"দেশের রেমিটেন্স প্রবাহে এখনও বিশ্ব অর্থনীতির চলমান মন্দার প্রভাব পড়েনি"

kabir0202's picture
Posted by
kabir0202
Tuesday, May 5, 2009 - 1:48am BST

Image
দশ মাসে গত অর্থবছরের সমান রেমিটেন্স এসেছে

দেশের রেমিটেন্স প্রবাহে এখনও বিশ্ব অর্থনীতির চলমান মন্দার প্রভাব পড়েনি।

চলতি ২০০৮-০৯ অর্থ বছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আগের অর্থবছরের পুরো সময়ের (১২ মাস) প্রায় সমান রেমিটেন্স দেশে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ৮৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের এপ্রিলে তারা পাঠিয়েছিলেন ৭৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার।

রেমিটেন্স প্রবাহের এ ইতিবাচক প্রবণতার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৬৫০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অঙ্ক ছিল ৬৫১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর আতিউর রহমান সোমবার বলেছেন, রেমিটেন্স প্রবাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এতে যাতে বিশ্বমন্দার প্রভাব না পড়ে সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আতিউর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মূলত রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এটা দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই ইতিবাচক।"

ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আরও বেশি রেমিটেন্স দেশে আসা নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থ বছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৭৮৯ কোটি ০৯ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছে যা গত অর্থ বছরের (২০০৭-০৮) পুরো সময়ের (১২ মাস) প্রায় সমান।

গত অর্থবছরে ৭৯১ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল।

আগামী দু'মাসেও (মে-জুন) রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন নয়া গভর্নর।

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব পড়ার পর থেকেই দাতা সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি) বলে আসছে মন্দার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত রেমিটেন্স প্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে।

স্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরাও একই ধরনের আশঙ্কা করেছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে গত মার্চে ৮৮ কোটি ১৩ লাখ ডলারের রেকর্ড অঙ্কের রেমিটেন্স দেশে পাঠানো হয়। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স পাঠানো হয় গত জানুয়ারিতে, ৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

চলতি অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৮২ কোটি ০৭ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠানো হয়। আগস্টে আসে ৭২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে ৭৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ৬৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ৭৬ কোটি ১৪ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স আসে।

এছাড়া গত ফেব্র"য়ারিতে ৭৮ কোটি ৪৫ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।