দিনবদলের কথামালার রাজনীতি এবং ভারত বান্ধব সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি|
আজিজুল হক বান্না
সরকারের প্রতিরক্ষা নীতির আদমছুরত দেখে সন্দেহ হয় যে, মুক্তিযুহ্নচলাকালে ভারত বাংলাদেশকে প্রতিরক্ষাবাহিনীশূন্য দিল্লীর তাঁবেদার রাষ্ট্র বানানোর লক্ষ্যে যে সাতদফা গোপন চুক্তি চাপিয়ে দিয়েছিল, তাই সরকার কৃতজ্ঞতার দায়বহ্নতায় এখন বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন কিনা? সেনাবাহিনীর শীর্ষপর্যায়ে ভারতপ্রীতির যে নবধারা তৈরি হয়েছে, তাতে সরকারের হয়েছে সোনায় সোহাগা অবন্সা। আওয়ামী লীগের ফ্যাসীবাদী দুর্বৃত্তপনার সহযোগী এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে ১/১১-এর পর থেকে জাতীয় সেনাবাহিনীকে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভূমিকায় টেনে আনা হয়েছে, তারই রাজনৈতিক সমীকরণ হচ্ছে ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের যাদুমমেআওয়ামী লীগ-মহাজোটের বিপুল নির্বাচনী বিজয়। বৈশ্বিক বণিকবৃত্তির মদদ এবং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণে বাংলাদেশের ক্ষমতার দৃশ্যপটে-লেন্দুপ দর্জি কিংবা হামিদ কারজাইয়ের উত্তরসূরিদের শাসন ক্ষমতা দীর্ঘন্সায়ী করার প্রক্রিয়া চলছে। শেখ হাসিনা ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। সংসদীয় সরকারের সাংবিধানিক ক্ষমতার মেয়াদ হচ্ছে পাঁচ বছর। পাঁচ বছর আর একটি নির্বাচনে নতুন করে ম্যান্ডেট না পেলে ক্ষমতাসীনদের বিরোধীদলের আসনে বসতে হবে। এটাই সংসদীয় রাজনীতির সাংবিধানিক রীতি। প্রধানমমী শেখ হাসিনা কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেছেন, তারা জনগণের আন্সা ধরে রাখতে পারলে আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে ম্যান্ডেট দিলেই তাদের পক্ষে পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে। ২০২১ সাল পর্যশ্চ ক্ষমতায় থাকতে হলে আওয়ামী লীগকে সামনের দু'টি নির্বাচনেও পরপর জয়ী হতে হবে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ফিলোসফার-গাইড ভারতের কংগ্রেস যেভাবে পর পর দু'বার ক্ষমতায় এসেছে, তা দেখে আওয়ামী লীগের মধ্যেও আশার সঞ্চার হতে পারে।
ক্ষমতার হাতবদলের বাইরে জাতিরাষ্ট্র রক্ষা তথা আধিপত্যবাদী থাবা থেকে আত্মরক্ষার প্রশ্নে জাতীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গণজাগরণই কেবল হ্নৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারে। অন্য অর্থে, হ্নাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পুনরুহ্নারে আর একটি-মহাসংগ্রাম বা মুক্তিযুহ্ন জাতির চেতনার দরজায় কড়া নাড়ছে। এই গভীর রাজনৈতিক বাস্তবতা এড়িয়ে রাজনীতিকে ক্ষমতার হাতবদলের পুরনো বৃত্তে আগলে রাখলে তাতে ব্যাপক জনগণের সম্পৃক্তি কতটা আসবে তা বলা কঠিন। সংসদীয় নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আওয়ামী লীগকে ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার ফ্যাসীবাদী রাজনীতির প্রাশ্চিক সিহ্নাশ্চ নিতে প্ররোচিত করেছিল । জার্মানীতে হিটলার নাৎসীবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গণতামিক ধারা হত্যা করে। হিটলারও জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি সুবিধা ভোগ করছে। প্রথমত. সংসদে যেকোন সাংবিধানিক সিহ্নাশ্চ নিতে তাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশিসংখ্যক আসন সংখ্যা রয়েছে। দ্বিতীয়ত. সেনাবাহিনীর বর্তমান চেইন অব কমান্ড আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্যাকেজের অনুগামী ও গুণগ্রাহী। সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডে এরশাদ যখন বলেছেন যে, সেনাবাহিনীর সহায়তা ছাড়া আওয়ামী লীগ কেয়ামত পর্যশ্চ ক্ষমতায় আসতে পারতো না, তখন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তার কোন প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যায়নি। আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরও বিগত নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ‘নিরপেক্ষ' ভূমিকা তাদের নির্বাচনী বিজয়কে নিশ্চিত করেছে বলে হ্নীকার করেছেন। কিশ্চু হঠাৎ করে জাতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়বহ্নতা বিহ্মৃত হয়ে আত্মহ্নীকৃত ভারত বান্ধব আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার গরজ কেন জাগলো? এই রাজনীতির রসায়নটা কী?
একটি দেশের প্রতিরক্ষাবাহিনী তার হ্নাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তার গ্যারাvর। রাজনৈতিক পক্ষগুলো যখন জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তখন জনগণ জাতীয় প্রতিরক্ষাবাহিনীর ওপর নির্ভর করেন। কিশ্চু দেখা যাচ্ছে, ভারতের হ্নার্থে ও শর্তে যে সরকার দেশের হ্নার্থ বিকিয়ে দেবার সর্বনাশা পথে আগুয়ান, তখন প্রতিরক্ষাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে জাতিসংঘ শাশ্চিরক্ষী বাহিনীতে কর্মসংন্সান বৃহ্নির মোহে নেশাগ্রস্ত হয়ে জনগণের প্রত্যাশা ও সাংবিধানিক দায়বহ্নতা বিহ্মৃতির আনজাম চলছে। তাহলে দেশের মানুষ কাদের ওপর ভরসা করে হ্নাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ভরসা করবে?
প্রধানমমী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের সশদ্ধবাহিনীকে ‘‘সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে একটি দেশপ্রেমিক, সাহসী, দক্ষ ও অজেয়-প্রতিরক্ষাবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’’ একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়নের কথাও প্রধানমমী বলেছেন। জাতিসংঘ আশ্চর্জাতিক শাশ্চিরক্ষী দিবস-২০০৯ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমমী একথা বলেছেন।
বিডিআর বিদ্রোহ দমনে সেনা অভিযানের অনুমতি না দেয়া এবং বিদ্রোহ ও সেনা অফিসার হত্যার তদশ্চ নিয়ে সরকারের রহস্যজনক আচরণের কারণে গোটা দেশে যখন হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, তখন প্রধানমমীর এই বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা কতটা রয়েছে, সে প্রশ্ন উঠবে। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনা অফিসার হত্যার তদশ্চ করতে গিয়ে সরকারের বিরাগ ভাজন হয়েছে। তদশ্চকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকার তার ক্ষমতার বহুমাত্রিক ব্যবহার করেছে। সেনাবাহিনীর তদশ্চ রিপোর্টকে অন্ধকার গহবরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সততা ও দায়বহ্নতা নিয়ে সরকার সন্দিগ্ধ কেন? কেন সরকার জাতীয় সেনাবাহিনীর তদশ্চকার্যক্রমকে সহায়তার বদলে বাঁকা চোখে দেখে আসছে? কেন সেনা তদশ্চকমিটির সদস্যদের ওপর সরকারের রক্তচক্ষু ও নিপীড়নের খড়গ বসানো হয়েছে?
সরকারের অপকীর্তি এখানেই শেষ নয়। সেনা তদশ্চ রিপোর্ট দাখিল করার পর এর ওপর মিডিয়া রিপোর্ট নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকরা অসহিষ্ণু ও উহ্নত মশ্চব্য করেছেন। তারা বলেছেন, সেনা তদশ্চ রিপোর্টটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' এবং সরকারকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। গোপনীয় রিপোর্টটি কীভাবে মিডিয়ার কাছে পৌঁছেছে, তা নিয়েও সরকারি মহল প্রশ্ন তুলেছেন। তথ্য অধিকার আইন পাসের পর পাবলিক ইvরেস্টেড বিষয় জনহ্নার্থেই প্রকাশিত হওয়া দরকার। একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনা তদশ্চ কমিটির কার্যক্রমকে হ্নাধীনভাবে এগুতে বাধাগ্রস্ত করার মধ্য দিয়ে তার অবন্সানকে যেমন প্রশ্নবিহ্ন করেছে, তেমনি সেনাবাহিনীর প্রতি তাদের সম্পর্কের মানদন্ডও প্রকাশ করেছে। দ্বিতীয়ত: সেনা তদশ্চকমিটির রিপোর্টকে গায়েব করে তারা প্রকৃত সত্য জনগণের কাছ থেকে আড়াল করে রাখতে চাইছে। সেনা তদশ্চ রিপোর্ট প্রকাশের ঘটনা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে বিষোদগারের পর সেনাপ্রধান বলতে বাধ্য হয়েছেন যে, সেনা তদশ্চ কার্যক্রম সেনাবাহিনীর একাশ্চ নিজহ্ন বিষয়। এটি প্রকাশ বা সরকারের কাছে জমা দেয়ার বিষয়টিও সেনাবাহিনীর নিজহ্ন ব্যাপার।
তবে সেনাবাহিনীর তদশ্চ কার্যক্রম যেমন দেশবাসীর আগ্রহ ও আন্সা সৃষ্টি করেছিল, তেমনি সেনাবাহিনীর হ্নজনহারা পরিবারের মাঝেও প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আশাবাদ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনা অফিসারদের হত্যার তদশ্চ নিয়ে শুরু থেকেই যখন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে তারা প্রশ্নবিহ্ন করে তুলেছিল, তখন সেনাবাহিনীর তদশ্চ কমিটি গঠনকে সংশ্লিষ্টরা নিরাশার মধ্যে আশার ঝলকানি হিসেবে দেখেছিল। হ্নরাষ্ট্রমমী ও আইন প্রতিমমীর সমন্বয়ে প্রথমে যে তদশ্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তীব্র প্রতিবাদের মুখে সরকার তা বাতিল করে দ্বিতীয় পর্বে একজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল আমলাকে চেয়ারম্যান করে কমিটি পুনর্গঠন করে। সেনাবাহিনীর প্রতি সরকারের আন্সা এতটাই নিচে নেমে যায় যে, তারা সরকারি তদশ্চ কমিটিতে সেনা প্রধান বা পুলিশের আইজি অথবা কোন সাবেক শীর্ষ সেনা অফিসারকেও ঠাঁই দেয়নি। সরকারি তদশ্চ কমিটির আংশিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তবে সরকার এর ‘প্রয়োজনীয়' অংশটুকু মাত্র প্রকাশ করেছে। ৩০৯ পৃষ্ঠার তদশ্চ রিপোর্টের মাত্র ৭ পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত এ রিপোর্টের মূল দুর্বলতা হচ্ছে, বিডিআর বিদ্রোহের মূল কারণই তারা উদঘাটন করতে পারেনি। এ কারণেই রিপোর্টটি অসম্পূর্ণ ও অর্থহীন হয়ে পড়েছে। এ কমিটি আরও উচ্চপর্যায়ের তদশ্চের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে কমিটির এ সুপারিশ অনুযায়ী আরও হ্নচ্ছ ও অর্থপূর্ণ তদশ্চ হবে বলে মনে হয় না। তদশ্চ কমিটিই যেখানে রিপোর্টকে অসম্পূর্ণ মনে করে আরও উচ্চপর্যায়ের তদশ্চ করার মত দিয়েছে, সেখানে এই তদশ্চ রিপোর্টের ওপর বিচার করাটা কতটা শুহ্ন ও ফলপ্রসূ হবে, সে প্রশ্ন রয়েছে। একটি সূত্রমতে, সেনাবাহিনীর তদশ্চ রিপোর্টটি নিয়ে কয়েকজন জেনারেল প্রধানমমী সকাশে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমমীর রূঢ় আচরণের সম্মুখীন হয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। ঐ রিপোর্টে প্রধানমমীর ঘনিষ্ঠ কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার ভূমিকা উল্লেখ করা হয়। এসব নেতাদের বিডিআর বিদ্রোহের সাথে পূর্বাপর সংযোগ সম্পর্ক এতটাই ওপেন সিক্রেট যে, এ নিয়ে তেমন গবেষণার প্রয়োজন নেই। প্রধানমমী নাকি বলেছেন, ‘‘দলের অনেক নেতাকেই আপনারা ফাঁসিয়েছেন। তবে আমাকে বাদ রাখলেন কেন?’’ সংগতকারণেই ওই সব সেনা অফিসারদের প্রধানমমীর সম্মুখ থেকে চলে আসা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। প্রকাশিত এই তথ্য সঠিক হলে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সেনা তদশ্চ কার্যক্রম ও তার ফাইন্ডিংসের ক‡স নিয়ে তার যে প্রবল আপত্তি আছে, তা-ও বোঝা গেল।
এর আগে, বিডিআর বিদ্রোহীরা ৫৫ জন শীর্ষ ও মেধাবী সেনা অফিসারকে হত্যা করার পর শোকাহত ও বিক্ষুব্ধ সেনা সদস্যদের সাথে ক্যানমে‡ প্রধানমমীর যে ক্যামেরা সিটিং হয়, সেখানে সেনা সদস্যরা প্রধানমমীর সামনে তাদের বেদনা ও তিক্ত অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। প্রধানমমী সেখান থেকে ফিরে সংসদে এসে বলেছেন, ক্যানমে‡ তিনি যে সব কথা শুনে এসেছেন, সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠেও একই কথা শুনছেন। প্রধানমমীর বক্তব্যে বিরোধী দলের সাথে বিক্ষুব্ধ সেনা অফিসারদের একটা গোপন সম্পর্কের ইঙ্গিত হয়তো রয়েছে। জাতীয় সেনাবাহিনীর অনুভূতির সাথে বিরোধী দলের অনুভূতি মিলে যাবে, এটাই তো হ্নাভাবিক। এ নিয়ে প্রধানমমীর আক্ষেপ-কটাক্ষ দুঃখজনক।
বাণিজ্যমমী ফারুক খান বলেছিলেন, সরকারি তদশ্চ কমিটির রিপোর্টের সাথে সেনা তদশ্চ কমিটির রিপোর্টের খুব একটা পার্থক্য হবার কথা নয়। তবে দুটি রিপোর্টই যখন জনগণের দৃষ্টির আড়ালে রেখে দেয়া হয়েছে, তখন জনগণ রিপোর্ট মিলিয়ে দেখবে কিভাবে? সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সততা ও দক্ষতার ওপর যদি সরকারের আন্সা থাকতো, তাহলে দুটি রিপোর্ট একত্র করেও আর একটি সমন্বিত রিপোর্ট তৈরি করতে পারতো।
সরকার নিজেদের ঘরানার লোকদের রক্ষা করার জন্য যে গোঁজামিল দিতে শুরু করেছে, তাতে এক অনশ্চ প্যান্ডোরার বাক্স খোলা হয়েছে বলে মনে হয়। জাতীয় প্রতিরক্ষাবাহিনীর এই মহাসংকটেও সরকারের সীমারসুলভ আচরণ একটা ভয়ঙ্কর বিপদের ইঙ্গিত। রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সেনা কর্তৃত্ব যদি এই সংকটকে উপেক্ষা করে যায়, তাহলে ‘অজেয়' সেনাবাহিনী গঠনের প্রতিশ্রক্ততি মিথ্যা হয়ে যাবে। ‘অজেয়' বাহিনীর সাথে সামরিক বিজয়ের একটা ‘মীথ' জড়িত। সামরিক বাহিনীর প্রতিপক্ষের ধারণাকেই যেখানে লুপ্ত করা হচ্ছে, সেখানে সেনাবাহিনীকে নিধিরাম সর্দার বানানোর খায়েশ অর্থহীন। আমাদের বিডিআর পুনর্গঠনের টেকনিক্যাল ও ফিলোসফিক্যাল পরামর্শ আসবে ‘বন্ধুদেশ' ভারত থেকে। আমাদের সেনাবাহিনীর প্রতিপক্ষ তারাই, যারা ভারতের অভ্যশ্চরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি! জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ভারতের স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী যৌথ সামরিক মহড়া ও অভিযানে শামিল করার পর বাংলাদেশের হ্নাধীন-সার্বভৌম নিরাপত্তা কৌশল ও নীতি-অবন্সান আর থাকে কোথায়? প্রধানমমী কোন্ দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়নের কথা বলছেন? এটাও ভারত থেকে আমদানি করা হবে নাকি?
যে দেশের হ্নাধীন পররাষ্ট্রনীতি বিলুপ্তির পথে, সে দেশের হ্নাধীন প্রতিরক্ষা নীতি থাকে কি করে? বিগত ২৫-২৬ ফেব্রক্তয়ারির সেনা ম্যাসাকারের পর ভারত যখন বিডিআরকে নরম মাটির হাতে গড়া মূর্তির মতো আমাদের বিডিআর পুনর্গঠনের অবারিত সুযোগ পেয়েছে, তারপরও ভারতীয় বিএসফ সীমাশ্চে নিরীহ বাংলাদেশীদের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। সীমাশ্চে ভারতবান্ধব একটি লাঠিয়াল বাহিনী থাকলে ভারতের দস্যুতা যে কত ভয়ঙ্কর রূপ নেবে, সে প্রশ্ন ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।
আওয়ামী লীগ জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট পেয়ে সরকার গঠন করেছে বলে তাদের জাতীয় ইস্যুতে যতটা প্রত্যয়ী, দৃঢ় ও আন্সাশীল হবার কথা, তা তারা দেখাতে পারছে না কেন? পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের দেউলে নীতি এবং ভারত তোষণের নির্লজ্জ প্রতিযোগিতার জন্য জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়নি। এশিয়ান হাইওয়ের ছvবরণে ভারতকে করিডোর প্রদানের হ্নপ্ন পূরণ, চট্টগ্রাম বন্দর, নৌ-ট্রানজিট প্রদান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারতের হ্নাধীনতাকামীদের বিরুহ্নে বাংলাদেশকে বন্দুকের নিশানা বানানো ইস্যুতে সরকারের প্রতি জনগণের আন্সা আছে কি না, সরকারের সাহস থাকলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে পুনরায় নির্বাচনের মুখোমুখি হয়ে জনমত যাচাই করে দেখতে পারে। জনগণ সরকারকে দেশ বিক্রির কোন ছাড়পত্র দেয়নি। এক মমী বলেছেন, বাংলাদেশকে ‘তালেবানী রাষ্ট্র' বানানোর ষড়যমচলছে। এর আগে বাণিজ্যমমী বিডিআর বিদ্রোহে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কথা বলে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন। তবে সরকারের অনুগত ও হাত-পা বাঁধা তদশ্চ কমিটিও বলেছে, বিদ্রোহে তারা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোন প্রমাণ পায়নি। এ ব্যাপারে বিতর্কিত মশ্চব্যটি বাণিজ্যমমীর একাশ্চ ব্যক্তিগত বলেও তদশ্চ কমিটির প্রধান মশ্চব্য করেছেন। বাংলাদেশের হ্নাধীনতা-সার্বভৌমত্বের হ্নপক্ষ শক্তিকে তালেবান, ভারতীয় উলফার সহযোগী কিংবা ‘যুহ্নাপরাধী' হিসেবে চিহ্নিত করে আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম বানচাল করা সম্ভব হবে না। এটা সম্ভব হলে বাংলাদেশ ভারতের আধিপত্যবাদের মৃত্যু-গহবরের মাঝেও এতদিন ধরে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারতো না। গণতমহত্যার বাকশালী ঔহ্নত্যকে এদেশের মানুষ ক্ষমা করেনি। সংসদের মাধ্যমে লোন্দুপ দর্জির কায়দায় সিকিমাইজেশনে বাংলাদেশকে দিল্লীর হাতে তুলে দেবার কোন মীরজাফরী চক্রাশ্চ করা হলে জনগণ তা ইতিহাসের গতিধারায় রুখে দেয়ার শক্তি রাখে। টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ না জানিয়ে প্রধানমমী ভারতের হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবতীকে সশ্চুষ্ট করতে বাঁধ পরিদর্শনে সংসদীয় টিম পাঠানোর কথা বলেছেন। এটা প্রধানমমীর অবন্সান ও মর্যাদার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ এক ধরনের শঠতাপূর্ণ বক্তব্য। বিএনপি বলেছে, সংসদীয় কমিটি নয়, বিশেষজ্ঞ দল পাঠাতে হবে। প্রধানমমী বা সরকারের অন্য কোন নীতি-নির্ধারক আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞদের সাথে বসে তাদের মতামত নিতে পারেন। বাকপটু বাণিজ্যমমী ফারুক খান বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে না জেনেই মশ্চব্য করা হচ্ছে। পরিবেশ আন্দোলনের পক্ষ থেকে সুশীল নেতা অধ্যাপক মোজাফফর বলেছেন, জাতীয় হ্নার্থ রক্ষা করতে না পারলে এ ধরনের মমীদের পদত্যাগ করা উচিত। জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বলেছেন, টিপাইমুখ নিয়ে সরকারের চাতুর্যপূর্ণ বক্তব্যে জাতি মর্মাহত।
এদিকে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিডিআর ঘটনার সরকারি তদশ্চ রিপোর্টকে ‘অগ্রহণযোগ্য' বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই মশ্চব্যকে একজন মমী ‘ঈর্ষাপরায়ণ' বলেছেন। যারা সেনাবাহিনীর প্রতি বাংলাদেশের সূচনাকাল থেকেই ঈর্ষা করে এসেছে, তাদের মুখে এমন মশ্চব্য মানায় না। রিপোর্ট যারা তৈরি করেছেন, তারা তাদের সীমাবহ্নতা হ্নীকার করে আরও উচ্চপর্যায়ের তদশ্চের সুপারিশ করেছেন। রিপোর্টে বিদ্রোহের মূল কারণ উদঘাটনে ব্যর্থতার দায়ও হ্নীকার করা হয়েছে। এসব মশ্চব্য বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে আরও জোরালো করে। সুতরাং বেগম জিয়ার বিরুহ্নে বিষোদগারের বদলে তদশ্চ কমিটি প্রধানের বিরুহ্নেই সরকারকে ব্যবন্সা নিতে হবে। রিপোর্ট প্রকাশের পর সরকারের আতঙ্কিত ভূমিকায় সরকার আরও বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। বিরোধীদল তাদের পূর্বের দাবির পুনরাবৃত্তি করে আবারও বিডিআর বিদ্রোহ তদশ্চে সর্বদলীয় সংসদীয় তদশ্চ কমিটি গঠনের দাবি করেছে। সরকারের উচিত হবে এ ব্যাপারে হ্নচ্ছ ও সঠিক সিহ্নাশ্চ নেয়া। এতে দেশও বাঁচবে, সরকারও রক্ষা পাবে।
