মিডিয়ার একটি শব্দ বন্দুক বা রকেটকেও ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।

Hassan Imam khan's picture
Posted by
Hassan Imam khan
Wednesday, May 27, 2009 - 6:55am BST

মিডিয়ার একটি শব্দ বন্দুক বা রকেটকেও ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।

মতিউর রহমান চৌধুরী (সম্পাদক,মানব জমিন) ম্যাকাও, চীন থেকে

মিডিয়ার একটি শব্দ বন্দুক, রকেট বা বোমাকেও ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। শুধু তাই নয়, গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে বা দেশে দেশে যুদ্ধও বাধিয়ে দিতে পারে। তাই মিডিয়াকে প্রতিটি শব্দ বলতে হবে খুব ভেবে-চিন্তে। এখানে সংশ্লিষ্ট এডিটরের দায়িত্ব খুব বেশি। হাতে মাইক্রোফোন থাকলেই যা ইচ্ছে তা যেমন বলা যায় না তেমনি প্রকাশও করা যায় না। দু’দিন ব্যাপী এশিয়া মিডিয়া সামিট ২০০৯-এর প্রথম দিনের সুর এটাই। বক্তারা এক বাক্যে বললেন, মিডিয়ার ওপর বিপদ বাড়ছে। নতুন বিপদ যোগ হয়েছে ইন্টারনেট যা ব্লগার হিসেবে পরিচিত। মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস-ও কম নয়। এরা সত্যের কোন ধার ধারছে না। যা শুনছে তাই প্রচার করে দিচ্ছে। মুহূর্তেই তা চলে যাচ্ছে পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। তাদের কারও কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। চীনের বাণিজ্যিক শহর ম্যাকাওতে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপী এ সামিট। পৃথিবীর নানা অঞ্চলে প্রায় ২৫০ জন ব্রডকাস্টার, টেলিভিশন সাংবাদিক এবং কিছু সরকারি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। সামিটে বলা হয়, মিডিয়া এক ভয়ঙ্কর দিন কাটাচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এ আট বছরে প্রায় এক হাজার সাংবাদিক প্রাণ দিয়েছেন। ২০০৯-এর শুরুতে মারা গেছেন ২৬ জন সাংবাদিক। বক্তারা আরও মত দেন, সত্য প্রকাশ না করার কারণে মিডিয়া বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। ফলে দেশে দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পশ্চিমা মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একাধিক বক্তা প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এরা নিজেদের মতলব ছাড়া রিপোর্ট করে না। সব সময় একটি মোটিভও কাজ করে তাদের রিপোর্টে। অনেক ক্ষেত্রে এসব মিডিয়া প্রপাগান্ডা মেশিন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। দেশে দেশে গণতন্ত্র চর্চা না থাকায় সুশাসনও অনুপস্থিত রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফ্রি মিডিয়া ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোন পথ নেই বলে বক্তারা মত দেন। তারা বলেন, মিডিয়া হচ্ছে সমাজের দর্পণ। অথচ সমাজে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। এক অস্থির সমাজ কোন দিনই শান্তি বা স্বস্তি দিতে পারে না। সামিটে ইরাক, আফগানিস্তান, গাজা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিরাজমান নানা সঙ্কট নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন। আফগানিস্তানে আল কায়েদা বা তালেবান সমস্যার ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, যেহেতু দেশটি বিদেশী শক্তির দখলে সে জন্যই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।