প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ

SalimC's picture
Posted by
SalimC
Saturday, May 30, 2009 - 12:07pm BST

আজ শনিবার মহান স্বাধীনতার ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। ১৯৮১ সালের ৩০ মে দেশ ও জাতি বিরোধী চক্রান্তে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের গুলীতে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জিয়াউর রহমান ছিলেন একাধারে ক্রান্তিকালে জাতির ত্রাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের অগ্রনায়ক।

এ দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিকের নাম। জাতীয় ইতিহাসে তিনি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন। মাত্র ৪৫ বছরের জীবদ্দশায় প্রতিটি অধ্যায় ছিল আমাদের স্বাধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি সংগ্রাম ও স্বনির্ভরতা আন্দেলনের ইতিহাসের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমান যখন পাকিস্তানের কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন তখন জিয়াউর রহামন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিশেহারা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে আহবান জানান। এই দেশকে আমাদের করে পেতে তিনি রণাঙ্গনে সশরীরে প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করেন। তিনি জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

এরপর তিনি ১৯৭৫ সালে দেশকে অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। শেখ মুজিব দেশ স্বাধীনের পর গণতন্ত্রের কবর দিয়েছিলেন একদলীয় বাকশাল গঠনের মধ্য দিয়ে। জিয়া সেই একদলীয় শাসন কাঠামো বাকশাল থেকে দেশের মানুষকে উন্মুক্ত আবহাওয়ায় বের হওয়ার সুযোগ করে দেয়াই নবেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ জাগ্রত হয়। সে সময় তার ওপর অর্পিত শাসনভার নিয়ে তিনি দেশে বকহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার শহীদ জিয়ার খালকাটা কর্মসূচি, কৃষি বিপ্লব, নারী উন্নয়ন, নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ছিল তখনকার যুগোপযোগী উদ্যোগ। সংবিধানে 'বিসমিল্লাহ' সংযোজন তার অসামান্য সাফল্য। কেবল রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার 'বিসমিল্লাহ' তুলে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জিয়ার সাফল্য ছিল অসাধারণ। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। তুলনারহিত দেশপ্রেম ও অমুখাপেক্ষী মনোভাব থেকেই তিনি ১৯ দফা উন্নয়ন কর্মসূচির ভিত্তিতে গড়ে তোলেন 'বিএনপি'। তার শাহাদাৎ বরণের পর সুযোগ্য পত্নী বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। বেগম জিয়া তিন তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের দুর্লভ গৌরব অর্জন করেন।

শেখ মুজিব যেখানে ব্যর্থ হয়েছেন শহীদ জিয়াউর রহমান সেখানেই সফল হয়েছেন। একজন গণতন্ত্র হত্যা করেছেন আর অপরজন বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিলীন করার জন্যই সরকার ৫ম সংশোধনী বাতিল করতে চাচ্ছে।শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত। তিনিই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা। তিনি ইতিহাসের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। এক অমর রাষ্ট্রনায়ক। তিনি অসম্ভব মিতব্যয়ী, পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল ছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক শহীদ জিয়াউর রহমানই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিল। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করার জন্যই বিডিআরের নাম ও পোশাক পরিবর্তন করতে চাচ্ছে বর্তমান সরকার।

জিয়াউর রাহমান বহুদলীয় গনতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত না করলে আওয়ামীলিগ এদেশে রাজনীতি করার অধিকারইতো পেতনা|আওয়ামীলিগ কে আওয়ামীলিগ-ই ধ্বংস করতে চেয়েছিল।সেদিনের তাহের উদ্দিন ঠাকুর,মোস্তাক গংরা আওয়ামীলিগের লোক ছিল।প্রেসিডেন্ট জিয়ার কারনেই আজ হাসিনা রাস্ট্র ক্ষমতায়,কারণ জিয়া আওয়ামি লিক হাসিনা কে পুনর্বাসন করেছে, একটা ফ্যাসিবাদি দল কে পুনর্বাসন করা যে ঠিক হয়নি স্বাধিনতার ঘোষকের তা আজ বাংলাদেশ টের পাচ্ছে|

১. জিয়া তলাবিহীন জুরির তলা লাগিয়েছেন। ২. জিয়া মাটির মানুষের সাথে মিশে গিয়েছিলেন। জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের “মহাথির”। আজ জিয়া বেচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যেত। জিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা কোনদিনও পুরন হবেনা। জিয়া অদ্ধিতীয় এবং অদ্ধিতীয়। জিয়ার সাথে কারো তুলনা করা যায় না। জিয়াই একমাত্র দেশ প্রধান ছিলেন যিনি দেশকে নিঃসার্থভাবে ভালবেসেছেন। মুজিব দেশকে বানায় তলাবিহিন ঝুড়ি এবং সেনাবাহিনির বদলে নিজস্ব রক্সী বাহিনি করে।জিয়াই স্বনির্ভর ডেশের ভিততি গড়েযান ও আজকের আধুনিক শকতিশালি সেনাবাহিনি গড়েন।এইবার আবার নতুন করে বুঝলাম, জিযা কত বড় মানুষ।যে নিজের জীবন বিপন্ন করে অন্যের জীবন বাচায় সেই হচ্ছে সত্যিকারের বীর।জিযা দেশ কে বাচিযেছেন। উনি ভারত ও যাননাই, পাকি ও যান নাই। উনি ছিলেন বাংলাদেশে মানুযের সাথে।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাল্য নাম ?কমল'। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ যখন সমৃদ্ধ হয়ে উঠছিল ঠিক তখনি তাকে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারীদের কবলে পড়তে হয়। আজ থেকে ২৮ বছর আগে এমনি এক মে মাসের ৩০ তারিখে ভোর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ঘুমন্ত অবস্থায় বিপথগামী সৈনিকেরা ব্রাশফায়ার করে সফল ও বিশ্বনন্দিত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। দেশের সর্ববৃহৎ জানাযার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে শহীদ জিয়াকে সমাহিত করা হয়। বিশেষ কোন উপলক্ষ ছাড়াও অসংখ্য দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন প্রিয় নেতাকে সালাম ও শ্রদ্ধা জানাতে আসে।