পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনা কি আড়াল হয়ে যাবে?

SalimC's picture
Posted by
SalimC
Wednesday, May 13, 2009 - 11:45am BST

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনা কি আড়াল হয়ে যাবে?
-ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী|

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর যে বর্বর নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল।এমন কি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ও একযোগে এত বিপুলসংখ্যক সেনাকর্মকর্তা নিহত হয়নি।২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহীরা পিলখানায় ৫৬ জন সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী পিলখানার ভেতরে নারকীয় সব কর্মকান্ড চালায়। কিন্তু প্রায় তিন মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সে হত্যাযজ্ঞের তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে পারেনি সরকার।বরং এ ঘটনার তদন্তকাজ এমনভাবে অগ্রসর হচ্ছে যে, ঐ তদন্ত আদৌ কখনও সম্পন্ন হবে কিনা, তা নিয়ে জনমনে সংশয় কেবলই ঘনীভূত হচ্ছে।

পিলখানায় সেনাকর্মকর্তা হত্যাযজ্ঞে গোটা জাতি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে।দেশের সকল স্তরের মানুষ দ্রুত এই হত্যাযজ্ঞের তদন্ত ও বিচার দাবি করতে শুরু করেন।সরকার প্রথমে ঘোষণা করে যে সাত দিনের মধ্যে এই তদন্তকাজ সমাপ্ত করে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।কিন্তু সাত দিনের জায়গায় এখন প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত হতে চলছে। সরকার দফায় দফায় তদন্তের মেয়াদ বাড়িয়েছে।এখন সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী বলতে শুরু করেছেন যে, তদন্ত রিপোর্ট কবে প্রকাশিত হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। ফলে পরিস্থিতি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।

এই হত্যাকান্ডের ঘটনা শুরু থেকেই রহস্যময় হয়ে ওঠে। এই হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগেই নিহত বিডিআর মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান, র্যা বপ্রধানসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। সেনাপ্রধান সঙ্গে সঙ্গে ঝটিকা অভিযান চালালে এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার প্রাণহানি যে ঘটত না সেটা সকলেই স্বীকার করছেন। কিন্তু সে রকম ব্যবস্থা না নিয়ে কালক্ষেপণের কৌশল গ্রহণ করা হয়। ফলে বিদ্রোহী ঘাতকরা তালিকা ধরে ধরে আত্মগোপনকারী সেনাকর্মকর্তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে তাদেরকেও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করতে শুরু করে। যতদূর বোঝা যায়, সকাল প্রায় ১০টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত তারা এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। অথচ সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক ঘণ্টার সেনা অভিযানেই এই বিদ্রোহ সম্পূর্ণ দমন করা সম্ভব ছিল।

সরকারের তরফ থেকে ট্রেড ইউনিয়ন কায়দায় বিদ্রোহী ঘাতকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা শুরু করা হয়। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা দফায় দফায় পিলখানায় গিয়ে ঘাতকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এসব আলোচনা বৈঠক যখন চলছিল, তখনও সেনা কর্মকর্তা হত্যা অব্যাহতই রেখেছিল বিদ্রোহীরা। আলাপ-আলোচনা থেকে সুফল কিছুই পাওয়া যায়নি। সরকারের যুক্তি হল সেনা অভিযান চালালে পিলখানার ভেতরে সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতো। কিন্তু কালক্ষেপণের পরও সে নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হয়নি। তাদেরও অনেককে প্রাণ দিতে হয়েছে। অনেকেই নির্যাতনের ও লুটপাটের শিকার হয়েছেন।

কালক্ষেপণের এই ভুল কৌশলের ফলে ঘাতকরা গণকবর খুঁড়ে লাশগুলো পুঁতে ফেলারও সুযোগ পেয়েছে। কারও কারও লাশ ফেলে দিয়েছে সুয়ারেজ লাইনে। গণকবরগুলোর ওপর ঘাষ লাগিয়ে ডালপালা ছড়িয়ে সেগুলো এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে মনে হতে পারে যে, সেখানে মাটির নিচে কিছুই নেই। আবার হত্যাযজ্ঞ শেষে বিডিআর গেটে বিডিআর ঘাতকদের পক্ষে মিছিল নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা। যাতে পোষাক বদলে বিডিআরের খুনীরা সে মিছিলে মিশে গিয়ে পালিয়ে যাবার সুযোগ পায়। সেভাবে হাজার হাজার বিডিআর জওয়ান পালিয়ে গেছে।

এর মধ্যে ঘাতকদের চৌদ্দ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে দীর্ঘ এক আলোচনায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী। সে আলোচনার বিস্তারিত কথাবার্তা প্রকাশ করেননি তিনি। আলোচনা শেষে আবারও সসম্মানে ঘাতকদের পিলখানায় ফিরিয়ে দিয়ে আসা হয়। আর বিদ্রোহীদের এক নেতা তৌহিদকে অস্থায়ীভাবে বিডিআর মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। বিকেলে এক বেতার-টিভি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। রাতে পিলখানায় যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। সেখানে তিনি সেনা পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন, বাকীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থাই তিনি গ্রহণ করেননি। এরপর সাংবাদিকদের তিনি একটি চাবির গোছা দেখিয়ে বলেন যে, বিদ্রোহীদের সকল অস্ত্র জমা নিয়ে অস্ত্রাগারে তালা দিয়ে তিনি চাবি নিয়ে এসেছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। রাতে অরক্ষিত সেনা পরিবারগুলো বিদ্রোহীদের নির্যাতনের শিকার হন। তাদের বাসায় বাসায় চলে বিদ্রোহীদের লুটপাটের মহোৎসব। ২৬ তারিখ দুপুর পর্যন্ত এই নারকীয় কর্মকান্ড অব্যাহত থাকে। ঘটনা শুরুর ৩৩ ঘণ্টা পর পিলখানার ভেতরে সেনাবাহিনী প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

এদিকে আবার এলাকা থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের তরুণ সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস কোনো কর্তৃত্ব ছাড়াই ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে এক ফরমান জারি করে বসেন। ঐ ফরমানে তিনি পিলখানার চারপাশে তিন কিলোমিটার এলাকার সকল বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবার নির্দেশ দেন। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে সন্তান-সন্তুতি নিয়ে পলায়ন শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা। এই ঘোষণা কেন জারি করা হল, কোন এখতিয়ারে তিনি জারি করলেন, সেটা কেউ বলতে পারে না। পুলিশ বা অন্য কোন আইন কর্তৃপক্ষ ঐ ঘোষণা জারি করার কথা স্বীকার করেনি। ফলে জনমনে ব্যাপক সংশয়ের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণা জন্মে যে, এলাকা খালি করে দেয়ায় হাজার হাজার বিডিআর সদস্যরা পালিয়ে যাওয়া নির্বিরোধ হয়। সেভাবে তারা পালিয়ে যায়ও। তাই ২৬ ফেব্রুয়ারি যখন বিডিআর সদর দফতর সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন সেখানে পাওয়া যায় মাত্র শ' পাঁচেক বিডিআর সদস্য। বাকী সাড়ে পাঁচ হাজার পালিয়ে যায় তার আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই।
এই বিদ্রোহ দমনে সেনা অভিযান না চালানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর এক যুক্তি ছিল, সেনা অভিযান চালালে সারাদেশে গৃহযুদ্ধ বেধে যেত। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কোন সমরবিদ নয়। এরকম আশঙ্কা তার মনে কেন সৃষ্টি হয়েছিল। তার কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা কখনও পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কোন্ সমর বিশেষজ্ঞ তাকে সেনা অভিযান না চালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন সে কথাও জানা যায়নি। তবে এ বিষয়ে টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকার বিভিন্ন আলোচনায় উচ্চপদস্থ সাবেক সেনা কর্মকর্তারা সমস্বরে বলেছিলেন যে, সে রকম গৃহযুদ্ধের কোন আশঙ্কাই বর্তমান ছিল না। তাদের প্রায় সবাই অভিমত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের কোন পরিবেশই নেই। গৃহযুদ্ধ বলতে তিনি প্রধানমন্ত্রী যদি বিভিন্ন আউটপোস্টে নিয়োজিত বিডিআর সদস্যদের আশঙ্কিত বিদ্রোহ বুঝিয়ে থাকেন তাহলে সে ধারণাও ভুল। কারণ বিডিআর সদস্যদের মধ্যে এমন জোয়ান খুব কমই খুঁজে পাওয়া যেত যারা সেনাকর্মকর্তাদের ওপর এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ সমর্থন করে না। তাছাড়া গৃহযুদ্ধ চালানোর জন্য কোন নির্দিষ্ট এলাকার বেসামরিক নাগরিকদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও সমর্থন দরকার। বাংলাদেশের কোথায়ও বিডিআর সদস্যরা এমন সমর্থন পেত বলে মনে হয় না। আর প্রতিটি আউটপোস্টে যদি বিডিআর সদস্যদের বিদ্রোহ হতো তাহলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে অতি সামান্য সময়ই লাগত। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর এ যুক্তিও ধোপে টিকেনি। তারপরও প্রথম ঐ হত্যাযজ্ঞের তদন্ত নিয়ে সংশয় কেবলই বাড়ছে। জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন, এই হত্যাযজ্ঞের পেছনে কাদের মদদ রয়েছে, কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। তাদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হোক। এটাই ছিল জনগণের প্রত্যাশা। পরিস্থিতি অাঁচ করেই সরকার সাতদিনের মধ্যে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ততদিনে ঘাতকদের ১৪ প্রতিনিধিসহ প্রায় সকলেই গ্রেফতার হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আশার কথা। কিন্তু সে পথে না গিয়ে সরকার এক দীর্ঘ পথের পাড়ি ধরেছে। শত শত বিডিআর সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। ফলে তদন্ত কাজ বিলম্বিত হয়েই যাচ্ছে।

এদিকে একাগ্রচিত্তে অপেক্ষমাণ জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য সরকার আকস্মিকভাবেই নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে বিভ্রান্তির অপচেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে। তাছাড়া তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হবার আগেই সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা এর পেছনে জঙ্গি কানেকশন খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে পড়ে। প্রথমে বলা হয় এর পেছনে ইসলামী জঙ্গিবাদীদের মদদ আছে। কিন্তু তার কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেল না। তারপর বলা হলো, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে জোট সরকারের শাসন আমলে যারা বিডিআরে ঢুকেছে তারাই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু তদন্তকারীরা এ অভিযোগের কোন সত্যতাই খুঁজে পাননি। এর নেতৃত্ব দানকারীরা অনেক আগে থেকেই বিডিআরে কর্মরত ছিলেন। তাছাড়া বিডিআরের নিয়োগ প্রক্রিয়া এমনই যে সেখানে জঙ্গি কানেকশনের ব্যক্তিদের যোগদান খুবই দুরূহ ব্যাপার। এদিকে প্রধানমন্ত্রী বার বার বলতে থাকেন যে, এই ঘটনা ঘটিয়ে যারা দেশে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল সেটা রোধ করা গেছে বলেই তাদের এত জ্বালা। এর মাধ্যমে তিনি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালান।

বিডিআর বিদ্রোহের দ্রুত তদন্ত ও বিচার যখন আশু কর্তব্য বলে বিবেচিত তখন সরকার ভোলার গ্রীন ক্রিসেন্ট এতিমখানায় কথিত অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে তোলপাড় শুরু করে দেন। কিন্তু সে ডামাডোলও বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়নি। ঐ ঘটনাকে সরকারি লোকেরা ও তাদের অনুগামী মিডিয়া যেভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করে, সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় প্রকৃত চিত্র তার বিপরীত। গ্রীন ক্রিসেন্ট এতিমখানাকে মাদরাসা ও জঙ্গিবাদের আড্ডা বলে প্রচার করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়, সরেজমিন তদন্তে তা আর ধোপে টেকে না। ফলে সেই ডামাডোল থেকে সরে আসতে শুরু করে সরকার এরপর দৃশ্যপটে নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রাম বন্দরে দশ ট্রাক অস্ত্র আনার ঘটনাকে। দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার মামলা পুনঃতদন্তের নামে নানা ধরনের তোলপাড় শুরু করে সরকার। যাতে পিলখানার ট্র্যাজেডির জায়গায় পত্রিকার পাতা ও টিভি পর্দায় অস্ত্র মামলা স্থান করে নিতে পারে। জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়।
একই সঙ্গে সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে এক মহা শোরগোল সৃষ্টি করে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ১৯৭৪ সালেই ক্ষমা করে দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। এ পর্যন্ত নতুন করে কাউকে আর যুদ্ধাপরাধী বলে চিহ্নিত করা হয়নি। কিন্তু অচিহ্নিত অপরাধীদের বিচারের জন্য আদালত আইনজীবী প্যানেল গঠন নিয়ে শুরু হয় বিশাল তোড়জোড়। সাংবাদিকরা যখন জানতে চান কোন্ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্যে এমন তোড়জোড় শুরু করেছেন? জবাবে সরকারের মন্ত্রী বলেন, সময় হলে দেখতে পাবেন এমনি সব হাওয়াই তর্জন গর্জনের পর এখন মনে হচ্ছে সে কাজটিও অনেকখানি শিথিল হয়ে এসেছে। যুদ্ধাপরাধী ইস্যু যে সাধারণ মানুষকে গেলানো যাবে না, সেটা উপলব্ধি করে এখন সে ইস্যুতেও সরকার ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে।

এবার পিলখানার ট্র্যাজেডিকে আড়াল করার জন্য তাহলে আর কি করলো? তখন ১৯৮২ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে দান করা সরকারের বাড়িটির বরাদ্দ বাতিল করে দিয়ে নতুন এক ইস্যু সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকার নিশ্চিত ধারণা করেছে যে, এই ইস্যুতে বিএনপি অবশ্যই খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করবে। তারা আর পিলখানা ট্র্যাজেডি নিয়ে কথা বলার ফুরসত পাবে না। সে আন্দোলন চলছে। বাড়ি বরাদ্দ বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। পরপর চারটি বেঞ্চ এই মামলার শুনানি গ্রহণে বিব্রত বোধ করায় নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। গত সোমবার পর্যন্ত চারটি আদালত শুনানি গ্রহণে বিব্রত বোধ করেন। এক্ষেত্রে অন্তত পিলখানা ট্র্যাজেডি থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা সম্ভব হয়েছে।
এই অবস্থা জারি রেখেই সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে সরকার আপীল বিভাগে আবেদন করেছিল। বর্তমান সরকার সেই আপীলটি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন এক সংকটের দিকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে রাখতে চাইছে।

ফলে পিলখানা ট্র্যাজেডির তদন্ত দূর থেকে দূরে গোধূলী এলাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে। 'বিলম্বিত বিচার, বিচার না পাওয়ারই শামিল' এই আপ্তবাক্য পিলখানা ট্র্যাজেডির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে বসেছে। এখন সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে যে, প্রকৃত ঘটনা আদৌ উদঘাটিত হবে কি না? জনগণ কোনদিন জানতে পারবে কি না বাস্তবিক পক্ষেই কারা এই হত্যাকান্ডের মদদ দিয়েছিল। কারা সংঘটিত করেছে এতবড় ট্র্যাজেডি। আরও রক্তপাত এড়ানোর নামে অধিক রক্তপাত যে প্রক্রিয়ায় ঘটেছিল একই প্রক্রিয়ায়ই কি তবে আড়াল হয়ে যাবে পিলখানার সেনা সদস্যদের ওপর এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।

Tags: