"প্রতিশোধ"
- মোঃ হাসানুজ্জামান তালুকদার শিমুল
(আমার এই গল্পের নায়ক মুহাম্মদ ফারুক খাঁন, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সবোচ্র্চ সম্মানীত ও সবোচ্র্চ ক্ষমতাধর ব্যাক্তি এবং মাননীয় বানিজ্যমন্ত্রী। My Hero, My stuff of life, my stuff of Happiness.)
"অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহবান,
প্রানের প্রথম জাগরনে তুমি বৃক্ষ আদিপ্রান।"
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
{১}
তার চোখ নেই কিন্তু সে দেখছে। দেখছে, অনুভব করছে সবকিছু। সে দেখছে দিনদিন তার বংশধররা, তার প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আগে এই বিলুপ্তির ধারা ছিল ধীরে ধীরে কিন্তু এখন দিন দিন সেটা দ্রত হতে দ্রুততর হচ্ছে,। আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমস্যাটা। কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না। শুধু চাপা কষ্ট আর দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এই প্রাণীগুলো কত নিষ্ঠুর, কত অকৃতজ্ঞ। তারা নিজের আশ্রয় দাতাকে ভূলে যাচ্ছে, ভূলে যাচ্ছে পালনকর্তা,অন্নদাতাকে। সে স্মৃতি হাতড়ে চলে গেল সেই টারসিয়ারী যুগে, জুরাসিক যুগে। মহাকালের ভাজে ভাজে খুজে দেখল। হ্যা, এইতো ধারাবাহিক ভাবে সব মনে পড়েছে। এই সুন্দও গ্রহ, বিশ্বভ্রক্ষান্ডের একমাত্র প্রাণ সমৃদ্ধ গ্রহ, এটা তো একদা আমাদেরই রাজত্বে ছিল। শুধু আমরাই ছিলাম। যেদিকে দৃষ্টি যেত শুধূ সবুজ আর সবুজ আর ছিল সাগরের নীলাভ পানি। সেই পানির নিচেও আমাদের বংশধরদের রাজত্ব ছিল। আসমান ছোয়া বৃক্ষগুলি প্রতিদিন খেলা করত মেঘবালিকার সাথে। মেঘবালিকা কত ভালবাসতো তাকে, দান করত অমৃত জলধারা আর পূর্বে উদিত সে নক্ষত্র শীতল রাখত মায়ের আচল। কথা হত মেঘবালিকা,সূর্য আর রাতের চাদ কিংবা তারার সাথে। মেঘ আর সূর্য প্রায়ই একে অপরকে সহ্য করতে পারত না। যখন মেঘকে নিমন্ত্রম করতাম, অভিমানে সূর্য তখন লুকিয়ে পড়ত কিংবা যখন সূর্যকে নিমন্ত্রম করতাম তখন অভিমানে মেঘ ডানা মেলে উড়ে যেত। কিন্তু তারকারাজি এবং চাদ ছিল একে অপরের ভাল বন্ধু, প্রতি রাতে তারা আমায় ডাকত। আমিও নেচে গেয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতাম। কিন্তু এখন ওরা সবাই আমার শত্রু হয়ে যাচ্ছে এই নিষ্ঠুর প্রাণীগুলোর জন্য। মেঘবালিকা এখন আর আমার ডাকে সাড়া দেয় না, সূর্য কষ্ট দেয় আমার জননীকে। কত সাত-পাচ ভাবে, কিন্তু অতীতকে সে বিষন্ন করে তুলতে চায় না।
স্মৃতির পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় পাঠ করে সে- হ্যা এই তো পাওয়া গেছে। কত যত্নে আমি ওদের আগলে রেখেছিলাম, আশ্রয় দিয়েছি আচল তলে, অন্ন দিয়ে বাচিয়ে রেখেছি প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর স্রষ্টার অভিশাপ হতে। এরা কত অসহায় ছিল, আমিইতো এদের লুকিয়ে লুকিয়ে রাখতাম শত্রুর আক্রমন হতে। নাহ্ এরা বড় অকৃতজ্ঞ, এরা মানুষ, এরা নিশ্চয়ই বড় অকৃতজ্ঞ জাতি, এরাতো নিজেরাই একে অপরকে ধ্বংস করে ফেলছে। এটা পৃথিবী, অপূর্ব সুন্দর আর চিরকল্যানময়। এখানে এমন অকৃতজ্ঞদের বাস করার কোন অধিকার নেই, এরা খুবই কুৎসিত জাতি। আর নাহ্ , কিছুতেই ওদের এই অসৎ উদ্দেশ্য সহ্য করা হবে না। তীব্র প্রতিশোধের নেশায় জ্বলে ওঠে সে। ওরা কি নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাবে না কি আমাকেই প্রতিশোধ নিতে হবে? কিন্তু এখনও তো আমি ওদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন তবে কেন আমাকে ওরা ধ্বংস করে দিতে চায়? ওরা কি বুঝতে পারছে না যে, আমি অস্থিত্বহীন হয়ে পড়লে ওরাও অস্থিত্বহীন হয়ে পড়বে?
অবশেষে এই রহস্যের উৎঘাটন করল সে- নাহ্ , আমার ধ্বংসের পরও ওরা ধ্বংস হবে না। ওরা টিকে থাকবে আরো কোটি-কোটি বছর। ওরা জীবিকা আর খাদ্যের অন্বেষণনে চলে যাচ্ছে মাটির তলদেশে, সমুদ্রের গভীরে। আমার বিলুপ্তির পর ওরা ভূগর্ভের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং ততদিনে ওরা নিশ্চয়ই বেচে থাকার একটা অবলম্বন পেয়ে যাবে। ওরা প্রস্তুত করবে কৃত্রিম খাদ্য এমন কি মাটিস্থ প্রোটিন বের করে ওরা খাদ্য তৈরী করবে, তবুও ওরা আমাকে বাচতে দেবে না। এরই মধ্যে আমাকে প্রতিশোধ নিতে হবে। প্রতিশোধের নেশায় হিস হিস করে ওঠে সে। এক প্রকার হিংস্র বাতাস গাছের শাখাগুলোকে যেন দুমড়ে মুচড়ে ফেলছে।
এই পৃথিবীতে আমিই প্রথম এসেছি, প্রানের স্পন্দন ঘটিয়েছি আর ওরা কিনা আমাকেই মেরে ফেলতে চায়? ক্ষোভের সাথে মানুষ গুলোর দিকে তাকায় সে- কেমন বিশ্রী শব্দ করে, কেমন কুৎসিত কাঠামো আর কেমন গর্বভরে পৃথিবী প্রকম্পিত করে? যেমন রুক্ষ তাদের চেহারা তেমন রুক্ষ তাদের ব্যবহার । কান্না আসে তার- এমন অকৃতজ্ঞদের আমি কোটি-কোটি বছর লালন করেছি? বিশ্বাস করতে কষ্ট হয তার।
নাহ্ , আমাকে বাচতেই হবে। জীবনের স্পন্দনে আমিইতো প্রথম প্রান। আমিইতো এতদিন আশ্রয় দিয়ে সবাইকে টিকিয়ে রেখেছি আর আজ আমিই এখানে থাকতে পারব না? তা হয় না, এই পৃথিবী আমার। অঝোর ধারায় কাদছে সে..............Read More........
http://hatashe.blogspot.com/2009/06/revenge-prized-science-fiction-for.html
