন তা চিরতরে নিবারণের জন্য এক নাগারে কয়েকদিন নিজ মূত্র পান করলেই চলবে। বইটি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড থেকে এক যোগে প্রকাশিত হয়েছিল।

Comments
বিডি৮ ,স্ব-মূত্র পান করুন
বিডি৮ ,স্ব-মূত্র পান করুন, আপনার যে অবিশ্বাস রোগ আছে তা ভাল হয়ে যাবে।