"ঘূর্ণিঝড়ের নাম বন্ধু"
কেউ যদি এসে আপনার বাড়িতে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তবে তাকে কি বন্ধু বলা যাবে? বলা যাক আর না যাক, আইলার পর তিনটি ঘূর্ণিঝড় গেলেই চতুর্থ যে ঘূর্ণিঝড় জন্ম নেবে তার নাম হবে ‘বন্ধু’। বন্ধু যদি তার শব্দগত অর্থের প্রতি সম্মান জানিয়ে ক্ষতির মাত্রা কম রাখে তবেই মঙ্গল!
তবে আইলার পর এশিয়া অঞ্চলে যে ঘূর্ণিঝড় তৈরী হবে তার নাম হবে ‘ফিয়ান’। ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ কিভাবে হয় সেটা নিয়ে সবার মনে অসীম কৌতূহল। অনেকের ধারণা ঘূর্ণিঝড় জন্ম নিলেই তার নাম দেয়া হয়। আসলে কিন্তু তা নয়। অনেক আগে থেকেই নামগুলো ঠিক করা থাকে। যেমন ফিয়ানের পর এশিয়া অঞ্চলে জন্ম নেয়া ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘ওয়ার্ড’। ওয়ার্ডের পরে ‘লায়লা’। তারপর ‘বন্ধু’। ২০০৯ সালে যদি আরো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় তবে নামের ঘাটতি হবে না; ‘বন্ধু’র পর তৈরি করা আছে আরো ৪০টি নাম।
গোটা বিশ্বে উৎপত্তি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নামগুলো দেয় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কর্মকর্তারা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং জাতিসংঘের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের নীতিমালা বেঁধে দেয়া আছে। যে ‘আইলা’ সোমবার বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশাল এলাকা লণ্ডভণ্ড করল সেই আইলার নাম দিয়েছিল মালদ্বীপ। আইলার পর আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ‘ফিয়ান’ নাম রেখেছে মিয়ানমার। গত ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিল ভারত ও বাংলাদেশের কিছু অংশে আঘাত হানা ‘বিজলী’র নামটি দিয়েছিল ভারত।
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং ওমান এই আটটি দেশ মোট ৬৪টি নামের একটি তালিকা প্রস্তুত করে রেখেছে। এসব অঞ্চলে আঘাত করতে পারে এমন ঘূর্ণিঝড় উৎপন্ন হলেই আঞ্চলিক বিশেষ আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএসএমসি) এই তালিকা থেকে পরবর্তী নামটি ঘোষণা করে। আরএসএমসির কেন্দ্রীয় অফিস ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে। এক দুই বছর পর পর দেশগুলো বৈঠক করে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও নামের তালিকা তৈরি করে।
২০০৪ সালের পর উপরের আটটি দেশ মোট ১৯টি সাইক্লোনের দেখা পেয়েছে। বাংলাদেশে তাণ্ডবলীলা চালিয়ে যাওয়া সিডরের নাম দিয়েছিল ওমান। নার্গিস ছিল পাকিস্তানের দেয়া নাম। এছাড়া শ্রীলংকা ‘রেশমী’, থাইল্যান্ড ‘খাইমুখ’, বাংলাদেশ ‘নিশা’ এবং ‘ভারত’ বিজলী নামগুলো দিয়েছিল।এখন প্রশ্ন হলো, ঘূর্ণিঝড়গুলোর এই বাহারী নাম কেন দেয়া হয়। নামগুলো দেয়া হয় যাতে ঝড়টি নিয়ে প্রশাসন ও জনগণ পরস্পরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ রাখতে পারে, ক্ষতিগ্রস্তরা সহজে এর প্রভাব দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে এবং পরবর্তী দুর্যোগে ক্ষতির মাত্রা কমাতে পারে। ২০ শতকের প্রথম দিকে একজন অস্ট্রেলীয় আবহাওয়াবিদ এই নামকরণ চালু করেন। প্রথম দিকে কেবল নারীদের নামে নামকরণ করা হলেও এখন তেমন কোন ধরাবাঁধা নিয়ম মেনে চলা হয় না। নামকরণে সংশ্লিষ্ট দেশের রীতিনীতি ও সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকে।
সূত্র : এওএমএল ও আইএএনএস।
