পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার আদি-অন্ত|
-জিবলু রহমান [ ছাবিবশ ]
৩। এই তিনটি বিলের ৪ (কক) দফার অধীনে ?অউপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দাদের' জন্য পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি থাকার এবং সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে এবং এই শর্ত অনুযায়ী ৬(ঙ) (৬) (ঙ) (৬) এবং ১১ ধারা অনুযায়ী ভোটার হওয়া বা কোন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যে পূর্বশর্ত আরোপ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে সংবিধানের উপরোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ এবং কাঠামোর পরিপন্থী। ৬(ঙ)৬-এর অধীনে একজন অউপজাতীয়কে বৈধ জায়গা-জমির মালিক হওয়া ছাড়াও সার্কেল চীফের সার্টিফিকেট ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী না হতে দেয়ার বিধান এবং ভোটার হওয়ার জন্য পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমির মালিক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন বাংলাভাষী নাগরিকদের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করার পরিবেশকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেবে।হয় তাদের যুদ্ধ করে সেখানে বসবাস করতে হবে তা না হলে সে অঞ্চল ছেড়ে সমতল ভূখন্ডে চলে আসতে হবে।
৪। বিলগুলোর ২৮ দফার ৬৪ (১) (ক) ধারা অনুযায়ী এইসব জেলায় পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমিসহ কোন জায়গা-জমি ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়-বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। এই বিধান সংবিধানের ৩৬ এবং ৪২ অনুচ্ছেদের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
৫। সংবিধানে সুরক্ষিত প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব এবং কেন্দ্রীয় সরকারের এখতিয়ার এষ্মবং কর্তৃত্ব নিদারুণভাবে খর্ব করা হয়েছে এই বিলগুলোর মাধ্যমে যেমন ঃ
ক। ৮ দফার অধীনে:'সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের নিকট', শব্দগুলোর পরিবর্তে বিধি অনুসারে শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। যার ফলে সরকারের কর্তৃত্ব প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
খ। ১৭ দফার অধীনে:'অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন প্রকারে' শব্দগুলো বিলুপ্ত করে সরকারের কর্তৃত্ব হরণ করা হয়েছে। একইভাবে ২৮ দফার অধীনে সরকারের পরিবর্তে পরিষদ শব্দটি প্রতিস্থাপিত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গ। ২৬ দফার অধীনে সরকারের পরিবর্তে:'সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে' শব্দগুলো সন্নিবেশিত করে উপজাতীয় মন্ত্রীকে সরকারের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়েছে।
ঘ। ২৮ দফার অধীনে ৬৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী:'পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড়, বনাঞ্চল পরিষদের সহিত আলোচনা ও উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।' এটা সংবিধানের ১৪৪ অনুচ্ছেদের সরাসরি পরিপন্থী।
ঙ। ২৯ দফার সংশোধনীর মাধ্যমে মূল আইনের সংশোধন করে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্ব সরকারের পরিবর্তে পরিষদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
চ। ৩১ দফার অধীনে ৬৮(ক)(১)- ধারা অনুযায়ী সরকার পরিষদের সাথে পরামর্শ না করে কোন বিধি প্রণয়ন করতে পারবে না এবং ৬৮(খ) (২) অনুযায়ী কোন বিধি প্রণীত হওয়ার পর পরিষদের বিবেচনায় যদি উক্ত বিধি পার্বত্য তিনটি জেলার জন্য ?কষ্টকর বা আপত্তিকর' বলে মনে হয় তাহলে পরিষদ উক্ত বিধি পুনর্বিবেচনা, সংশোধন, বাতিল বা এর প্রয়োগ শিথিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে এবং সরকার সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ছ। ৩২ দফার অধীনে ৬৯ (ক) (১)-এ সরকারের:'পূর্বানুমোদন-ক্রমে' শব্দগুলো বিলুপ্ত করে পরিষদকে প্রবিধান প্রণয়ন করার ক্ষমতা দিয়ে দেয়া হয়েছে।
জ। ৩৫ দফায় প্রথম তফসিলের অধীনে স্থানীয় পুলিশসহ জেলার আইন-শৃক্মখলার তত্ত্বাবধান এবং তার উন্নতির দায়িত্ব সরকারের পরিবর্তে পরিষদের হাতে দেয়া হয়েছে।
ঝ। ৩৬ দফা অনুযায়ী তফসিলের অধীনে পরিষদ খনিজ সম্পদ অন্বেষণ ও নিষ্কাষনের ক্ষেত্রে রয়্যালিটির একটি অংশ পাবে।

