স্বাধীনতার ঘোষক, হাইকোর্টের রায় এবং একটু অন্যরকম চিন্তা - WatchDog

WatchDog_bd's picture
Posted by
WatchDog_bd
Tuesday, June 23, 2009 - 2:04am BST

মুজিব-জিয়া বিতর্ক রাজপথ, শিক্ষাংগন এবং সংসদ ভবন পেরিয়ে শেষ পর্য্যন্ত আদালতে ঠাই নিয়েছে। দেশের সব্বোর্চ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে জিয়াউর রহমান নয়, বরং শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে আখ্যায়িত করে এ ব্যাপারে জোট সরকারের আমলে গৃহীত দলিলাদির একটা অংশকে অবৈধ, বেআইনী এবং শাস্তিমূলক অপরাধ হিসাবে ঘোষনা দিয়েছে। সূস্থ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্বাশীল একটা জাতির জন্যে দেশের সব্বোর্চ আদালতের রায়ই শেষ রায় (আপিল এবং সুপ্রিম কোর্ট শেষে) হওয়ার কথা, এ বিবেচনায় স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে রক্তক্ষয়ী বিতর্কের এখানেই বোধহয় পর্দা পরা উচিৎ ছিল। কিন্তূ বাস্তবেও কি এমনটা ঘটতে যাচ্ছে?

কিছুদিনের ভেতর দেশের হাইকোর্টে নতুন ক’জন বিচারক নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্বান্ত প্রায় চূড়ান্ত। সরকার বদলের সাথে সাথে দেশের বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে নতুন বিচারক নিয়োগ অনেকটা রাজনৈতিক সাংস্কৃতিতে পরিনত হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারও এ চর্চার বাইরে যেতে চাইছেনা। এ ব্যাপারে বিশেষ জ্ঞান না থাকলেও বিচারকের আসন কারা অলংকৃত করতে যাচ্ছেন এ ব্যাপারে ভবিষতবানী করা খুব একটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার বলে মনে হয়না। আওয়ামী ঘরনার আইনজীবিদের ধূয়ে মুছে বিচারকের আসনে বসানো হবে দলীয় স্বার্থের আইনী দিক দেখভাল করার জন্যে, বিশেষকরে পরবর্তী সরকারগুলো যখন নেতা-নেত্রীদের কৃতকর্মের পাপমোচন করতে আইনের হাতে সপে দেবে তখন। এটাই আমাদের বিচার ব্যবস্থার দুখঃজনক বাস্তবতা। এমনটা করেছিল গত বিএনপি-জামাত জোট সরকার, এরশাদের স্বৈর সরকার এবং আগের টার্মের আওয়ামী সরকার। শুধু দলীয় বিবেচনাই নিয়োগ প্রাপ্তি যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি থাকা চাই নেত্রীর সূনজর। বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রীর নিয়োগ নিয়ে খোদ ক্ষমতাসীন দলেই রয়েছে অনেক ক্ষোভ এবং অসন্তূষ্টি। এমন নিয়োগের পক্ষে সাফাই গাইতে নিয়োগকর্তা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অন্য এক কাহিনী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনী যাতাকলে প্রধানমন্ত্রীকে যখন চাপাতি বানানো হচ্ছিল ব্যরিষ্টার শফিক সে র্দুদিনে উনার পাশে দাড়িয়েছিলেন নিঃস্বার্থ ভাবে। প্রধানমন্ত্রী এই নিঃস্বার্থ সেবককে পুরস্কৃত করতে ভূলেন্‌নি, যেমনটা ভূলেন্‌নি ব্যক্তিগত চিকিৎসক মোদাচ্ছেরকে মূল্যায়ন করতে।

বিচারক নিয়োগের প্রসংগটা টানার একটা লক্ষ্যনীয় দিক আছে, ধরে নেই সামনের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখান করে আবারও বিএনপি-জামাত জোটকে ক্ষমতায় বসালো। স্বভাবতই পুরানো বিচারকদের পাশাপাশি নতুন ক’জন বিএনপি ঘরনার আইনজীবি বিচারক হিসাবে নিয়োগ পাবে। নতুন সরকার আবারও হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্টে যাবে স্বাধীনতার ঘোষক সমস্যা সমাধানের জন্যে। পাঠক, কি মনে হয়, হাইকোর্ট কি বহাল রাখবে আওয়ামী আমলের রায়? দলীয় বিচারক নিয়োগের এটাই বোধহয় মূল স্বার্থকতা।

শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক বানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যতটা ব্যতিব্যস্ততা দেখাচ্ছে মনে হচ্ছে সূযোগ বোধহয় হাতছাড়া হওয়ার পথে! আইন করে নেতাকে ঘোষক বানাতে গিয়ে দলটি প্রকারান্তে শেখ মুজিবকে হেয় এবং ছোট করে স্বৈরশাষক জিয়ার পর্য্যায়ে নামিয়ে আনছে। স্বাধীনতার ঘোষনা একটি ঐতিহাসিক দলিল, আবেগের দলিল নয়। আবেগের উর্ধ্বে উঠে এমন একটা দলিল নিয়ে আমরা যদি ঘাটাঘাটি করতে যাই কোথাও কি শেখ মুজিবের স্বাক্ষরিত ঘোষনার কোন প্রমান বের করতে পারব? হ্যাঁ, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় এই অবিংসবাদী নেতার ভূমিকাকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। কিন্তূ আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল কেবলমাত্র একব্যক্তির ঘোষনায় এবং একজন মেজরের বিদ্রোহের কারণে এমন একটা তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করা হবে স্বাধীনতা যুদ্বে প্রাণ হারানো লাখ লাখ মানুষের প্রতি চরম অসন্মান। কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রে কে, কখন এবং কার হয়ে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিল ইতিহাসের এ অংশ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে যার কোন প্রতিষ্ঠিত দলিল নেই। শুধু এই ঘোষনাকে আলোকিত করে স্বাধীনতার পূরো অধ্যায়কে মূল্যায়ন করা হবে অবিবেচকের কাজ। আওয়ামী লীগ তার নিজস্ব ঘরনার বিচারক দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষকের ফয়সালা করে তেমনি এক অবিবেচকের কাজ করল, যার মূল্যায়ন হবে দলভিত্তিক, সার্বজনিন নয়। শেখ মুজিবকে হাইকোর্টের রায় নিয়ে জাতির পিতা অথবা স্বাধীনতার স্থপতি বানানো হবে একধরনের এঞ্জিনীয়ারিং যা হয়ত সময় এবং বাস্তবতার চাহিদা মেটাবে, ইতিহাসের নয়। কাউকে শতাব্দির সেরা সন্তান জোড় করে বানানো যায়না, এ ধরনের মূল্যায়নের জন্যে চাই জনগণের আকুণ্ঠ এবং স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন। শেখ মুজিবকে এ ধরনের মহামানব আখ্যায়িত করতে দেশের কোটি মানুষের শুধু সমর্থনই নেই, রয়েছে বিরোধীতা।

দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানির কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্য্যস্ত, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থীতি আয়ত্তের বাইরে, মন্ত্রীদের অযোগ্যতার কারণে সরকারের যাত্রা এলোমেলো। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ৩৮ বছরের এ অমিমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে শুধু দলীয় ক্ষমতাকেই নিশ্চিত করবেনা, বরং প্রায়ত নেতা শেখ মুজিবকেও সার্বজনীন প্রতিষ্ঠা দিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। মুখে মুজিব নামের ফাকা বুলি আর অন্তরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির ধান্ধাবাজি, এসব করে ঘোষক নামের কীর্তন গেয়ে ইতিহাস বদলানো গেলেও জনগণের মন জয় করা যায়না। শেখ মুজিবের স্বীকৃতি আসতে হবে জনগণের সন্মান, শ্রদ্বা এবং ভালবাসার চাওয়া পাওয়া হতে, হাইকোর্টের দলীয় বিচারকদের কলম হতে নয়।

Comments

SalamU's picture

Mr. Hasan

I am interested to know how and when BangaBondhu declared independence.
Please help me.
You mentioned BB mentioned this in Sangsad.
When? do have any reference? please pass me if you have.
Or if you have any authentic information in this issue please provide me.
I am in process of compiling information pertaining to this issue.

nazrul's picture

Wait!they need time to creat false documents for Mujib's heroism

Mujib never declared independance , he was never in favour of independence, this brainless agitator born corrupt and thug leader never had the vision of anything good.
Otherwise people of Bangladesh would not have suffered 2-3 lacs death.
He wanted to be arrested after 7th March speech , as the situation was getting out of control.
From 7th March to 25th March this stupid was negotiating with Yahya Khan for what!!
Independance of Bangladesh!??never for PM ship of Pakistan!, he was bargaining with Yahha khan in his speech of 7th to break Pakistan a mean political game for power hungry corrupt and Mujib., but he said historically Joy Pakistan at the end of his 7th March speech because he wanted to keep the negotiation going.
He knew only to agitate people for unruly behaviour but loved thuggery,nepotism , corruption, and self promotion.
His only creation was BAKSHAL !!Mujib's worshipers in disguise should thank Mujib for that only, Mujib's BAL should also thanks Mujib for the dictatorship he left behind and turned AL into a family run institutions.

Hassan Imam khan's picture

স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক

সুত্র,প্রথম আলো (সম্পাদকীয়/উপসম্পাদকীয়) ২৪ শে জুন ২০০৯।
উচ্চ আদালত মাইলফলক রায় দিয়েছেন
-------------------------------------------------------------------------------
small%20_court_ruling_picture_large_0.jpg
-------------------------------------------------------------------------------
উচ্চ আদালত একটি কলঙ্ক মুছে দিয়েছেন। এ কথা সাধারণভাবে ঠিক যে রাজনীতি ও ইতিহাস আদালত কর্তৃক নির্ধারণের বিষয় নয়। কিন্তু সেই মানদন্ডে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্নরণীয় নাম মুছে ফেলার চেষ্টা বিচার্য হতে পারে না। আদালত বাঁকা ইতিহাস সিধা করেছেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার মাইলফলক আদেশ দিয়েছেন।
স্বাধীনতার ৩৩ বছর ও বিএনপি প্রতিষ্ঠাতার তিরোধানের ২৩ বছর পর আকস্িনকভাবে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানকে প্রতিস্থাপন ছিল একটি অমার্জনীয় অনাচার ও অনভিপ্রেত ঘটনা।
সংবিধান ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক। এই ঐতিহাসিক সত্য ১৯৭২ সালে মূল সংবিধানে মুদ্রিত হয়। এরপর সামরিক শাসকেরা বহুভাবে সংবিধান কাটাছেঁড়া করলেও এখানে হাত দেননি। এমনকি চারদলীয় জোট সরকারের নিয়োগ করা ফরমায়েশি ইতিহাসবিদেরা খোঁড়া যুক্তিতে শেখ মুজিবের নাম মুছে জিয়ার নাম বসিয়েই ক্ষান্ত থাকেন। তাঁরা সংবিধানে পরিবর্তন আনার দুঃসাহস দেখাননি। মোসাহেবেরা অবশ্য দ্রুত বইপুস্তকে জিয়াউর রহমানের নাম মুদ্রণ করেন। এ কারণে পাঁচ বছর ধরে স্বাধীনতার ঘোষক প্রশ্নে সংবিধান ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কার্যত লঙ্ঘিত হচ্ছিল। এটা ছিল একটি চরম অস্বস্তিকর ও ঘৃণা উদ্রেককারী দুষ্ককর্ম।
বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ ২১ জুন আমাদের সেই লজ্জার কবল থেকে পরিত্রাণ দিয়েছেন। রায়ে লক্ষণীয়ভাবে জিয়াউর রহমানকেও যথাস্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমাদের ডামাডোলপূর্ণ জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে যাঁর যা প্রাপ্য, তাঁকে তা দিতে হবে।
আমরা স্নরণ করতে পারি যে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে একাত্তরের ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করে জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অবস্থান অলংকৃত করেছেন। পঁচাত্তর-পূর্ব তাঁর এই অসামান্য ভুমিকাকে মহীয়ান করতে আদালত সংগত কারণেই উল্লেখ করার প্রয়াস পান যে সরকারিভাবে প্রকাশিত যে ইতিহাস গ্রন্েথ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বমহিমায় চিত্রিত হন, সেই গ্রন্থ সংকলিত ও মুদ্রিত হয়েছিল জিয়ার সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায়। জিয়া তাঁর জীবদ্দশায় ‘জাতির জনকের’ প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। ২৬ মার্চ কীভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই তথ্য বঙ্গবন্ধু সংসদে বহুবার দিয়েছেন। কেউ ভিন্ন মত দেখাননি। জিয়ার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রমাণ নেই। হাইকোর্টের রায়ে যথার্থই দেখানো হয় যে ইন্দিরা গান্ধীর একটি ভাষণকে খন্ডিতভাবে উপস্থাপনের মতো দলিলকে পুঁজি করে বহু অকাট্য দলিল দ্বারা সন্দেহাতীত সত্যকে উপড়ে ফেলা যায় না।
স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে একটি অবাঞ্ছিত বিতর্ক চলে আসছিল। তাই এখানে বিচার বিভাগীয় স্বীকৃতি একটি বিরাট ইতিবাচক অগ্রগতি। আমরা আশা করব, এ নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সব মহলের শুভ বুদ্ধির উদয় ঘটবে। আদালত ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ২০০৪ সালে ভুলভাবে মুদ্রিত ইতিহাস গ্রন্থ নিষিদ্ধ করেছেন। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে সংসদ বা কোনো সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হওয়ার দাবি রাখে। যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও প্রত্যাশিত। আমরা এ প্রসঙ্গে স্নরণ করিয়ে দিতে চাই যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আর ঘোষণাপত্রে লেখা আছে, বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ষোষণা দিয়েছেন। প্রচলিত আইনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিকৃতি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

WatchDog_bd's picture

আরও ৯ জন তোতা পাখী

আরো ৯ জন হাইকোর্টের বিচারপতি হলেন এবারো দলীয় ও বিতর্কিতদের নিয়োগ

মিলটন আনোয়ার:

হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে আরো নয়জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গতকাল রাষ্ট্রপতি নতুন নয় বিচারপতিকে আগামী দু’বছরের জন্য অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। বরাবরের মতো এবারো উচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে দলীয় ব্যক্তির পাশাপাশি বিতর্কিত ব্যক্তিরা নিয়োগ পেলেন।

রাষ্ট্রপতি গতকাল যাদের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তারা হলেনÑ সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান রেজিস্ট্রার আবু বক্কর সিদ্দিকী, টাঙ্গাইলের জেলা জজ সৌমেন্দ্র সরকার, বর্তমান অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম ইনয়েতুর রহীম, ডেপুটি এটর্নি জোনরেল ড. নাঈমা হায়দার, ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান ননী, এম আর হাসান, ওবায়দুল হাসান শাহীন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও মইনুল ইসলাম চৌধুরী।

নতুন নয় বিচারপতির মধ্যে প্রায় সকলেই দলীয় ব্যক্তি, যাদের একজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাশাপাশি পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনেরও অভিযোগ রয়েছে।

বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত নয়জনের মধ্যে প্রথম দুজন ছাড়া বাকি পাঁচজন আওয়ামী সমর্থক আইনজীবী এবং বাকি একজন এমআর হাসান দুর্নীতি ও পেশাগত অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমআর হাসান দুর্নীতি ও অসততার দায়ে ২০০৮ সালে সিটি ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টর পদ থেকে চাকুরিচ্যুত হয়েছেন। ২০০০ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আয়কর আইনজীবী খন্দকার মনিরুজ্জামানের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের চাকুরিতে যোগ দেন। এর আগে ১৯৯৯ সালে ১২ আগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিটি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে চাকুরিরত থাকায় তার আইন পেশার ধারাবাহিকতা থাকার কথা নয়। বার কাউন্সিল অ্যাক্ট অনুযায়ী তিনি পেশার সনদ স্থগিত রাখার কোনো আবেদন করেননি। যা বার কাউন্সিল অ্যাক্ট অনুযায়ী পেশাগত অসদাচরণের সামিল। এই অভিযোগে তার আইন পেশার সনদ বাতিল হতে পারতো।

সিটি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি নানান চতুরতার আশ্রয় নেন। এই চতুরতা ধরা পড়লে গত বছরের ৬ ফেব্র“য়ারি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে চাকুরিচ্যুত করে।

এছাড়া নবনিযুক্ত বিচারপতিদের মধ্যে নিুআদালতের বিচারক কোটায় সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান রেজিস্ট্রার আবু বক্করকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে। নিুআদালতের বিচারপতি হিসেবে তার চেয়ে অনেক জ্যেষ্ঠ বিচারককে ডিঙিয়ে একজন ‘বিশেষ ব্যক্তি’র সুপারিশে তাকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নবনিযুক্ত বিচারপতি ঢাকা বারের সবেক সভাপতি নূরুজ্জামান ননী হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত না হওয়া সত্বেও বর্তমান সরকার তাকে সরাসরি ডেপুটি এটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়। আর এবার তাকে বিচারপতি করা হলো। আর সাবেক বিচারপতি বদরুল হায়দারের মেয়ে নাঈমা হায়দার সব সরকারের আমলেই আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্পাদনা: জুলফিকার রাসেল, দৈনিক আমাদের সময়।

শালার রাজনীতিরে, পেচ্ছাব করি তোর মুখে।

shomudro's picture

বায়োডাটা- বিচারপতি নিয়োগ

দুর্নিতি,অসততা,পেশাগত অসদাচারণ,চাকুরিচ্যুত,আইন পেশার সনদ বাতিল, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন।

উপোরোক্ত গুনাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিদের বাংলাদেশে বিচারক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে এইসব গুনাবলী ও দক্ষতা অর্জনের উপর একটি কোর্স খোলা দরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ে।আফটারঅল এই সব গুনাবলীই চাকরি পেতে ও দ্রুত প্রমোশন পেতে প্রয়োজন। প্রথম শ্রেনী, দ্বীতিয় শ্রেনীপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটগূলো বরং ঘরের দেয়ালে বাধাই করে রাখলে ঘরের শোভা বর্ধন করতে পারে, আর কোন কাজে লাগার কোন সম্ভাবনাই নেই।