WHY RAJUK IS HURRY TO ALLOCATE PLOT

real_sugar's picture
Posted by
real_sugar
Monday, December 15, 2008 - 4:04am BST

We all knows that RAJUK disclose an advertisement about plot allocation of UTTARA and PURBACHOL. But why they are hurry to allocate it? Even they want to finish whole activities before next Govt..Now a simple question arrise why is it? Is it realy for the benefit of general people for fairness or make happy to defence force. So far 60% of flot already allocated for defence force, 20% for Big Fish, 10% for business man and rest of them are for general people.

Comments

editor's picture

রাজউকের প্লট বরাদ্দে কেন এত তাড়াহুড়া?

মনির হায়দার, ইত্তেফাক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দুটি আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ার কারণে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা মনে করছেন, পত্রিকায় প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদনপত্র জমা দেয়ার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে তা মোটেই যথেষ্ট নয়। একইভাবে আবেদনপত্র জমা দেয়ার পর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তাও বাস্তবসম্মত নয়। সর্বোপরি এ পর্যায়ে নতুন করে আবাসিক প্লট বরাদ্দ দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এর ফলে পূর্বাচল সংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি প্রশাসনিক সদর দপ্তর কমপ্লেক্স বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

রাজউকের সাবেক একজন চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে জানান, সামগ্রিক প্রক্রিয়া দেখে-শুনে মনে হচ্ছে এ পর্যায়ে উত্তরা ও পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের আয়োজন অস্বাভাবিক। বর্তমান সরকারের বিদায় বেলায় এই তাড়াহুড়া আয়োজন কেন। কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন কাউকে বিশেষ সুবিধা দিতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজউকের অস্বাভাবিক তাড়াহুড়া ও অবাস্তব পরিকল্পনার কারণে ইতিমধ্যেই আবেদনকারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কৃত্রিম সংকটের কারণে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের দাম দশ গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আগ্রহীদের অধিকাংশই আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন বলে ধারণা করা যায়। এছাড়া নানামুখী ভোগান্তির পর যেসব আবেদন জমা পড়বে সেগুলোরও সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, এত অল্প সময়ে প্রায় ২ লাখ আবেদনপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন করা একেবারেই অসম্ভব। রাজউকের সেরকম দক্ষতা বা সক্ষমতা নেই। এ থেকেই ধারণা করা যায় যে, এর মাধ্যমে লাখ লাখ নিরীহ সাধারণ মানুষ এক ধরনের প্রতারণার শিকার হবেন। কারণ, আবেদন করতে গিয়ে তাদের প্রত্যেককেই মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হবে।

তিনি বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পটির মূল অংশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার একর জমির ওপর। ওই পরিমাণ জমিতে যতগুলো আবাসিক প্লট তৈরি করা সম্ভব তার প্রায় সবটাই ইতিপূর্বে বরাদ্দ দেয়া হয়ে গেছে। এখন সেখানে বরাদ্দবিহীন অবস্থায় রয়েছে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কিছু বাণিজ্যিক প্লট। এর বাইরে প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় বিগত সরকারের আমলে আরও দেড় হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল একটি বিকল্প প্রশাসনিক সদর দপ্তর কমপ্লেক্স গড়ে তোলার লক্ষ্যে। মালয়েশিয়ার নতুন রাজধানী পুত্রজায়ার আদলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরী গড়ে তোলার জন্য ওই জমির পুরোটাই দরকার। কিন্তু এ পর্যায়ে ওই দেড় হাজার একর জমিতেই নতুন করে প্লট বরাদ্দ দেয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে রাজউক। এটি খুবই হঠকারি একটি পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রায় একই রকম মন্তব্য করলেন সাবেক একজন পূর্ত সচিব। তিনি বলেন, কয়েক হাজার লোককে বাড়ি বানানোর জন্য প্লট দেয়ার চেয়েও এখন বেশি জরুরী হলো দেশের প্রশাসনিক দপ্তর স্থানান্তর। ঢাকা নগরীকে বাসযোগ্য রাখার জন্যই এটা করতে হবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা হিমাগারে পাঠিয়ে দিয়ে এখন অস্বাভাবিক তাড়াহুড়া করে আবাসিক প্লট বরাদ্দের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স তৈরীর পরিকল্পনাকে যেমন অনিশ্চিত করে তুলবে তেমনি অধিক সংখ্যক মানুষকে রাজউকের আবাসন সুবিধার আওতায় নিয়ে আসাও অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, অধিক সংখ্যক মানুষকে সরকারি আবাসন সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজউক নতুন করে আর কোনো আবাসিক প্লট বরাদ্দ দেবে না। উত্তরা তৃতীয় পর্ব ও পূর্বাচলের অবশিষ্ট খালি জমিতে এবং ঝিলমিল প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে লাখ লাখ ফ্ল্যাট তৈরী করে সেগুলো আগ্রহীদের মধ্যে বরাদ্দ প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল তখন। কিন্তু এ পর্যায়ে সেই পরিকল্পনা আড়ালে রেখে হঠাৎ করেই প্লট বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পর্যায়ে উত্তরা তৃতীয় পর্ব ও পূর্বাচল প্রকল্পে আবাসিক প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজউকের হঠকারিতার কারণেই আবেদনকারী ও আগ্রহীরা সীমাহীন ভোগান্তির কবলে পড়েছেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন করার জন্য সময় দেয়া হয়েছে এক মাসেরও কম। অথচ অতীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন করার জন্য ৩ মাস থেকে ৬ মাস পর্যন্তও সময় দেয়া হয়েছে। আগ্রহীরা যাতে খুব সহজে আবেদন করতে পারেন সে জন্যই এমন ব্যবস্থা রাখা হয়। অতীতে কোনো রাজনৈতিক সরকারের আমলেও প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়ার শুরুটা এমন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যেখানে অনিয়মের অভিযোগে বিগত সরকারের আমলে বরাদ্দ দেয়া উত্তরা তৃতীয় পর্বের বেশ কিছু প্লটের বরাদ্দ বাতিল করেছে সেখানে এই সরকারের আমলেই কিভাবে বিতর্কিত পদ্ধতিতে প্লট বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ?

এসব অভিযোগের প্রতি পূর্ত সচিব এসএম রশিদুল হাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, মানুষের আগ্রহের কারণেই দ্রুততম সময়ে প্লট বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হচ্ছে এবং হবে। তিনি বলেন, বিকল্প প্রশাসনিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার লক্ষ্যে পূর্বাচল সংলগ্ন এলাকায় ২ শ’ একর জমি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান মো: শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। অস্বাভাবিক কোনো তাড়াহুড়া করা হচ্ছে না। আমরা কোনো কাজই অকারণ বিলম্ব করব না। সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো। আবেদনকারীদের মধ্যে যারা প্লট পাবেন না তাদের জামানতের টাকা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে ফেরত দেয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে কেউ টাকা না নিলে উল্টো তার কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হবে। তিনি বলেন, আবেদনকারীর সংখ্যা এত বেশি হবে এটা আমরা ভাবতে পারিনি। কারণ, এর আগেরবার পূর্বাচলে প্লটের জন্য মাত্র ২০ হাজার আবেদন পড়েছিল। এখন প্রকল্প পুরোপুরি প্রস্তুত। কুড়িলে ফ্লাইওভার ও সংযোগ সড়ক হয়ে যাচ্ছে। রাজউকের প্রতি মানুষের আস্থা অনেক বেড়েছে। তাই প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক আবেদন পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে কারণে স্ট্যাম্পেরও সংকট দেখা দিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, পূর্বাচল সংলগ্ন এলাকায় বিকল্প প্রশাসনিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা আমাদের জানা নেই। সরকার চাইলে রাজউক এখনো এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ফ্ল্যাট নির্মাণের মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে রাজউকের আবাসন সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটাও সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বর্তমানে প্রকল্পটি যেভাবে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত রয়েছে আমরা সেভাবেই বাস্তবায়ন করছি।