
সাহারা খাতুন সম্পর্কে আমার কোন পূর্ব ধারনা ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে তাকে আমি চিনি না। আমি যে রাজনীতির খুব আন্তপান্ত খবর রাখি তাও নয়। তাই হয়তো তার নাম আমি শুনিনি। কিন্তু তিনি নিশ্চই আওয়ামী লীগের একজন খুব নিবেদিত প্রাণ কর্মী হবেন। তার কার্যক্রম আমার চোখে পড়ে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনা আটক থাকার সময়। সাহারা খাতুন ব্যক্তি জীবনে একজন আইনজীবি। তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে কোর্টে লড়তেন। এবং বেশিরভাগ সময় টেলিভিশনের ক্যামেরাগুলোর সামনে তিনিই ব্রিফ করতেন। সেই তীব্র গরমের ভেতর ঘেমে যখন মানুষের জীবন ত্রাহী ত্রাহী, তিনি তখনও কোর্টের কালো পোষাক গায়ে পড়ে সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করছেন। কিন্তু তার ব্রিফিং কখনই আমার মনোপুত হতো না। তার একটি প্রধান কারন হলো, তার সেই ব্রিফিংগুলো সবসময় রাজনৈতিক মনে হতো; কিন্তু একজন আইনজীবির কাছ থেকে আইনজীবির মতো কথাই হয়তো আমি আশা করতাম। আরেকটি বিষয় হলো, প্রেজেন্টেশন। ক্যামেরার সামনে কথা বলাটা একটি শিল্প। যারা বড় বড় রাজনীতিবিদদের পক্ষে প্রেসকে ব্রিফ করেন, তাদের যোগ্যতা আরো অনেক বেশি থাকার দরকার বলে আমি মনে করি। কারন, মানুষ তাদের সেই কথাটুকু থেকেই যা বুঝে নেয়ার তা বুঝে নেয়। সেই হিসাবে, সাহারা খাতুন কখনই আমার কাছে উচু স্তরের আইনজীবি হিসেবেও স্থান পাননি। হয়তো তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদ। কিন্তু যেকোন কারনেই হোক, তাকে আমার যথেষ্ঠ যোগ্য মনে হয়নি। তার বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে আমার কাছে সবসময়ই মনে হয়েছে, তিনি মাঠ লেবেলের একজন খুব ভালো কর্মী - কিন্তু দেশ পরিচালনার মতো নেতা নন। সেই প্রজ্ঞা, বুদ্ধি, বিবেচনা, প্রত্যুৎপন্নিতা ইত্যাদি আরো যে গুণগুলো থাকা দরকার সেগুলো আছে বলে আমার অন্তত মনে হয়নি। (বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হয়তো সেগুলোর প্রয়োজনও পড়ে না।) তবে দেশে তার থেকে আরো অনেক যোগ্য আইনজীবি এবং একইসাথে রাজনীতিবিদ আছেন বলে আমার ধারনা।
তাই নির্বাচনের পর তাকে যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় দেয়া হলো, আমি আকাশ থেকে পড়লাম। বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার পুলিশকে রাজনৈতিক কারনে ব্যবহার করে থাকে। তারপর আমরা এমনও দেখেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই চোরাকারবারীর সাথে জড়িত। এই দেশ কখনও একজন দক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছে বলে আমার মনে পড়ছে না। যেহেতু পুরো দেশ এবারে শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে ছিল, তাই অনেকের মতো আমারো অবাক হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। মনে মনে এই বলে নিজেকে বুঝালাম, দেখা যাক কী হয়! হতাশ হওয়ার অপর নাম তো মৃত্যু, তাই না?
তারপর যখন বন্ধুদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা বেশিরভাগই বললেন, তিনি সৎ এবং নিবেদিত প্রাণ। একজন মানুষ সৎ হলে আমি তার সব কিছু মেনে নিতে পারি। কারন, তার কাজে ভুল হতে পারে, কিন্তু সে তার নিজের সুবিধার জন্য কিছু করছেন না। আর আমরা কেউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েই তো জন্ম গ্রহন করি না। কাউকে কিছুদিন সময় দিলে হয়তো তিনি রাষ্ট্রীয় কলকব্জাগুলো শিখে ফেলবেন। তিনি সৎ, শুধু এই একটি কারনেই তাকে আমার ভালো লাগতে শুরু করলো। কিন্তু তার উপর আমি আবার বিরক্ত হয়েছিলাম (আমার বিরক্তিতে অবশ্য তার কিছু যায় আসে না) যখন ছাত্রলীগ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নিজেদের ভেতর মারামারি শুরু করলো, আর তখন তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বললেন, এগুলো নাকি ছাত্রদলের গুন্ডাদের কাজ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে এক মুহুর্তেই তিনি দলীয় মন্ত্রী হয়ে গেলেন। আমি আশা করছি না, আমাদের মতো দূর্বল রাজনৈতিক কাঠামোতে তৈরী মন্ত্রীরা রাতারাতি দেশের সবার মন্ত্রী হয়ে কাজ করবেন, তবুও এবারে অন্ততঃ কিছুটা আশা তো মনে মনে ছিলই।

কিন্তু ২৫শে ফ্রেরুয়ারীতে সাহারা খাতুনকে যে অমানবিক পরিশ্রম করতে দেখেছি, তাতে ওই মুহুর্তে আমার মনে হয়েছিল, একটি মানুষ এর চেয়ে আর কী করতে পারেন! আমরা তো শ্রষ্ঠা নই, কিংবা ফেরাস্তাও নই। একজন রক্ত মাংশের মানুষের কাছে আমাদের এর চেয়ে আর বেশি কী চাওয়ার থাকতে পারে! সেই দুপুর থেকে সারাটা রাত বিডিআর ক্যাম্পাসে তিনি। একজন নব্য মন্ত্রী হয়ে এতো বড় একটি ঘটনাকে সামলানোর চেষ্টা করছেন - আমি তার কাজে অভিভূত হয়ে গেলাম। আমরা আজ যে যত বড় কথাই বলি না কেন, এমন একটি পরিস্থিতিতে কে কেমন পারফর্ম করতো, সেটা অনুমান করা ছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতা তো আর খুব একটা পাওয়া যাবে না। এই অবস্থায় হাসিনা নিজে কী করতেন, খালেদা কী করতেন, এরশাদ কী করতেন কিংবা আমি আপনি কী করতাম - সেটা বাস্তবে দেখা এখন আর সম্ভব নয়। তবে, নিরাপদ জায়গা থেকে অনেক কিছুই ড্রিম করা যায়। কঠিন বাস্তবতায় অনেক গুণী মানুষকে আমি ভেঙ্গে পড়তে দেখেছি। সাহারা খাতুনকে আমার চিন্তিত মনে হয়েছে, কিন্তু একবারের জন্যও বিচলিত মনে হয়নি, ধৈর্য্যচুত মনে হয়নি। হয়তো রাস্তার সেই রাজনীতি তাকে সহায়তা করেছিল। এবং দেশ পরিচালনার জন্য বড় বড় ডিগ্রী থাকলেই যে সে ভালো পারফর্ম করবে, সেটা হয়তো সত্যি নয়। মাঠের কিছু অভিজ্ঞতা, সাহস এবং পরিপক্কতা হয়তো প্রয়োজন পড়ে। আমরা যারা বিভিন্ন রকমের ফর্মূলা দিয়ে কাগজ আর টেলিভিশনের পর্দা ভরিয়ে ফেলছি, তাদেরকে একই দায়িত্ব দিলে খুব যে ভালো করবেন, সেটা নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে না।
যাই হোক, আমরা বাইরে থেকে তখনো জানি না, ভেতরে কতজন লোক মারা গিয়েছেন। কিন্তু আমি নিশ্চিত সাহারা খাতুনসহ সরকারের এবং সেনাবাহিনীর উচু মহলের কর্তাব্যক্তিরা ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ততক্ষনে জেনে গেছেন। তাদের সেটা অজানা থাকবার কথা নয়। বিশেষ করে, সেনাবাহিনীর উচু স্তরের কর্মকর্তারা তো অবশ্যই জানেন। যে সকল অফিসাররা মারা গিয়েছেন, এবং যারা ব্যাজ খুলে পালিয়ে আসতে পেরেছেন, মোবাইল ফোনের কল্যানে ততক্ষনে সেনাবাহিনীর জেনে যাওয়ার কথা ভেতরে কী হয়ে গেছে। এবং বিডিআর-এর ডিজিসহ অন্যান্য অনেক অফিসারের সাথে তো সরকারের উচু মহলে কথাই হয়েছিল। তারপর যখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো, তারপর নিশ্চই তারা বসে থাকেননি। খোঁজ নিয়েছেন। এবং সেনাবাহিনীর অফিসারদের বাসায় যখন হামলা করা হয়েছিল, তার আগে নিশ্চই অনেকের সাথেই পিলখানার বাইরের অনেকের কথা হয়েছে। তারাও তো সেনাবাহিনীরই লোক।

তাছাড়া আশেপাশে এতো উচু ভবন। সেগুলো থেকে বাইনোকুলার দিয়ে দেখা; এবং বিমানবাহিনীর যে হেলিকপ্টারটি উড়ছিল সেটা থেকে নিশ্চই অনেক কিছু দেখা যাওয়ার কথা। বিভিন্ন তথ্য থেকে বুঝা যাচ্ছে, দুপুরের ভেতরই বেশিরভাগ হত্যাকান্ড হয়ে গিয়েছিল। তাই বিকেলের ভেতর সরকারের জেনে যাওয়ার কথা, সেই সকল অফিসারদের পরিনতি। সেক্ষেত্রে আমি এখন নিশ্চিত, সাহারা খাতুন এবং নানক জেনে গিয়েছিলেন ভেতরে কী হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারা তখন মিডিয়ার সামনে সেটা বলতে চাননি। বাইরের কাউকে সেগুলো জানাতে চাননি। সাহারা খাতুন তখনও অস্ত্র সমর্পনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। (টিভির পর্দা থেকে আমরা তাই দেখছি।)

একবার তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপেও গেলেন। খুব ধমকের সুরেই বললেন, উল্টা-পাল্টা প্রশ্ন করবেন না। তার এই অভিব্যক্তিই বলে দেয়, তিনি তখন সবই জানেন। শুধু বিষয়টি ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। তিনি কয়েকটা পরিবারকে ভেতর থেকে উদ্ধারও করে আনলেন। কিন্তু তাদের সাথে তিনি দুটো বিদেশীকে উদ্ধার করে আনলেন। অনেকের সাথে আমিও দেখলাম, পিলখানার গেট দিয়ে দুজন বিদেশী (একজন পূরুষ, আরেকজন নারী) আস্তে করে বের হয়ে গেলো। আমার চোখ তখন বড় বড় হয়ে গেলো। এই গোলাগুলীর ভেতর বিদেশীরা কিভাবে ওখানে গেলো! তারা যে সাংবাদিক নয়, সেটা খুবই পরিষ্কার, কারন তখনও কাউকে ভেতরে যেতে দেয়া হয়নি। কিন্তু এরা ভেতরে গিয়েছিল কিভাবে? কার কাছে? এবং সাহারা খাতুন এদেরকে খুজেই বা পেয়েছিলেন কিভাবে? আমি আশা করছিলাম, টিভি চ্যানেলের কোনও সাংবাদিক বিদেশী নাগরীক দু’জনকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করবেন, আপনারা ভেতরে গেলেন কিভাবে? কিন্তু সমস্ত সাংবাদিকদের চোখের সামনে দিয়ে সুন্দর হাটতে হাটতে তারা চলে গেলেন। এখন পর্যন্ত তাদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। হয়তো চেষ্টাও করা হয়নি।

সে রাতে পিলখানার ভেতরে বিদ্যুৎ ছিল না। সবাই বারবার জিজ্ঞেস করছিল, বিদ্যুৎ নেই কেন? একজন সাংবাদিক সাহারা খাতুনকে জিজ্ঞেসও করে ফেললেন, ভেতরে বিদ্যুৎ নেই কেন? কিনি উত্তরে বললেন, ভেতরে নাকি অনেক জায়গায় বিদ্যুতের তাঁর কাটা। বিদ্রোহী বিডিআর-এর সদস্যরা নাকি তাঁর কেটে রেখেছে। কিন্তু বিষয়টি সঠিক ছিল না। কোথাও তাঁর কাটা বা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়নি। বরং সুইচটি অফ ছিল। পরবর্তিতে বলা হয়েছে যে, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, যে কি না ভেতরে গিয়ে সুইচটি অন করতে পারে। এটাও অনেকটা বিশ্বাসযোগ্য কথা এই জন্য নয় যে, তাদের সাথে তখন বিদ্রোহী দলের ভালো একটা সমযোতা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছিল। এবং সাহারা খাতুন সেদিন রাত আড়াইটা পর্যন্ত ওই অন্ধকারাচ্ছনভাবেই অস্ত্র জমা নিচ্ছিলেন।

২৫শে ফ্রেব্রুয়ারীর রাতে পিলখানায় যে অন্ধকার নেমে এসেছিল, সেটাকে মানুষ এখন পর্যন্ত ২৫শে মার্চের মতো আরেকটি কালো রাত হিসেবেই গ্রহন করেছে। কারন, তারা মনে করছেন, ওই রাতের অন্ধকারেই সমস্ত বিডিআর পালিয়ে যেতে পেরেছেন। কিংবা পালিয়ে যেতে দেয়া হয়েছে। সঠিক বিষয়টি কী, সেটা আমরা এখনও জানি না। আমরা অনেক কিছু শুধু কল্পনা করতে পারি। কিংবা কেউ গ্লাসের অর্ধেক পূর্ণ আর কেউ গ্লাসটির অর্ধেক খালি দেখতে পারি।

তবে একটি বিষয় এখনও কেউ বলেননি যে, সেনাবাহিনী সেই রাতে কী করছিল? তারা তো পিলখানার সবগুলো গেটে পাহারা বসিয়েছিল; সবগুলো রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তারা কেন পিলখানার পেছন দিকটাতে কোনও পাহারা বসাননি? এটা অনেকটা এমন যে, বাইরে দিয়ে ফিটফাট, পেছন দিয়ে সদরঘাট। এটাকে ঠিক কী বলা যাবে? ভুল পরিকল্পনা? অদূরদর্শীতা? জায়গাটি সম্পর্কে তথ্যের অভাব? নাকি সিরিয়াসনেসের অভাব? পেছন দিয়ে রাতের আধারে পালিয়ে যাওয়া জোয়ানদের নিয়ে যারা গলা ফাটিয়ে ফেলছেন, তাদেরকে এটাও বলতে হবে। কেন সেই রাতে সেনাবাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রাখেনি? এটা কি তাদের দায়িত্বের ভেতর ছিল না? নাকি তখনও কোনও গোপন ইশারায় পেছন দিকটা একদম ফাঁকা রাখা হয়েছিল?
[চলবে]
২১ মার্চ ২০০৯
ক্যালিফোর্নিয়া


Comments
Corruption was chosen as vehicle to prosperity instead of hard
In place of hardwork and education, BD people chose corruption as vehicle to prosperity, this is one of the main reasons of this kind of unhappy situations. Few other factors are over population, low morale education, begging behaviour of educated people, class oriented society. Lets start solving these problems at every level whithin our reach. It will take time, but we will come out as a strong nation.
More than 2 crores of young people trying to get out of current situation, hope change is coming.
সাহারা খাতুন আর কতটুকু ভাল মানুষ হবেন কে জানে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের কথা। একদিন বিকেলে বাসায় ফিরছি। ফিরার পথে তেজকুনিপাড়ার মোড়ে বাবুর সাথে দেখা। বাবু স্কুলজীবনে আমার সহপাঠি ছিল। আবার একই এলাকায় থাকি। কিন্তু তেমন ঘনিষ্ঠতা কখনও ছিল না।
অনেকদিন বাদে দেখা, কুশল বিনিময়ের পর আমরা দুজনেই ঠিক করলাম পাশের হোটেলে বসে চা খেতে খেতেই আলাপ করলে ভালো হয়। জানতে পারলাম ও এখন তেজগাও কলেজে ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে আছে। একটু অবাক হলাম। তার মানে মেট্রিক পার হতে ২ বছর নষ্ট করেছে। চা খাওয়ার সময় চিনির প্রতি অগাদ টান দেখে বুঝতে অসুবিধা হলো না উনি এখন ডাল রোগে আক্রান্ত। ডাল রোগে আক্রান্ত হলে যা হয় প্রচুর কথা বলা। সেও অনেক কথা বললো। তার বোন সাহারা খাতুনের কথা, তার বড় ভাই এর কথা। তাদের বাড়ির সীমানা নিয়ে পাশের বাড়ির সাথে ঝগড়া ইত্যাদি অনেক কথা। হ্যা, বাবু সাহারা খাতুনের ছোট ভাই। ভাই এবং বোনের চেহারাই দারুন মিল।
ওখান থেকে উঠে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলো। কিন্তু বাসায় ফিরেই একটু অবাক হলাম সেজ ভাই বাসায়। উনি তো এখন বাসায় থাকার কথা না। উনি প্রতিদিন দুপুরের খাওয়ার পরে বের হয়ে যান আর ফেরেন ভোর ৪টা-৫টার সময়। আমার সাথে একরকম দেখাই হয় না, এমনকি ছুটির দিনেও না। মার মুখটাও একটু ভারি ভারি লাগছে। কারন কি বুঝতে পারলাম যখন খেতে বসলাম।
সাংবাদিক ভাই সরাসরি আমাকে আক্রমন করলেন। University তে পড়ার পরে ও যদি পাড়ার সংগ ত্যাগ না করতে পারো, একটা উনিভার্সিটিতে পড়ুয়া ছেলের বন্ধু বান্ধব যদি ছিনতাইকারি হয় তাহলে তো তার University তে যাওয়ার দরকার নেই।
আমি অনেকটা হতচকিত হয়ে গেলাম। একটু ঘাড় করলাম, বললাম কি সব আজে বাজে কথা বলছেন?
উনি আর ও তেলেবেগুনে হয়ে গেলেন। "আজেবাজে কথা মানে। তুমি ছিনতাইকারিদের সাথে বসে ছিনতাই এর প্লান করবে আর পুলিশ আমাকে ফোন করে বলবে সাংবাদিক সাহেব আপনার ভাইকে সামলান, নাহলে বিপদে পরবেন। এসব কথা আজেবাজে কথা।"
বুঝতে পারলাম বাবুর সাথে হোটেলে বসে চা খেলাম এতেই সব আপত্তি। সবিনয়ে বললাম, ওতো বাবু, এডভোকেট সাহারা খাতুনের ভাই, আপনিতো ওকে, ওর ভাইকে ভালো করেই চিনেন। এতে এতো সমস্যা কি দেখলেন বুঝলাম না তো? আর পুলিশই বা আপনাকে ফোন করবে কেন?
উনি এবার ব্যাখ্যা করলেন, তুমি যার সাথে বসেছ সে পুলিশের চোখে একজন ছিনতাইকারী। তেজকুনিপাড়া, হলিক্রশ মোড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে তার রাজত্ব। তুমি তার সাথে বসে চা খাচ্ছো তখন যদি পুলিশ তাকে ধরতো তাহলে তো তোমাকে সহই ধরতো। আর যে পুলিশ আমাকে এইকথা জানিয়েছে সে আমাদের চারতলার ভাড়াটিয়া, তার সাথে তো তোমারই বেশি দেখা হয় অথচ তোমাকে না বলে আমাকে বলেছে। কারন আমি সাংবাদিক, তাই আমাকে একটা খোচা দিলো। আরো ভয়ঙ্কর কিছু করতে পারতো। মনে করো কোন পুলিশ আমাকে দেখতে পারে না এবং জানে তুমি আমার ভাই, তাহলে কি হতো? বাবুকে ধরার দরকার না থাকলেও ধরতো তোমাকেসহ। আমাকে বিপদে ফেলানোর জন্যে। আশাকরি বুঝতে পারছো কি বলতে চাইছি। একটু বুঝেশুনে চলো।
বাবুর আর এক বড়ভাই সে যে কি চিজ় লোকমুখে শুনেছি। তবে আমি যেহেতু তার সাথে চলা ফেরা করিনি তাই মন্তব্য করলাম না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাইয়ের আবাসিক হোটেল থেকে জাল টাকাসহ ব্যবসায়ী
মুখেমধু একদিন তার নিজের অভিজ্ঞতরা কথা লিখেছিলেন। তার প্রমান পেলাম আজকে। তাই নিজের রিপোর্টিট তার প্রতি সন্মান জানিয়ে এখানে পোষ্ট করলাম। - জা,স্ব
******************************************
আমাদের সময়: রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি আবাসিক হোটেল থেকে জালটাকা তৈরির প্রতারক চক্রকে আটক করেছে র্যাব। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ভাই মো. ইসরাইলের পুত্র পলাশকে র্যাব সদস্যরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
র্যাব জানায়, গতকাল বিকেলে তেজগাঁও থানার পাশের ইম্পেরিয়াল গেস্ট হাউজ নামে আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় র্যাব-৪। ওই গেস্ট হাউজের একটি কক্ষ থেকে জাল টাকার ব্যবসায়ী আব্দুর রব ও নাসির উদ্দিনকে আটক করা হয়। এর আগে দুপুরে ঢাকার নবাবপুর এলাকার ইংলিশ রোড থেকে জুয়েল ও জীবন মিয়া নামে দুই জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইম্পেরিয়াল হোটেলে অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকার জাল নোট ও টাকা তৈরির ১৭৫টি কাগজ, ৩ বান্ডেল টাকার টেপ, ২৭৫ গ্রাম জাল টাকা তৈরির রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে।
হোটেলের মালিক মো. ইসরাইল। ভবনটির নিচতলায় তিনি সপরিবারে থাকেন। মো. ইসরাইল জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোন পরিচয় না দিয়ে ৫/৭ জন লোক হোটেলে ঢোকে। তাদের পরনে কোনো ইউনিফরমও ছিল না। তারা ৪১ নম্বর কক্ষের দড়জায় লাথি মেরে ভেতরে ঢুকে নাসির নামে একজনকে ধরে নিয়ে আসে। এ সময় হোটেলের বয়রা তাদের ডাকাত মনে করে মূল ফটক বন্ধ করে দেয়। তখন ওই ব্যক্তিরা ম্যানেজারের ডেস্কে বসে থাকা আমার ছেলে রমযান আলী পলাশের কাছে চাবি চায় ও নাম জিজ্ঞেস করে। পলাশ নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে বলে পরিচয় দেয়। র্যাব সদস্যরা তখন ’তুই ভাইস্তা হলে আমি ভাইগ্না’ বলে তাকে মারধর শুরু করে। এর মধ্যে র্যাব ও পুলিশের আরো সদস্য হোটেলে ঢোকে। ততক্ষণে আমার পরিবারের সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোনে বিষয়টি জানায়। স্বারষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করার পর র্যাব সদস্যরা আমার ছেলেকে ছেড়ে দিয়ে আসামিদের নিয়ে চলে যায়। অভিযানের সময় র্যাব সদস্যরা তার ছেলে পলাশকে অকারণে মারধর করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাকে পাশ্ববর্তী আলরাজি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
অন্যদিকে র্যাব-৪ এর পরিচালক লে. ক. শামসুজ্জামান জানান, হোটেলটিতে অভিযান চালানোর সময় আমাদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। প্রথমে হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের বহিরাগত সন্ত্রাসী মনে করেছিল। পরিচয় পাবার পর কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, পলাশ নামের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বাধা পেয়ে তারা হোটেলের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এদিকে এ ঘটনায় নিয়ে র্যাবের মধ্যে অস্থিরতা চলছে। স্বারাষ্টমন্ত্রী এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
ধন্যবাদ জাকারিয়া স্বপন ভাই
আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজকের বিডি নিউজের একটি পোষ্ট পেষ্ট করলাম।
-মুখে মধু
ইষ্ট উড, সিঙ্গাপুর
ধানমণ্ডিতে মোটরসাইকেল চুরির সময় যুবলীগ কর্মীকে গণপিটুনি
Sat, Apr 11th, 2009 12:47 am BdST Dial 2324 from your mobile for latest news
ঢাকা, এপ্রিল ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির সময় এক যুবলীগ কর্মীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় লোকজন।
অহিদ নামের ওই যুবলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে নিজেকে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে ধানমণ্ডির সাতমসজিদ রোডের শংকর প্লাজার নীচে এ ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা মোটরসাইকেল মালিককে থানায় মামলা করা থেকে বিরত রাখতে ভয়-ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ করেছেন মোটর সাইকেল মালিক।
মোটরসাইকেল মালিক বাদী হয়ে অহিদকে আসামী করে ধানমণ্ডি থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেছেন।
সাহারার আয়ের পথ....
This time AL will make money in digital way, they told us before.
philkhana
That means BAL high command know everything. Please send Zakaria swapons reoprt to army officer.
মাথায় কত প্রশ্ন জাগে,দিচ্ছে না তো জবাব কেউ...
১। আমাদের দেশী মা-বোনরা সে রাতে পাশবিকতার শিকার হলেন আর সেই বিদেশি মহিলাটির গায়ে আচড়টিও লাগেনি, রহস্যটা কী?
২|সাহারা বেগমকে দেখলাম স্বল্প আলোয় কিছু অস্র জমা নিতে,তিনি কেন একবারও জানতে চাইলেন না নিহত অফিসারদের লাশগুলো কোথায়?
৩| তিনি একাবারও প্রশ্ন করলেন না কয়জন অফিসার জীবিত আছে..?..থাকলে তারা কোথায়??
৪|সেই রাতে সাহারা,নানক,আই.জি ভিতরে গিয়েছেলেন তবে টিভিতে শুধু সাহারা ও আই.জি কে দেখলাম সেখানে|কিন্তু নানকে দেখলাম না তাদের আশে পাশে কোথাও|নানক কি করছিলেন?
৫|হাসিনা,সাহারা,নানক,আজম,কামরুল,মতিয়া,মেনন,ইনু এরা এক বা একাধিক বার বিদ্রোহী দলের সাথে নিগোসিয়েশন মিটি;করেছেন,অবাক কান্ড তারা একজন বিদ্রোহীর নামও মনে রাখতে পারে নাই...?? তদন্তকারী দলই বা কেন তদেরকে প্রশ্ন করছেন না...???