"এতো টাকার কথা শুনে তো আমার মাথা ঘুরাচ্ছে।"-তামিম

kabir0202's picture
Posted by
kabir0202
Saturday, April 25, 2009 - 10:16pm BST

Image
এক ম্যাচে তামিম পাবেন ৭ লাখ ৭০ হাজার, জাভেদ ওমর ৮ হাজার
আইপিএলের নিলামে উঠতে না পারার দুঃখ সুদে-আসলে পুষিয়ে দিল পিসিএল (পোর্ট সিটি লিগ)! এমন দাবি করলেন স্বয়ং তামিম ইকবালই। ইউএস ডলার আর টাকার ব্যবধানটা বিস্তর হলেও শনিবার বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হওয়া ক্রিকেটারদের নিলামে যে মূল্যে বিক্রি হয়েছেন তিনি, তা মাশরাফি বিন মর্তুজার আইপিএলে ৬ লাখ ডলারের অবিশ্বাস্য অঙ্কে বিকোনোর সঙ্গেই তুলনীয়। জাতীয় দলের এই ওপেনারকে ম্যাচপ্রতি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। আগামী ২ মে থেকে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া পিসিএলে আটটি দল দুই গ্র"পে ভাগ হয়ে খেলবে। এরপর প্রতি গ্র"পের শীর্ষ দুই দল খেলবে সেমিফাইনালে। তামিমের দল ফাইনালে উঠলে তাকে খেলতে হবে পাঁচটি ম্যাচ। আর এই অল্প কটা ম্যাচ খেললেই তার অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের সামনে এর আগে দেশের মাটিতে এতো বিপুল অঙ্কের হাতছানি নিয়ে আর কোনো টুর্নামেন্ট আসেনি।

তাই ঢাকায় থাকা তামিমকে চট্টগ্রাম থেকে টেলিফোনে ধরার পর তার এমন প্রতিক্রিয়া শোনাই খুব স্বাভাবিক ছিল, "এতো টাকার কথা শুনে তো আমার মাথা ঘুরাচ্ছে।" চট্টগ্রাম ক্লাবের অডিটোরিয়ামে নিলামে উপস্থিত অন্য অনেকের মতো তামিমের দর শুনে ভীষণ অবাক হয়েছেন তার মা নুসরাত ইকবালও, "জানতাম যে তামিমকে সব দলই পেতে চাইবে। তাই বলে এতো টাকা ওর পেছনে খরচ করবে কেউ, এটা কখনোই ভাবিনি।" প্রীতি জিনতার সঙ্গে টানাটানির পর কলকাতা নাইট রাইডার্সের জুহি চাওলা যে মাশরাফিকে ৬ লাখ ডলারে কিনে নেবেন, সেটাইবা কে ভেবেছিল! এজন্যই আইপিএলের দ্বিতীয় আসরের নিলামে সবচেয়ে আলোচিত চরিত্রে পরিণত হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক। চড়া মূল্যে না বিকোন, অন্তত নিলামে তার নামটা উঠবে- এমন আশা তো অবশ্যই ছিল তামিমের। সেই আশা পূরণ না হওয়ার দুঃখেও পুড়েছেন খানিকটা। কিন্তু এখন ম্যাচপ্রতি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকার অঙ্কে সেই আফসোসের জায়গা হচ্ছেই না, "হ্যাঁ, আইপিএলের নিলামে উঠিনি বলে কষ্ট তো কিছুটা পেয়েইছিলাম। আমি চট্টগ্রামের লোক। চট্টগ্রামের লোকেরা যে আমার দুঃখ এভাবে ভুলিয়ে দেবে আশাই করিনি।"

এই নিলামে তোলা হয়েছিল ৪৮ জন ক্রিকেটারকে। আইপিএলের মতো এখানে তো আর নায়িকার ছড়াছড়ি আর গ্ল্যামারও সেভাবে ছিল না বটে, তবে মডেলদের দিয়ে আটটি দলের পতাকা-জার্সি বয়ে এনে অনুষ্ঠানটাকে জমকালো করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন আয়োজকরা। সংবাদ তারকা জ. ই. মামুন ও মুন্নী সাহা'র উপস্থাপনায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের নিলাম পর্ব শুরু করেন সাবেক ক্রিকেটার রাফি নিজাম। শুরুটা হয় তামিমকে দিয়েই। 'এ প্লাস' শ্রেনীর দু'জনই ছিলেন- তামিম ও জুনায়েদ সিদ্দিকী, যাদের বেজ প্রাইস (ভিত্তি মূল্য, এখান থেকে দর ডাকা শুরু) ছিল ম্যাচপ্রতি ৩০ হাজার টাকা। তামিমের নাম ডাকার সঙ্গে সঙ্গেই তড়তড়িয়ে বাড়তে থাকে দর। সেটা ৭ লাখ ৭০ হাজারে ওঠার পর নিলামকারীর ঘোষণা, "তামিম ইজ সেলিং টু আবাহনী, সেভেন লাক সেভেনটি থাউজেন্ড- ওয়ান্স, টোয়াইস অ্যান্ড সোল্ড"।

এতো টাকায় তামিমকে কেনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম ফারুক চৌধুরী বললেন, "আমরা চেয়েছিলাম সেরা খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়ে সেরা দল গড়বো। তাই যে কোনো মূল্যেই হোক তামিমকে কেনার ইচ্ছে নিয়েই আমরা এই নিলামে আসি।" তামিমের তুলনায় 'এ প্লাস' শ্রেনীর অন্য ক্রিকেটার রাজ্জাকের দরটা সেভাবে ওঠেনি। তিনি ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে বিক্রি হয়েছেন ম্যাচ প্রতি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায়। পিসিএল টোয়েন্টি টোয়েন্টির দ্বিতীয় সবচেয়ে দামী ক্রিকেটারও তিনি নন। সেটা টোয়েন্টি টোয়েন্টি বিশশ্বকাপের জন্য বাংলদেশের ২১ জনের দলে থাকা সোহরাওয়ার্দী শুভ। এই বাঁ হাতি স্পিনারকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে পাইরেটস অফ চিটাগাং। রাজ্জাকের চেয়ে দামী আরো একজন হচ্ছেন জুনায়েদ। তাকে কিনতে দাদা ওয়ারিয়র্সের খরচ হচ্ছে ম্যাচপিছু ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

আর লাখের নীচে সবচেয়ে বেশি দাম উঠেছে ঘরোয়া ক্রিকেটের দুই সফল পারফরমার আরাফাত সানি ও ইলিয়াস সানির। তাদের পেছনে ম্যাচপ্রতি দাদা ওয়ারিয়র্স এবং নোয়াখালীর টপ স্পোর্টসের খরচ হবে ৭৫ হাজার টাকা করে। অনেকের দর আবার নামের তুলনায় হতাশাব্যঞ্জকই। এই যেমন সদ্যসমাপপ্ত প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের সেরা ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান শুভ'কে মাত্র ১৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে ইস্পাহানী স্পোর্টস ক্লাব। আর সবচেয়ে কম মূল্যে বিক্রি হওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর। সবশেষের 'বি শ্রেণী'তে অন্তর্ভূক্ত জাভেদের বেজ প্রাইস ৮ হাজার টাকায়ও প্রথমে তাকে কেউ কিনতে চায়নি। অথচ অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিগ স্ক্রিনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বেশ কিছু সোনালী মুহূর্তের মধ্যে তিনিও ছিলেন। ২০০১ সালের জিম্বাবুয়েতে টেস্ট অভিষেকে দুই ইনিংসেই ফিফটি করে ম্যান অফ দি ম্যাচ হওয়া এবং অভিষেকেই 'ক্যারিং দি ব্যাট থ্রু দি ইনিংস' এর বিরল কৃতিত্ব দেখানো এই ওপেনারের টোয়েন্টি টোয়েন্টি উপযোগীতা নেই বলেই হয়তো এমন হল। অবশ্য শেষপর্যন্ত তাকে বেজ প্রাইস অর্থাৎ ৮ হাজার টাকায় কিনে নেয় চট্টগ্রাম মোহামেডান।

অনেকে অনেক টাকায় বিক্রি হলেও নিলাম কক্ষেই অন্যরকম গুঞ্জনও শোনা গেল। সেটা এরকম যে, অনেক দামে বিক্রি হলেও প্রকৃত মূল্যটা আসলে অনেকেই পাবেন না। পিসিএল কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানালেন, 'আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং'য়ের সুযোগ এর আগে কেউ কেউ তৈরি করলেও এখন আর সেটা নেই। তাছাড়া এধরনের কিছু ঠেকাতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানালেন তিনি, "আমরা দলগুলোকে জানিয়ে দিচ্ছি, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই প্রতিটা খেলোয়াড়কে দুই ম্যাচের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে। এরপর কোনো দলের সেমিফাইনাল যাওয়ার সম্ভাবনা দেখলে আরো দুই ম্যাচের টাকাও অগ্রিম দেওয়ার ব্যবস্থা করবো আমরা।"

আয়োজকদের এই নিয়ম-নীতি দলগুলো মানলে ২ মে পিসিএল শুরুর আগেই তামিমের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা!

জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যে দলের কাছে ম্যাচপ্রতি যে মূল্যে বিক্রি হলেন : তামিম ইকবাল (আবাহনী, ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা), আব্দুর রাজ্জাক (ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ১ লাখ ১০ হাজার টাকা), ইমরুল কায়েস (মোহামেডান, ৬৮ হাজার টাকা), জুনায়েদ সিদ্দিকী (১ লাখ ৩১ হাজার টাকা, দাদা ওয়ারিয়র্স), মেহরাব হোসেন জুনিয়র (ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ৬৮ হাজার টাকা), রকিবুল হাসান (টপ স্পোর্ট, ৬০ হাজার টাকা), কাজী শাহাদাত হোসেন (ঢাকা স্পোর্টস ক্লাব, ৩০ হাজার টাকা), মুশফিকুর রহিম (ইস্পাহানী, ২৬ হাজার টাকা), সৈয়দ রাসেল (আবাহনী, ২০ হাজার টাকা), নাজমুল হোসেন (ঢাকা স্পোর্টস, ২০ হাজার টাকা), মাহমুুদুল্লাহ রিয়াদ (টপ স্পোর্ট, ২৯ হাজার টাকা), নাঈম ইসলাম (পাইরেটস অফ চিটাগাং, ৭০ হাজার টাকা), মাহবুবুল আলম রবীন (ইস্পাহানী, ২০ হাজার টাকা), রুবেল হোসেন (দাদা ওয়ারিয়র্স, ২০ হাজার টাকা), সাজিদুল ইসলাম (মোহামেডান, ২০ হাজার টাকা) এবং সোহরাওয়ার্দী শুভ (পাইরেটস অফ চিটাগাং, ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা)।

প্রিমিয়ার ক্রিকেটের পারফরমাররা যে দলের কাছে ম্যাচপ্রতি যে মূল্যে বিক্রি হলেন : আরাফাত সানি (দাদা ওয়ারিয়র্স, ৭৫ হাজার টাকা), এনামুল হক জুনিয়র (আবাহনী, ১৫ হাজার টাকা), নাফিস ইকবাল (ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ৩১ হাজার টাকা), হান্নান সরকার (আবাহনী, ৪৭ হাজার টাকা), রাজিন সালেহ (ঢাকা স্পোর্টস ক্লাব, ২১ হাজার টাকা), ফয়সাল হোসেন (দাদা ওয়ারিয়র্স, ৫০ হাজার টাকা), ইমরান আহমেদ (দাদা ওয়ারিয়র্স, ৫৭ হাজার টাকা), ডলার মাহমুদ (ব্রাদার্স, ১৫ হাজার টাকা), তারেক আজিজ (মোহামেডান, ১৫ হাজার), শামসুর রহমান শুভ (ইস্পাহানী, ১৫ হাজার টাকা), সগীর হোসেন (ইস্পাহানী, ২৩ হাজার টাকা), উত্তম সরকার (ঢাকা স্পোর্টস ক্লাব, ২৩ হাজার টাকা), রাসেল আল মামুন (মোহামেডান, ১৫ হাজার টাকা), মোহাম্মদ শরীফুল্লাহ (পাইরেটস অফ চিটাগাং, ৬৫ হাজার টাকা), নাজমুল হোসেন মিলন (টপ স্পোর্টস, ৬৫ হাজার টাকা), ইলিয়াস সানি (টপ স্পোর্টস, ৭৫ হাজার টাকা), নাজমুস সাদাত (টপ স্পোর্টস, ৬০ হাজার টাকা), তালহা জুবায়ের (আবাহনী, ১০ হাজার টাকা), তুষার ইমরান (৪৭ হাজার, ব্রাদার্স ইউনিয়ন), মনির হোসেন (ইস্পাহানী, ১০ হাজার টাকা), সিরাজুল্লাহ খাদেম (পাইরেটস অফ চিটাগাং, ৩২ হাজার টাকা), জাভেদ ওমর (মোহামেডান, ৮ হাজার টাকা), তাপস ঘোষ (ঢাকা স্পোর্টস ক্লাব, ৮ হাজার টাকা) এবং তারিক আহমেদ (পাইরেটস অফ চিটাগাং, ৩২ হাজার টাকা)।

চট্টগ্রাম বিভাগ এবং এর অন্তর্গত জেলার ক্রিকেটাররা যে দলের কাছে ম্যাচপ্রতি যে মূল্যে বিক্রি হলেন : আব্দুল আহাদ রিপন (আবাহনী, ৮ হাজার টাকা), রেজাউল করিম রাজীব (ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ৬২ হাজার টাকা), আবু নেওয়াজ লিখন (মোহামেডান, ৮ হাজার টাকা), ইকরামুল হক (টপ স্পোর্টস, ৮ হাজার টাকা), সাজ্জাদুল হক রিপন (ইস্পাহানী, ১৪ হাজার টাকা), কামরুল ইসলাম (দাদা ওয়ারিয়র্স, ৮ হাজার টাকা), ওয়াসেলউদ্দিন (ঢাকা স্পোর্টস ক্লাব, ৮ হাজার টাকা) এবং গাজী সালাউদ্দিন (পাইরেটস অফ চিটাগাং, ৮ হাজার টাকা)।

Comments

kabir0202's picture

তামিম এর মূল্য আইপিএল না দিলেও বাংলাদেশ দিচ্ছে।

তামিম এর মূল্য আইপিএল না দিলেও বাংলাদেশ দিচ্ছে। আজকেও খেলার তালিকয়ও মাসরাফির নাম নেই। কেন এত অবহেলা? শুধুই কি বাংলাদেশী বলে?