
আপনা মাঁসে হরিণা বৈরী বরগুনার পাথরঘাটায় ওই প্রজাতির সাতটি প্রাণী জীবিত উ™ব্দারের মধ্য দিয়ে প্রবাদটি আরেকবার বাস্তব প্রমাণ হলো। সন্দেহ নেই যে, পাচার কিংবা জবাইয়ের উদ্দেশ্যেই সাতটি হরিণকে ফাঁদ পেতে ধরেছিল শিকারিরা। অকুস্ট’লের ৫০ গজের মধ্যে রয়েছে সুন্দরবনের দক্ষিণ চরদুয়ানী বন বিভাগের অস্থায়ী কার্যালয়; সন্দেহ অন্যদিকে ঘনীভহৃত হওয়ার কারণ সেটাই। পাথরঘাটা থানার পুলিশ গোপনসহৃত্রে খবর পেয়ে হরিণগুলো উদ্ধার করল, আর পাশে থেকেও বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিষয়টি টেরই পাননি এমন কথা বিশ্বাস করা কঠিন। এত জায়গা থাকতে শিকারিরা একেবারে ফরেষ্ট অফিসের কাছে গিয়ে চোরাই হরিণ লুকিয়ে রাখবে, এটাও মেনে নেওয়া যায় কি? ফরেষ্ট অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে চিহিক্রত শিকারিরা প্রতিনিয়ত সুন্দরবন থেকে হরিণ ধরছে বলে স্থানীয় অধিবাসীরা যে অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই সেটা খতিয়ে দেখবে। পাথরঘাটার বিভিল্পু বাজারে প্রকাশ্যেই হরিণের মাংস কেজিদরে বিক্রি হয় এ অভিযোগও গুরুতর। বনের গহিনে শিকারির কবল থেকে হরিণ উদ্ধার করতে পারলে পুলিশ লোকালয়ে আরও বেশি সাফল্য দেখাতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ওই এলাকার হরিণ শিকারিরা চিহ্নিতও বটে। তাদের খামোশ করতে প্রশাসনের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। কেবল পাথরঘাটা নয়, সুন্দরবন সংলঘ্ন সব জনপদেই হরিণকে ‘কোম্পানিকা মাল’ বিবেচনার একটি আত্মঘাতী প্রবণতা আমরা দেখে থাকি। এটা আর চলতে পারে না। এভাবে নির্বিচারে হরিণ শিকার করা হলে সুন্দরবনের প্রতিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হতে বাধ্য। কোনো একটি প্রতিবেশ ব্যবস্থার প্রত্যেক প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী যে পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল, এ তথ্য কথায় ও কাগজে বহুবার বলা হয়ে গেছে। হরিণ না বাঁচলে বাঘ বাঁচবে না, বাঘ না বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে না। প্রকৃতির রুদ্ররোষ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষায় সুন্দরবন কতটা গুরুত্বপূর্ন, সিডরের সময় এর খানিকটা টের পাওয়া গেছে। বনের সম্পদ এবং জীবিকার জন্য এর ওপর নির্ভরশীল বাওয়ালি, মৌয়ালদের কথাও ভাবতে হবে আমাদের। হরিণের মতো শিকারে টান পড়ার কারণেই যে সুন্দরবনের বাঘ লোকালয়ে হানা দেয়, সেটা ভুললে চলবে না। অবশ্য হরিণের বেঁচে থাকা আমাদের কী কী উপকারে আসে, সেটা ভেবে নয়; প্রাণীটিকে বাঁচতে দিতে হবে মানবিকবোধ থেকেই। ছুরির নিচে নয়, বন্যেরা বনেই সুন্দর থাকে। সেই সৌন্দর্য রক্ষায় মানুষের পশু প্রবৃত্তিকে একটু সামলাতে হবে।
