আমার কিছু প্রস্তাবঃ
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক - স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী - স্বাধীনতার পথপ্রদর্শক
মৌলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী - স্বাধীনতার অগ্রনায়ক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - স্বাধীনতার স্থপতি
জিয়াউর রহমান - স্বাধীনতার ঘোষক
তাজউদ্দীন আহমেদ - স্বাধীনতার রূপকার
বঙ্গবীর মোঃ আতাউল গণি ওসমানী -স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক
উপরোক্ত প্রস্তাবের সপক্ষে নিম্নোক্ত ব্যাখ্যাঃ
১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একাধিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ রেখে শেরে বাংলা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠনের প্রাক্কালে শ্রী শরৎ বোসকে নিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী স্বাধীন বাংলাদেশ (অখন্ড বাংলাদেশ) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কংগ্রসের প্রবল বিরোধিতায় তাঁর সে উদ্যোগ ঐ মুহূর্তে সফল হয়নি সত্য, তবে ভবিষ্যৎ স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের পথ দেখিয়েছিল।
১৯৫৭ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে ভাসানী পাকিস্তানের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দ্ব্যর্থহীনভাবে বর্তমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবী উথ্থাপন করেন।
১৯৭১-এর ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ভাষণ স্বাধীন বাংলাদেশ স্থাপনে এক ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
১৯৭১-এর ২৬ শে মার্চ ভোররাত ২-১৫ মিনিটে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জিয়া বিদ্রোহ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে জিয়া তাঁর ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’য় ‘বঙ্গবন্ধুর পক্ষে’ কথাটি যুক্ত করে এক বিরাট দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। এতে তাঁর সূচিত সশস্ত্র সংগ্রামে সামরিক মাত্রার সাথে রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত হয়ে সার্বজনীন স্বাধীনতাযুদ্ধের পথ উম্মুক্ত হয়।
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতে তাজউদ্দীন জীবন বাজী রেখে আত্মগোপন করে ভারতে চলে যান এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতাযুদ্ধকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে সুসংগঠিত করে অসামান্য দক্ষতায় স্বাধীনতাকে বাস্তবরূপ দেন।
১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল থেকে বঙ্গবীর ওসমানীর সর্বাধিনায়কত্বে স্বাধীনতাযুদ্ধের চুড়ান্ত সফলতার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করে।
আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে সমকালীন ইতিহাসে (বিংশ শতাব্দীতে) যাঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ তাঁদের নামই শুধু উল্লেখ করলাম। এছাড়া শশাঙ্ক, গোপালদেব, আলাউদ্দীন হুসেন শাহ, সিরাজুদ্দৌলা, তিতুমীর, হাজী শরিয়তুল্লাহ - ইতিহাসের এ বীর নায়করা যুগে যুগে আমাদের স্বাধীনতার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থেকেছেন। তাঁদের কাছেও আমরা কম কৃতজ্ঞ নই!এই ইতিহাসে আরও থাক ৩০ লাখ শহিদের অথবা নাম নাজানা মুক্তিযোদ্ধাদের|
আমাদের বর্তমান জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে আমার বক্তব্য হোল, গানটি আমাদের বর্তমান বাংলাদেশ (পুর্বতন পূর্ববঙ্গ)-এর স্বাধীনতাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়নি -বরং তা মূলতঃ বঙ্গভঙ্গ রদ করে সর্বভারতীয় চেতনার আওতায় যুক্তবাংলা কায়েমের উদ্দশ্যে লেখা হয়েছিল। রবি ঠাকুরের সে উদ্দেশ্য (অর্থাৎ অখন্ড বাংলাদেশ) যদি কোনদিন প্রতিষ্ঠা পায় এবং সর্বভারতীয় চেতনার আওতায় না থেকে তা যদি স্বাধীন বাংলাদেশ হয়, তবে সে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে এ গানটি যথাযথ হতে পারে। আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে নূতন করে ভাবার অবকাশ রয়েছে।
