ভারত তার কূটনৈতিক অফেনসিভ তীব্রতর করেছে

SalimC's picture
Posted by
SalimC
Thursday, June 11, 2009 - 11:14pm BST

ভারতীয় হাইকমিশনারকে না বলুন
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও ভারতের সব অন্যায় দাবির কাছে নিঃশব্দ আত্মসমর্পণের ফলে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার অবিরাম সব কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেই যাচ্ছেন।সরকারের তরফ থেকে এর কোনো পর্যায়েই কোনো প্রতিবাদ না হওয়ায় পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী কথাবার্তায় এমন ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিচ্ছেন।বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষ এবং বিশেষজ্ঞদের ব্যাপারে লাগামহীন কথাবার্তা বলেই যাচ্ছেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী তার দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই তার কাজ। কিন্তু এ দেশের জনগণ ও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অপমান করার কোনো অধিকার তাকে দেয়া হয়নি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইস্যু বিভিন্ন। এর মধ্যে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়া, ভারতের বাংলাদেশী পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের ট্যারিফ-ননট্যারিফ বাধা সৃষ্টি করা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে করিডরের দাবির জন্য বাংলাদেশের সব সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার করা, চট্টগ্রাম ও মংলাবন্দর ভারতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া এবং সর্বশেষ টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নতুন করে মরুভূমিতে পরিণত করার অপচেষ্টা প্রধান হয়ে উঠেছে।
এসব ইস্যুতে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে নবিস মন্ত্রীরা এমন সব কথাবার্তা বলছেন যাতে মনে হয় না যে, তারা বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্য। বরং কখনো কখনো মনে হয় তারা ভারতীয় কেন্দ্রীয় বা কোনো প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী। ফলে পিনাক রঞ্জনের মতো একজন ভারতীয় কর্মকর্তাও বাংলাদেশের মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সাহস পাচ্ছে।
ভারতের ভেতর দিয়ে আসা বরাক নদী একটি আন্তর্জাতিক নদী এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বরাক নদীর পানির ওপর সমান অধিকার রয়েছে। এই নদী সিলেট অঞ্চলে সুরমা ও কুশিয়ারায় বিভক্ত হয়ে মেঘনায় পড়েছে। ফলে মেঘনা নদীর নাব্যতা, সেখানে পানি পাওয়া বহুলাংশেই বরাক নদীর ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক নীতি ও ভারত-বাংলাদেশ পানি চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, অভিন্ন নদীর ওপর কোনোরূপ স্থাপনা নির্মাণ করতে ভারত বাংলাদেশের অনুমতি নেবে। কিন্তু এসবের কোনো তোয়াক্কা না কারেই ভারত বাংলাদেশ থেকে শতাধিক কিলোমিটারের ওপরে বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করতে শুরু করেছে। বৃহত্তর সিলেটের ছয়টি জেলার মানুষ তাদের অস্তিত্ব সঙ্কটের কথা চিন্তা করেই ভারতীয় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে। একই সাথে বাংলাদেশী নদী ও পানি বিশেষজ্ঞরা এই বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশ যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, সে বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত তুলে ধরেছেন। তারা বলেছেন, এতে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় নতুন করে যেমন মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে তেমনি পরিবেশ বিপর্যয়সহ বন্যা ও বড় ধরনের ভূমিকম্পও হতে পারে। আর শুধু বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাই এ কথা বলেছেন না, ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা একই ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের ওয়েব সাইটেই বলা হয়েছে, তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য টিপাইমুখে একটি ড্যাম নির্মাণ করবে এবং সেচকাজে ব্যবহারের জন্য ব্যারাজ নির্মাণ করে পানি আসামের দিকে নিয়ে যাবে।
অথচ ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী এ কথা লুকিয়ে গিয়ে বারবার বলছেন, সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পানি আটকে রাখা হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন শেষে সে পানি ছেড়ে দেয়া হবে। বরাক হয়ে সুরমা-কুশিয়ারা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হবে এবং এতে বাংলাদেশের নদীগুলোর কোনো ক্ষতি বাড়বে না। টিপাইমুখে বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা যে বিরোধিতা করছেন, তা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তারা তা না জেনেই করছেন।
ভারতের এই আমলা নিজে কোনো পানি বা নদী বিশেষজ্ঞ নন। এমনকি বরাক নদীর পানিকেও টেনে নিয়ে আসামের সেচকাজে ব্যবহার করবেন না সে কথা তিনি কখনই উল্লেখ করছেন না। বরাক নদীর পানি আসামের দিকে টেনে নিয়ে গেলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবাহ কমপক্ষে এক মিটার নিচে নেমে যাবে। তাতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকাগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়বে এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা, রুটি-রোজগারের পথ হুমকির মুখে পড়বে। তাছাড়া এ এলাকার ব্যাপক প্রাণবৈচিত্র্যও ধ্বংস হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী উজানের কোনো দেশ সে দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীতে এমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না, যার ফলে ভাটির দেশের প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।
টিপাইমুখে এই বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশের প্রাণবৈচিত্র্যও ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। এটা শুধু পানির অভাবে নয়, স্বাদু পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর আরো ভেতরে প্রবেশ করবে। এর পরিণতিতেও বাংলাদেশের প্রাণবৈচিত্র্যও যেমন বিনষ্ট হবে, তেমনি চাষাবাদের জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার লাখ লাখ মানুষকে জীবিকার সন্ধানে শহরগুলোতে ছুটে আসতে হবে। এটিও বিরাট মানবিক সঙ্কটের সৃষ্টি করবে।
ভারত সরকার যখন টিপাইমুখে এ বাঁধ দেয়ার পরিকল্পনা করে তখন মিজোরাম ও মনিপুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সে ক্ষোভ প্রশমন করতে ওই দুই প্রদেশের নাগরিকদের জন্য নানা ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। কয়েক বছর আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত ওই দুই প্রদেশের প্রাদেশিক পরিষদ বাঁধ নির্মাণ অনুমোদন করেন। তার পরেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিই এখন ভারতের কাছে এতটাই নতজানু যে, ভারতের প্রাদেশিক সরকার যে প্রতিবাদ করেছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সেটুকু প্রতিবাদেরও যেন মুরোদ হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশের পানিমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, ভারত আগে বাঁধ দিক তারপর দেখব আমাদের কী লাভ ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতি হলে তখন প্রতিবাদের প্রশ্ন আসবে। এমন দাসানুদাস মনোবৃত্তি কোনো স্বাধীন দেশের সরকার ও নাগরিকের জন্য সম্মানজনক নয়। আর এক মন্ত্রী বলেছেন, টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে ভারত যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, বাংলাদেশ তা আমদানি করে লাভবান হতে পারে। একে সীমাহীন অজ্ঞানতা ছাড়া আর কিছু বলে অভিহিত করা যায় না।
বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে নেপালে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নেপাল-ভুটান-ভারত-বাংলাদেশে সব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব। সেই প্রস্তাবকে ভারতীয় কূটনীতিকরা অবাস্তব কল্পনা বলে অভিহিত করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে মাত্র ২৩ কিলোমিটার জায়গায় বিদ্যুৎ খুঁটি বসানো ভারতের দৃষ্টিতে অবাস্তব কল্পনা। কারণ, তাদের ভাষায় এই বিদ্যুতের তার বেয়ে বাংলাদেশের তথাকথিত সন্ত্রাসীরা ভারতে ঢুকে পড়বে এবং ভারতের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাই বিঘ্নিত হবে। একই যুক্তিতে এই ২৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নেপালে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারত চুক্তি করেও কোনো দিন তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। এখন সে চুক্তি কাগজেই সীমাবদ্ধ আছে। বাংলাদেশের রফতানিপণ্য নেপালে যেতে দেয়া হচ্ছে না। সেই ভারত টিপাইমুখ থেকে দেড় শ? কিলোমিটার খুঁটি গেড়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করবে এমন আজগুবি কল্পনা কোনো দুগ্ধপোষ্য শিশুও করতে পারে না, পাগলেও না। অথচ বাংলাদেশের মন্ত্রী তেমন এক কথা নিয়ে আনন্দে বেল বাজিয়ে চলেছেন। ভারতেই বিপুল বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। সুতরাং এসব মধুমাখা কথায় আস্থা স্থাপনের মানে দেশ ধ্বংসের শামিল।
ভারত গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ চালু করার সময় একই রকম মিষ্টি কথা বলেছিল এবং ১৯৭৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে (১৯৭৫) পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কার ক্যানেল চালু করার চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে তারা এই বাঁধ নিয়ে আর কোনো কথাও বলেনি এবং ১ জুন ১৯৭৫ থেকেই ফিডার ক্যানেল বন্ধ করেনি। ফারাক্কার পানি প্রত্যাহার শুরু করে দিয়েছিল। তখন শেখ মুজিবুর রহমান সরকারও তার অত্যধিক ভারত নির্ভরতার কারণে এর কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে অভিন্ন নদী গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। সে উদ্যোগে আন্তর্জাতিক জনমত বাংলাদেশের অনুকূলে এনে ১৯৭৭ সালে ফারাক্কা ইস্যুটি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপন করেন তখন অনন্যোপায় হয়ে ভারত বাংলাদেশের সাথে উভয় দেশের স্বার্থানুকূল একটি সম্মানজনক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সে চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজ এই ছিল যে, কোনো পক্ষ চুক্তির ধারা লঙ্ঘন করলে অপর পক্ষ তৃতীয় কোনো মধ্যস্থতাকারীর দ্বারস্থ হতে পারবে। তিন বছরের জন্যও ওই চুক্তি সম্পাদিত হলেও জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ভারত গায়ের জোরে একতরফাভাবে গঙ্গায় পানি প্রত্যাহার শুরু করে।
আওয়ামী লীগ শাসন আমলে ১৯৯৬ সালে সরকার ভারতের সাথে তিরিশ বছর মেয়াদি একটি পানিচুক্তি স্বাক্ষর করে। অর্থাৎ সে চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ তুলে দেয়া হয়। ফলে চুক্তিবলে বাংলাদেশে যেটুকু পানি পাওয়ার কথা ভারত তা না দেয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় কোনো শক্তির দ্বারস্থ হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এ কারণে ১৯৯৬ সালের চুক্তির পরও বাংলাদেশ চুক্তি মোতাবেক কখনো পানি পায়নি। ভারত খামখেয়ালি মতো গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এবারো শুষ্ক মৌসুমে ভারত বাংলাদেশকে চুক্তির চেয়ে ৮৩ হাজার কিউসেক পানি কম দিয়েছে। এ ক্ষেত্রেও পানিমন্ত্রীর সাফাই ছিল, ফারাক্কায় যদি পানিই না থাকে তাহলে ভারত কোথা থেকে পানি দেবে।
এতসব কারণেই ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন এ রকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার সাহস পেয়েছেন। পানির ব্যাপারে সরকার নিশ্চুপ। টিপাইমুখের বাঁধ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খামোশ। দেশের ভারতানুগামী তথাকথিত সুশীলরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। সুতরাং টিপাইমুখের ব্যাপারেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে। আর আত্মমর্যাদাবান জাতি হিসেবে কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার লঙ্ঘনের দায়ে ভারতের এই 'অর্বাচীন' হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনড় দাবি জানানো হোক।

ভারত তার কূটনৈতিক অফেনসিভ তীব্রতর করেছে
যত দ্রুত সম্ভব তারা ট্রানজিট হাইওয়ে ও বন্দর চায়
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত বাংলাদেশের কাছে রাতারাতি অনেক প্রস্তাব তুলে ধরেছে। আর এ প্রস্তাবগুলোর সাথে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িত। এমতাবস্থায় জনমনে প্রশ্ন-ভারত কি বাংলাদেশেকে মুঠিবদ্ধ করতে যাচ্ছে?
ভারত-বাংলাদেশের কাছে এই মুহূর্তে চাইছে (১) পূর্ব-পশ্চিম রেল-ট্রানজিট (২) উত্তর-দক্ষিণ নৌ-ট্রানজিট (৩) চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার সুবিধা (৪) তাদের সুবিধা মত এশিয়ান হাইওয়ে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার তার দেশের প্রতিনিধি হয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে এসব বিষয়ে অবিরাম আলোচনা করে যাচ্ছেন, আর প্রস্তাবগুলো তুলে ধরছেন, যোগাযোগ মন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের উপর দিয়ে রেল ট্রানজিটের কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ??আমরাতো আগরতলা পর্যন্ত রেল লাইন করেই রেখেছি। ঢাকার সাথে তো কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন চলছেই। এখন বাকি পথটা হলেই হয়।?? অপরদিকে যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছেন, আমরা ভারতের কাছে রেলের উন্নয়ন সহযোগিতা চেয়েছি। ভারতীয় হাইকমিশনার নৌ পরিবহন মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের কাছে নৌ-ট্রানজিটের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে উত্তর-দক্ষিণ নৌ যোগাযোগ সহজ করতে হবে। এই যোগাযোগ চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণ অর্থাৎ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি নৌ-যান চলাচল করার মত সুবিধা চাইছেন। এজন্য তিনি বাংলাদেশে নদী খনন করার বিষয়ে নৌ-মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। ভারতীয় হাইকমিশনার চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার সুবিধার কথা বলেছেন। গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন এবং তা ব্যবহার করার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন- বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর এদেশের জন্যেই লাভবান হবে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর যদি ভারত এবং মিয়ানমার ব্যবহার করতে পারে তাহলে বাংলাদেশই লাভবান হবে। আর বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন মন্ত্রীও ভারতীয় এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে মনে করেন। ভারতীয় হাইকমিশনার স্থল বন্দর উন্নয়নের কথাও বলেছেন।
এদিকে ভারতের চাহিদামত এশিয়ান হাইওয়েতে বাংলাদেশ যুক্ত হতে যাচ্ছে। এই হাইওয়ে মূলত: বাংলাদেশ ভারতের পূর্ব-পশ্চিম আর উত্তর-দক্ষিণ করিডোর হিসেবে ব্যবহার হবে। এ সম্পর্কিত প্রস্তাবনাও সরকার অনুমোদন করতে যাচ্ছে। আনুসঙ্গিক কাজ প্রায় শেষ। এখন শুধু কেবিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায়। একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত এ সম্পর্কে বলেছেন- যে পথে বাংলাদেশ এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হতে যাচ্ছে, সেটির নক্শা করেছেন ভারতীয়রা। তিনি বলেন, ইউএন-এসকাপে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বসে আছেন। আর এই রুটের নক্শা তাদের প্রণীত। এখানে ভারতের স্বার্থকে রক্ষা করা হয়েছে। সাবেক এই দূত আরো জানান- এশিয়ান হাইওয়েতে বিগত সরকার এই কারণেই মত দেননি। ভারতের চাহিদামত ?রুট' গত জোট সরকার পছন্দ করেননি। আমি নিজেও এর সাথে জড়িত থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে জানা আছে। তবে জনৈক এক ব্যক্তি যিনি বিশেষজ্ঞ বলে জড়িত, তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ দৌড়-ঝাপ করেছেন। তবে উনার দালালি কাজে লাগেনি। তিনি এদেশের সন্তান হয়েও দালালি করতে গেছেন অন্য একটি দেশের।
ভারতের উল্লেখিত দাবিগুলোর বিষয়ে বর্তমান সরকার অনেকটাই ইতিবাচক বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। কারণ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ভারতের দাবির বিপক্ষে সরকার পক্ষে কোনো বক্তব্য নেই। বরং ভারতের দাবিগুলোকে সমর্থন জানানো হচ্ছে। নৌ-পথ, রেলপথে ট্রানজিট, এশিয়ান হাইওয়ের মাধ্যমে সড়ক পথে ট্রানজিট, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুবিধা প্রদান, এসব কোনোটাই বাংলাদেশের জন্যে ইতিবাচক নয়। এগুলোর সাথে এদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন জড়িত। তবে একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে যে ভারতীয় এসব দাবির প্রতি সরকার ইতিবাচক হলেও দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ জেগে উঠতে শুরু করেছে। সেই সাথে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোও। বিএনপি'র মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, আমরা জাতীয় স্বার্থ তথা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ুক, এমন অবস্থায় বসে থাকবো না। আমরা দেশের মানুষকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবো। দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন করবো। দেশের অপর একটি বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী টিপাইমুখ বাঁধ, এশিয়ান হাইওয়ের মত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ইস্যুতে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থবিরোধী, দেশের নিরাপত্তা হুমকীর মুখে পড়ে এমনটি হতে দেবে না। দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিবাদ করবে। উল্লেখ্য, জামায়াত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী এসব বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে সভা-সমাবেশ, সেমিনার করে যাচ্ছে। সরকারের শরীকদের মধ্যেও কেউ কেউ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। জাপা'র একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, আমরা দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ সমর্থন করি না। এছাড়াও অন্যান্য দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে