বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি : পরিবর্তনের রূপরেখা

zswapan's picture
Posted by
zswapan
Tuesday, May 26, 2009 - 11:31am BST

লেখাটি লিখেছিলাম সাপ্তাহিক পত্রিকা "সাপ্তাহিক"-এর এক বর্ষপূর্তি সংখ্যার জন্য। লেখাটি এখন ছাপা হয়েছে। তাই "প্রিয়" পাঠকদের জন্য পোষ্ট করে দিলাম। লেখাটি যেহেতু লিখেছিলাম "সাপ্তাহিক"-এর জন্য, তাই তাদের মূদ্রনের পূর্বে এখানে পোষ্ট করা ঠিক হতো না।

------------------------- মূল লেখা ----------------------

আমার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় খুব পরিষ্কার হয়েছে - সেটা হলো, বাংলাদেশে দুটি প্রফেশনে কোন যোগ্যতা লাগে না। একটি হলো তথ্য প্রযুক্তি; আর দ্বিতীয়টি হলো সাংবাদিকতা। এই দুটি প্রফেশন ছাড়া আর যে কোন প্রফেশনে ভালো করার জন্য আপনার লেখাপড়া এবং যোগ্যতার পরিচয় দিতে হয়। সাংবাদিকতা প্রফেশনটি যেমন সবার জন্য উন্মুক্ত, তথ্যপ্রযুক্তিও তেমননি সবার জন্য উন্মুক্ত। আমার কথায় হয়তো অবাক হচ্ছেন। কিছু উদাহরন দেই তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে।

আপনি বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের দিকে তাকান। বড় ছোট সাংবাদিকদের দিকে তাকান। কত জন সাংবাদিকের সাংবাদিকতার উপর লেখাপড়া আছে? তাদের প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার খোজ নিন। দেখবেন, বিভিন্ন মানুষ যে যার মতো পেরেছে, এই প্রফেশনে ঢুকে গেছে। ডেস্কে রিপোর্ট লিখতে লিখতে কিংবা আর কোথাও কোন চাকরী না পেয়ে কাউকে ধরে-বেধে পত্রিকায় ঢুকে গেছেন, এমন উদাহরন ভুরি ভুরি।

আমি সত্যি জানিনা (যেহেতু ওটা আমার প্রফেশন নয়), যারা সাংবাদিকতায় লেখাপড়া করেন, তারা এটাকে কিভাবে দেখেন! এবং তারা যে বিশেষ যোগ্যতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে আসেন, তার কি আদৌ কোন প্রয়োজন আছে? দেশের বেশির ভাগ সাংবাদিকের যদি সাংবাদিকতার উপর লেখাপড়ার দরকার না হয়, তাহলে সেই শিল্পটির কী হতে পারে! সেখানে প্রফেশনালিজমের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়ায়?

একই অবস্থা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এখানে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার কোন মূল্য বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশে যে কেউ কমপিউটার এক্সপার্ট হয়ে যেতে পারেন। একজন ব্যবহারকারী মূহুর্তেই বিশেষজ্ঞে পরিনত হতে পারেন। একজন সিভিল ইঞ্জিনীয়ার কিংবা আর্কিটেক্ট হতে পারেন তথ্যপ্রযুক্তির মাতা-পিতা। জলজ্যান্ত উদাহরন হলো আমাদের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রী। তার প্রতি সন্মান রেখেই বলছি, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি চাইলে তো ওই পজিশনে একজন তথ্যপ্রযুক্তির মানুষের বসার কথা। একজন আর্কটেক্ট-এর নয়।

একটি ব্রিজ বা রাস্তা বানানোর কাজে কি কখনও আমাকে ডাকা হবে? কিংবা আইন বিষয়ক কোন কাজে একজন আইনজীবিকে না ডেকে আমাকে কি ডাকা হবে? একটি প্রতিষ্ঠান অডিট করার জন্য একজন চাটার্ড একাউন্টকে না ডেকে কি আমাকে ডাকা হবে? একজন রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য ভালো কোন ডাক্তার না ডেকে আমাকে কি তার জন্য ডাকা হবে? আমার একটি ইঞ্জিনীয়ারিং ডিগ্রী থাকলেও ডাকা হবে না; এবং সেটা ঠিকও হবে না। প্রতিটি কাজের জন্য সেই বিষয়ে লেখাপড়া জানা প্রফেশনাল লোকজন আছে। তারাই সেটা করবেন।

কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির কাজের জন্য যে কাউকেই ডাকা যেতে পারে। বাংলাদেশে এটাই রীতি। যিনি বাংলা সাহিত্যে লেখাপড়া করেছেন, যিনি সিভিল ইঞ্জিনীয়ারিং পড়েছেন, যিনি ফিলোসফি পড়েছেন, যিনি পরিসংখ্যান পড়েছেন, যিনি একাউন্টিং পড়েছেন, যিনি স্থাপত্য পড়েছেন কিংবা যিনি কোন কিছুই পড়েননি, তাকেও তথ্যপ্রযুক্তির জন্য ডাকা হয়; এবং নেতৃত্ব দেয়া হয়। এবং আমাদের সাংবাদিকরা তাদেরকে এই বিষয়ে প্রশ্নও করে থাকেন। আমি অবাক হবো না, যদি এই পত্রিকার এই সংখ্যাতেও দু'একজন ভিন্ন প্রফেশনের মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে লিখতে দেয়া হয়, তাদের মতামত চাওয়া হয়।

আমরা একটি বেসিক জায়গায় ভুল করে যাচ্ছি। আপনি একজন খুব ভালো তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারকারী হতে পারেন; তার মানে এই নয় যে আপনি সেই বিষয়ের অনেক কিছুই জানেন। প্রতিটি শিল্পের নিজস্ব কিছু ভাষা থাকে, কিছু অন্তর্নিহিত ব্যাপার থাকে। সেগুলো একদম ভেতরের লোক না হলে, জিনিসটা ঠিক হয় না। একবার এক নির্বাচন কমিশনার (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি) আমাকে বলেছিলেন, "ওহ, ভোটার আই.ডি কার্ড? ওটা তো কয়েকটা ম্যাকিন্টোস কমপিউটার বসালেই হয়ে যাবে।" একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান আমাকে বলেছিলেন, "ভোটার আই.ডি কার্ড তো তিন মাসেই করে ফেলা যায়। আমার ছেলেকে বললেই ডিটেল প্ল্যান তৈরী করে দিতে পারবে।" তারপর আমি তার ছেলের সাথে কথা বললাম। তাকে আমি একটা সামান্য চাকরীর জন্যও যোগ্য মনে করতে পারিনি। আমাদের চারপাশে অজস্র তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। এই বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আমাদের দেশ কোথায় যাবে, সেটা ভাববার বিষয়।

আমার ধারনা সাংবাদিকতা প্রফেশনে খুব ভালো একটা ধ্বস নেমেছে; বিশেষ করে বুদ্ধিমত্তা, ইথিক্স, গবেষনা, নীতিবোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে। আমাকে যখন বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির রূপরেখা নিয়ে লিখতে বলা হলো, আমার কাছে বারবার সাংবাদিকতা প্রফেশনটির কথাই মনে হলো। এখানে জৌলুস বেড়েছে, কিন্তু নীতিবোধ বাড়েনি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাই হবে; এবং ঠিক একই কারনেই সেটা হবে। আমরা অনেক টাকা-পয়সার ছড়াছড়ি দেখবো, অনেকে এটাকে ব্যবহার করে বিত্তবান হবেন; কিন্তু এই খাতের তেমন একটা উন্নতি হবে না।

২.
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির সবচে বড় পরিবর্তনটি হয়েছে ব্যবহারকারীদের ভেতর। এখন লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্নভাবে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা নিয়ে থাকেন, তারা নিজেদেরকে সামনে নিয়ে গিয়েছেন। তাদের হাতে মোবাইল ফোন আছে, ইন্টারনেট আছে, ফেসবুক আছে, ইউটিউব আছে, তারা ছবি তুলছেন, ভিডিও ব্রডকাষ্ট করছেন, ছবি শেয়ার করছেন - বাংলাদেশে বসে যতটা করা যায়। পরিবর্তনটা হয়েছে এখানে।

কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি সেবা তৈরী করার বিষয়ে এবং অবকাঠামো তৈরীতে কোন পরিবর্তন আসেনি। এবং পরিবর্তনটি আসা প্রয়োজন এই জায়গাটিতেই। "সাপ্তাহিক" একটি বছর পার করলো। বিগত একটি বছরে বাংলাদেশে কী হয়েছে এই খাতে, সেটা বলা খুব মুশকিল হবে। এবং একইভাবে সামনের বছরগুলোতেও এর চেয়ে বেশি কী হবে! তবুও কী কী বিষয়ে পরিবর্তন হতে পারতো কিংবা হওয়া উচিৎ সেটা একটু বলা যেতে পারে।

(ক). ইন্টারনেটের মূল্য কমানো: বাংলাদেশ দীর্ঘ দিন হলো সাবমেরিন ক‌্যাবল পেয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, সেই ক্যাবলের জন্য যে পরিমান বিনিয়োগ করা হয়েছিল, সেই টাকা ইতোমধেই উঠে গেছে। এখন সরকার চাইলেই এটাকে কষ্ট-বেসিস পরিচালনা করতে পারে। একটি রাস্তা তৈরী হলে, ওটার টাকা উঠে গেলে যেমন আর টোল বসানোর দরকার থাকে না, একই সূত্র এখানেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। তাহলে খুব কম খরচে বাংলাদেশের মানুষ ইন্টারনেট পেতে পারে।

(খ). ওয়াইম্যাক্স ব্রডব্যান্ড: বিগত সরকার তথ্যপ্রযুক্তির খুব খারাপ একটি কাজ করেছে। তারা ওয়াইম্যাক্স ওয়্যারল্যাস ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইসেন্স টেন্ডারের মাধ্যমে ২১৫ কোটি টাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করেছে। শুনতে খুব ভালো লাগছে। কিন্তু এখন ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদানের জন্য যে পরিমান বিনিয়োগ করতে হবে, সেই পরিমান টাকা নেই। আবার যখন কেউ সেই পরিমান টাকা বিনিয়োগ করবে, তখন এই টাকা তুলতে গিয়ে ইন্টারনেটের চার্জ অনেক বেশি হবে। গ্রাহককে অনেক বেশি টাকা পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্র পর্যাপ্ত গ্রাহক পাওয়া যাবে না। তাহলে লাভটা হলো কি? মানুষ এই সেবাটি পেল না। উচিৎ ছিল অল্প টাকার বিনিময়ে সরকারী পার্টনারশীপের মাধ্যমে টেকনিক্যালী যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ওয়াইম্যাক্স দেয়া। তাতে কম মূল্যে দেশের মানুষ ইন্টারনেট সেবা পেতো। দেশের উপকার হতো। সরকারও টাকা হারাতো না। ওই কম্পানীগুলো সফল হলে, সবার জন্যই মঙ্গল হতো। পৃথিবীর অনেক দেশে (বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে) এভাবে সফলতা আনা হয়েছে। কোনও বিষয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে এমন দূর্ঘটনা হতেই থাকবে; এবং আমরাও প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ব।

(গ). ঢাকা শহরের মাটি খুড়ার মূল্য: আমার ধারনা আমরা তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি চাই, শুধু মুখে মুখে। নইলে আমাকে একবার বলেন তো, এই ঢাকা শহরে ফাইবার অপটিক ক্যাবল বসানো এখনো হয়নি কেন? সব ক‌্যাবল বিদ্যুতের খুটির উপর দিয়ে টানা কেন? তার কারন হলো, মাটি খুড়তে অনেক বেশি ব্যায় সাপেক্ষ। আর এই ব্যায়টা কিন্তু শ্রমিকের ব্যায় কিংবা ফাইবার অপটিকের ব্যায় নয়। সিটি কর্পরেশনের চার্জ। তাদের চার্জ এতই বেশি যে, এক কিলোমিটার ফাইবার বসাতে প্রায় কয়েক কোটি টাকা লেগে যায়। অথচ ফাইবারের মূল্য লক্ষ্যাধিক টাকাও হবে না।

বিভিন্ন দেশে সিটি কর্পোরেশন নিজের টাকায় এই কাজগুলো করে দেয়, ব্যবসার জন্য এই সুযোগ তৈরী করে দেয়। আমরা তো সেটা করছিই না, উপরন্ত অনেক বেশি চার্জ ধরে বসে আছি। ফলে কেউ ফাইবার বসাচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন বেশি মুনাফার জন্য এখন কিছুই পাচ্ছে না। সারা শহরে ফাইবার ছাড়া নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশনের উচিৎ, এটাকে কমিয়ে এনে ঢাকা শহরের যাবতীয় কালো ক্যাবলগুলোকে মাটির নীচ দিয়ে প্রবাহিত করা।

(ঘ). ভিওআইপি মুক্ত করে দেয়া: সরকারের উচিৎ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভিওআইপি উন্মুক্ত করে দেয়া। নাম মাত্র মূল্যে লাইসেন্স দেয়া; এবং আগ্রহী যে কাউকে ব্যবসা করতে দেয়া। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বিয়ে করলে বাচ্চা হবে, এটা যেমন একটা প্রাকৃতিক সহজাত বিষয়, একইভাবে ”ভয়েস” ও “ইন্টারনেট” থাকলে ভয়েস ওভার ইন্টারনেট (আইপি) থাকবে সেটাও খুব সহজাত। এই দুটোকে আলাদা করতে যাওয়ার চেষ্টাই বৃথা। সেটাকে আপনি বৈধ বলুন আর অবৈধ বলুন।

কিন্তু বাংলাদেশে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এই লাইসেন্স প্রদান করে পুরো প্রক্রিয়ায় আরো বেশি অবৈধ ব্যবসাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সরকার সেখানে কোন ট্যাক্স পাচ্ছে না। তাই দ্রুত যাবতীয় ব্যবসায়ীকে বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিতে হবে। তাতে অনেক এন্টারপ্রনর তৈরী হবে। প্রত‌্যেক সরকার এসে এটাকে উন্মুক্ত করার কথা বলে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ কাজটা করে না। এবার সেটা উন্মুক্ত হোক।

(ঙ). শিক্ষা ব্যবস্থা: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একদম যায় যায় অবস্থা। পৃথিবীর মান দন্ডে কোথাও দাড়ানোর মতো নয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিচ্ছিন্ন কোন বিষয় নয়। ওখানে লেখাপড়ার প্রয়োজন আরো বেশি। তথ্যপ্রযুক্তির পুরো বিষয়টিই হলো বুদ্ধিমত্তার। তাই এখানে উন্নতি করতে হলে, খুব ভালো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং গবেষনার কোনও বিকল্প নেই। আমাদের যেহেতু, এই ফ্রমওয়ার্কটি ভেঙ্গে পড়ছে, সেখানে সব কিছুই ভেঙ্গে পড়বে।

আমার লেখাটি পড়ে অনেকেই হতাশ হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা খুবই কঠিন। আমরা মিথ্যা স্বপ্ন আর আশ্বাসের উপর আর কতকাল ঘর বাধতে পারবো? আমাদের যদি ঘর তৈরীর ভিত্তিটা মজবুত না হয়, তাহলে সব কিছুই কি বালির বাধের মতো হবে না? আমরা যত বেশি কথা বলি, সেই তুলনায় কি এক্সিকিউট করি? বিগত বছরগুলোতে আমরা কি শুধু এটাই বলে আসছি না যে, আমাদের ভালো করার অনেক সুযোগ আছে; কিন্তু আমরা আসলে কতটা ভালো করেছি? যদি বিগত বছরগুলোতে আমাদের এক্সিকিউশন খুব খারাপ হয়, তাহলে এখন খুব ভালো হবে, সেই আলো কে দেখাচ্ছে? আমরা তো এখনো আমাদের গনতন্ত্রের রেলগাড়ি ঠিক করতেই সময় পাড় করে দিচ্ছি। সেই ট্রেন রেললাইনে ঠিক মতো থাকলে, তারপর না অন্য কিছু!

পরিশেষে শুধু এটুকু বলবো, তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করে পৃথিবীর দেশগুলো তাদের গনতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করছে, সরকারকে আরো বেশি ট্রান্সপারেন্ট করছে, আরো বেশি গণমূখী করছে, জীবন যাত্রার মানকে উন্নত করছে। এই সবকিছুই সম্ভব যদি আমাদের ইচ্ছা থাকে। আমি এখনও সেই ইচ্ছাটা সরকার প্রধানদের ভেতর দেখতে পাচ্ছি না। সরি।

Comments

bd08's picture

আইটি বিশেষজ্ঞ

বুয়েট-আমেরিকান উচ্চডিগ্রী মি জামিলুর রেজা চৌধুরী ৯০ দশকের মাঝামাঝি কোচিং সেন্টারগুলোর ফিতা কেটে দেশের আইটি খাতের উন্নয়ন সাধনে ব্যস্ত ছিলেন।

বলতে কষ্ট হয়, বিজ্ঞ জামিলুর সাহেবর আইটি সম্পর্কে আদৌও কোন ধারনা ছিল কিনা তা আজ প্রশ্নসাপেক্ষ। তখন কোচিং সেন্টারগুলো ৬০০টাকায় সি, আর জাভা ইত্যাদি শিক্ষার মাধ্যমে দেশে আইটি বিপ্লব ঘটাইতে চেয়েছিলো।

বলতে কষ্ট হয়, উচ্চডিগ্রীরাও বাংলাদেশের জনগনকে প্রতিনিয়তই প্রতারনা করে আসছে? এখানে আমাদের ডাক্তার শ্রেনীভুক্ত ভাই-বোনদের কথায় আগে মনে পড়লো। সেবার মানসিততা পরিত্যাগ করে শয়তান-মন নিয়ে ব্যবসায় লিপ্ত।

এরপরেও কথা থাকে, আমাদের গার্মেন্টস পাড়ার শিক্ষিত-অধশিক্ষিত-মুর্খ মালিকেরা কিন্তু নিজ চেষ্টায় আজকের গার্মেন্টস খাতকে এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে ...কিন্ত আমাদের *(দেশী বা প্রবাসী) শিক্ষিত জনগোষ্টি একটিও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্টান বা ব্যবসা প্রতিষ্টান গড়ে তুলতে পারেনি ... এখানে নেই কোন ইঞ্জিনিযারিং ফার্ম, নেই কোন রিসার্চ ফার্ম ... শুধু রাজনীতিবিদ বা প্রচলিত ধারাকে দোষারুপ করলে হবে না, অদম্য ইচ্ছে থাকতে হবে ...সেটা নেই আমাদের ছাত্র-সমাজে ...এদের মুল্য উদ্দেশ্য হয়েছে ...টোফেল-জিআরই আর বিদেশী সিটিজেনশীপ

...এর মধ্যে আশার কথা হলো, আজকাল কিছু প্রাইভেট ইউনিভারসিটি নিজ চেষ্টায় গুনগত উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ...এবং ইতিমধ্যেই অনেক কৃতী ছাত্র-ছাত্রী টোফেল-জিআরই আর বিদেশী সিটিজেনশীপের লুপ থেকে বের হয়ে বিদেশী ডিগ্রীর পরপরই নিজ দেশে রিটার্ণ করছে ... তাদের মানসে এই পরিবর্তন এসেছে, উপলব্ধি এসেছে, নিজ জ্ঞান-অভিজ্ঞতা যদি দেশী প্রন্মজের কাছে ট্রান্সফার না করা যায়, সেই জ্ঞান-অভিজ্ঞতার দাম দেশীয় মানদন্ডে মুল্যহীন। (বেতনের কচকচে ডলারের গুনগত মান পরদেশের ট্যাক্স পে করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, আর নিজ দেশে উহা শুধুই বর্ধিত কাগজের নোট )

কাজেই প্রবাসী বাংগালীরা যে যে পেশায় সাফল্য অর্জন করেছে, তাদের পুরোসেট দেশে এসে নিজ উদ্যোগে দেশের কাঠামোগত উন্নতি করতে পারে। এতে কিছুদিনের মধ্যেই দেশ thresh hold অবস্থান থেকে বের হয়ে যাবে।

  • Save Bangladesh: No more farakka