সময় আপক্ষিক বিষয় হলেও এর প্রযুক্তিগত দিক আছে বলে অনেকে মনে করে থাকে।সময় এখন সময় তখনকার সময় পরের।কতভাবে সময়কে আমরা বিন্যাস করি তার ঠিক নাই।আমরা সকল সময়ের মত এখন একটি সময় পার করে যাচ্ছি।সময় নিয়ে মূলত বিশ্বতত্ত্ববিদেরাই গবেষণা করেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক শন ক্যারল। তিনি এনট্রপির মাধ্যমে সময়ের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তার মূল উদ্দেশ্য এনট্রপি ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করা। এ নিয়ে “সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান” পত্রিকায় এক দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছিলেন। তার পর থেকে বিজ্ঞানী মহলে এ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনার সূত্র ধরেই “লস এঞ্জেলেস টাইম্স” সম্প্রতি শন ক্যারলের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন টাইম্সের স্টাফ রাইটার জন জনসন জুনিয়র।
তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো সময় নিয়ে মূল সমস্যাটা কি?তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন সময় অপ্রত্যাবর্তী, অর্থাৎ তাকে ফিরিয়ে আনা যায় না, গেল তো গেলই। এটা বিশ্বতত্ত্বের সর্বপ্রধান সমাধানহীন সমস্যাগুলোর একটি।
অনেক দিন ধরেই বিশ্বতত্ত্বে সময় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু, এখন আমাদের কাছে এমন কিছু তত্ত্ব আর যন্ত্র আছে যা আগে ছিল না।
সাধারণ আপেক্ষিকতা, স্ট্রিং তত্ত্ব, কণা পদার্থবিজ্ঞানের অভিনব আবিষ্কার এই সবই বিশ্বতত্ত্বের জন্য নতুন সম্ভাবনার দার খুলে দিয়েছে। এগুলোর সহায়তায় সঠিক উত্তরে পৌঁছানো খুবই সম্ভব।
সময় কি? এই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেক ঝামেলাই পোহাতে হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। সেই ১৯২৭ সালেই আর্থার এডিংটন সময়ের তীর শব্দের প্রচলন করেছিলেন। তারপর থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের মাধ্যমে সময়ের অনেক ব্যাখ্যাই দাড় করানো হয়েছে। কিন্তু কোনটাই বিজ্ঞানী মহলের সার্বিক সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেনি। অনেকে বলেন, গত ২০ বছরে এই বিষয়ে তেমন কোন অগ্রগতিই হয়নি। অর্থাৎ বলার মত নতুন কিছু বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।সময় সম্বন্ধে একাধিক স্বতন্ত্র মতবাদ রয়েছে। একটি মতানুসারে সময় মহাবিশ্বের মৌলিক কাঠামোর একটি অংশ যেটি একটি বিশেষ মাত্রা এবং যেখানে ভৌত ঘটনাসমূহ একটি ক্রমধারায় ঘটে। এটি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি যা আইজ্যাক নিউটনের তত্ত্ব সম্মত। এই মতানুসারে সময় একটি ভৌত রাশি যা পরিমাপযোগ্য।
সময় আমাদের কাছে এখন অপেক্ষা ,সংশয় এবং আতংকের বিষয় সেটার নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষন আমরা করতে পারি।তার মধ্যে কয়েকটি নিউজ ফ্ল্যাশ এখানে তুলে দিলাম ।এগুলো সবই সময় কেন্দ্রীক।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএন শামসুল হুদা অভিযোগ করে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেয়ে নির্বাচিত সরকারের সময় সমস্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারে না। ইসি'র উপরে রাজনৈতিক দলের চাপের কারণে অনেক কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিডিআর পুনর্গঠনের আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফারুখ খান। তিনি বলেন, বিডিআরের নতুন নামকরণের ব্যাপারে ইতোমধ্যে অনেক নামের প্রস্তাব এসেছে। সেগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময় সমুদ্র বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন দু'টি সমুদ্র যাদের একটির সাথে অপরটির পানি মিশে যায় না। পানির উপাদানের পার্থক্য যাকে বলা হয় “Surface Tension” –এর কারণে একটির সাথে আরেকটির পার্থক্য নিরুপন করা যায়।
পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে চার মাসের মাথায় তাদের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এসব সমস্যা সমাধানে জনগণের পাশে থেকে সংসদ ও রাজপথে লড়াই করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
খালেদা জিয়া শনিবার বিকেলে মহান মে দিবস উপলক্ষে পল্টন ময়দানে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক জনসভায় সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "গদি ছেড়ে দিন।"
রাজনৈতিক দলের স্থায়ী গঠনতন্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়াতে প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনে সংশোধনী আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) মিলনায়তনে সোমবার ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।
গত নভেম্বরে নির্বাচন কমিশনে দলের অস্থায়ী গঠনতন্ত্র জমা দিয়ে ৩৯টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হয়। তখন তারা নবম সংসদের অধিবেশন বসার ছয় মাসের (২৫ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই) মধ্যে স্থায়ী গঠনতন্ত্র জমা দেওয়ার অঙ্গীকার করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিডিআরের ঘটনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কাউন্সিল করতে না পারার কারণ দেখিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো স্থায়ী গঠনতন্ত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর দাবি তুলেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেছেন অতীতে সরকারি প্রশ্রয় পেয়ে জঙ্গীরা দিনদিনই শক্তিশালী হয়েছে এ কারনে দেশ থেকে তাদের নির্মূলে আরো সময় প্রয়োজন। এছাড়া চাঁদাবাজদের উপদ্রব ঠেকাতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
ডা• সেলিনা ডেইজী ঢাকা মেডিকেলে আছেন তার একটা গবেষনা প্রবন্ধ পরেতো আমি ভয় পেয়ে গেছি বুঝতে পেরেছি যে চুল কাটতে গেলে মাথা ম্যাসেজ না করাই ভালো।তার লেখার কিছু অংশ আমি তুলে দিলাম।সেলুনে চুল কাটার সময় সতর্ক থাকুন।
১৬ বছর বয়স ছেলেটির। নরসুন্দরের কাছে চুল কাটার পর একটু ঘাড়-পিঠ মালিশ করে নেয় ৫-১০ মিনিট। বিনিময়ে তাকে কিছু বকশিশ দেয়। একদিন ঘাড় মালিশ করার সময় কট করে একটা আওয়াজ হয়, একটু সামান্য ব্যথাও করে উঠেছিল। কিন্তু ছেলেটি অতটা গ্রাহ্য করেনি। দু-এক দিন পর সে ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করতে লাগল। ক্রমে ব্যথা বাড়ছে। মা ভাবলেন, হয়তো উল্টাপাল্টাভাবে শোয়ার জন্য ঘাড়ে ব্যথা হয়েছে। মা প্রতিদিন বালিশ রোদে দিতে লাগলেন, ঘাড়ে গরম কাপড় দিয়ে সেঁক দিতে শুরু করলেন। কিন্তু কিছুতেই ব্যথা কম হচ্ছে না; বরং দিন দিন বাড়ছেই। একপর্যায়ে ব্যথা হাতের মধ্য আঙ্গুল পর্যন্ত আসতে শুরু করল। ব্যথার জন্য ঘাড় নাড়ানোও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠল। চিকিৎসক পরীক্ষা করে বললেন, ‘স্পনডাইলোসিস’ হয়েছে। ঘাড়ের এমআরআই ও নার্ভ কনডাকশন স্টাডি (স্মায়ুর আচরণ পরীক্ষা) করে সেটি প্রমাণিত হলো।তাহলে আমদেরকে সাবধান হয়ে যেতে হবে বিশেষ করে চুল কাটাঁর সময়।
এবার একটু আন্তর্জাতিক সময়ের দিকে তাকানো যাক।
কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী নেতা মীর ওয়াইজ ওমর ফারুক গত ২২ শে মে কাশ্মির সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নয়াদিল্লীকে ২ মাসের সময় বেঁধে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে কাশ্মির থেকে ভারতীয় সেনা এবং নিপীড়নমূলক আইন প্রত্যাহারের ব্যাপারে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব যেনো সময়কে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।সময় কেবল চলে যায় আর ফলাফল মাত্র সময়ের কিছু উচ্ছ্বাস ছাড়া কিছু নয়।এক সময় সব কিছুর গ্রহন যোগ্যতা শেষ হয়ে যাবে তখন কিছুই করার থাকবে না।এখন আওয়ামী লীগের সময় ।আওয়ামী লীগের সময় কেমন হচ্ছে সেটা সবাই দেখছে।মাত্র কয়েক মাসে সময়টা ভালো ছিলো না জনগনের।সময়ের সংবাদ থাকে সময় আর থাকে না।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে মানে সময়ে আছে ।সময় নষ্ট করে ফেলেছে তারা অনেক ক্ষেত্রে।অপচয় করছে সময়ের প্রগতিশীলতা।ধীবর অস্তে এখন সায়াহ্নের পূর্বাভাস।সময়ের খাতিরে আমি মেনে নিলাম সব।আর না মানার ক্ষেত্র অবসাম্ভাবি হলে সময় ক্ষমা করবে না।এই সময়ে ভালো থাকুক সরকার।ভালো থাকুক ট্রাঞ্জিট আর টিপাইমুখ বাঁধ!
সুমনের গানের কয়েক লাইন না দিলে চলছে না;
কখনও সময় আসে জীবন মুচকি হাসে
ঠিক যেন প’ড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা
অনেক দিনের পর মিলে যাবে অবসর
আশা রাখি পেয়ে যাবো বাকি দু-আনা৷
[লেখকঃ কবি, গবেষক, কলাম লেখক]
