পিলখানা ট্র্যাজেডির তদন্ত রিপোর্ট : থলের বিড়াল দেখা যাচ্ছে|
-রেজোয়ান সিদ্দিকী
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিপদ হলো এই যে, তারা কিছুতেই বুঝতে চান না গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় কোন সরকারই চিরস্থায়ী নয়।এমনকি বিদেশনির্ভর কোন সরকার পৃথিবীর সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়নি।সেটি মীর জাফর আলী খান থেকে সিকিমের লেন্দুপ দর্জি পর্যন্ত সকলের ক্ষেত্রেই সত্য।এমনকি বাংলাদেশে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের অসাংবিধানিক সরকারও বিদেশী সমর্থনের জোরে চিন্তা করেছিল যে, তারা বোধ করি অনন্তকাল ধরে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারবেন।জনাব ফখরুদ্দীন নির্বাচন ঘোষণার আগে সে রকম একটি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের রূপরেখাও প্রণয়ন করেছিলেন।তাতে রাজনীতিবিদদের কি করতে হবে বা হবে না তার একটা ঔদ্ধত্যপূর্ণ চিত্রও তিনি তুলে ধরেছিলেন।সেভাবেই তারা মাইনাস-টু, মাইনাস-ওয়ান প্রভৃতি ফর্মুলা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কাজও শুরু করেছিলেন।শেষ পর্যন্ত তাদের থু থু চাটতে হয়েছিল এবং ক্ষমতার পরিবর্তন মেনে নিতে তারা বাধ্য হয়েছিল।এমনকি রাজতন্ত্রেও ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব, চিরস্থায়ী করা যায় না।ক্ষমতার লোভে পুত্র পিতাকে হত্যা করতেও দ্বিধা করে না।পৃথিবীর সকল রাজতন্ত্রের ইতিহাসও তাই। এমনকি কখনও কখনও শত অনিচ্ছা সত্ত্বেও জনগণের চাপে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। পৃথিবীতে তার সর্বশেষ উদাহরণ নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান। বাংলাদেশে জনাব ফখরুদ্দীন ভেবেছিলেন বিদেশী প্রভুরা তাদের অনন্তকাল ক্ষমতায় বসিয়ে রাখবে। কিন্তু প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবার পর এরা তাদের ছেঁড়া নেকড়ার মতো ছুঁড়ে ফেলে দিতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করেনি।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগকে জিতিয়ে আনার জন্য নানা ধরনের ডিজিটাল কৌশল অবলম্বন করেছিল আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই তাদের হাতে হ্যারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে। আর ওই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়ে আওয়ামী লীগ পুনর্বার অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নে বিভোর হয়ে গিয়েছে।
পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহে একযোগে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা তদন্তে কত যে কৌশল তারা অবলম্বন করছে, তার কোন ইয়ত্তা নেই। এই যজ্ঞের তদন্তের তিনটি কমিটি গঠিত হয়েছে। একটি সেনাবাহিনীর নিজস্ব তদন্ত কমিটি, একটি জাতীয় তদন্ত কমিটি অপরটি সিআইডির তদন্ত কমিটি। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী ও জাতীয় তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট পেশ করেছে। সিআইডির তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তারা এখনও গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এভাবে কালক্ষেপণ চলছেই। ইতিমধ্যে তিন মাস পার হয়ে গেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঐ নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১০ মে সেনাবাহিনী তাদের তদন্ত রিপোর্ট সেনাবাহিনী প্রধানের কাছে হস্তান্তর করেছে। সে রিপোর্টে যেসব তথ্য উ ঘাটিত হয়েছে তার কোন কিছুই যে সরকারের মনোপূত হয়নি সেটি এখন আর অস্পষ্ট নেই। কারণ রিপোর্টটি প্রকাশ হবার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের প্রায় হাফ ডজন মন্ত্রী যেভাবে একসঙ্গে রা রা করে উঠলেন তা থেকেই সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলে বসলেন যে, ঐ রিপোর্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতলবী। খাদ্যমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বললেন, রিপোর্টে এটা আছে তো সেটা নাই কেন? বাণিজ্যমন্ত্রীরও ছিল একই কথা। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বডি ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে বসলেন। তারা বললেন, পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনার সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী-এমপি তথা আওয়ামী লীগকে যুক্ত করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ ঐ রিপোর্ট। অপরদিকে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব আনিস-উজ-জামানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি রিপোর্টে সরকার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। সে রিপোর্টে বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত ও গ্রেফতারকৃত আওয়ামী নেতাদের নাম আড়াল করে বিএনপির সাবেক এক সংসদ সদস্য ও সাবেক নারী ওয়ার্ড কমিশনারের নাম উল্লেখ করায় আওয়ামী মহলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এতো বড় একটি ঘটনার তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন না করে সাবেক এক পছন্দের অতিরিক্ত সচিব দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করায় অনেক আগে থেকেই এই কমিটির ব্যাপারে প্রশ্ন জড়িত ছিল। তবে প্রথমে এই কমিটি গঠন করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের নেতৃত্বে। তখন দেশজুড়ে এর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবকে ডেকে এনে তাকে এই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়। অথচ এই তদন্ত কমিটির এতটাই শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল যে যারা তদন্ত গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। কেননা, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের কি আলোচনা হয়েছিল সেটাও জানা দরকার ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ঘাতক বিদ্রোহীদের সঙ্গে দফায় দফায় কি আলোচনা করেছিলেন সেটা না জানলে এই তদন্ত রিপোর্ট পূর্ণাঙ্গতা পায় না কিন্তু আনিস-উজ-জামানের তদন্ত কমিটি এদিকে অগ্রসর হয়নি।
সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে মন্ত্রীদের হায় হায় রব সত্ত্বেও সেখানে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়ার কেউ চেষ্টা করেনি। বরং সেসব প্রশ্ন তারা অত্যন্ত সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন। ঐ তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, সকাল সাড়ে নয়টায় বিদ্রোহ শুরু হলেও সকাল এগারোটার আগে বিদ্রোহ পরিণতি পায়নি। অথচ বিদ্রোহের খবর পেয়ে সকাল দশটা দশ মিনিটেই প্রায় সাড়ে তিনশ' র্যা ব সদস্য পিলখানার ৩টি গেটে অবস্থান নেয়। সে সময় অনুমতি পেলে বিদ্রোহীদের বাগে আনা সম্ভব হতো। রোধ করা যেত এই নৃশংসতম হত্যকান্ড। পিলখানার গেটে অবস্থান নিয়েই অপারেশনের অনুমতি চেয়েছিল র্যা ব। কিন্তু সরকার তাদের সে অনুমতি দেয়নি। ফলে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের সংগঠিত হবার আগেই তাদের দমন করার যে সুযোগ ছিল তা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সময় নেয়ায় বিদ্রোহ দমনে ছেচল্লিশ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়নি। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, ২৫শে ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটায় পিলখানায় সেনা অভ্যুত্থানের প্রস্তুতির পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পিলখানায় যায়। এই দলটির কোনটির কোন সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের পূর্ব অভিজ্ঞতা কিংবা সামরিক বিষয় সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকায় বিদ্রোহ দমনে দলটির সদস্যরা সময়োপযোগী ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেননি। যথেষ্ট প্রস্তুতি ছাড়া বিদ্রোহ দমনে যাওয়ায় অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি।
ঐ তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০৮-এর আগে থেকে কতিপয় প্রভাবশালী ও বেসামরিক রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে দাবি-দাওয়া নিয়ে যায় বিডিআর সদস্যরা। নির্বাচনের পরও বিডিআর সদস্যরা দাবি-দাওয়া নিয়ে আবারও দেখা করেন। ঐ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ তাদের কাছে বিডিআর সদস্যদের গমনাগমনের বিষয়ে বিডিআর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন কি না তা জানা যায়নি। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি বিডিআরের অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার তোরাব আলী ও তার ছেলে সন্ত্রাসী লেদার লিটন এবং অবসরপ্রাপ্ত নায়েক সুবেদার কাঞ্চনের ছেলে জাকির ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুবেদার (অবঃ) তোরাব আলী একাধিকবার বিপদগামী সৈনিকদের সাথে বৈঠক করে বিদ্রোহে ইন্ধন যুগিয়েছেন। স্বার্থান্বেষী মহলের সাথে তার যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সুবেদার (অবঃ) তোরাব আলীর মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, বিদ্রোহ চলাকালে তিনি একাধিককার বিদেশে কথা বলেন। তার মাধ্যমে দেশী-বিদেশী অপরাপর ইন্ধনদাতাকে খুঁজে বের করার জন্য পূর্ণ ও ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতাসহ আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সুবেদার (অবঃ) তোরাব আলীর ছেলে সন্ত্রাসী লেদার একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী। বিডিআর বিদ্রোহে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র খোয়া যায়। যার পর থেকে অনুমিত হয় যে, সন্ত্রাসী লিটন বিডিআরের অস্ত্র পাওয়ার উদ্দেশ্যে ঐ বিদ্রোহে সক্রিয় সহায়তা থাকতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় যে, ২৫শে ফেব্রয়ারি সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পিলখানার চারদিকে সেনা মোতায়েন করা হয়। পরে সেনাবাহিনীকে পিলখানার দৃষ্টিসীমার বাইরে যাবার নির্দেশ দেয়া হলে পিলখানার অভ্যন্তরে বিডিআর সদস্যরা আরও সংগঠিত হবার সুযোগ পায়। ২৬শে ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও র্যা বের উপস্থিতিতে পিলখানা আক্রমণের জন্য সেনাসদরে একটি অপারেশন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বেলা দেড়টায় সেনাবাহিনী প্রধানের অফিসের মৌখিক আদেশ অনুযায়ী বিকাল চারটায় আক্রমণের রণঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার দল বিডিআর সদর দফতরে আলোচনারত থাকার কারণে বারবার রণঘণ্টা পরিবর্তন করে ঐ আক্রমণ ও পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। ফলে সেনা মোতায়েন করা হলেও সেনাবাহিনীকে দিয়ে কোন অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়নি। ওদিকে বিদ্রোহের শুরুতেই বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পিলখানার চতুর্দিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য তাদের সরিয়ে নেয়া হলে বিডিআর সদস্যদের পালিয়ে যাবার পথ সুগম হয়।বিকেল পাঁচটায় বিডিআর বিদ্রোহীদের সমর্থনে একটি মিছিল পিলখানার ভিতরে প্রবেশ করে।কিছু বিডিআর সদস্য ঐ মিছিলের সাথে বাইরে বেরিয়ে যায়।২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিডিআর সদস্যদের পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেয়া হয়।২৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সংসদ সদস্য পিলখানার চারপাশে ৩ কিলোমিটার এলাকা জনশূন্য করার নির্দেশ দেন। তাতেও বিডিআর সদস্যরা পালিয়ে যাবার সুযোগ পায়।ঐ তদন্ত রিপোর্টে বলা হয় যে, এই বিদ্রোহ সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস করা, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়া প্রভৃতি এই বিদ্রোহ পরিকল্পনাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল।
আনিস-উজ-জামানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি বিদ্রোহ দমনে বিলম্বের ঘটনার যৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঐ তদন্ত কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী- সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। বরং এতদিনে ঐ কমিটি আবিষ্কার করেছে যে, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য পিন্টু বিডিআর বিদ্রোহীদের পালিয়ে যেতে নদী পারের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে সহায়তা করেছে এবং বিএনপি'র সাবেক নারী ওয়ার্ড কমিশনার ও তার ছেলে একইভাবে বিদ্রোহীদের সহায়তা করেছে।এই আবিষ্কারে সরকার দারুণ খুশি।ঐ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিডিআর-এর ২ নম্বর ও ৫ নম্বর গেট খোলা থাকায় ঐ পথে ঘাতক বিদ্রোহীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু কেন, কার নির্দেশে ঐ গেট ২টি খোলা রইল সে বিষয়ে আনিস-উজ-জামানের তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে এই রিপোর্টের অংশবিশেষ উত্থাপন করা হবে। কেন অংশবিশেষ তার কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। রিপোর্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর কোন জবাব দেননি।
আমরা শুরুতেই যে কথা উল্লেখ করেছিলাম-- ক্ষমতা কারো জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়। বর্তমান সরকারকেও এক সময় ক্ষমতা ছাড়তে হবে। এখন যে সত্য তারা গোপন করতে চাইছেন তা শেষ পর্যন্ত আর গোপন রাখা সম্ভব হবে না। এখন থলের বেড়ালের যতটুকু দেখা যাচ্ছে একদিন সে বেড়াল পুরোই লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসবে। তখন জনগণের কাছে এই সরকারের নেতাদের জবাব কি হবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকা ছাড়া উপায় কি?

