বর্ষার প্রথম দিনে বর্ষাবরণ

kabir0202's picture
Posted by
kabir0202
Monday, June 15, 2009 - 8:40pm BST

বর্ষার প্রথম দিনে আজ সোমবার বৃষ্টির দেখা মেলেনি। তবে গ্রীষ্মের শেষ দিনে রাতে ছিল ঝমঝম বৃষ্টি। যেন তা ছিল বর্ষার আগমনী সংগীত। আরেকটা বর্ষা এসেছে বাঙালির জীবনে। আজ আলোচনা-গান-কবিতায় বর্ষা এল চারুকলার লিচু চত্বরে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে। বিদগ্ধজনদের আলোচনা, শিল্পীদের বর্ষার গান পরিবেশনা এবং বর্ষার কবিতাপাঠের মধ্য দিয়ে বর্ষাকে বরণ করা হয়।
আজ সকালে চারুকলার বকুলতলায় যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের অনেকের পোশাকেই ছিল নীল কিংবা আকাশি রঙের আধিক্য। বর্ষার আয়োজন বলে কথা। নীল যেন একটু বেশিই। সকাল থেকেই খোঁপায় বেলি ফুলের মালা আর শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সেখানে উপস্িথত হন। কারও কারও হাতে শোভা পাচ্ছিল কদম ফুল।
তবে সুর্য যেন স্বস্তি দিচ্ছিল না। ‘চৈত্রের কাঠফাটা রোদ’-এর মতো ছিল বর্ষার প্রথম দিনের রোদ। সেই রোদ শরীরে মেখেই দর্শক-শ্রোতা শুনতে থাকেন গান, শিল্পীরা সেই রোদ উপেক্ষা করেই গাইতে থাকে গান। শিল্পী স্বপন কুমার বিশ্বাসের ধ্রুপদী পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদীচীর বর্ষা উৎসব। একে একে শিল্পীরা সমবেত ও একক সংগীত পরিবেশন করেন। এ তালিকায় ছিলেন খায়রুল আনাম শাকিল, চন্দনা মজুমদার, জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী, মাহমুদ সেলিম, কল্পনা আনাম, মহিউজ্জামান চৌধুরী, লীনা তাপসী, ছায়া কর্মকার, বিশ্বজিৎ রায়, অদিতি মহসীন, অনুপম হালদার, সুস্িনতা আহমেদ, দিদারুল করিম, মহাদেব ঘোষ, শফিউল আলম, নাসিমা খান, আজিজুর রহমান, মিতু কর্মকার প্রমুখ। তাঁদের পরিবেশনায় ছিল ‘আবার এসেছে আষাঢ়’, ‘নুপুর রুনুঝুনিয়ে’, ‘এলে বাদল রাতে’, ‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে’, ‘পাগলা হাওয়ায় বাদল দিনে’, ‘নিদ নাহি আঁখি পাতে’ ইত্যাদি গান। সমবেত সংগীত পরিবেশনায় উদীচী, নিবেদন, ধ্রুবতান। দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় নৃত্যম, নৃত্যনন্দন, নৃত্যালোক। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহিদুল ইসলাম, বেলায়েত হোসেন ও ঝর্না সরকার।
সকালের অনুষ্ঠানে উদীচী ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কাজী মদিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। উৎসবের ঘোষণা পাঠ করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার। সকালের আয়োজন বেলা ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।