বর্তমান যুগটা যে সত্যের যুগ নয়,সে কথা স্পষ্টভাবেই বলা চলে।মিথ্যার দাপটে এখন পৃথিবী অস্থির।মিথ্যাকে মিথ্যা,অন্যায়কে অন্যায় বলার মত লোকের এখন খুবই অভাব।আর ট্রাজেডি হলো, বাইরের লোকের মিথ্যাচারে ঘরের লোকও যোগ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বুশ সরকার যখন নাইন-ইলেভেনের জন্য মুসলমানদের দায়ী করলো,তখন কেউ প্রশ্ন পর্যন্ত করলো না কখন,কীভাবে?আর আমাদের দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ তো আরো আগ বাড়িয়ে বলে উঠলেন,সব অশান্তি ও সন্ত্রাসের জন্য ইসলাম ও মুসলমানের মৌলবাদী রাজনীতি দায়ী।এ বক্তব্যের মাধ্যমে তারা আসলে তাদের আদর্শিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চাইলেন।তারা ইনিয়ে-বিনিয়ে আরো বলতে চাইলেন, প্রকৃত ইসলামের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।কিন্তু সেই প্রকৃত ইসলামটা কী? ইসলাম যখন ঘরের মধ্যে নামায-রোযায় সীমিত থাকবে তখন তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ইসলাম ঘরের সীমানা ছাড়িয়ে বাইরের সমাজে আসলেই নাকি তার মাহাত্ম্য ক্ষুণ্ণ হয়ে যায়, তখন নাকি ইসলাম আর প্রকৃত ইসলাম থাকে না! এদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, ইসলামের বিশাল ঐশীগ্রন্থ কুরআনের কয়টি আয়াত নামায-রোযা প্রসঙ্গে? বাকি আয়াতগুলো কি আমাদের ভুলে যেতে হবে? আর ঐসব আয়াত অস্বীকার করলে কি মুসলমান থাকা যাবে? আসলে কিছু ভন্ড ও প্রতারক ইসলামের দরদী সেজে, প্রকৃত ইসলামের কথা বলে ইসলামকে খন্ডিত করতে চেয়েছে, মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে, চেয়েছে সেক্যুলার করতে। আসলে এরা মুখে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মুক্ত সমাজের কথা বললেও এদের এজেন্ডা ভিন্ন। দুনিয়া পাগল এইসব ভোগবাদী মানুষ স্বচ্ছন্দ জীবনের লোভে নিজকে বিকিয়ে দিতে কিংবা পরাধীন হতে কুণ্ঠিত নয়। স্বাধীন দেশে বসবাস করলেও মন-মানসিকতায় এরা পরাধীন। ফলে যারা স্বাতন্ত্র ও স্বকীয়তা বজায় রেখে আদর্শের পথে অবিচল থাকতে চায়, তাদেরকে ওরা প্রতিপক্ষ ভাবে।আর মিথ্যাচার হলেও প্রতিপক্ষকে ওরা সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদীসহ যে কোন কুৎসিত নামে চিহ্নিত করাকে কৌশল হিসেবে বিবেচনা করে।চরিত্র হননের এই হীন কর্মকে ওরা অন্যায় বলেও মনে করে না।তবে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার দিয়ে সত্যকে বেশিদিন ঢেকে রাখা যায় না।এমন উদাহরণ আমরা বর্তমান সময়েও লক্ষ্য করছি।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ?টুইন টাওয়ার'এ বিমান হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ' নেতৃত্ব দিয়েছিল, সে কথা এখন বলছে মার্কিন সূত্রগুলোই।অথচ সেই সময় এই ঘটনাকে উপলক্ষ করে প্রেসিডেন্ট বুশ দায়ী করলেন মুসলমানদের এবং তিনি ঘোষণা করলেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বযুদ্ধ।সম্প্রতি 'ফ্রি প্রেস উইকলি'তে প্রকাশিত এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৯/১১-এ নিউইয়র্কে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ'।৯/১১-এর বিমান হাইজ্যাকার হিসেবে অভিযুক্ত জিয়াদ আল জাররার কাজিন দীর্ঘদিন ধরে মোসাদ-এর এজেন্ট হিসেবে আমেরিকায় তৎপর ছিলেন।এ থেকে প্রমাণ হয় যে, মার্কিন ভূমিতে বিমান হামলায় ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ' জড়িত।
নিউইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি অপর এক রিপোর্টে জানায়, লেবাননী নাগরিক আলী আল জাররা দৃশ্যত ফিলিস্তিনীদের সমর্থক হিসেবে বিগত দু'দশক ধরে মোসাদের পক্ষে উঁচুমানের গোয়েন্দা এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।পত্রিকাটি আরো লিখেছে, আলী আল জাররার কাজিন জাররা পরিবারের অপর সদস্য জিয়াদ আল জাররা ৯/১১-এর ভয়ঙ্কর বিমান হামলার অন্যতম অভিযুক্ত।জিয়াদ আল জাররার মত একজন লেবাননী মুসলমানকে রিক্রুট করে মোসাদ তাদের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা যেমন আড়াল করার কৌশল নিয়েছে, তেমনি টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার দায় মুসলমানদের ওপর চাপানোর সুযোগ নিয়েছে।দীর্ঘদিন ধরেই মোসাদ মোটা অর্থের বিনিময়ে মুসলিম আরব-লেবাননী যুবকদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহার করে আসছে। এভাবে তারা তাদের সন্ত্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং তার দায় চাপাচ্ছে মুসলমানদের ওপর।
তবে মোসাদের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অবগত।এ প্রসঙ্গে ইতালীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফার্নেসকো কোসিগা বলেছেন, ৯/১১-এর ঘটনা মোসাদ ও সিআইএ'র গোপন যৌথ পরিকল্পনার ফসল।মার্কিন ও ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভালোভাবেই অবহিত ছিল যে, ৯/১১-এর বিমান হামলা ঘটিয়েছে সিআইএ ও মোসাদ।এর লক্ষ্য ছিল, আমেরিকার নেতৃত্বে ইরাক ও আফগানিস্তানে পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রাসন চালানোর পটভূমি তৈরি করা। ইতালীর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য স্থানীয় 'কেরিয়ার ডেলা শেরা' পত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছে। ইতালীর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্যটি আরো জোরদার হয়েছে, ইসরাইলী তথ্য সূত্রে ফাঁস হওয়া একটি ঘটনায়।ইসরাইলী টেলিকম ফার্ম 'আদিগো'র সার্বক্ষণিক বার্তায় টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার অন্তত দু'ঘন্টা আগে খবর পেয়েছে ইহুদীরা।ফলে ইহুদী নাগরিকরা হামলার আগেই নিরাপদে বেরিয়ে যায় টুইন-টাওয়ার থেকে।টুইন-টাওয়ারে একজন ইহুদীরও মৃত্যু না হওয়ার এটাই আসল কারণ।এছাড়া বিষয়টি আগেই জানার কারণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে পূর্বনির্ধারিত সফরসূচিটিও আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়।
টুইন-টাওয়ার ঘটনার জের এখনও বহমান।মোসাদ ঘটনা ঘটায়,হাজারো আদম সন্তান নিহত হয়,আর দোষ পড়ে মুসলমানের ঘাড়ে।ইসরাইলকে আড়াল করার লক্ষ্যে মোসাদ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করছে কোনো কোনো আরব লেবাননী মুসলমানকে।নামধারী এইসব মুসলমানরা অবশ্য ইতিহাসের নতুন কোন জাতক নয়।মোনাফেকরা তো মুসলমানদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।এদের নামে ভিন্নতা থাকলেও চরিত্রে এক।এদের চিনতে আমাদের ভুল হয় না, যেমন এই জনপদের 'মীরজাফর'।মীরজাফর চরিত্রের লোক এখনো আমাদের সমাজে বিচরণ করছে। তবে ট্র্যাজেডি হলো এরা না স্বজাতির বন্ধু, না নিজের।এদের কর্মদোষে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিজেরাও।এরা শুধু জাতির নয়, নিজেরও শত্রু।
সম্প্রতি পিলখানায় যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল, জাতি তা কখনো ভুলবে না।জাতি এ ঘটনার সুবিচার চায়, চায় ষড়যন্ত্রের উদঘাটন।কিন্তু নানা বক্তব্য ও ঘটনা পরম্পরায় জনমনে এখন শঙ্কা জেগেছে, প্রকৃত ঘটনা আমরা জানতে পারবোতো?পিলখানা ঘটনার রহস্য উদঘাটনের বদলে এখন বিশেষ মহলের ভিন্ন তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।তারা ৯/১১-এর ষড়যন্ত্রের পথেই যেন হাঁটতে ভালবাসেন।তারা এখন বিডিআর-এ, সেনাবাহিনীতে কওমী মাদরাসার ছাত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন।লক্ষ্য পিলখানা ঘটনার সাথে মাদরাসা ছাত্রদের জড়িয়ে আবারো ইসলাম ও মুসলমানদের চরিত্র হননের একটা সুযোগ নেয়া। কিছুদিন আগে এই মহল বলেছিল, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে নাকি ৩৫ ভাগ মাদরাসা ছাত্রদের ঢোকানো হয়েছে।তবে বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়,"বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কওমী মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ঢোকার কোনো প্রমাণ নেই"।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়,মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা কার্ল জে. সিওভাচ্চো এবং সাবেক কূটনীতিক ওয়ালিউর রহমানের সেনাবাহিনীর শতকরা ৩৫ ভাগ সদস্য মাদরাসা থেকে আসার দাবি সঠিক নয়।এই যদি হয় বাস্তব অবস্থা তাহলে এই মহল ভিন্ন কথা বলছে কেন? ৯/১১-এর ঘটনার মত এদের উদ্দেশ্যও যে মিথ্যাচারের মাধ্যমে আমাদের ক্ষতি করা সেই বিষয়টি খুবই স্পষ্ট।দেশ ও জাতির স্বার্থে এদের মুখোশ উন্মোচন এখন সময়ের দাবি।

