" যতই আমাকে বাবার কাছে পাঠাও না কেন আমি আল্লাহর আশ্রয়ে যাবো।"

kabir0202's picture
Posted by
kabir0202
Tuesday, May 5, 2009 - 2:40pm BST

ধর্মান্তরিত করা ১৫ বছরের কিশোর পরেশ চন্দ্র সরকার ওরফে জোবায়েরকে অবশেষে মীরপুরের সরকারি শিশু আশ্রয় কেন্দ্র থেকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দিয়েছে আদালত। দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে তাকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল বলে আইনজীবীরা দাবি করেছেন।

ঢাকার নিম্ন আদালত পাড়ায় এই কিশোরের জিম্মা নিয়ে গত একমাস ধরে তুমুল বিতর্কের পর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের হাকিম শামীমা পারভীন সোমবার আবার শুনানি করে বিকেলে এ আদেশ দেন।

মীরপুর সরকারি শিশু আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানোর আগে পরেশকে নিরাপত্তা হেফাজতের নামে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন একই হাকিম।

২০০৬ সালে পরেশকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জনৈক গৌতম শীলের সেলুনে কাজ করতে পাঠান তার বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার কাদৈর গ্রামের কাঠমিস্ত্রী কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার। সে দোকান থেকে পরেশ কাউকে কিছু না বলে উধাও হয়ে যায়। প্রায় দু'বছর পর ২০০৮ সনের ২৫ এপ্রিল ঢাকার জিপিও থেকে ৪ হাজার টাকা এবং পরেশের হাতে লেখা একটি চিঠি পান কৃষ্ণচন্দ্র। চিঠি পেয়ে কৃষ্ণচন্দ্র জিপিওতে যান। কৃষ্ণচন্দ্র বলেছেন, জিপিও-র কর্মচারী জনৈক বাতেন তাকে বলেন, "ওই ছেলেকে আমি বের করে দিতে পারি, যদি পরেশের বাবা-মা ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হন।"

এরপর কৃষ্ণচন্দ্র পল্টন থানায় সে বছরের ২৬ অক্টোবর সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরির তদন্তে জানা যায়, ভৈরবের সেলুনে কাজ ছেড়ে পরেশ ঢাকায় চলে আসে। ৪৪, টয়েনবী সার্কুলার রোডের বিসমিল্লাহ হোটেলের মালিক হামদু মিয়ার অধীনে সে কাজ নেয়। হোটেলে থাকার সময় উৎসবমুখরভাবে ঈদের নামাজ পড়া দেখে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয় এ কিশোর। পরে মসজিদে গিয়ে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। জোবায়ের নাম নেওয়া পরেশ এরপর হোটেলের চাকরি ছেড়ে তাবলীগে চলে যায়।

পরেশের বাবা পল্টন থানায় গিয়ে হোটেল মালিক হামদু মিয়ার বিরুদ্ধে তার নাবালক ছেলেকে প্ররোচিত করে ভুল বুঝিয়ে মুসলমান বানানোর জন্য অভিযোগ দায়ের করেন।

গত ৭, ১৪ এবং ২৮ এপ্রিল পরেশের জিম্মা নিয়ে আদালতে তুমুল বাক বিতণ্ডা হয়। আদালত শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. নাসিমকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

সোমবার আদালতে পরেশের জিম্মার জন্য রাজধানী মাতুয়াইলের এমদাদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নেয়ামত উল্লাহ ও সনাতন ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি নিখিল চন্দ্র পাল রানুর আবেদন নাকচ করেন হাকিম। পরেশকে শেষ পর্যন্ত বাবার আশ্রয়েই ফেরত যেতে হয়। হাকিম আদেশে বলেন, "ভিকটিম যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক আইন অনুযায়ী তাই বাবাই তার প্রকৃত অভিভাবক। তাই তাকে বাবার হেফাজতে পাঠানো হোক।"

আদালত আদেশে আরো বলেন, "ভিকটিমের বাবা সাধারণ ডাইরি (জিডি) তে উল্লেখ করেছিলেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ঘরের বাইরে থাকায় মৌলবাদীদের কবলে পড়ে জঙ্গী প্রশিক্ষণ নিয়েছে। যদিও তদন্ত কর্মকর্তা ঐরূপ জঙ্গী প্রশিক্ষণ বিষয়ে কোন সত্যতা পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন তথাপি ভিকটিমের জিম্মাদার বাবা সংশ্লিষ্ট নবীনগর থানায় ভিকটিমের অবস্থা সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাবেন।"

এদিকে সোমবার শিশু আশ্রয় কেন্দ্র থেকে আদালতে নিয়ে আসা পরেশ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেছে, " যতই আমাকে বাবার কাছে পাঠাও না কেন আমি আল্লাহর আশ্রয়ে যাবো।"

পরেশের বাবা কৃষ্ণচন্দ্র সরকারের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, আকতারুজ্জামান হিমেল, কিশোর মণ্ডল, কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী পিন্টু বলেন, "দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে নাবালক পরেশকে ভুল বুঝিয়ে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। নাবালকের কোন ইচ্ছার মূল্য নেই আইনের চোখে। আদালত সে কারণে প্রকৃত অভিভাবক বাবার কাছে পরেশকে ফেরত পাঠিয়েছেন।"

Comments

koko's picture

কারন সে প্রায় সাবালক।

আলালতের সিদ্ধান্ততে ছেলেটিকে বাবা মায়ের কাছে নয়, পূনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত ছিল। কারন সে প্রায় সাবালক।