এশিয়ায় অধিকহারে কর্তা হয়ে উঠছেন গৃহকর্ত্রীরা
অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে এশিয়ায় নারীদের পরিবারের কর্তা হয়ে ওঠার হার বেড়েছে। পরিবারের আয় বাড়াতে শিশুযতেœর পাশাপাশি নানারকম কাজও করছে তারা। নতুন একটি জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
এশিয়ায় ১৬টি দেশের ৩৩ হাজার মানুষের পরিচালিত দেখা গেছে, প্রতি চারজনের তিনজনই মনে করেন, নারীরা নানাধরনের কাজের পাশাপাশি পরিবারও সফলভাবে সামলাতে সক্ষম।
গ্লোবাল মার্কেটিং কমিউনিকেশন ফার্ম 'গ্রে গ্র"প' এর পরিচালিত এই 'আই অন এশিয়া' জরিপ মতে, এশিয়ার নারীরা দীর্ঘদিন থেকেই এ অঞ্চলের কর্মশক্তির অন্যতম অংশ। কিন্তু বিশ্বব্যাপী বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বেশির ভাগ নারীর জন্যই কাজ করাটা এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গ্রে গ্র"পের আঞ্চলিক যোগাযোগ পরিকল্পনা পরিচালক চারু হরিশ বলেছেন, "এতে করে বহু নারীর ওপরই প্রচণ্ড চাপ পড়ছে। নিজেদের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাদেরকে পরিবারের কর্তার ভূমিকাও নিতে হচ্ছে।"
কিন্তু এ অঞ্চলের সমাজব্যবস্থায় আদিকাল থেকেই নারীরা সংসারে স্ত্রী, মা এবং চাকরি সব ক্ষেত্রেই নিপুণ হওয়ার বাধ্যবাধকতা অনুভব করে, কিন্তু ওই নৈপুণ্যেও তারা তেমন স্বীকৃতি পায় না, সমাজ এবং পরিবারেও তাদের যৌক্তিক ও সাম্য অবস্থা জোটে না।
জরিপে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই বলেছে, পরিবারের আয় বাড়াতে মায়েদের কাজ করা জরুরি। বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে।
একই জরিপে দেখা গেছে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৮৬ শতাংশ মানুষই তাদের আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যতের সঞ্চয় নিয়ে উদ্বিগ্ন।
জরিপে অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশ বিশ্বাস করে, নারীরা একইসঙ্গে চাকরি এবং ঘর সামলানো দুটোই করতে পারে। যদিও দুটোর মধ্যে একটিকে বেছে নিতে দেওয়া হলে মায়েরা ঘরে থাকা এবং বাচ্চাপালনের কাজই বেছে নেবে। বলেছেন, হরিশ।
মায়েদের প্রায় ৮১ শতাংশ বলেছেন, তারা আজকাল এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে বাচ্চাদের যথেষ্ট সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হরিশ বলেন, বাচ্চা দেখাশোনা এবং পরিবার পরিচালনার কাজে অংশ না নেওয়ার পুরুষদের আদ্দিকালের মনোভাবের কারণে নারীদের দুইদিকই সামলাতে হচ্ছে।
জরিপে সামগ্রিকভাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এশীয় বলেছে, সমাজ কর্মজীবী মায়েদের স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কর্মজীবী মায়েদের বাচ্চাদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে থাকেন দাদী-নানীরা।
জরিপ চালানো ১৬ দেশ হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, চীন, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম।
