ভেবেছিলাম সম্পর্কের দ্বিতীয় পর্ব আজকে লিখবো। কিন্তু আমার আগের লেখায় লন্ডন থেকে সৌরভ কামাল সাহেব কিছু মন্তব্য করেছেন, যা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই তার কথার একটু উত্তর দেয়া মনে করছি।
তিনি লিখেছেন, "আপনার ব্লগের শেষ বাক্যে যেন বিশ-ত্রিশ বছর আগের আধুনিক বাংগালী নারীর মনের দ্বিধা এবং স্ববিরোধিতা প্রকাশ পেয়েছে। এক দিকে তারা নারীর স্বাধীনতার কথা বলে এবং পুরুষের অধীনতা মুক্তির আকাঙ্ক্ষা করে,আবার মনে মনে এক রাজপুত্রের স্বপ্ন দেখে যে তার দৈহিক,মানসিক এবং বৈষয়িক সব ধরণের চাহিদা পূরণ করবে। সব ধরণের চাহিদা পূরণের জন্য পুরুষদের সাথে যে কোনো স্কেলে সম্পর্ককে কি বলে তা নিশ্চয়-ই জানেন। এরা সব যুগে বিভিন্ন নামে ছিল,এখনো আছে। বাংলাদেশে বিশ্ববেহায়া এ ট্রাডিশনকে স্ট্যাটাস সিম্বলে পরিণত করেছিল।"
আমি জানিনা কতটা ভালো উত্তর আমি লিখতে পারবো। হয়তো সবি হবে খাপ ছাড়া। তবে চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কি!
লেখাটির শেষ দিকে ঠিক প্রষ্টিটিউশনকে বুঝানো হলো কি না, আমি নিশ্চিত নই। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমার ভাবতে একটু খারাপ লাগছে যে, কেউ নর-নারীর সম্পর্কে শুধু এভাবে দেখতে পারে। তবে নারী মুক্তি আর রাজকুমারের স্বপ্ন নিয়ে কিছু বলা যেতে পারে।
ব্যাপারটি আমি নিজেও অনেকাংশে একমত। নারীরা যখন কারো সাথে সম্পর্কের কথা ভাবে, তার প্রথমেই হয়তো থাকে এক ধরনের ডিপেন্ডেন্সি। সেটা মানসিক, আর্থিক, শারীরিক - সব কিছু মিলিয়েই যেন। মেয়েরা আসলেই একজন রাজকুমারকে মনে মনে আশা করে। আমি অনেক মেয়ের কথা জানিনা। আমার সমবয়সী কিংবা আশে পাশের মেয়েদের সাথে কথা বলে তো তাই মনে হয়েছে। তারা বিশেষকরে বিয়ে করার সময় অবশ্যই একজন রাজকুমারকে খুজে। সেই রাজকুমারকে হয়তো পাওয়া যায় না। তখন কাছাকাছি যতটা পাওয়া যায়, সেটা নিয়েই হয়তো নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা থাকে। তারপর কোনও একদিন যদি সত্যি সত্যি রাজকুমারের দেখা মিলে যায়, তখন অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। এখন প্রশ্ন হলো, একটি ছেলেও কি ঠিক তাই করে না?
একটি ছেলেও কি একজন রাজকুমারীকে খুজে না? সে কি চায় না যে, মেয়েটি হাজারো গুনের মানুষ হবে? দেখতে হবে ঐশ্বরিয়ার মতো, রান্নায় হবে শেরাটনের বাবুর্চি, আর বিছানায় হবে ষোল কলায় পূর্ণ। পাশাপাশি শিক্ষা তো থাকতেই হবে। শিক্ষায় কম হলে কিন্তু সমাজে মুখ দেখানো মুশকিল। আবার খুব বেশি শিক্ষিত হলে উল্টো বিপদ। বেশির ভাগ পূরষরাই কি তাই করে থাকেন না?
আমি আসলে যে সম্পর্ক নিয়ে লিখা শুরু করেছিলাম, সেটা কিন্তু নর-নারীর প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে নয়। কিংবা তুলনা মূলক আলোচনা আনার জন্য নয়। আমার কাছে মনে হয়, দুটো বিষয় কখনই তুলনা যোগ্য নয়। দুটো দুই রকমের জীব - তাদের আচার আচরন ভিন্ন। সেই আচার আচরনকেই সামনে তুলে আনার চেষ্টা ছিল। সেটা অবশ্য একান্তই আমার নিজের চিন্তা। সেই চিন্তায় অন্যের আলো এসে তো পড়তেই পারে।
তবে আমার একটি বিষয় ভাবতে খারাপ লাগছে, তাহলো - একটি মেয়ে যদি অনেকগুলো ছেলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে সেটাকে খুব খারাপ চোখে দেখা হয়। অথচ একটি ছেলে যদি ঠিক একই কাজটি করে, তাহলে সেটাকে ততটা খারাপভাবে দেখা হয় না। কথাগুলো শুনতে হয়তো, তসলিমা নাসরিনের মতো শোনাবে। কিন্তু সৌরভ সাহেবের কথাগুলো পড়ে তো তাই মনে হচ্ছে, যেন মেয়েরাই বিভিন্ন স্কেলে সম্পর্ক গড়ে তোলে, ছেলেরা সেটা করে না। এটা একটি সৎ ব্যাখ্যা আমাদের সামনে আসলেই থাকা প্রয়োজন।
আর নারী স্বাধীনতার কথা যদি বলি, তাহলে তো অনেক লম্বা একটি বিষয় চলে আসবে। আমার ধারনা, আমাদের দেশের ছেলেরা নারী স্বাধীনতার কথা শুনলেই অভার-রিএ্যাক্ট করে থাকেন। তারা ভাবতে শুরু করেন, জাত গেলো জাত গেলো। কিংবা জিনিসটা একদম বিশুদ্ধ নয় কেন! তারা হয়তো এখানে অনেকটাই হিপোক্র্যাসি খুজে পান। কিন্ত একই রকম হিপোক্র্যাসি কি ছেলেদের ভেতর নেই? সেগুলো নিয়ে কে কথা বলে বলুন?
আমার কথা হলো, নারী স্বাধীনতা মানেই কিন্তু পূরুষ বিদ্ধেষী কোনও ব্যাপার নয়। অনেকেই আমাকে বলেন যে, তোমরা যদি এতই স্বাধীনতা চাও, তাহলে বাসে আলাদা করে জায়গা চাও কেন? একই রিক্সায় উঠতে এতো দ্বিধা করো কেন? এর জবাবে যেটা বলবো তাহলো, এমন ঘটনাও তো ঘটে যে বাসে ভীড়ের ভেতর মেয়েদের শরীরের বিশেষ অংশে কেউ কেউ হাত চালিয়ে দেন। কিংবা একটি রিক্সা শেয়ার করলে, ইচ্ছে করেই গা ঘেসে বসেন - সেটা মেয়েটি উপভোগ করুক আর নাই করুক। তখন একটি মেয়ের আর কী করার থাকে বলুন? বাধ্য হয়েই আলাদা সীট চাইতে হয়; নয়তো নিজের কলিগ বা ক্লাস মেটের সাথেও রিক্সা ভাগাভাগি না করেই একা একা আসতে হয়। এগুলো তো এখনো আমাদের সমাজে আছে। তাই নয় কি?
আজকে ভেবেছিলাম, একজন নারী কিভাবে একটি ছেলেকে দ্বারা আকৃষ্ট হয় সেই ব্যাপারে লিখবো। কিন্তু সেটা এই টপিকে লেখা আর ঠিক হবো না। পরবর্তী সেশনের জন্য তুলে রাখলাম।

Comments
সাগরিকা,তবুও লিখুন
সাগরিকা,আমার সাড়ে সাত লাইন মন্তব্যের জবাবে আপনি সাড়ে ৩৪ লাইন লিখেছেন।আপনি যে ডিবেট করেন এবং লেখালেখি করেন তা বোঝা যাচ্ছে।না,আমি পতিতা বৃত্তির কথা বলিনি।বেঁচে থাকার জন্য সমাজের এই সব হতভাগিনী মেয়েরা নিজের দেহকে পুঁজি করে ব্যবসা করে।ক্যাপিটালিজমের ভাষায় তাঁদের শরীর হচ্ছে প্রোডাক্ট যা তাঁরা পয়সার বিনিময়ে কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করে।এটা একটা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত পেশা এং সরকারকে তারা ট্যাক্স ও প্রদান করে থাকে।তাদের জন্য সহানুভূতি আছে কিন্তু ঘৃণা নেই।আমি বলছি,সেই সব মেয়েদের কথা যাদের আরেক নাম সোসাইটি গার্ল বা মক্ষীরাণী।আমি সেই সব চিনি আপাদের কথা বলছি যারা এক দিকে পাড়ার তরুণ রবিনের কাছ হতে তাজা গোলাপ ফুলের ভালোবাসা নেয়, অন্য দিকে আকিজ মোহাম্মদ ভাইদের কাছ হতে ১৪ ভরির সোনার হার নিয়ে তার সাথে বিছানায় যান।জনপ্রিয় অভিনেতা মাহফুজ তার এক সাক্ষাৎ কারে এদের কথা বলেছিলেন।তখন তিনি সাংবাদিকতা করতেন,অভিনয় শুরু করেন নি।এমনি জনৈক আকিজ মোহাম্মদ ভাই তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এমনি কিছু চিনি আপাদের সাথে। যাদের এ পরিচয় পেয়ে তার ভাষায়,''পৃথিবী যেন দুভাগ হয়ে গিয়েছিল।''কারণ,এইসব নারীরা মালদার লোকদের শারীরিক আনন্দ দিয়ে থাকে বেঁচে থাকার জন্য নয়,ক্ষমতা,স্ট্যাটাস এবং বৈষয়িক লাভের আশায়। প্রতিটি ছেলে বিয়ের জন্য ঐশ্বরিয়া/কারিনা কাপুর এবং শেরাটনের বাবুর্চি ও বিছানায় নীল ছবির নায়িকা খুঁজে বলে আমি বিশ্বাস করি না।তা হলে অনৈশ্বরিয়াদের বিয়ে হয় কী ভাবে এবং তারা সুখী-ই বা হয় কী ভাবে?আর বিয়ের ব্যাপারটি-ই যেহেতু বাছাবাছির তাই এতে দোষের কি আছে?জামাই খুঁজতে যেয়ে মেয়ে দেখে সালমান শাহের ছবি,মেয়ের মা-বাবা ,মুরুব্বিরা দেখে তার অর্থনৈতিক অবস্থা,সামাজিক অবস্থান,শিক্ষা-স্বাস্থ্য,চরিত্র,পারিবারিক ঐতিহ্য,ক্ষমতা,আদব-কায়দা ,ধর্ম ভীরুতা ইত্যাদি।একটি মেয়ের অনেক ছেলের সাথে যে কোনো স্কেলে সমপর্ক গড়ে তোলা বলতে আপনি ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন তা পরিষ্কার না।ব্রিটেনে এবং সম্ভবত পাশ্চ্যাত্তের সকল দেশেই পুরুষ -নারীর সম্পর্ক দু ধরণের-male friend/female friend এবং Boy friend/Girl friend.বয়-ফ্রেন্ড/গার্ল ফ্রেন্ডদের সম্পর্ক অনেকটা স্বামী-স্ত্রীর মতো,একসাথে বসবাস করে,এমন কি সন্তান ও নিতে পারে।এটা সমাজ স্বীকৃত।যত দিন ভালো লাগলো একসাথে থাকলো তার পর মোহ কেটে গেলে যে যার পথে চললো।আবার নতুন সংগী খোঁজার পালা শুরু হয়।বাচ্চা-কাচ্চা হলে তা থেকে যায় মায়ের সাথে।এভাবে একের পর এক সংগী পাল্টাতে থাকে যত দিন পর্যন্ত কাউকে বিয়ে করার উপযুক্ত মনে না হয় বা বিয়ে করার ইচ্ছে না জাগে।আবার অনেক সময় বিয়ের পর দ্রুত মোহ কেটে যায় এবং ডিভোর্স হয়ে যায়।অপরদিকে male friend/female friend-দের সম্পর্ক হচ্ছে আমাদের দেশের কলেজ/ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সাধারণত যে ধরণের সম্পর্ক থাকে সেরকম-অর্থাৎ সম্পর্কটি শারীরিক নয়।একটি মেয়ের অনেক ছেলের সাথে যে কোনো স্কেলে সম্পর্ক সমাজের চোখে নিন্দনীয় হলে,একটি ছেলের অনেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ওসমাজের চোখে সমান ভাবেই নিন্দনীয় বলে জানি-এসব ছেলেদের একটি নাম-ও আছে-লুচ্চা।এদের কাছে মেয়ে বা বোন বিয়ে দেয়ার আগে মানুষ দশ বার ভাববে।আর যৌন স্বাধীনতার দেশ ব্রিটেনেও ছেলেমেয়েরা এক-ই সময় একাধিক গার্ল ফ্রেন্ড বা ব্য় ফ্রেন্ড নেয় না ,এটা নিন্দনীয়।আর নারী স্বাধীনতা বলতে কী বুঝায় একটি নারীর কাছেই কি তা পরিষ্কার?একটি ছেলে কী কখনো ভাবে পুরুষ স্বাধীনতার কথা?নারী স্বাধীনতা বলতে আমার কাছে যেটা মনে হয় তা হচ্ছে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং মানুষ হিসেবে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার।আর স্বাধীনতা কখনো কেউ কাউকে এমনি এমনি দিয়ে দেয় না,তা আদায় করে নিতে হয়।পুরুষের উপর অর্থনৈতিক এবং মানসিক নির্ভরতা বজায় রেখে একটি নারী কী ভাবে স্বাধীনতার কথা বলে?বাংলাদেশে দেখেছি মেয়েদের জন্য জায়গা /সিট ছেড়ে দেয়া-ই ভদ্রতা।ব্রিটেনে এসে দেখেছি কোনো পুরুষ কোনো মেয়ের জন্য সিট ছেড়ে দেয় না ।কারণ মেয়েরা তাকে মনে মনে male chauvinistic Pig বলে গালি দিবে।আর কিছু সংখ্যক পুরুষের অসংযত আচরণকে সমস্ত ছেলেদের বৈশিষ্ট্য বলে চালিয়ে দেয়া কি যথোচিত?এটা তো একেক জনের ব্যক্তিগত দৃষ্টি ভংগির ব্যাপার।এদেশে এটাকে বলে যৌন নিপীড়ন(sexual abuse)।এর জন্য যে কোনো মেয়ে পুলিশ ডাকতে পারে এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারে।তবে আপনার পাশে বসা যে যুবকটি সংযমের পরিচয় দেয়,তার ও যে একটি নারীর স্পর্শ পেতে ইচ্ছে করে না তাই বা নিশ্চিত হচ্ছেন কি করে।এবং হলেও তা তো নিতান্ত-ই প্রাকৃতিক-সেই হরমোনের ব্যাপার।পরিশেষে,সমালোচনা শুনে লেখা ছেড়ে দিবেন না।কারণ,মেয়েদের কথা মেয়েরাই ভালো বলতে পারে।সৌরভ কামাল,লন্ডন,ইংল্যান্ড
Sagorika
একজন নারী কিভাবে একটি ছেলেকে দ্বারা আকৃষ্ট হয় ------------
"Olos mostisko soitaner karkhana"