
পাখিকে যেকোন পরিচ্ছন্ন শহরের ইন্ডিকেটর বা সূচক হিসাবে ব্যবহার করা যায়। দিন দিন ঢাকা শহরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ কি হারে বাড়ছে তা শুধুমাত্র নিয়মিত পাখি গণনা থেকেই বলে দেয়া যেতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কাক ও কাকের বাসা যে ঢাকা শহরে আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তার মানে ঢাকাই এখন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় অপরিচ্ছন্ন নগরী। সিঙ্গাপুর সিটিতে কোন কাক নেই। কাক দেখলেই সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা গুলি করে মেরে ফেলে। শুধু কাকই নয়, ঢাকায় সব সময়ই সর্বভুক ও শিকারী পাখির আনাগোনা বেশি। এর প্রধান কারণ হল এখানে ফলভুক পাখির জন্য গাছের সংখ্যা একেবারেই কম। তাই তারা ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে আর আবর্জনা বাড়ার কারণে দ্রুতহারে বাড়ছে সর্বভুক পাখির সংখ্যা। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে পাখি দেখে আসছি। ঢাকার প্রতিটি আইল্যান্ড ও পার্কে বিদেশী গাছের ছড়াছড়ি। ঢাকাকে একটি সুন্দর নগরী হিসাবে গড়ে তোলার অন্যতম অন্তরায় এটি। ফলে দিন দিন আশংকাজনকহারে কমে যাচ্ছে ফলভুক পাখি। বাড়ছে পোকাখেকো, সর্বভুক ও শিকারী পাখির সংখ্যা।
গত মাসে ঢাকার আকাশে দেখা গেল বুটপা ঈগল। আমাদের দেশে এই পাখিটি দেখা যায় না বললেই চলে। ১৯৯৩ সালের আগে মাত্র ছয়বার শুধু ঢাকাতেই পাখিটি দেখা গেছে। আর সর্বশেষ দেখা যায় ১৯৯৮ সালে সুন্দরবনে। বুটপা ঈগল সাধারণত শীতকালে বাংলাদেশে আসে খাদ্যের সন্ধ্যানে। আর এরা প্রজননকাল সম্পন্ন করে হিমালয় ও সাইবেরিয়ার দক্ষিণাংশে। এরা খুব বড় গাছে বাসা বানায় ও রাত্রি যাপন করে। বুটপা ঈগল মাঝারি আকারের শিকারী পাখি। এদের ইংরেজি নাম বুটেড হক ঈগল। অন্যান্য ঈগলের মত এর ডানা চওড়া নয়। লেজটা বেশ লম্বা। নীলাভ ঠোঁটের সামনের অংশে কালো ছাপ আছে। মেয়ে-পুরুষ দেখতে একই রকম হলেও আকারে পুরুষ পাখিটি বড়।
বুটপা ঈগলের আচরণ বেশ রহস্যজনক। এরা পাহাড়ী ও আধা-মরুভূমি এলাকায় থাকতে পছন্দ করলেও ঢাকার আকাশে এরা দুর্লভ। ইট-পাথরের দেয়ালে ঘেরা এই উত্তপ্ত নগর দিন দিন যে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে পড়ছে নতুন নতুন শিকারী পাখির আগমনই তার আভাস দেয়।

সর্বভুক ও শিকারী পাখি যেমন কাক, চিল ও ঈগল অপরিচ্ছন্ন শহর বেশি পছন্দ করে। একদিকে এরা প্রতিদিন শত শত টন ময়লা পরিষ্কার করে যেমন আমাদের প্রিয় নগরীকে পরিচ্ছন্ন করছে, অন্যদিকে আবর্জনা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে রোগ-জীবাণুর স্থানান্তর ঘটাচ্ছে।
মন্তব্যঃ খবরটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দূর্ভাগ্যের।আমাদের রাজনিতিবিদরা তাদের পকেট গোছাতেই বড় বেশি ব্যাস্ত,পরিবেশের দিকে নজর দেওয়ার সময় কোথায়?পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা বড় আকারের একটি ট্র্যাশ রেখে যাচ্ছি যার নাম বাংলাদেশ।
সূত্রঃ ইত্তেফাক।
