টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রীর মন্তব্যে বিস্মিত সকল মহল|

SalimC's picture
Posted by
SalimC
Thursday, May 28, 2009 - 11:53am BST

টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রীর মন্তব্যে বিস্মিত সকল মহল
জাতীয় স্বার্থ ভারতের কাছে বিকিয়ে দেয়ার নতজানু নীতি থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে ফতেহ আলী টিপু : ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র শীলের বিতর্কিত মন্তব্যের পর সরকারের আর একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী ফারুক খানের একই বিষয়ে বিতর্কিত ও জাতীয় স্বার্থ বিরোধী বক্তব্য জনমনে বিস্ময় ও প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রী লেঃ কর্নেল (অব) ফারুক খান বলেছেন, কিছু লোক না বুঝেই টিপাইমুখ বাঁধের বিরোধিতা করছে।উল্লেখ্য, মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে টিপাইমুখ বাঁধের পক্ষে সাফাই গেয়ে ভারতের হাইকমিশনার পিনাকরঞ্জন ঢাকায় একই ধরনের কথা বলেছেন। ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে তার দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেয়া ও তার যৌক্তিকতা তুলে ধরাই তার দায়বদ্ধতা। এমনকি এতে যদি বাংলাদেশের মানুষকে তার মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে বিপথগামী করতে হয়, তাও তাদের জাতীয় স্বার্থে তারা করতেই পারেন।
কিন্তু বাংলাদেশের সরকার বা সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা যখন পিনাক বাবুর চেয়েও উচ্চকণ্ঠে টিপাইমুখ বাঁধের পক্ষে সাফাই গাইতে থাকেন, তখন তাকে মেনে নেয়া যায় না। জাতি ও রাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণ করাই সরকারের দায়িত্ব। জনগণ সরকারের কাছে জাতীয় স্বার্থের সর্বোচ্চ হেফাজতের প্রত্যাশা করেন। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীরা রাষ্ট্র সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করে সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিতে গিয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থের হেফাজতের অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু টিপাইমুখ বাঁধসহ বাংলাদেশের সাথে ভারতের বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সরকারের নীতি নির্ধারকদের অব্যাহত নতজানু নীতি জনগণকে শংকিত ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। টিপাই মুখ বাঁধের ব্যাপারে সরকারের কাছে তেমন কোন তথ্য উপাত্ত নেই বলে পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র শীল যে মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, বড় দেশ হিসেবে ভারতের সাথে ঝামেলা করে কোন লাভ নেই। বাঁধ নির্মাণ সমাপ্ত হলে বাংলাদেশ ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করে ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে বলে পানিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্বহীন মন্তব্য নিয়ে হাস্যরসের উদ্রেক হয়েছে। এদিকে টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে তথ্য উপত্ত সংগ্রহ করার দায়িত্ব নিয়ে পানি সম্পদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানা-হেঁচড়া চলছে। তবে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও কোন মন্তব্য করেনি। তারা জাতির এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে ভারতের দিকে চেয়ে নীরবতা পালন করার নীতি গ্রহণ করেছে।
এদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রী যখন স্বীকার করেছেন যে, তাদের কাছে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে কোন তথ্য-উপাত্ত নেই, সেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী কি করে বলতে পারছেন যে,'কিছু লোক না বুঝেই টিপাইমুখ বাঁধের বিরোধিতা করছে।' দুই মন্ত্রীর দু'ধরনের বক্তব্যের গরমিল সরকারের স্ব-বিরোধিতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ভারত ও বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক পানি বিশেজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা তথ্য যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সত্য উল্লেখ করে টিপাই মুখ বাঁধের ব্যাপক পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন। এমনকি ভারতের মনিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষক এ নিয়ে গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে, টিপাইমুখ বাঁধ মনিপুর-আসাম ও সিলেট এলাকায় পরিবেশের বিপর্যয় ঘরিয়ে ভূমিকম্পের ক্ষেত্র তৈরি করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রাজনৈতিক কারণে ভারতের প্যাকেজ এজেন্ডা বাস্তবায়নে তার সরকারের পক্ষে অন্ধ ওকালতি করছেন মাত্র। ভারতের হাইকমিশনার পিনাকরঞ্জন টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে যে ধরনের ভাওতাবাজিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী অকপটে তাই উদ্গীরণ করেছেন। কথা বলার সময় তিনি ভুলে গেছেন যে, তিনি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী। অবশ্য অতিকথনের রেকর্ড সৃষ্টিকারী বাণিজ্যমন্ত্রী বিডিআর বিদ্রোহ, সেনা হত্যা এবং এর তদন্ত নিয়ে এ পর্যন্ত যে সব কথা বলেছেন, তাতে দায়িত্বহীনতার উপাদান খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিডিআর বিদ্রোহে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা জোরেশোরে উচ্চারণ করলেও সরকারি তদন্ত কমিটিও এর কোন সত্যতা পায়নি।'কিছু লোক না বুঝেই টিপাইমুখ বাঁধের বিরোধিতা করছে', ফারুক খানের এই ঢালাও মন্তব্যে শুধু দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক মহলেই বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়নি। এদেশের সেক্যুলার সুশীল সমাজ ও পরিবেশ আন্দোলনকারীরাও তার বক্তব্যের সমালোচনায়মুখর হয়েছেন। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। আর টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে পরিপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা সরকারেরই দায়িত্ব। যদিও ভারত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উন্মুক্ত করছে না। পরিপূর্ণ তথ্য পেলে সংসদে ও সংসদের বাইরে বিশেষজ্ঞ পর্যায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হতে পারে। সরকার এখানেও স্বচ্ছতার বদলে রাখঢাক নীতি গ্রহণ করেছে। সময়ক্ষেপণ করে সরকার ভারতকে একতরফা বাঁধ নির্মাণের সুযোগ দিতে চায়। যাতে কোন প্রতিবাদের সুযোগ থাকলেও তা কোন কাজে না আসে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তার সরকারের অজ্ঞতাকে বা কোন উদ্দেশ্যকে ভারতপ্রেমের আতিশয্যে আড়াল করতে চাইছেন কিনা সে প্রশ্ন উঠছে। টিপাইমুখ বাঁধের যারা বিরোধিতা করছেন, তারা কোন রাজনৈতিক মতলববাজ নন। বৈজ্ঞানিক ও ভৌগোলিক তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তারা নির্মোহভাবে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন। সরকার ভারতের কোন ব্যাপারেই বিরোধিতা করার সামর্থ্য রাখে না। এ ধরনের সৎ সাহস সরকারের নেই বলেই টিপাইমুখ বাঁধের বিরোধিতাকারীদের ওপর অজ্ঞতার দায় চাপিয়েছেন। ওদিকে ভারত বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাংলাদেশ বলতে পারে যে, বাঁধ সম্পর্কে বাংলাদেশকে পরিপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করতে হবে। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ মতামত না জানানো পর্যন্ত ভারতকে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ স্থগিত রাখতে হবে। আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছুদিন আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশংকর মেনন ঢাকায় ঝটিকা সফরে এসে অন্যান্য ইস্যুর সাথে টিপাইমুখ বাঁধের প্রশ্নে বাংলাদেশের কাছে আপত্তি দাবি করেছেন। ঐ সময়ই তিনি বাংলাদেশকে একটি টেকনিক্যাল প্রতিনিধিদল টিপাইমুখে পাঠাতে বলেছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাণিজ্য ও পানি সম্পদমন্ত্রীর মতো বিভ্রান্ত করা। সরকারের মন্ত্রীরা যেখানে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশ থেকে সংসদীয় বা টেকনিক্যাল কমিটি পাঠানো হবে অর্থহীন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের মতে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচকার্য, পানি ব্যবস্থাপনা ইত্যাকার যে কোন বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশ যদি কোন যৌথ নদী কার্যক্রম শুরু করে, তাহলে দু'দেশের প্রত্যেকের উচিত একে অন্যকে অবহিত করা ও দু'দেশের একটি যৌথ গবেষণা পরিচালনা করা। ১৯৯৬ সালের গঙ্গাচুক্তিতেও এই শর্ত আরোপ করা হয় যে, দু'দেশ গঙ্গা ছাড়াও অন্যান্য অভিন্ন নদনদীর পানি ব্যবহার করতে তিনটি মৌলিক নীতি মেনে চলবে। এগুলো হলো সমতা রক্ষা, পরস্পরের ক্ষতি সাধিত না করা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ। ফলে ভারত যদি একপাক্ষিকভাবে কোন প্রকল্প গ্রহণ করে, তা হবে ১৯৯৬-এর গঙ্গাচুক্তির আর্টিকেল-৯ এর বিরোধী। টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষেত্রে ভারত গঙ্গা চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের কোন সমর্থন দাবি করতে পারে না। ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত জলধারা সম্মেলনের বিরোধী। নয়াদিল্লীর বাস্তুসংস্থান ফাউন্ডেশনের ড. সুধীরেন্দ্রর শর্মার মতে, টিপাইমুখ বাঁধের কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতও এর দ্বারা আক্রান্ত হবে। এটি ভারতের পরিবেশ ও জীবিকার উপর ব্যাপক ঋণাত্মক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলামের মতে, টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। এর প্রভাব হবে নিম্নরূপঃ নদী তল, নদী তীর, ব-দ্বীপ, খাঁড়ি ও তটরেখাবর্তী জীবকূলের গঠনগত পরিবর্তন হয়ে যাবে।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান একেএম শামসুল হকের মতে, এই প্রকল্প দেশের জীবকূল এবং বিশেষত মৎস্য সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। সিলেট ডিজাস্টার ফোরামের প্রেসিডেন্ট নজমুল হকের মতে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদী যথেষ্ট পানি পাচ্ছে না। ফলে এই প্রকল্প চালু হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আর একটি মরুকরণ শুরু হবে।
ভারতের জনগণের প্রতিক্রিয়া
টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে ভারতেই আন্দোলন চলছে। মণিপুর রাজ্যের আদিবাসীসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সর্বস্তরের জনগণ এই বাঁধের বিরোধী। তারা ভারত সরকারকে বারবার জানিয়ে দিয়েছে যে, এ বাঁধ তারা চায় না। এ বাঁধ হলে ভারতের মণিপুর রাজ্যের জনমনের প্রকৃতি-সহায়-সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এই বাঁধ হলে বরাক নদীর নিম্নভাগে অবস্থিত বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা মারাত্মক বির্পয়ের সম্মুখীন হবে। মণিপুরের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সম্ভাব্য ক্ষতির সম্মুখীন আদিবাসী জনগণের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে টিপাইমুখ বাঁধ বাতিল ও বরাক নদী বাঁচাতে যে স্মারকলিপি দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বাঁধের বিরুদ্ধে মণিপুর রাজ্যের জনগণ হরতাল, ধর্মঘটসহ ব্যাপক ও অব্যাহত প্রচার চালিয়েছে। তারা সরকারের গণশুনানি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা লং মার্চ কর্মসূচি পালন করেছেন এবং একাধিকবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে ২৫ মার্চ, ২০০৮ তামেলং (মনিপুর) জেলায় গণর্যােলী অনুষ্ঠিত হয়। মনিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের Department of Earth Science-এর প্রফেসর ড. Soibam Ibotombi'র মতে Tipaimukh Dam is a geo-tectonic blander of international dimensions.
ড. দেবব্রত রায়, Director, CORE মণিপুর এবং ড. সমরাম ইবোটোমিবি Monipur University টিপাইমুখ বাঁধের ওপর একটি নিবন্ধ লিখেন। যার শিরোনাম Tipaimukh Dame project : A complicated Internation scenario for Bangladesh। টিপাইমুখ বাঁধের ফলে মণিপুর রাজ্যের কমপক্ষে ৬৭টি গ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হবে। হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হবে। নয়াদিল্লীর গান্ধী পিস ফাউন্ডেশনের একজন গবেষক বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধ মণিপুরবাসীর জন্য প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগ বয়ে আনবে। ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের কনভেনশনে বিশেষজ্ঞরা টিপাইমুখ বাঁধের বিরোধিতা করেছেন। ইম্ফলজিওক সেন্টার ফর অর্গানাইজেশন রিসার্চ এন্ড এডুকেশনের প্রধান ড. রায় লাইফুংবাম বলেন, প্রস্তাবিত বাঁধটি মণিপুর ও আসামের কিছু অংশে বিশেষতঃ কাছাড় জেলায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এবং মিজোরামের কিছু অংশের প্রান্তিক স্তরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
২০০৪ সালের ৬ ডিসেম্বর মিজোরামের গণদূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত গণ শুনানি টিপাইমুখ বাঁধের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। হিউমান রাইটস নেটওয়ার্কস অব ইনডিজেনাস পিপল এর উত্তর-পূর্ব শাখার সচিবকে হাওলা সাইলো বলেছেন, বর্তমানকালে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো, বিশেষত জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে জাতীয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ভারতীয় সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ- যথাযথভাবে পালন করা হয়নি, যা সামাজিক রাজনৈতিকভাবে অন্যায়।
বরাক নদীর টিপাইমুখে ভারত বাঁধ দিলে তা সুরমা, কুশিয়ারা ও মেঘনা অববাহিকার উদ্দাম নদীপ্রবাহ ধ্বংস করে বিপুল বাংলাদেশী এলাকাকে মরুকরণের দিকে ঠেলে দিবে। ফলে বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ বিপন্ন হবে। বিপন্ন হবে তাদের জীবন-জীবিকা এবং বেঁচে থাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে সরকারের যেসব মন্ত্রী দাদাদের তল্পীবহন করে ক্ষমতা রক্ষা করতে চাইছেন, তারা ইতিহাসের করুণার শিকারে পরিণত হবেন।