চাই ভারতের সাথে বন্ধুত্বের হাত - ভারত কি চায়?

Stranger's picture
Posted by
Stranger
Wednesday, May 27, 2009 - 1:46am BST

আমি দীর্ঘ কিছু গুছিয়ে লিখবার মত সময় হাতে পাই না। তাই ছোট ছোট কমেন্ট করি। ব্যক্তিগত ঘটনা যথাসম্ভব এরিয়ে, নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে সংক্ষেপে কিছু লিখতে চেষ্টা করলাম।

বাংলাদেশের বন্ধু হবার খায়েস ভারতের কখনো ছিল না, আজও নেই। স্বাধিনতা যুদ্ধে তাদের সাহায্যের জন্যে আমরা কৃতজ্ঞ, তবে সেই সাহায্য বাংলা প্রেমে কাতর হয়ে আসেনি। ঐতিহাসিক ভাবে শত্রু রাষ্ট্র পাকিস্তান ভাংলে ভারতের লাভ-ক্ষতি একটা সহজ হিসাব, যেমন লাভ হয়েছে প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিওন ভেঙ্গে আমেরিকার।

মুক্তি যুদ্ধে ভারত থেকে প্রাথমিক সমর্থন হিসেবে এসেছিল কিছু সেকেলে অস্ত্র যোগান, ট্রেইনিং এবং শরনার্থীদের আশ্রয়। শরনার্থীর ব্যয় বহন ছিল সেই সময়ে ভারতের জন্যে এক বিশাল বোঝা। ভারতীয় জনগনের প্রতক্ষ সহযোগিতা আর সহানুভুতি ভারত সরকারের সেই বোঝা বহনে সহায়ক হয়। পরবর্তিতে এই শরনার্থী দেখিয়ে মিলিওনস্‌ ডলারের আন্তর্জাতিক সাহাজ্য এসেছে ভারতে। আমি স্বাধিনতার পর পর আমার শৈশবে ভারতে বেরাতে যেয়ে দেখেছি কোলকাতার জনৈক কর্মকর্তার গুদামে তখনো কার্টুন কার্টুন ত্রানের সামগ্রি মজুদ হয়ে আছে! সোভিয়েতের পাঠান অস্ত্র আমরা কখনো চোখেও দেখিনি।

পশ্চিম পাকিস্তানিদের চোখে আমরা ছিলাম উপনিবেস। পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ সম্মতিতে ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মান করে যাকে পুঁজি করে আজও আমরা রাজনীতির কাঁদা ছোড়াছুড়ি করি। এটা ছিল "Indus Basin Project" এর প্রতিদান। এই প্রজেক্টে ভারত দুইটি ড্যাম এর অর্থ যোগান দেয় পাকিস্তানকে। বলতে পারেন পাকিস্তানে মোট কতগুলি ড্যাম আছে? আমার জানা মতে ১৭টি যার প্রায় অর্ধেক আমাদের স্বাধিনতার আগের। আমাদের আছে কয়টি?

পকিস্তানিদের আত্নসমর্পনের পর ভারত বিজয়ের মাহাত্ন দেখাতে সিম্‌লা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানী যুদ্ধাপোরাধিদের ছেরে দেয় পাকিস্তানের হাতে, কারন তাদের যা পাওয়ার পাওয়া হয়ে গেছে! এবার শুরু হলো ব্যবসা, বানিজ্য আর নগদ অর্থ সহয়তা দিয়ে আওয়ামিলীগের সরকারের এবং প্রসাশানের মধ্যে ভারতের সার্থ রক্ষাকারি এজেন্ট তৈরির কাজ। বাংলাদেশ টিকে থাকবে শুধু ভারত সাহাজ্য নির্ভর এক পরমুখাপেক্ষি রাষ্ট্র হিসেবে, ভারতের সম্প্রসারিত বাজার। বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধিনতা শুরু হয়েছিল ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের মাধ্যমে, যা শেখ মুজিব করতে পেরেছিলেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে, যদিও অর্থনৈতিক স্বাধিনতা তখনো শেখ মুজিবের "সোনার বাংলা" গড়ার স্বপ্ন। জাতীয়তাবাদিরা এর জন্যেও শেখ মুজিবকে কখনো ধন্যবাদ দেয় না।

পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে পাকিস্তানও লেগে পরলো কিভাবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতকে সমুচিৎ চাপের মধ্যে রাখা যায়। শুরু হলো টাকার খেলা, পুরনো দোস্ত্‌ আর ডানপন্থী আওয়ামিলীগারদের নিয়ে আরেক ছায়াজোট। সোভিয়েতপন্থী ভারতকে ভেঙ্গে দেয়ার জন্যে আমেরিকাও ছিল মরিয়া। তৎকালিন স্বররাষ্ট্র মন্ত্রী কামরুজ্জামান কে আমেরিকা সফরে এক মার্কিন সিনেটর বলেছিল আমরা দুই বাংলা কেন এক হই না, যেহেতু ভাষা আমাদের এক। উত্তরে তিনি বলেছিলেন আপনারা কেন ব্রিটিশ- অস্ট্রেলিয়ার সাথে এক হচ্ছেন না, ভাষাতো একই। তাদের সুদুর প্রসারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে, মার্কিনীরাও পাকিস্তানের মদ্ধস্ততায় তাদের এজেন্ট তৈরী করে নেয়, যারা আত্নপ্রকাশ করে শেখ মুজিব নিহত হবার পরে।

ভারতের আধিপত্যে চীনও ছিল বিরক্ত, কারণ চাইনিজ সস্তা পন্যের জন্যে বাংলাদেশ ছিল একটি উপযুক্ত বাজার। এখানেও পাকিস্তান এগিয়ে আসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে, তৈরী হয় পিকিং পন্থী বিপ্লবীদের। অনেকে বলেন জাসদ ছিল ভারতের সৃষ্টি, মুজিব সরকারকে ব্যতিব্যস্ত রাখার জন্যে। এব্যাপারে আমার কোন সঠিক তথ্য জানা নেই।

সোভিয়েতের সাথে তো মুজিব সরকারের সরাসরি বন্ধুত্ব; তবে অবকাঠাম এবং শিল্প উন্যয়নে তারা সাহায্য করতে অতটা আগ্রহী ছিল না, আবার দেশের ক্ষতিকর কোনো কর্মতৎপরতাও তারা চালাত না। তাই বলে সময় মত এজেন্ট বানাতে তারাও ভুল করেনি। মুজিব বুঝতে পেরেছিলেন এমন বৈরী পরিবেশে আমেরিকার সাহায্যটাই বেশী প্রয়োজন, তাই তিনি সোভিয়েতের আগে প্রথম আমেরিকা সফর করেন। এতেই সোভিয়েত ইউনিয়ন মুজিব সরকারকে অবিশ্বাসের চোখে দেখা শুরু করে। আর আমেরিকা চাল-গমের মত রিলিফ ছারা বেশি কিছু দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেইনি।

যুদ্ধ বিদ্ধস্ত একটা দেশ, উৎপাদন নেই, ব্যাঙ্কে রিজার্ভ নেই, শিল্প কারখানা, অবকাঠাম বিদ্ধস্ত, স্বসস্ত্র বিপ্লবীদের তান্ডব তা্র উপর সরকারের মধ্যে উল্লেখিত পাঁচ দেশের (ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সোভিয়েত) পেইড এজেন্ট! আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সংখ্যা গরিষ্ঠ মন্ত্রি-এমপির সরকারে শেখ মুজিব অদুরদর্শী মতান্তরে অযোগ্য রাষ্ট্র নায়কের পরিচয় দিয়েছিলেন তখন। চাটুকারের ভিরে নিজের পরিবারের সদস্যদের কুকর্মও তার কানে ঠিক মত দেয়া হতো না। কার এত বড় সাধ্য! শেখ মনির আচরন ছিল ভাইস প্রেসিডেন্টের মত।

শেখ মুজিবের কান ভারি করে তার দুর্দিনের কান্ডারি তাজুদ্দিনকে সরিয়ে দেয়া হলো। ৭৪ এর বন্যা, চারিদিকে শুধু হাহাকার। খাদ্য-পন্য যাও ছিল সেটা মজুতদারের গুদামে। আমি দেখেছি রক্ষিবাহিনী এই সমস্ত গুদাম ভেঙ্গে চাল ডাল ভুখা নাঙ্গাদের মাঝে বিলিয়ে দিতে (আমি একথাটি রক্ষিবাহিনীর কোনো অপকর্ম যায়েজ করার জন্যে উল্লেখ করিনি)। চারিদিকে শুধু ষরযন্ত্র আর গুজব, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য "শেখের পোলা ব্যাঙ্ক ডাকাতি করছে"! ষড়যন্ত্রের বাকি কাহিনী অন্য কোন টাইটেল-এ লিখা যাবে।

এই ব্লগ এ কেউ ভারতকে ধোলাই করেন, কেউ করেন পাকিস্তান, কেউ নিরপেক্ষের ভাব ধরে আরেক পক্ষের তাবেদারি করেন। যেই এজেন্টদের কথা আমি বললাম, তারা বংশ পরম্পরায় আরো ডালপালা বিস্তার করে ক্ষমতা সুসংহত করে আছে। এদের মধ্যে নতুন অতিথিও আছে। কারো না কারো এজেন্ট না হয়ে ধনী/এমপি/ মন্ত্রী হবেন? অত সোজা না। আমাদের দুই নেত্রী চার হাই কমিশনের (সোভিয়েত বাদ পরে গেছে) প্রেস্‌ক্রিপশনের বাইরে যাওয়ার স্বাধীন ক্ষমতা এখনো অর্জন করেনি। এসব বিদেশী প্রভাব ম্যানেজ করেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, যেমন এগিয়েছে কোরিয়া, তাইওয়ান। কিন্তু গাছেরটা আর তলারটা সবই যদি চুরি করে খাই তবে আগাবে কি দিয়ে? সৃষ্টিকর্তা যেন তাহাদের জিহ্‌বাকে একটু ছোট করে দেন।

Comments

SalimC's picture

লড়াইয়ের সামর্থ না থাকলে স্বাধীনতাই বা থাকে কতটুকু?

ইসলামের শত্রুপক্ষের কাছে তাদের ১৯৪৭ এর পরাজয় যেমন কাম্য ছিল না, তেমনি সহনীয়ও ছিল না। তারা তো মুসলিম রাষ্ট্রগুলিকে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর করতে ব্যস্ত।আরবদেরকে এরাই বিশেরও বেশী টুকরায় বিভক্ত রেখেছে। নব্যসৃষ্ট এসব দেশের প্রতিটিতে এমন সব তাঁবেদারকে তারা বসিয়েছে যাদের কাছে এ বিভক্ত ভূগোল ভেঙ্গে এক অখন্ড রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে কোন প্রয়াসই হলো চরম ফৌজদারি অপরাধ।১৪ কোটি মানুষের বাংলাদেশও একই কারণে শত্রুশক্তির অন্যতম টার্গেট।বিশেষ করে ভারতের।ভারতের পূর্ব সীমান্তে পাকিস্তানের ন্যায় আরেক শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রের সৃষ্টিকে তারা মেনে নেবে না,তাদের এ ঘোষণা সুস্পষ্ট। বাংলাদেশের মানুষ আল্লাহর দেওয়া শরিয়ত প্রতিষ্ঠা করুক সেটিও তারা মানতে রাজী নয়।তারা আল্লাহর অনুগত বান্দাহ হোক ও তার আইনের অনুসারি হোক এতেও তাদের আপত্তি।ইসলামের এ অতি সনাতন রূপকে তারা মৌলবাদ বলে।এজন্যই বাংলাদেশের অখন্ড ভূগোল যেমন টার্গেট তেমনি টার্গেট হলো একতাবদ্ধ জনগণও।যে কারণে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রচন্ড আগ্রহ ছিল তেমনি আগ্রহ বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করায়ও।এজন্যই ১৯৭১ এ বিজয়ের পর পরই শুরু হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক লুণ্ঠন প্রক্রিয়া।তাদের হাতে পাকিস্তান আর্মির ফেলে যাওয়া অস্ত্রসামগ্রীই শুধু লুট হয়নি।লুট হয়েছে অফিস-আদালত ও কলকারখানার বহু হাজার কোটি টাকার মালামাল। তাদের কাছে পাকিস্তান ভাঙ্গাটি ছিল প্রথম পর্ব মাত্র, শেষ পর্ব নয়। ভূগোল ভাঙ্গার লক্ষ্যে ভারতীয় সরকার ও পুলিশের সামনে পশ্চিম বাংলার মাটিতে প্রতিপালিত হচ্ছে “স্বাধীন বঙ্গভূমি” প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, বরিশাল এসব প্রাক্তন বৃহত্তর জেলাগুলোকে বাংলাদেশ থেকে পৃথক করে এরা স্বাধীন বঙ্গভূমি রাষ্ট্র গড়তে চায়। এদের নেতা চিত্তরঞ্জন সুতার এক কালে আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ সদস্য ছিলেন। জনগণকে বিভক্ত রাখার স্বার্থে এদের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিভেদের সূত্রগুলো খুঁজে বের করা। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী হাতিয়ার রূপে ব্যবহৃত হচ্ছে একাত্তরের বিবাদ। ফলে বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ চাইলে কি হবে,একাত্তরের ঘটে যাওয়া বিবাদ ও বিভক্তির সে দহন বেদনা থেকে বাংলাদেশের জনগণের মূক্তি নেই। বরং সে বিভক্তিকে আরো বিষাক্ত করে তারা আরেকটি গৃহযুদ্ধ শুরু করতে চায়। তাই স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বিতর্ক শেষ হবার নয়। বরং এ বিভেদ স্থায়ী রাখতে ভারত ও তাঁর তাবেদার পক্ষ অবিরাম পেট্রোল ঢালতেই থাকবে। ভারতের সাথে এখন যুক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র পক্ষ। ইসলামের প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে এরা সবাই মিলে গড়ে তুলেছে গ্লোবাল কোয়ালিশন। ইসলামকে এরা সবাই প্রতিপক্ষ শক্তি রূপে দেখে। বাংলাদেশের ১৪ কোটি মুসলমান যে মুসলিম উম্মাহর অংশ সে বিষয়টি বহু মুসলিম ভুলে গেলেও তারা ভূলতে রাজি নয়। ফলে যে লক্ষ্যে আরবদের বিভক্ত রেখেছে সেই একই লক্ষ্যে বাংলাদেশের মুসলমানদেরকেও তারা বিভক্ত রাখতে চায়। সে বিভক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যেই বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্য শক্তিবর্গের বিণিয়োগ শত শত কোটি টাকা। বিপুল বিণিয়োগে নেমেছে ভারত সরকারও। তবে শিল্পখাতে নয়। অর্থনীতির অন্য খাতেও নয়। বিণিয়োগ হচ্ছে দেশের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বুদ্ধিজীবী, রাজননৈতিক নেতা-কর্মী এবং এনজিও পরিচালকদের উপর।
স্বাধীনতার রক্ষা প্রতিদেশের জন্যই অতি ব্যয়বহুল। পাকিস্তানের মত বহুদেশের জাতীয় বাজেটের শতকরা ৬০ ভাগ খরচ হয়ে যায় প্রতিরক্ষা খাতে। সোভিয়েত ইউনিয়ন তো সে ব্যয়ভারে ভেঙ্গেই গেল। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত ধনি দেশও হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এ দেশটি সে ব্যয়ভার কমাতে পার্টনার খুঁজছে। যে কোন ক্ষুদ্র দেশের পক্ষে এ ব্যয়ভার বহন অসম্ভব। মাথাপিছু আয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশী হওয়া সত্ত্বেও সে সামর্থ কুয়েত,কাতার,আমিরাত বা সৌদিআরবের নেই।অবশ্য স্বাধীন থাকাটা যেমন ব্যয়বহুল তেমনি মর্যাদাপূর্ণও। স্বাধীন ভাবে বাঁচার আনন্দটাই আলাদা। এজন্যই মর্যাদাশীল জাতি লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ দিয়ে হলেও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে। আর স্বাধীন থাকার জন্য শুধু একখানি পতাকা, একটুকরা ভূমি, একজন প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হলেই চলে না। স্বাধীনতা রক্ষার সামর্থও থাকা চাই। ১৯৪৭ এ বাংলার মুসলমানদের পাকিস্তানভূক্ত হওয়ার মূল গরজ তো ছিল এটিই। সে কালের বাংলার মুসলিম নেতাগণ যে কতটা বিচক্ষণ ও দুরদৃষ্টির অধিকারি ছিলেন এ হল তার প্রমাণ। তাদের লক্ষ্য ছিল প্রকৃত স্বাধীন হওয়া, সিকিম, ভুটান বা ২৫ বছরের দাসচুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ হওয়া নয়, যেমনটি শেখ মুজিব করেছিলেন। ২৫ বছর চুক্তির মধ্য দিয়ে মুজিব ভারতকে যে কোন সময় বাংলাদেশে সৈন্য অনুপ্রবেশসহ সামরিক হস্তক্ষেপের অধিকার দিয়েছিল। স্বাধীনতার হেফাজতে ভারতীয় হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তান দুই-দুইটি যুদ্ধ লড়েছে। আণবিক শক্তিধারি এ দেশটি এখনও তেমন লড়াইয়ে প্রস্তুত। কিন্তু সে সামর্থ কি বাংলাদেশের আছে? আর না থাকলে স্বাধীনতাই বা থাকে কতটুকু?স্বাধীনতার সুরক্ষায় অক্ষমতাই কি পরাধীনতা নয়? স্বাধীনতা রক্ষায় শুধু লোকবলই যথার্থ নয়, অর্থবল, অস্ত্রবল এবং ভূগোলের বলও চাই। আজকের ইউরোপের দেশগুলো একতাবদ্ধ ইউরোপীয় যুক্তরাষ্ট্রের বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্ম দিচ্ছে নিজেদের সে সীমিত সামর্থের কথা ভেবেই।

শঙ্খচিল's picture

২৫ বছরের ভারতের সাথে "দাসচুক্তি"ঃ আসলে জিনিসটা কি?

সেলিম সি ভাইজান
আমার আসল প্রশ্নটি হলো ২৫ বছরের ভারতের সাথে "দাসচুক্তি"। যদি ১৯৭২-৭৩ সালে তা স্বাক্ষর হয়ে থাকে, তার মেয়াদ থাকার কথা ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। সেটা কি কখন বাতিল হয়েছিল? না হয়ে থাকলে, আপনারা ১৯৭৫-১৯৮১ এবং ১৯৯১-১৯৯৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তাহলে সেটা বাতিল করেন নাই কেন? কিসের ভয়ে? এ ঘৃন্য চুক্তির ডিটেইলস জিয়া-এরশাদ-নিজামি-খালেদা সবাই ক্ষমতায় থাকার সময় জন্সমক্ষে প্রকাশ করেন নাই কেন? যাতে আমরা নিজে পড়ে দেখতে পেতাম কি আছে সেই চুক্তিতে? এসব প্রশেন্র একটা উত্তর খাড়া করেন ত ভাইসাহেব। একটু প্রসংগটা ফকাস রাখবেন দয়া করে।
বাড়তি প্রশ্নটা হলোঃ আপনার কথা মত ১৯৪৭ সালে কে পরাজিত হয়েছিল? চারশ বছর মুসল্মান মুগোলদের শাসন করা ভারতকে দু পাকিস্তান বানিয়ে তদানিন্তন ১১ কোটি মুসলমানের রাস্ট্র বানালাম, আর বাকি ১৪ কোটি মুসলামান্দের ভারতে ছেড়ে দিয়া এলাম। মুসলিম উম্মার কাজ হয়েছিল সেটি? এখানে হারা জেতার কাহীনিটি কি? আমিও ত বলতে পারি, আমরা মুসলনরা আহাম্মকি করে ২৫ কোটি জনসংক্ষাকে দুভাগ করে নিজেরাই দুর্বল হয়েছে ।এটা আমার "বাদানুবাদের কথা"। আপনার সুচিন্তিত মতামতের আশায় রইলাম।

SalimC's picture

তাজউদ্দিনের স্বাক্ষরিত তাই ৭ দফা চুক্তিনামা|

দেখা যাক: কীরূপ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে শেখ মুজিবের নিজের ধারণা।একাত্তরে ৯ মাস যুদ্ধচলা অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দিনের মুজিব নগর সরকার ছিল ভারতের আশ্রীত সরকার।এমন সরকারের কোন মেরুদন্ড থাকে না। জনাব তাজউদ্দিন ও তার মন্ত্রীদের প্রতিদিনের থাকা, খাওয়া-দাওয়া ও ভরন-পোষনের সমুদয় ব্যয় বহন করত দিল্লীর ইন্দিরা গান্ধী সরকার।খাঁচার পাখির নিজে শিকার ধরার সামর্থ থাকে না, মনিব যা দেয় তাই খেতে হয়।মনিব মন জোগাতে তখন তার শেখানো বুলিও তখন গাইতে হয়।তাজউদ্দিন সরকারের অবস্থাও তাই ছিল।ফলে তাকে দিয়ে ভারত সরকারও খুশী মত চুক্তিও সই করিয়ে নেয়।কোন স্বাধীন দেশ এমন চুক্তি কখনও স্বাক্ষর করে না। তাজউদ্দিনের স্বাক্ষরিত তাই ৭ দফা চুক্তিনামাটি হল নিম্নরূপঃ
১। ভারতীয় সমরবিদদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে আধা সামরিক বাহিনী গঠন করা হইবে। গুরুত্বের দিক হইতে এবং অস্ত্রশস্ত্রে ও সংখ্যায় এই বাহিনী বাংলাদেশের মূল সামরিক বাহিনী হইতে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ হইবে। (পরবর্তীকালে এই চুক্তির আলোকে রক্ষী বাহিনী গড়া হয়)।
২। ভারত হইতে সমরোপকরণ অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করিতে হইবে এবং ভারতীয় সমরবিদদের পরামর্শানুযায়ী তাহা করিতে হইবে।
৩। ভারতীয় পরামর্শেই বাংলাদেশের বহিঃবাণিজ্য কর্মসূচী নির্ধারণ করিতে হইবে।
৪। বাংলাদেশের বাৎসরিক ও পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ভারতীয় পরিকল্পনার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হইতে হইবে।
৫। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির অনুরূপ হইতে হইবে।
৬। ভারত-বাংলাদেশ চুক্তিগুলি ভারতীয় সম্মতি ব্যতীত বাতিল করা যাইবে না।
৭।ডিসেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধের পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ভারত যে কোন সময় যে কান সংখ্যায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিতে পারিবে।
উপরে বর্ণিত চুক্তিগুলিতে মুজিব নগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন স্বাক্ষর করেন। কিন্তু তাজউদ্দিনের বদলে যখন শেখ মুজিব ক্ষমতা হাতে নিন তখনও কি ভারতের প্রতি এ নতজানু নীতিতে সামান্য পরিবর্তন এসেছিল? আসেনি। তাজউদ্দিন যে দাসখতে স্বাক্ষর করেছিলেন সেগুলো শেখ মুজিবও মেনে নেন। "১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার বুকে বঙ্গভবনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান স্বাক্ষরিত ২৫ সাল বন্ধুত্ব সহযোগিতা ও শান্তিচুক্তিতে সেগুলি সন্নিবেশিত করা হয়।" -(অলি আহাদ) পাকিস্তান আমলে শেখ মুজিব বাংলার মানুষের বহু অর্থনৈতিক কল্যানের বড় বড় কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ও তার দল কি করেছে সেটি দেখা যাক। প্রতিটি দেশের দেশপ্রেমিক সরকার শুধু দেশবাসীকে বিদেশী শক্তির সামরিক আগ্রাসন থেকেই রক্ষা করে না, রক্ষা করে সর্বপ্রকার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক হামলা থেকেও। প্রতিদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক সরকারই এমন একটি অঙ্গিকার নিয়েই সেদেশে কঠোর ভাবে দিবারাত্র সীমান্ত পাহারা দেয়, যাতে বিদেশী পণ্যের সয়লাবে নিজ দেশের পণ্যগুলো বাজার না হারায়। একাজটি যাতে সুচারু ভাবে হয় সে জন্য প্রতিটি দেশপ্রেমিক সরকারই বিপুল অর্থ ভাবে সীমান্ত রক্ষি বাহিনী গড়ে তোলে।
খালেদা চট্টগ্রামের ১৯৯৬ সালের নিবাচনী জনসভায বলতে শুনেছি গোলামির জিনজির ছিড়েছি|১৯৯৬ সালে ২৫সালা মেয়াদের চুক্তিনামাটির কারযকারিতা শেষ হইয়া গিয়াছিল|নুতন মেয়াদের চুক্তির জননো ভারতের এত খেলা|নুতন খেলায় খালেদাকে জড়াইতে না পারিয়া ভারত তার ইয়ারদের নিয়া বাংলাদেশে দুননীতি দুননীতি খেলা খেলিতেছে|

Stranger's picture

selimC, স্বাধীনতার অর্থ লড়াইয়ের সামর্থ্য নয়...

স্বাধিনতার অর্থ লড়াইয়ের স্বামর্থ্য, এটা ঠিক নয়, চাই স্বাধীনতা চর্চার অনুকুল পরিবেশ। ভারত, পাকিস্তানিদের মত মোটা বুদ্ধির জাতী নয় যে আমাদের স্বাধিনতা গায়ের জোরে হরণ করতে চাইবে। ভারতের সাথে পারতে হলে প্রয়োজন বুদ্ধিভিত্তিক/কুটনৈতিক লড়াইয়ের সামর্থ্য। ৭১ এর যুদ্ধে আমাদের ছিল ৬টি পদাতিক ব্যাটালিওন, সাধারন জনগন থেকে ট্রেইনিং নেয়া মুক্তিযোদ্ধা আর ছিল জনগন-মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে "মাছ-পানি" এর মত সম্পর্ক (এই সম্পর্ক যেকোন বিপ্লবের পূর্বশর্ত)। আমরা অসীম বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছি সেই সময়ের পৃথিবীর কয়েটি এলিট ফোর্সের একটি বিশাল পাক্‌ বাহিনীর সাথে। এখন আমাদের ৬টি ডিভিশন আর ১৭ কোটি জনগন; ভারতকে ভয় পাবার কোন কারন দেখি না। এটা ভারত নিজেও জানে, কারন ৭১ এ তারা দেখেছে। ভয় হল ঘরের শত্রু "রাজাকার"। "রাজাকার" শব্দটি আমি যে কোন পন্থী বেঈমানদের বেলাতেই ব্যবহার করি।

এবার আসি ইস্‌লামের শত্রুদের কথায়। হিন্দু, ইহুদি এবং খৃষ্টান হাজার বছর ধরে ইস্‌লামের ঐতিহাসিক শত্রু। এদেরকে আপনারা চিনেন। চেনা শত্রুকে মোকাবেলা করা যায়। কিন্তু অচেনা শ্ত্রুদের কি দিয়ে ঠেকাবেন? আমি বর্তমান আরবদের নিয়ে কিছু বলতে চাই না, হাজার পৃষ্ঠা লিখতে হবে। শুধু পাকিস্তানীদের নিয়ে একটা জেনারেল মন্তব্য করি- "এরা ইস্‌লামের কলঙ্ক"। কি দেশে, কি বিদেশে। যারা অত্যন্ত ধার্মিক, দেখা যায় তাদের জ্ঞ্যানের পরিধি খুব ছোট, যে কারনে এদেরকে দিয়ে ইস্‌লামের নামে ইস্‌লাম বিরোধী যেকোনো কাজ করানো যায়। আল্লাহ্‌র দ্বীন কোন ভূখন্ড জয় করার জন্যে নাযীল হয়নি। মানুষকে জয় করতে পারলে ভূখন্ড এম্নিতেই এসে যায়। ভেবে দেখুন খালিফায়ে রাশিদুন এর সময় কত অল্প সময়ে ইস্‌লামের কত বিশাল বিজয় ছিল, আর দুইশ বছরের মুঘল শাষনে কয়জন হিন্দু মুসল্‌মান হয়েছে! জামাতী আর পাকিস্তানি কায়দায় কাউকে মুসলমান বানাতে গেলে সে হবে যাবে ইস্‌লামের জন্ম শত্রু। এরা আজও ভাবে এরা ইস্‌লামের সোল এজেন্ট! অমুস্‌লিমের গলায় ছুরি চালানো ছোয়াবের কাজ!

ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ, মুস্‌লিম অমুস্‌লিমের যুদ্ধ নয়। ভারতের সেনাবাহিনীতেও মুস্‌লিম আছে আর পাকিস্তানী সেনা অফিসারদের চরিত্র বর্ননা করতে গেলে গিবত হয়ে যাবে। "ইস্‌লামিক প্রজাতন্ত্রী" নামটা ছারা পাকিস্তানের সমাজ ব্যবস্থায় কোথাও ইস্‌লাম নাই। সোয়াতে শরীয়া আঈনের অধীকার দিয়ে এখন তাদের বিরুদ্ধেই অপারেশন চালাতে হচ্ছে। মনে রাখবেন কোন ধর্মই মূর্খের হাতে নিরাপদ নয়...

নীচের ম্যাপ্টি দেখুন (Conquest of Islam, 620-641)
Image

katukutu71's picture

ndia wants Asian highway, Transit and corridor and declaring u a

India wants Asian highway, Transit and corridor and declaring u as failed state ultimately merging u with India

Stranger's picture

ভাই কাতুকুতু৭১

আপনি যা লিখেছেন ভারত তার চেয়েও অনেক বেশী কিছু চায় যা আপনার এক লাইনের লিস্ট এ কুলাবে না। যেখানে আপনি এবং আপনার সমমনারা ভুল করে সেটা হলো দেশটাকে নিয়ে নেয়া। পরের বাড়ি যদি আপনার হয়, সেই বাড়ির জঙ্গল সাফ করার দায়িত্বটা কার? কৌশলে ট্রানজিট-করিডোর নেয়া লাভজনক, না দেশ দখল করে সারাজীবনের জন্যে বাঙ্গালী বিচ্ছুর অত্যাচারে জর্জরিত হওয়া লাভজনক?

শঙ্খচিল's picture

ভাল লেখা

স্ট্রেঞ্জার
ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর বিশ্লেষণ ধর্মি লেখাটির জন্য। আপনি যথার্ত বলেছেন, "বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধিনতা শুরু হয়েছিল ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের মাধ্যমে, যা শেখ মুজিব করতে পেরেছিলেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে,"

"শেখ মুজিবের কান ভারি করে তার দুর্দিনের কান্ডারি তাজুদ্দিনকে সরিয়ে দেয়া হলো।" শেখ মুজিবের সবচাইতে বড় রাজনৈতিক ভুল লিকেশ ছিল এটি। কথিত আছে, মুশতাক মুজিবকে বুঝিয়েছিল, তাজুদ্দিন থাকতে, পশ্চিমারা মুজিবকে কোনভাবেই সহয়াতা করবেনা। মুশতাক আর তার সাংপাংগদের কথা শুনে, তাজউদ্দিনকে দূরে সরিয়ে দিয়ে, মুজিব নিজের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিলেন।

জাসদকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। এটি ভারতের সৃস্ট কোন দল কিনা সেটার উত্তর আমিও পাইনি। তবে, জাসদ, দুটি ভুল করেছে যার মাশুল তারা কড়ায় গন্ডায় দিয়েছে। ১। সদ্য স্বাধিন একটা দেশে, আচমকা সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করা। ২। তাহেরের ৭ ই নভেম্ববর অভ্যুথানের মাধ্যমে্‌ পট পরিবর্তন করতে সাহায্য করা।(তাহের যাকে মুক্ত করেছিলেন, তিনি তাকে ফাসিতে ঝুলাতে এক মুহুর্ত দেরী করেন নাই)।

Stranger's picture

ভাই শংখচিল

মুস্তাক গং এর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল স্বাধিনতা যুদ্ধেরও আগে থেকে। মুজিব এর ইনার সার্কেল এর প্রথম এজেন্ট। মসুতাক গং-এর প্রথম সফলতা তাজুদ্দিনকে সরানো। এর মাঝে কিছু ছোট ছোট, কিন্তু গুরুত্বপুর্ন কাজ উনি করে যাচ্ছিলেন, যার একটা ছিল সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ। ভাগ্নে রশিদ এক্ষেত্রে তার খুব বিশ্বস্ত ছিল।

At the end of the day

At the end of the day Arabs, Indians, Americans, Pakistanis all want to use us. So we should do the followings:

· We should build intelligence infrastructure to make sure no religious terrorism does not grow in our soul. But at the same time do not publicly advertise our motherland as breading ground of terrorism.
· Take action is any means necessary to obtain the rightful water from Farakka.
· We should do what ever it takes to stop the construction of Tipay Mukh Barrage.
· We should prevent any corridor through our country as it will make out country the target of ULFA and severely damage our internal economy.

Say no to Islamic Terrorism, Farakka, Tipay Barrage and Transit.

Nothing good will come out of this.

Hassan Imam khan's picture

ষ্ট্রেঞ্জারকে, বিদ্বেষটি নিজ দেশকে দিয়েই শুরু হয়েছিল...।

১৯৭১ সালে নিজ দেশের অভ্যুদয় সহ্য করতে না পেরে স্বদেশ-বিদ্বেষের মাধ্যমেই তো ওদের এই মহাবিদ্বেষের পথ চলা শুরু হয়েছিল।
যাদের কাছে নিজের স্বদেশই বিদ্বেষের কারন হতে পারে,
তাদের কাছে বিদ্বেষই সার,
স্বদেশপ্রেম দিল্লীদুরস্ত পার।
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যান্ড।

Stranger's picture

হাসান ভাই

এখানেই কষ্ট। বাংলা স্বাধিন হলো, স্বাধিন বাংলায় পতাকা উড়িয়ে গাড়িতে চড়লো, অথচ আজও তারা বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারল না।

আজ যুদ্ধাপোরাধীদের বিচারের দাবি উঠেছে, তারা বলছে শেখ মুজিব তাদের ক্ষমা করে দিয়েছে (কি ক্ষমা করেছে সেটা নাইবা বললাম)। সেই ক্ষমার কৃতজ্ঞতাও তো কোনো দিন স্বীকার করলো না! আমি কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারি না, "মানুষ" হিসেবে তাদের অবস্থানটা আসলে কোথায়?

Hassan Imam khan's picture

ষ্ট্রেঞ্জার ভাইজান...।

কোন কৃতঘ্নের কাছে
কৃতজ্ঞতা আশা করাটা দুরাশা নয় কি ?
ওরা চুলায় যাক,
বাঙ্গালী মুক্তি পাক।
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যান্ড।

Stranger's picture

চুলায় গেলেও তো বাঁচতাম...

ওরা ক্যান্‌সারের মতো ছড়ায়ে গেছে। বিএনপি একটা গনতান্ত্রিক ভাবধারার দল হয়ে উঠতে পাছে না শুধু এই দুরারোগ্য ব্যধিটার জন্যে।

Hassan Imam khan's picture

ষ্ট্রেঞ্জার ভাইজানকে,জনতার ক্রোধ গ্যাসে পরিনত হয়ে আছে...।

ওদের বিরুদ্ধে জনতার ক্রোধ গ্যাসে পরিনত হয়ে আছে। প্রস্তুতি চলছে যুদ্ধপরাধের বিচারের বিশেষ ট্রাইবুনালের প্রস্তুতি। বিচার শেষ হলেই জনতার এ ক্রোধের গ্যাসে অঙ্গি সঞ্চালন করে ওদের চুলায় নিক্ষেপ করা হবে। আইনকে তার সাভাবিক গতিতে চলতে দেয়ার ধৈর্য যদি আমরা ধারন করতে সক্ষম হই তাতেই,
ওরা চুলায় যাবে,
আর
ওদের দফা রফা হবে।
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যান্ড।

Stranger's picture

ভারত বিদ্বেষ, পাক বিদ্বেষ, আমেরিকা বিদ্বেষ...

যে যেই বিদ্বেষ নিয়েই থাকুন না কেন, নিজের দেশকে ভালবাসেন তো? তাহলে আর বিবাদ কোথায়?